| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে চায় সে ব্যাপারে জাতিকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও দেয়নি। আমি ভীষণ হতাশ বোধ করছি।" বলেছেন একজন বিএনপি সমর্থক। যিনি দলটাকে ভালোবাসেন, ভোট দিতে চান, কিন্তু দলের এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না। এই একটা মন্তব্যই বলে দেয় গুম অধ্যাদেশকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক জটিলতা কত গভীর ।
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে একটি গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ জারি করে। এর পেছনে কারণ ছিল। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ জাতিসংঘের গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করে। সেই কনভেনশন অনুযায়ী গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল। অধ্যাদেশে গুমকে "চলমান অপরাধ" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কাগজে কলমে এটা ছিল একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এরপর এলো বিএনপি সরকার। সংসদের বিশেষ কমিটি সুপারিশ করল, এই অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন করা হবে না। ১০ এপ্রিলের পর এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারাবে। কিন্তু "বাতিল" শব্দটা মুখে আনা যাবে না। বলা হলো "পরে আরও শক্তিশালী করে আনা হবে।" এটা একটা চমৎকার কৌশল। সরাসরি "না" বললে সমালোচনা আসত। "পরে" বললে সমালোচনা আসে না, জবাবদিহিও লাগে না। "পরে" মানে কবে, কেউ জানে না। "পরে" মানে হয়তো কোনোদিনই না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য মুখ খুলেছে। তাদের বক্তব্য হলো "গুম একটি সংবেদনশীল অপরাধ, এর সঙ্গে শৃঙ্খলা বাহিনীর দায় সম্পৃক্ত।" এই স্বীকারোক্তিটুকু অন্তত সৎ। কিন্তু সমাধান হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে নিষ্ক্রিয়তা।
বিএনপির ভেতরে কিন্তু এই অধ্যাদেশ নিয়ে একটা বাস্তব টেনশন কাজ করছে। সরকারের আপত্তির জায়গাগুলো দেখলেই বোঝা যায়। তারা চায় জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুমের সংজ্ঞা থেকে বাদ দিতে হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্ব অনুমতি লাগবে। অর্থাৎ গুম হবে কিনা সেটা ঠিক করবে যে বাহিনী গুম করে, সেই বাহিনীর তদারককারী সরকারই। সিভিল সোসাইটি বলছে , যে কারণেই কাউকে আটক করা হোক, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে না আনলে সেটা সংবিধানের লঙ্ঘন। কিন্তু সংবিধানের লঙ্ঘন আর রাজনৈতিক সুবিধার মাঝখানে পড়লে বাংলাদেশের সরকারগুলো সবসময় দ্বিতীয়টা বেছে নেয়।
জামায়াত-এনসিপির অবস্থান এখানে আলাদা। কমিটিতে তারা ভিন্নমত দিয়েছে, বলেছে অধ্যাদেশ টিকিয়ে রাখতে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় তারা গুমের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো দলই নিঃস্বার্থভাবে মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ায় না, এটা ইতিহাস বারবার বলেছে। জামায়াতের এই অবস্থানের পেছনে ঠিক কী হিসাব কাজ করছে, সেটা সময়ই বলবে।
এই পুরো ঘটনার মাঝে সবচেয়ে তিক্ত অধ্যায়টা হলো বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে। তিনি নিজে একজন গুমের শিকার। আওয়ামী লীগ আমলে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, নিপীড়ন করা হয়েছিল। সেই মানুষটির মন্ত্রণালয় থেকেই এখন সুপারিশ এসেছে, গুম প্রতিরোধের আইন এখনই দরকার নেই। বিরোধীদলীয় সদস্য রফিকুল ইসলাম খান এটাকে "খুবই দুঃখজনক" বলেছেন। দুঃখজনক শব্দটা কি আসলেই যথেষ্ট ?
আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। মায়ের ডাক সংগঠনটি বিএনপির হাত ধরেই গড়ে উঠেছিল, গুমের শিকার পরিবারগুলোর কান্না সামনে রেখে। সেই কান্না দিয়ে রাজনীতি হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায় হয়েছে। আর এখন সেই একই দল ক্ষমতায় বসে গুম প্রতিরোধের আইনটা "পরে" বলে সরিয়ে রাখছে। এটা দেখে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন মাথায় আসে , আওয়ামী লীগ আমলে আসলে কতজন সত্যিকার অর্থে গুমের শিকার হয়েছিলেন আর কতজনের গল্প ভিন্ন ছিল। স্বাধীন তদন্ত ছাড়া সেই উত্তর কোনোদিন মিলবে না। আর সেই তদন্তের আইনটা এখন "পরে" বলে বাদ পরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে , আর সেটা বিএনপির হাত ধরেই।
https://thedeltalens.com/national/news-details-189305
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে আটক করা হলে তা গুম নয় : যুক্তিতে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ- Delta Lens
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এমন কাজ করছে যে খোদ বিএনপির লোকজন খুশি না ।
২|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আটক করা হলে জানিয়ে-শুনিয়ে আটক বরুক। গুম করার দরকার কি? বিএনপির কাজ দেখে মনে হচ্ছে তারা ক্ষমতা সহ্য করতে পারছে না। অনেক দিন পর ক্ষমতা পাওয়ার কারণে তারা কি করতে কি করবে বুঝতে পারছে না।
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সামনে কি আছে কে জানে ?
৩|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: ছবিটা চমৎকার হয়েছে।
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিক বলেছেন ।
৪|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২
আহা রুবন বলেছেন: আসলে সব দোষ ঐ চেয়ারের! ওখানে যে বসে সে ভাবতে শুরু করে চিরকাল তারা ওভাবেই থাকবে।
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এভাবে সবাই কে রাগিয়ে তো দেশ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে ।
৫|
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২০
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
মহাজাগতিক চিন্তা সাহেবের লেখা পড়ে কোনো এক সময় মনে হতো তিনি বিএনপির সমর্থক। কিন্তু এখন চেনা যাচ্ছে ভদ্রলোক বিএনপির লেভেল ব্যবহৃত বস্তা গায়ে চলাচল করেছেন।
ব্লগে বিএনপির বস্তা গায়ে এতো লোক আছে ভাবতেও তামাশা মনে হয়।
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিএনপির রিয়েল সাপোরটার শুধু আমি আর আধারের যুবরাজ সাহেব আছেন ।
.
৬|
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:১২
রাসেল বলেছেন: এই দেশটা ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে আগাইতেছে। যারা নিজেদের সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক বলে ঘোষণা দেয়, তারাই এর নেতৃত্বে বসে আছে!
আমরা এতটাই দলভক্ত হয়ে গেছি যে দেশের আগে দলের লোগো দেখি, অবশ্যই তা ব্যক্তিগত লাভের জন্য।
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে একমত ।
৭|
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৩
কিরকুট বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: মহাজাগতিক চিন্তা সাহেবের লেখা পড়ে কোনো এক সময় মনে হতো তিনি বিএনপির সমর্থক। কিন্তু এখন চেনা যাচ্ছে ভদ্রলোক বিএনপির লেভেল ব্যবহৃত বস্তা গায়ে চলাচল করেছেন।
সময়টা ছিলো ২০০২ সাল, আমার দেশের বাড়িতে একজন তালবে আলিম থাকতো তিন বেলা খাবে মসজিদে আজান দিবে ও ছোট বাচ্চাদের আমপারা শেখাবে । তো একদিন ঘরের বিছানাপত্র রোদে দেবার জন্য সবার বিছানা ছেড়ে উঠানে নেয়া হয় । তখন আবিষ্কার হয় যে তালবে আলিমের দুই পরিচয় , সে বিএনপির কার্ডধারী সদস্য ও একই সাথে শিবিরের কার্ডধারি সাথী সদস্য ।
তো সন্ধায় সে যখন মাদ্রাসা থেকে ফেরত আসে তাকে এই কার্ডের রহস্য জিজ্ঞাসা করলে লামছাম একটা উত্তর দিয়ে পরেরদিন ভোর রাতে পালায়ন করে । অন্য গ্রামে গিয়ে আমাদের বাড়ি সম্পর্কে হেন কোন নোংরা মন্তব্য নাই যে সি ব্যেক্তি করে নাই । অথচ সে আমাদের বাড়িতে দুধে ভাতে, সম্মানের সাথে ছিলো ।
এরা এমনি । এদের নৈতিকতাবোধ বলে কিছুই না ।
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জাশির গুলা কঠিন চিজ ।
৮|
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯
নতুন বলেছেন: এই পুরো ঘটনার মাঝে সবচেয়ে তিক্ত অধ্যায়টা হলো বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে। তিনি নিজে একজন গুমের শিকার। আওয়ামী লীগ আমলে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, নিপীড়ন করা হয়েছিল। সেই মানুষটির মন্ত্রণালয় থেকেই এখন সুপারিশ এসেছে, গুম প্রতিরোধের আইন এখনই দরকার নেই।
রাজনিতিকরা যখন গুম হয়ে ফিরে আসে তখন তারা কম্প্রমাইজড হয়ে এজেন্ডা নিয়েই ফিরে আসে।
বিএনপি/জামাত দুইদলেই নেতারা গুমের স্বীকার হয়েছে, এখন তারাই যদি এটার প্রতিরোধে আইন না চায় তেইলে কেমনে কি?
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৫১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কতিপয় মানুষ ভাবতে পারেন, আমি-আপনি সবার সমালোচনা করি; কোনো সরকারের ভালো দেখতে পারি না । এখন সরকার গুলা এমনই ডিসিশন নেয় যে তাদের নিজ দলের সাপোরটার রা এটার বিরোধিতা করে ।
৯|
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৮
অপু তানভীর বলেছেন: গুম কমিশন বাতিল নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পড়লাম। তার বক্তব্য পড়ে এখনও পর্যন্ত যুক্তিযুক্তই মনে হল।
এখন দেখার বিষয় যে আসলেই তারা সামনে গিয়ে এই আইন আরও শক্তিশালী করেন কিনা!
০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:১৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেখা যাক কি করে । আমিও পড়েছি।
১০|
০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১
রাজীব নুর বলেছেন: আওয়ামীলীগ নেই বলেই যে গুম আর হবে না, ঘটনা কিন্তু তা নয়।
০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:১৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কেউ গুম হয় না ইনটারিম আমলে ।
১১|
০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৪
নতুন বলেছেন: রাজীব নুর বলেছেন: আওয়ামীলীগ নেই বলেই যে গুম আর হবে না, ঘটনা কিন্তু তা নয়।
আমলীগ যাবার পরে গুম বন্ধ হয়ে গেছে কেন রানু ভাই?
০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: "গুম একটি সংবেদনশীল অপরাধ,
..............................................................
ইহা শুধু কি আইন দিয়ে বন্ধ করা যাবে ?
সদিচ্ছা না থাকলে অন্য ফরমেটে এই অপরাধ চলতে থাকবে ।
মানে হলো, সবাই ক্ষমতায় গেলে আইনের ব্যাখ্যা একটু
ভিন্নতর হয়ে যায় ।
..............................................................................
যেই লউ সেই কদু কি এমনি প্রবাদবাক্য হয়েছে ???