| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
কোরবানি ঈদ এলেই আমাদের চারপাশে কেমন যেন একটা উৎসব-উৎসব আমেজের পাশাপাশি অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার ধুম পড়ে যায়। বাঙালি যে সব কিছুতেই একটু রসকষ আর মজা খুঁজতে পছন্দ করে, সেটা পশুর হাটে না গেলে বোঝার উপায় নেই। এক সময় পশুর হাটে নায়ক-নায়িকাদের নামে গরু-মহিষের নাম রাখা হতো, যা নিয়ে বেশ আলোচনা হতো । কিন্তু এবারের কোরবানির হাটে যা ঘটল, তা যেন আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এক খামারি তার বিরল প্রজাতির এক অ্যালবিনো মহিষের নাম রেখে বসলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে। খামারির যুক্তিও ছিল দারুণ, মহিষটার নাকি মাথার চুল ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের মতোই সিল্কি।
বিষয়টি কেবল পশুর হাটেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং মুহূর্তের মধ্যে তা বিশ্ব মিডিয়ায় শোরগোল ফেলে দিল। শুধু ইরান বা অন্য মুসলিম দেশগুলোই নয়, খোদ ট্রাম্প সাহেব নিজেই নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পশুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে খবর রটে গেল। কিন্তু মজার ছলে করা এই নামকরণ এক জটিল রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করল। সচেতন নাগরিকেরা ভাবতে লাগলেন, যদি ট্রাম্প নামের এই মহিষটিকে কোরবানি দেওয়া হয়, তবে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি কোন দিকে যাবে?
ভারতের মিডিয়া হয়তো একে উগ্রবাদী প্রচারণা বলে প্রচার করবে, আবার ইরানের মতো দেশগুলো বিষয়টিকে ভিন্ন রাজনৈতিক রঙ দেবে। এই নিয়ে যখন নেট দুনিয়ায় নানা তর্ক-বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তখনই এগিয়ে এলেন আমাদের পরিচিত ব্লগার ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ। তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে বিষয়টি আনেন। শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের হস্তক্ষেপে মহিষটিকে কোরবানি না দিয়ে চিড়িয়াখানায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কমেন্ট সেকশনে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল। ট্রাম্পকে কোরবানি না দেওয়ায় এক শ্রেণির মানুষ বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করল। তারা সরকারকে কাপুরুষ বা আমেরিকার দালাল বলে গালিগালাজ করতেও ছাড়ল না। আসলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সবসময় সরকারের এমন কিছু দুর্বল মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকে, যা দিয়ে তাদের অপদস্ত করা যায়। ট্রাম্প বেঁচে যাওয়ায় হয়তো তাদের সেই রাজনৈতিক ফায়দা লুটার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। শুধু ট্রাম্প নয়, এবারের হাটে নেতানিয়াহু, মোদি কিংবা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর নামেও পশুর নাম রাখা হয়েছে। খামারিদের এই যে ভাইরাল হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং বেশি দামে পশু বিক্রি করার কৌশল, এর প্রভাব যে কতটা জটিল হতে পারে, তারা ভাবেন না । ।
কোরবানির ঈদ এলেই মনে পড়ে যায় ২০২৪ সালের সেই বিখ্যাত ছাগল কাণ্ডের কথা। সাদেক অ্যাগ্রো নামের এক খামার থেকে পনেরো লাখ টাকায় এক বংশীয় ছাগল কিনে আলোচনায় এসেছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক কর্মকর্তার ছেলে। সাংবাদিকরা যখন হিসাব মেলাতে ব্যস্ত যে এই টাকায় কত কেজি মাংস পাওয়া যাবে, ঠিক তখন বিএনপির অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়েদ আবদুল্লাহ প্রশ্ন তুললেন এই বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে। সেই এক ছাগল কাণ্ড যেন দেশের পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক চিত্রটাই বদলে দিল।
এরপর একে একে বের হয়ে এল পিয়ন আবেদ আলীর বিলাসী জীবন, রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক, বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি আর তার ঠিক পরপরই শুরু হলো কোটা আন্দোলন। যা শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে শান্ত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে এবারও এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ছয়-সাতটি গরু কেনা নিয়ে। তবে সেটি আর ছাগল কাণ্ডের মতো অতটা ভাইরাল হতে পারেনি।
পশুর হাটের চড়া দাম আর নামের রাজনীতির ভিড়ে আমাদের আসল কোরবানির শিক্ষাটা যেন হারিয়ে না যায়। এবারের কোরবানি ঈদে আমাদের আলেম সমাজ ও হুজুরদের প্রতি সাধারণ মানুষের একটা বড় প্রত্যাশা রয়েছে। শুধু পশু কোরবানি দিলেই হবে না, নিজেদের ভেতরের পশুকেও কোরবানি দিতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় অঙ্গনে ইদানীং যে যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনাগুলো সামনে আসছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ভীষণ চিন্তিত ও ক্ষুব্ধ। তাই এই পবিত্র উৎসবের দিনে নিজেদের সমাজকে এসব পাপ থেকে মুক্ত করার প্রতিজ্ঞাই হোক এবারের মূল লক্ষ্য। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার অনেক শুভেচ্ছা এবং বকরি মোবারক।
২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:২১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বকরি মুবারক।
২|
২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৮
অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: সত্যি সত্যি ট্রাম্পের কানে গেলে বাংলাদেশে সমস্যা করতে পারে!
২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ১:০৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আসলেই নাকি টুইট করেছিলো। ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:১৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: নিজেদের ভেতরের পশুকেও কোরবানি দিতে হবে।
.............................................................................
এই শিক্ষাটা আমাদের অন্তরে থাকলে তো এভাবে
শিশু সন্তান ধর্ষিত হয়না ।
আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের অন্তর শুদ্ধ করি ।