| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছিল অনস্বীকার্য। এটা এমন এক ঐতিহাসিক সত্য যাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়ী করে দেশের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি বানিয়েছিল। আর সেই জনরায়ের উপর ভিত্তি করেই ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকার বিশ্ব দরবারে নিজের অধিকার ও গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল।
একথা সত্যি যে আওয়ামী লীগ না থাকলে হয়তো আজ আমরা স্বাধীন দেশ পেতাম না। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এই দেশের অবিসংবাদিত নেতা, এটিও এক চরম সত্য। যারা আওয়ামী লীগকে ভারতের দালাল বলত, দেশের ৬০ ভাগ মানুষও তাদের কথা বিশ্বাস করত না। কারণ মানুষের আস্থা ছিল আওয়ামী লীগের উপর। আর এই গভীর বিশ্বাসের কারণেই পরবর্তী সময়ে টানা ১৭ বছর যখন দলটি জোর করে দেশ শাসন করেছে, তখন মানুষ ভেতরে ভেতরে চরম ক্ষুব্ধ হলেও প্রকাশ্য প্রতিবাদের সাহস পায়নি। আওয়ামী লীগ কি সত্যিই মানুষের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পেরেছিল?
দেশের জ্বালানি খাতের একটি বড় লুকায়িত ঘটনা দিয়ে বিষয়টা বোঝা যাক। পাকিস্তান আমলে সৌদির অর্থায়নে নির্মিত Eastern Refinery Limited বা ইস্টার্ন রিফাইনারি আজও এত বছর পর আমাদের একমাত্র তেল শোধনাগার হয়ে টিকে আছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে Light Crude Oil এনে এখানে পরিশোধন করা হয়। এই পুরো পেমেন্ট কাঠামোটি নিয়ন্ত্রিত হয় Islamic Development Bank বা ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের একটি বিশেষ ইউনিট ITFC এর মাধ্যমে। ITFC মূলত একটি বাণিজ্য অর্থায়ন সংস্থা যেটি তেল কেনার টাকা আগে দেয় এবং পরে শোধ করতে হয়। এই আর্থিক কাঠামোর কারণে আমরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই OIC ভুক্ত দেশগুলোর উপর, বিশেষ করে সৌদি আরব আর আরব আমিরাতের উপর জ্বালানি নির্ভরতা তৈরি করে রেখেছি।
সম্প্রতি ইরান সংকটের সময় যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লাগল, তখন আমাদের এই কাঠামোগত দুর্বলতা নগ্নভাবে সামনে চলে আসে। তবে এই চিরস্থায়ী পরনির্ভরতার পাশাপাশি দেশের ভেতরে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর যে গল্প আমাদের এতদিন শোনানো হয়েছিল, তার ভেতরের গলদটা আরও বেশি ভয়ংকর। দ্বিতীয় শোধনাগার বা ERL Unit-2 তৈরির কাজটা যদি সময়মতো শেষ করা যেত, তবে প্রতি ব্যারেলে আমাদের প্রায় ১১ ডলার সাশ্রয় হতো। অর্থাৎ বছরে বেঁচে যেত প্রায় ২৩৭ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু নীতিনির্ধারকেরা চাইলেন অন্য কিছু। দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর চেয়ে পাশের দেশের ব্যবসা টিকিয়ে রাখাটাই যেন তাদের কাছে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছিল।
এই নাটকের শুরু ২০১৬ সালে, যখন ফরাসি কোম্পানি Technip কে কোনো টেন্ডার ছাড়াই নতুন শোধনাগারের FEED বা Front End Engineering Design এর কাজ দেওয়া হয়। FEED মানে কাজ শুরুর আগে পুরো প্রকল্পের বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা, অনেকটা বাড়ি বানানোর আগে স্থপতির নকশার মতো। Technip আগে পুরনো শোধনাগারটি বানিয়েছিল বলে তাদের এই কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু আসল খেলা শুরু হলো তখন, যখন PMC বা Project Management Consultancy হিসেবে, অর্থাৎ প্রকল্পের তদারকি ও পরামর্শদাতা হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Engineers India Limited বা EIL কে যুক্ত করা হলো। ভারতীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজে বাংলাদেশে এসে চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে বললেন যে বাংলাদেশ একটি ভারতীয় কোম্পানি বেছে নেওয়ায় তারা কৃতজ্ঞ।
PMC এর কাজ হলো প্রকল্পের তদারকি করা, কোন কোম্পানিকে EPC বা Engineering, Procurement and Construction এর কাজ দেওয়া হবে সেই সুপারিশ করা এবং প্রকল্পের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা। EPC মানে ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি কেনা এবং শেষ পর্যন্ত পুরো নির্মাণ সম্পন্ন করার কাজ। আপাতদৃষ্টিতে সরল মনে হলেও একটা বড় গোলমাল ছিল। EIL আসলে শুধু একটি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান নয়, তারা নিজেদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট লিখেছে যে তারা পেট্রোলিয়াম রিফাইনিংয়ের EPC ঠিকাদারও। অর্থাৎ একজন প্রতিযোগী যখন আরেকজন প্রতিযোগীকে মূল্যায়ন করার দায়িত্ব পায়, তখন সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে তা আন্দাজ করা কঠিন নয়।
FEED বা নকশা শেষ করে Technip মূল নির্মাণকাজের জন্য প্রথমে ২.৮০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেয়, যা পরে দরকষাকষিতে ২.২৩ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনে। কিন্তু PMC হিসেবে EIL তখন মতামত দিল যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার করলে এই কাজ মাত্র ১.৮০ বিলিয়ন ডলারে করা সম্ভব। ফলে Technip বাদ পড়ল এবং উন্মুক্ত টেন্ডারের ঘোষণা দেওয়া হলো। কিন্তু বাস্তবে সেই টেন্ডার আর কখনোই হলো না। EIL এর বুদ্ধিতে Technip বিদায় নিল, কিন্তু প্রকল্প আর শুরু করতে পারল না সরকার।
এরই মধ্যে ২০২১ সালে আরেকটি ঘটনা ঘটলো। ভারতের Numaligarh Refinery Limited বা NRL এর শেয়ার বিক্রি হচ্ছিল, EIL সেখানে বিনিয়োগ করে ৪.৩৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নিল। এই NRL হলো সেই রিফাইনারি যেখান থেকে বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে একটি ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চুক্তির আওতায় প্রতি ব্যারেলে ৫.৫০ ডলার বাড়তি দামে ডিজেল কিনে আসছে। ২০২৬ সালেও এই চুক্তিতে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল কেনা হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১১৯ মিলিয়ন ডলার।
তাহলে পুরো সমীকরণটা একটু মিলিয়ে দেখুন। EIL বাংলাদেশ থেকে পরামর্শ ফি নিচ্ছে দ্বিতীয় শোধনাগার বানানোর জন্য। অথচ দ্বিতীয় শোধনাগার তৈরি হয়ে গেলে বাংলাদেশ নিজেই ক্রুড ওয়েল পরিশোধন করতে পারবে এবং NRL থেকে ডিজেল কেনা কমিয়ে দেবে। আবার NRL এ রয়েছে EIL এর নিজস্ব শেয়ার, অর্থাৎ NRL এর বিক্রি কমলে EIL এর লভ্যাংশও কমে যাবে। সহজ কথায় বাংলাদেশে দ্বিতীয় শোধনাগার যত দেরিতে হবে, EIL দুই দিক থেকেই তত বেশি লাভবান হবে। একদিকে পরামর্শ ফি, অন্যদিকে NRL এর ডিভিডেন্ড। এটি স্বার্থের সংঘাতের একটি বড় উদাহরণ। আর এই আত্মঘাতী কাঠামোটি বাংলাদেশ সরকার নিজেই তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল।
এর মধ্যে ভূরাজনীতির আরেকটি অধ্যায় রয়েছে। চীনা কোম্পানি CNPC এর সাবসিডিয়ারি ২০১৬ সালেই ইস্টার্ন রিফাইনারিতে একটি পাইপলাইন প্রকল্প সফলভাবে শেষ করেছিল। তার মানে রিফাইনারি সাইটে কাজ করার মতো কারিগরি সক্ষমতা চীনা কোম্পানির ছিল। তাহলে মূল শোধনাগার নির্মাণে কোনো বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানি কেন এগিয়ে এলো না? কারণটা পরিষ্কার। একটি ভারতীয় তদারকি সংস্থার অধীনে কাজ করতে চীনারা ভূরাজনৈতিক কারণে রাজি হবে না। আবার অন্যান্য পশ্চিমা বড় কোম্পানিগুলোও তাদের একজন সরাসরি প্রতিযোগীর অধীনে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনি। EIL কার্যত পুরো প্রকল্পের চারপাশে এমন এক দেয়াল তুলে দিয়েছিল যা ভেদ করে কেউ ঢুকতে পারছিল না।
এভাবেই বছরের পর বছর কেটে গেল। তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ২০১৭ সালে বললেন ২০১৮ সালে কাজ শুরু হবে। ২০১৮ সালে বললেন খুব শীঘ্রই শুরু হবে। ২০২০ সালে এসে দাবি করলেন প্রকল্প ব্যবস্থাপকরা অদক্ষ। টানা দশ বছর নিজে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে অন্যদের অদক্ষ বলে পার পেয়ে গেলেন, কেউ তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সাহস পেল না। এরপর ২০২৪ সালে বিদায়ী সরকার প্রকল্পটির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকল। বিতর্কিত এস আলম গ্রুপকে দ্বিতীয় শোধনাগার প্রকল্পে PPP বা সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেলে ৮০ শতাংশ মালিকানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির নিজস্ব কর্মকর্তারা বারবার লিখিত আপত্তি জানিয়ে বললেন, তাদের সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই এই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই আপত্তিকে পাত্তা দেওয়া হলো না। এস আলম গ্রুপ কে? যে কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের তথ্যমতে শুধু হাসিনার আমলেই যারা দেশ থেকে ১.২ ট্রিলিয়ন টাকা পাচার করেছে বলে অভিযুক্ত, সেই কোম্পানিকেই দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল তেল শোধনাগারের সিংহভাগ মালিকানা দিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
আগস্ট ২০২৪ সালে পুরো দৃশ্যপট বদলে গেল। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন, নতুন অন্তর্বর্তী সরকার এস আলমের সেই চুক্তি বাতিল করল। নতুন PMC-এর জন্য EOI (Expression of Interest) ডাকা হয়েছে যা জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে জমা দিতে হবে। এটা ইঙ্গিত দেয় যে বিএনপি সরকার EIL-কে পুরোপুরি রাখছে না বা নতুন PMC নিয়ে আসতে চায়।। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। প্রকল্পের বর্তমান খরচ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকায়, মানে প্রায় ২.৮৯ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্কটি Technip এর সেই ২.২৩ বিলিয়নের চেয়েও বেশি, যাকে একসময় বেশি দাম হওয়ার অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস। ২০১৭ সালে যদি সরাসরি Technip কে কাজ দেওয়া হতো, তাহলে ২০২২ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি চালু হয়ে যেত। তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর ২৩৭ মিলিয়ন ডলার করে তিন বছরে সাশ্রয় হতো প্রায় ৭১১ মিলিয়ন ডলার। তার উপর নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে গেছে প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে শুধু এই একটি প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
নতুন তদারকি সংস্থা নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং বিদেশে অন্তত ৩টি শোধনাগারে কাজ করার শর্ত দেওয়া হলেও কারিগরি দিক থেকে EIL আবারও আবেদন করার সুযোগ রাখে, যদি না শর্তে তাদের সুনির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এই সমীকরণে একটি বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে Islamic Development Bank। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তারা ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ পরিদর্শন করে প্রকল্পটিতে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে সম্মত হয়েছে। শরিয়াহ ভিত্তিক ফরোয়ার্ড লিজ মডেলে এই ঋণ দেওয়া হলেও তাদের শর্তগুলো অত্যন্ত কঠিন, প্রতিটি ধাপ কঠোর ছয় মাসের সময়সীমায় বাঁধা।
Islamic Development Bank এর এই অর্থায়নের সবচেয়ে বড় মারপ্যাঁচ লুকিয়ে আছে তাদের সদস্য দেশের নিয়মের মধ্যে। যেহেতু তারা ১ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে, তাই তাদের শর্ত অনুযায়ী এই টাকা দিয়ে যে তদারকি সংস্থা বা নির্মাণ ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে তাকে অবশ্যই Islamic Development Bank এর কোনো সদস্য দেশের কোম্পানি হতে হবে। এর সহজ অর্থ হলো Technip এর মতো পশ্চিমা বড় কোম্পানি কিংবা চীনের বড় কোম্পানিগুলো এবার সরাসরি প্রধান ঠিকাদার হিসেবে অংশ নিতে পারবে না। শুধু ঠিকাদার নির্বাচনেই সমস্যা নয়। একই ব্যাংকের ITFC ইউনিটের মাধ্যমে আমরা তেল কিনি। এই কাঠামোতে গালফের বাইরে থেকে তেল কেনা কার্যত অসম্ভব। রাশিয়া বা ভেনেজুয়েলা থেকে সস্তায় ভারী তেল কেনার কথা মাথায় এলেও ITFC সেটা সহজ করবে না। ফলে সৌদি আর আমিরাতের উপর নির্ভরতা শুধু থাকছে না, আরও গভীর হচ্ছে।
পশ্চিমা ও চীনাদের এই অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে Islamic Development Bank এর সদস্য দেশ তুরস্ক । সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সাথে তুরস্কের ড্রোন চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে যে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার পেছনে পর্দার আড়ালে লবিং করছে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তান। পাকিস্তান নিজে এখানে বিনিয়োগ করতে না পারলেও এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাব হটিয়ে নিজেদের অক্ষ শক্তিশালী করার জন্য তুরস্ককে টেনে আনছে। ঠিক যেভাবে একসময় মাতারবাড়ী প্রকল্প থেকে চীনকে সরাতে ভারত ও জাপান একজোট হয়ে কাজ করেছিল। তুরস্কের Tekfen বা Rönesans এর মতো বড় কোম্পানির শোধনাগার কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও তারা পশ্চিমা বা চীনাদের বিকল্প হিসেবে কতটা দ্রুত ও দক্ষতার সাথে এই কাজ শেষ করতে পারবে তা নিয়ে বিশাল অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এই পুরো ঘটনাটা শুধু একটি তেল শোধনাগার নির্মাণের গল্প নয়। এটা একটি রাজনৈতিক দলের শাসনের গল্প, যারা মুখে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র ধারক বাহক বলে দাবি করত। অথচ পর্দার আড়ালে দেশের জ্বালানি খাতের সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রকল্পে এমন এক বন্দোবস্ত তৈরি করেছিল, যেখানে একটি প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান একদিকে পরামর্শ ফি নিচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্প ঝুলিয়ে রেখে নিজেদের পরিশোধিত তেল আমাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছে। আর বাংলাদেশ দুই দিক থেকেই খেসারত দিয়ে গেছে। ভারত এখানে নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থ দেখেছে। সেটাকে দোষ দেওয়া যায় না। আসল দোষ তাদের, যারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে এই সুযোগটা সাজিয়ে দিয়েছিল ।
1. Eastern Refinery Limited (ERL) Annual Report 2022-23, Bangladesh Petroleum Corporation
2. Engineers India Limited (EIL) Annual Report 2021-22 — NRL equity stake disclosure, New Delhi
3. Bangladesh Energy Regulatory Commission (BERC) — Fuel pricing data 2017-2024
4. Islamic Development Bank / ITFC — Trade Finance Framework Bangladesh, 2019
5. The Daily Star, "ERL Unit-2 project cost escalates to Tk 35,465cr", March 2024
6. Prothom Alo, "S Alam Group: PPP চুক্তি বাতিল", September 2024
7. Bangladesh Bank Governor press briefing — money laundering figures, October 2024
8. Numaligarh Refinery Limited (NRL) — G2G diesel supply agreement with BPC, 2017
9. Ministry of Power, Energy and Mineral Resources, Bangladesh — ERL-2 project timeline documents
10. Dharmendra Pradhan press statement, Dhaka visit, 2016 (PTI report)
০৬ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গত নয় বছরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়াই প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে ইআইএল (EIL)। এর ওপর টেকনিপের (Technip) ফিড (FEED) বাবদ খরচ হয়েছে আরও ৩০ মিলিয়ন ডলার। এখন নতুন করে ফিড (FEED) করা হলে এই ব্যয়ের বোঝা যে আরও ভারী হবে, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, শুধুমাত্র ভারত থেকে ডিজেল আমদানিতেই গচ্ছা গেছে ৬০০ মিলিয়ন ডলার। মূল প্রকল্পের ব্যয় ১.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ২.৯ বিলিয়ন ডলার ! এটি কেবল কোনো অব্যবস্থাপনা নয়; বরং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চালানো একটি পরিকল্পিত, দীর্ঘমেয়াদি ও বহুপাক্ষিক লুণ্ঠন যেখানে দেশীয় ও বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল একজোট হয়ে কাজ করেছে। এই বিপুল হরিলুটের ময়দানে আবির্ভূত হয়েছে নতুন খেলোয়াড়।
২|
০৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৭
রাসেল বলেছেন: আপনার আলোচনায় যা বুঝলাম, পৃথিবীর প্রায় সবাই নিজ নিজ দেশের কল্যাণ ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। আর আমরা? তবুও নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে দাবি করি, তবে দেশপ্রেমের প্রকৃত সংজ্ঞা এতে পরিবর্তিত হয় না; বরং এটি এমন এক বাস্তবতা, যা বিশ্বের মধ্যে নজিরবিহীন ।
৩|
০৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৯
মাথা পাগলা বলেছেন: যেকোন বড় বড় প্রজেক্টে বড় বড় কোম্পানিকে বেশী অংশীদার না করলে তারা প্রজেক্টের কাজ করবে না - তাদের জন্য টাকা লস। কোন একটা প্রজেক্টে ১০০ টাকা বেতনে CEO রাখলো আর অন্যদিকে বিলিয়ন ডলার দিয়ে ইলন মাস্করে রাখলো কোন কোম্পানিতে ইনভেস্টরা টাকা ইনভেস্ট করবে বলে মনে হয়?
১১ ডলার সাশ্রয় কিভাবে হতো একটু বুঝিয়ে বলবেন? ২.৯ বিলিয়ন খরচ করে আপনি বছরে ২৩৭ মিলিয়ন ডলার প্রফিট করবেন। বছরে ১০% এর কম প্রফিট। গানিতিকভাবে অনেক কিছুই মিলানো যায়। এটা কি ঋণের সুদ, অপারেটিং কস্ট, মেইনটিনেন্স, ইনভেনটরি ডিপ্রিয়েশন, রাজাকার-জামাতের জঙ্গি কর্মকান্ডে কারখানা কোন কারনে সাময়িক বন্ধ, তেলের প্রাইজ অনেক উঠা-নামা করে এগুলা মাথায় রেখে করসেন? কাপড় কারখানার সাথে তুলনা করতে পারেন। ব্যাপারটা এমন না যে কারখানা বসাইলাম আর কোন খরচ নাই।
$5.5/barrel বেশি দিচ্ছি। স্পট অয়েল প্রাইস ধরে হিসাব কষলে ভুল হবে। কিভাবে কোন দেশ থেকে ডিজেল আমদানি করলে বাংলাদেশের বেনিফিট হতো বলে আপনার ধারনা। আপনার কথা শুনে মনে হয় ভারতের উচিত ছিলো নিজে লস করে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা। তেল শোধনে তাদের কোন খরচ হয় না।
NRL কনট্রাক্ট ফর্মূলা আর সৌদি, কুয়েত বা অন্য দেশের অফার, পরিবহন/বীমা খরচ উল্লেখ না করে বিশ্লেষন করলে পাঠকদের বুঝতে অসুবিধা হয়।
সমুদ্রপথে Middl East ডিজেল:
Premium = $5.33/barrel
Chattogram =< Parbatipur transport =< $2.64/barrel
Total = $7.97/barrel
----------------
NRL pipeline ডিজেল:
Premium = $5.50/barrel
অতিরিক্ত inland transport = প্রায় শূন্য (Parbatipur depot-এ ডেলিভারি)
মোট = $5.50/barrel
এই হিসাব অনুযায়ী:
$7.97 − $5.50 = $2.47/barrel
অর্থাৎ BPC-এর নিজের হিসাব যদি সঠিক হয়, তাহলে NRL-এর ডিজেল প্রতি ব্যারেলে প্রায় $2.47 সস্তা পড়ছে।
***এই টপিকে আমার কোন আইডিয়া নাই, আপনার লেখা পড়ে একটু পড়লাম। পড়ার পর আমার চিন্তা-ভাবনায় ভুল থাকতে পারে কারন ডিপলি এতো কিছু পড়ি নাই।
https://www.tbsnews.net/bangladesh/energy/bpc-approves-1b-fuel-import-plan-2026-119m-india-882m-other-g2g-deals-1313751
নিউজ লিংক
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২
নতুন বলেছেন: ভারত ও তার কথা রাখছে।