নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

সরকার কি দেশ চালাচ্ছে, নাকি ঝামেলা ম্যানেজ করছে?

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের সময় খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। একদিকে দীর্ঘদিন উপবাস থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা এতদিন কিছুই পাননি, তাদের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়া মেটাতে গিয়ে সরকারের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার শক্ত হাতে সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যা, আবার সিদ্ধান্ত না নিলেও সমস্যা। এত সমস্যা নিয়ে একটা সরকার কতদিন শান্তিতে থাকতে পারবে ?

সালমান মুক্তাদির সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার করছেন। এতে সরকারের দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার তাই ভাবল, একটু হালকা টাইট দেওয়া দরকার। সেই সুবাদে সালমানের শ্বশুরের মদের বারে অভিযান হয়েছে। বাংলাদেশে মদের বার কিংবা আবাসিক হোটেলে অভিযান হলে সাধারণত মানুষ খুশিই হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে, সরকার কাজ করছে, জনগণও খুশি।তবে সালমানের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন ।

সরকারপন্থী অনেক ইনফ্লুয়েন্সার মনে করছেন, সালমানের শ্বশুর কী ব্যবসা করেন সেটা নিয়ে জেন জির তেমন মাথাব্যথা নেই। তাদের মাথাব্যথা হলো সালমানকে নিয়ে। তাদের ধারণা, সালমান সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন বলেই তাকে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করা হচ্ছে। আর জেন জি যদি এমন মনে করতে শুরু করে যে সরকার তাদের কথা বলা পছন্দ করছে না, তাহলে বিপদ। তখন সরকারকে তারা শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে তুলনা শুরু করতে পারে।

এর মধ্যেই বিমানবন্দরের ঘটনা এসে সরকারের সামনে আরেকটি নতুন ঝামেলা তৈরি করেছে। জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় মালামাল নিয়ে বিমানবন্দরে ঝামেলা নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা, লাগেজ নিয়ে অভিযোগ, যাত্রী হয়রানি এসব নিয়ে মানুষ কথা বলে আসছে। কিন্তু মেজর আখতারুজ্জামানের কথাবার্তার ধরন দেখে মনে হয়েছে, তার দল ইতোমধ্যে সরকার গঠন করে ফেলেছে।

ডিউটিরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন একটা আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে কথা বলেছেন যে মনে হচ্ছিল, বিমানবন্দরটি রাষ্ট্রের নয়, তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। বিমানবন্দরের পুরোনো সমস্যা একদিনে ঠিক করা সম্ভব নয়। তাই পুরোনো সমস্যার সঙ্গে নতুন করে একটা রাজনৈতিক সমস্যা যোগ হলে সরকারের উপর চাপ বাড়ে। জনগণ এখন মনে করছে লাগেজ চুরি নিয়ে প্রতিবাদ করায় জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়েও সরকার বেশ চিন্তিত। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ফেসবুক ও ইউটিউবের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে, অপব্যবহার হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। তবে একটা ছোট সমস্যা আছে। জেন জি এসব কথা খুব সহজে বিশ্বাস করছে না।

তাদের ধারণা, মোবাইল সাংবাদিকতার কারণে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের অনেক মহৎ কাজ জনগণ জানতে পারছে। আগে কোনো নেতা কোথায় কী করেছেন সেটা জানার জন্য সাংবাদিক লাগত। এখন নেতা নিজেই লাইভে চলে আসেন। ফলে সরকারের জন্যও পরিস্থিতি কিছুটা বিব্রতকর হয়ে গেছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা হলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু মানুষ সন্দেহ করতে পারে, সরকার আসলে ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে, নাকি ফেসবুকে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের পক্ষেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিশু ও কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমাদের দেশেও এসব নিয়ে ভাবা দরকার। বাবা মায়েরাও নিশ্চয়ই চান না তাদের সন্তান সারাদিন ফোনে বসে থাকুক। শুধু একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানকে ফোন থেকে দূরে রাখতে গিয়ে যেন সরকারকেও ফোনের ক্যামেরা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা না করা হয়।

কারণ এখনকার দিনে একজন সাধারণ মানুষও ক্যামেরা হাতে সাংবাদিক। আর একজন রাজনৈতিক কর্মী ভুল জায়গায় ভুল সময়ে কিছু করলে সেই ভিডিও মুছে ফেলার আগেই সেটা কয়েক লাখ মানুষের ফোনে চলে যায়। এটাই নতুন বাস্তবতা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এসব নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন যে বিষয়গুলো নিয়ে আসলে আলোচনা হওয়ার কথা সেগুলো একটু আড়ালেই পড়ে যাচ্ছে।

এলপিজি গ্যাসের দাম এত বেশি কেন, সয়াবিন তেলের দামই বা এত বাড়ল কীভাবে, পোলাও চালের দামই বা কোথায় গিয়ে ঠেকল? বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই বা কী? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়ার বদলে আমরা এখন আলোচনা করছি সালমান মুক্তাদির, তার শ্বশুর, মেজর আখতারুজ্জামান এবং ফেসবুক-ইউটিউব নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।

সরকারের জন্য ব্যাপারটা নিশ্চয়ই বেশ সুবিধাজনক। কারণ জনগণ যদি তেলের দাম নিয়ে প্রশ্ন করে, উত্তর দিতে কষ্ট হয়। এলপিজির সিন্ডিকেট নিয়ে প্রশ্ন করলে মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে হয়। কিন্তু সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে প্রশ্ন উঠলে একটা অভিযান দেখানো যায়, মেজর আখতারুজ্জামান-কাণ্ড নিয়ে একটা গ্রেপ্তার দেখানো যায়, আর ফেসবুক নিয়ে অভিযোগ তুলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া যায়।

সরকার চাইলে অবশ্যই বলতে পারে, আমরা বসে নেই। আমরা কাজ করছি। সত্যিই তো করছে। প্রতিদিন নতুন নতুন ঝামেলা সামলাচ্ছে, নতুন নতুন ইস্যুতে ব্যস্ত থাকছে। তবে মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছা করে , সরকার এত নতুন নতুন ঝামেলায় পড়ছে কেন, আর এসব ঝামেলা তৈরি হচ্ছে কোথা থেকে ? কারণ একটি সরকার শুধু প্রতিদিনের ঝামেলা সামলানোর জন্য ক্ষমতায় আসে না। তাকে এমন একটি পরিবেশও তৈরি করতে হয়, যেখানে প্রতিদিন নতুন ঝামেলা তৈরি হবে না।

জনগণ তাই শেষ পর্যন্ত জানতে চাইবে, সরকার কবে ফেসবুক, ইউটিউব, ব্যক্তিগত বিতর্ক আর একের পর এক আলোচিত ঘটনায় ব্যস্ত না থেকে দেশের বড় সমস্যাগুলোতে মনোযোগ দেবে? কবে বাজার, জ্বালানি, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সামনে আসবে?

ফটোকার্ড : স্কাই নিউজ থেকে সংগৃহীত




মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সরকার শক্ত হাতে সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যা, আবার সিদ্ধান্ত না নিলেও সমস্যা।
........................................................................................................
সরকারের উপর অনেক সমস্যা চেপে বসে আছে, উপরন্ত ইউনুস সরকার বাড়তি
কিছু সমস্যা দিয়ে বোঝা বাড়ায়েছে, অতপর পাগলা ট্রাম্পের আবদার মিটানো ,
অন্যদিকে জ্বালানী সমস্যা ।
এরপর শুরু হলো নিজ দলের কিছু নেতার লোভী আচরন । অর্থনীতির অবস্হাও
ভালো নয়, সুতরাং অনেক কঠিন ও দূরদর্শী সিদ্বান্ত নিয়ে অগ্রসর হতে হবে ।
তাহলে দেশে অস্হি রতা কমে আসবে ।

..........................................................................................................
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শক্তিশালী প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া করে শান্তিতে ঘুমানো
যায়না , সে কারনে যত দ্রুত তা সমঝোতায় আনা যাবে তত জনগণের জন্য মঙ্গল হবে ।

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: প্রতিবেশী দেশের সাথে খারাপ রিলেশন কোথায় ? প্রতিদিন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করছেন । ইউনুস আমলে সমস্যা হয়েছে ঠিক আছে; এর আগে কি আমরা সমস্যা মুক্ত ছিলাম ? আমি বলতে চেয়েছি শেখ হাসিনার সময়ে যে সব সমস্যা নিয়ে আমাদের মাঝে অভিযোগ ছিলো সরকার সেগুলো সমাধান করতে পারছে না বরং নতুন নতুন উটকো ঝামেলা সামনে আনছে । বিষয়টা হতাশাজনক ।

২| ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১০

অর্ক বলেছেন: সব নাটক ভাই। সামনে আরও কতো নাটক হবে। নাটকের শেষ নেই। এইসব নাটক যে কোথায় নিয়ে যায় আমাদের কে জানে! আপনার জন্য হার্দিক শুভেচ্ছা থাকলো। দেশ পুরোপুরি ধ্বসেের আাগেই শেখ হাসিনা আসবে দেশে। শেখ হাসিনার আসার অপেক্ষায় অধীর হয়ে আছি। আবার নবোদ্যমে সবাই মিলে নতুন আধুনিক উন্নত বাংলাদেশ গড়বো। শেখ হাসিনাতেই মুক্তি, শেখ হাসিনাতেই বিজয়। ধন্যবাদ।

(আগের মন্তব্যে ভুল আছে। ডিলিট প্লিজ।)

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি শেখ হাসিনার আসার প্রহর গুণতে থাকুন । আপনাকেও শুভেচ্ছা ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.