নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর হলো, আগামী নভেম্বর মাস থেকে সরকার এলপিজি কার্ড চালু করতে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এই সুবিধা দেওয়া হবে দেশের একেবারে অসচ্ছল ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে। প্রাথমিকভাবে এক লাখ পরিবারকে প্রতি তিন মাস অন্তর একটি করে সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার এক হাজার টাকায় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোগটি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আমাদের সমালোচনা থাকে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু ভালো উদ্যোগকে ভালো বলতে তো কোনো অসুবিধা নেই। বিশেষ করে এমন একটা সময়ে, যখন সাধারণ মানুষ বাজারে গিয়ে একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে দুই হাজার দুইশ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করছেন। সেখানে এক হাজার টাকায় সিলিন্ডার পাওয়ার সুযোগ নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর।

তবে আমার মনে হয়, সরকারের এই প্রকল্পকে কেবল এক লাখ পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। যত দ্রুত সম্ভব এর আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে হবে। কারণ এলপিজি এখন আর কেবল শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নার জ্বালানি নয়। গ্রামাঞ্চলেও এর ব্যবহার অনেক বেড়েছে। দেশে এক কোটির বেশি পরিবার এলপিজি ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন হিসাবে উঠে আসে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের অর্থনৈতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।

এলপিজির দাম কেন বাড়ছে, সেটাও একটু বোঝা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বেড়েছে। এই দুটি উপাদান দিয়েই মূলত এলপিজি তৈরি হয়। বাংলাদেশ তার এলপিজি চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ করে। সরকারি উৎপাদন ও সরবরাহের অংশ খুবই সামান্য। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ে। এর সঙ্গে যোগ হয় আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, পরিবহন খরচ এবং স্থানীয় বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই কি আমাদের দেশে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে পাঁচশ থেকে সাতশ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?

গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। কোথাও আরও বেশি। অর্থাৎ সরকার একটি দাম নির্ধারণ করছে, আর বাজার চলছে আরেকটি দামে। মাঝখানে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নিজেই জানিয়েছেন, কমিশনের কোনো মাঠপর্যায়ের কার্যালয় নেই। দাম তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই। এমনকি নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হলে সরাসরি শাস্তি দেওয়ার নির্বাহী ক্ষমতাও কমিশনের নেই। এ জন্য তাদের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের ওপর নির্ভর করতে হয়।

যে প্রতিষ্ঠানের নিজের নির্ধারিত দাম কার্যকর করার মতো লোকবল ও ক্ষমতা নেই, সেই প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে দাম ঘোষণা করে আসলে কী অর্জন করছে? বাজারে গিয়ে ক্রেতা তো আর বিইআরসির বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না। তাকে দোকানদারের চাওয়া দামেই কিনতে হচ্ছে। এলপিজির দাম বাড়ার প্রভাব যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটা বোঝার জন্য আমাদের দেশের ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালেই হয়।

রাজধানীর ইব্রাহিমপুরে আসমা নামের এক নারী প্রায় দশ বছর ধরে একটি ছোট হোটেল চালান। স্বামীর ব্যবসায় লোকসান হওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব নিতে তিনি হোটেলটি চালু করেছিলেন। প্রতিদিন সেখানে প্রায় দেড়শ রিকশাচালক, দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের মানুষ খেতে আসেন। তার হোটেলে মাসে প্রায় ৪০টি এলপিজি সিলিন্ডার লাগে।

এখন গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন তার রান্নার খরচ আগের তুলনায় পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা থাকত। এখন মাস শেষে কিছুই থাকছে না। ছয়জন কর্মচারীর মধ্যে দুজনকে বাদ দিতে হয়েছে। নিজে রান্না করছেন, স্বামী ও ছেলেকেও কাজে লাগিয়েছেন। তারপরও ব্যবসা চালাতে ভাইয়ের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ধার করতে হয়েছে।

একবার চিন্তা করুন, একজন নারী দশ বছর পরিশ্রম করে একটি ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। সেই ব্যবসায় ছয়জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। এখন কেবল জ্বালানি ও অন্যান্য উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাকে কর্মচারী ছাঁটাই করতে হচ্ছে। তার নিজের আয় কমছে, দুজন মানুষের চাকরি চলে যাচ্ছে। অথচ এই হোটেলে যারা খেতে আসেন, তাদেরও অধিকাংশের আয় খুব সীমিত। তিনি চাইলেই খাবারের দাম বাড়াতে পারেন না।

কচুক্ষেতের ফাহিমা বেগমের অবস্থাও প্রায় একই রকম। স্বামীর মৃত্যুর পর আট বছর ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। মাসে দুই থেকে তিনটি এলপিজি সিলিন্ডার লাগে। প্রতিটি কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকায়। এর বাইরে প্রতিদিন দোকানভাড়া চারশ টাকা। সংসার আছে, ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচ আছে। কিন্তু চায়ের দাম বাড়াতে সাহস পাচ্ছেন না। কারণ দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যেতে পারে।

কাফরুলের খাদিজা আক্তার আবার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ফাস্ট ফুডের দোকান খুলেছেন। এর মধ্যেই তিনটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে তাকে। প্রতিটির দাম পড়েছে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকা। নতুন ব্যবসার শুরুতেই গ্যাসের খরচ তার হিসাবের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন তিনি বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারের কথা ভাবছেন।

এই তিনজন মানুষের গল্প আসলে আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি বড় সংকটের ছবি। আমরা প্রায়ই মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা করি। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়ায়, ঋণ ব্যয়বহুল হয়, ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে ভয় পান। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যে মানুষগুলো ছোট ছোট ব্যবসা চালিয়ে নিজেদের সংসার এবং আরও কয়েকজন মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য আমরা কী করছি ?

আসমার হোটেলের কথাই ধরুন। বিইআরসি নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার পরিবর্তে তাকে যদি প্রতিটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হয়, তাহলে মাসে ৪০টি সিলিন্ডারের জন্য অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ২২ হাজার ৫২০ টাকা। বছরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। একটি ছোট হোটেলের জন্য এই টাকা কত বড় অঙ্ক, সেটা বুঝতে অর্থনীতিবিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই।

এখানে আরেকটি বিষয় আছে। আসমার হোটেলে যারা খেতে আসেন, তাদের বেশির ভাগই শ্রমজীবী মানুষ। গ্যাসের দাম বাড়লে হোটেলের খরচ বাড়ে। সেই খরচ সামলাতে একসময় খাবারের দামও বাড়াতে হয়। ফলে একজন রিকশাচালক কিংবা দিনমজুরকেও বেশি টাকা দিয়ে দুপুরের খাবার কিনতে হয়। অর্থাৎ এলপিজির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গ্যাস ব্যবহারকারী পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে।
- (রোকেয়া কালেকটিভ নিউজ)

এ কারণেই আমার মনে হয়, সরকারের এলপিজি কার্ড প্রকল্পকে আরও বড় পরিসরে চিন্তা করা প্রয়োজন। শুধু অতি দরিদ্র পরিবার নয়, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও কোনো না কোনোভাবে এই সুবিধার আওতায় আনা উচিত।

আমাদের পাশের দেশ ভারতে এলপিজিতে সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের নারীদের রান্নার গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। যোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য সিলিন্ডারপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভর্তুকিও দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজ্য সরকার আবার নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে। কোথাও সরাসরি ভর্তুকি, কোথাও নির্দিষ্টসংখ্যক সিলিন্ডারে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়।

বাংলাদেশেও এমন ব্যবস্থা চালু করা অসম্ভব কিছু নয়। তবে ভারতের সঙ্গে আমাদের অর্থনীতির পার্থক্য আছে। তাদের সরকারি তেল বিপণন কোম্পানি ও সরবরাহ অবকাঠামো অনেক বড়। আমাদের এখানে এলপিজির বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। ফলে শুধু ভর্তুকি ঘোষণা করলেই হবে না, সেই ভর্তুকি কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে, সেটাও ঠিক করতে হবে।

প্রথমে বাসাবাড়ির জন্য প্রতি মাসে সর্বোচ্চ দুটি সিলিন্ডারে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি সিলিন্ডারে পাঁচশ টাকা ছাড় দিলে একটি পরিবার মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা সুবিধা পাবে। তবে সবাইকে সমানভাবে এই সুবিধা না দিয়ে পরিবারের আয় ও প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এরপর ক্ষুদ্র হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানগুলোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা দরকার। যেমন একটি ছোট হোটেল মাসে ২০ থেকে ৩০টি সিলিন্ডারে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভর্তুকি পেতে পারে। অবশ্যই ব্যবসার ধরন, আকার এবং প্রকৃত ব্যবহার যাচাই করে কোটা নির্ধারণ করতে হবে। বড় বড় রেস্তোরাঁ আর রাস্তার পাশের ছোট খাবারের হোটেলকে একই সুবিধা দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

এতে অন্তত দুটি কাজ হবে। প্রথমত, ছোট ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে। দ্বিতীয়ত, খাবারের দাম বাড়ানোর চাপও কিছুটা কমবে। তবে ভর্তুকির পুরো সুবিধা যেন ব্যবসায়ীর মুনাফায় আটকে না যায়, ক্রেতারাও যেন তার সুফল পান, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত বড় আকারের এলপিজি আমদানি, সংরক্ষণ ও পরিবহন অবকাঠামোর অভাব। গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি এলপিজি খালাসের উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা গেলে আমদানি ও পরিবহন ব্যয়ের কিছু অংশ কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক অস্থিরতার সময় সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

এসব কাজ রাতারাতি করা সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার যদি এখন থেকেই পরিকল্পনা না করে, তাহলে পাঁচ বছর পরেও আমরা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকব। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে দাম বাড়বে। দাম কমলে সেই সুবিধা কতটা ক্রেতার কাছে পৌঁছাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আর বিইআরসি প্রতি মাসে একটি মূল্যতালিকা প্রকাশ করবে, যা বাজারের দোকানদার মানবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না।

এলপিজি কার্ডের ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা শুরুতেই সমাধান করা দরকার। যেমন একটি দরিদ্র পরিবার প্রথমবার গ্যাস নিতে গেলে খালি সিলিন্ডারের ব্যবস্থা কীভাবে করবে? যাদের আগে থেকে সিলিন্ডার নেই, তাদের যদি নতুন বোতলের জন্য আলাদা কয়েক হাজার টাকা জমা দিতে হয়, তাহলে এক হাজার টাকায় গ্যাস দেওয়ার সুবিধাটি অনেকের পক্ষেই গ্রহণ করা কঠিন হবে।

এ ছাড়া এক হাজার টাকায় পাওয়া সিলিন্ডার বাজারে দুই হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হলে কালোবাজারির ঝুঁকি থাকবে। কোনো দরিদ্র পরিবার নগদ টাকার প্রয়োজনেও নিজের বরাদ্দের গ্যাস অন্যের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে। তাই শুধু কার্ড বিতরণ করলেই হবে না। প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করা, ডিলারদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রতিটি সিলিন্ডারের সরবরাহের হিসাব রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারকে একসঙ্গে দুটি কাজ করতে হবে। একটি হলো স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষের খরচ কমানোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি দেওয়া। অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সরকারি সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।

তবে শুধু ভর্তুকি দিয়ে বাজারের সব সমস্যা সমাধান করা যাবে না। আবার বাজারের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিলেও সাধারণ মানুষের কষ্ট কমবে না। বিশেষ করে এমন একটি বাজারে, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেই বলছে, নির্ধারিত দাম কার্যকর করার মতো লোকবল ও ক্ষমতা তাদের নেই।

সরকারের এলপিজি কার্ড চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। অন্তত মানুষের একটি বাস্তব সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতি তিন মাসে একটি সিলিন্ডার দিয়ে একটি পরিবারের রান্নার জ্বালানির চাহিদা পূরণ হবে না। এটি বড়জোর কিছুদিনের জন্য আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে। তাই প্রকল্পটিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে হবে, স্থায়ী সমাধান হিসেবে নয়।

একই সঙ্গে আসমা, ফাহিমা কিংবা খাদিজাদের কথাও ভাবতে হবে। তারা কেউ বড় ব্যবসায়ী নন। কেউ বিদেশে টাকা পাচার করছেন না, কেউ ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বসে নেই। নিজেদের পরিশ্রমে ছোট ব্যবসা চালাচ্ছেন। সেই ব্যবসা থেকে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। অথচ জ্বালানির দাম বাড়লে সবার আগে তারাই বিপদে পড়ছেন।

সরকার যদি এসব ছোট ব্যবসার উৎপাদন খরচ কমাতে পারে, তাহলে তার সুফল শুধু ব্যবসায়ীরা পাবেন না। তাদের দোকানে খেতে আসা রিকশাচালক, দিনমজুর, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষও উপকৃত হবেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রীর দুপুরের খাবার বাজেট কত তা শুনতে আগ্রহী নয়। মানুষ জানতে চায়, এলপিজির দাম কবে কমবে, সয়াবিন তেলের দাম কবে কমবে, বিদ্যুৎ বিল কীভাবে কমানো যাবে। এসব বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান পরিকল্পনা দেখতে চায়। তাহলে অন্তত মানুষ আশা করতে পারবে যে সরকার সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। এলপিজি কার্ড সেই চেষ্টার একটি ভালো সূচনা হতে পারে।

ফটোকার্ড ক্রেডিট: রেডিও আমার

এলপিজির বাড়তি দামে আসমার হোটেলে খাবারের পদ কমেছে, জেসমিনের মেয়ের বেতন বাকি-রোকেয়া কালকটিভ ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.