নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর খুব ইচ্ছা ছিল সমুদ্র দেখতে যাবেন। নিজের মতোই আরেকজন দরিদ্র বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্র দেখতে যেতে চান। বন্ধুটিও ছিলেন তাঁর মতোই গরিব।

একদিন দুপুরে সেই বন্ধু আলুভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছিলেন আর কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা পড়ছিলেন। কবিতার সেই বিখ্যাত লাইন, ‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করিয়াছ মহান’ পড়া শেষ করে তিনি প্রয়াত নজরুলকেই উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘দেখেছেন কবি সাহেব, দারিদ্র্য আমাকে কতটা মহান করেছে, আলুভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছি।’

নাটকের এই সংলাপটি আমার প্রায়ই মনে পড়ে। বিশেষ করে যখন দেখি, দরিদ্র মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে কোনো ভুল করলে কিংবা নিজের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামলে তাঁদের সঙ্গে কী আচরণ করা হয়। অনেক সময় মনে হয়, সমাজের চোখে দরিদ্র হওয়াটাই এক ধরনের বড় অপরাধ। তাঁদের ভুলের শাস্তি দিতে রাষ্ট্র যতটা কঠোর, তাঁদের জীবন রক্ষা কিংবা মৃত্যুর পর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ততটা তৎপর নয়। একে বলা যায়, লঘু পাপে গুরু দণ্ড।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ১৬ জুলাই রংপুরে আন্দোলনকারীদের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই দৃশ্য সারা দেশের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আবু সাঈদ শুধু একজন শিক্ষার্থী ছিলেন না, তাঁর মৃত্যু জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এগিয়ে এসেছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর পরিবারকে সাড়ে সাত লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং পরিবারের একজন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করেছে। বসুন্ধরা গ্রুপ তাঁর দুই ভাইয়ের চাকরির ব্যবস্থা করেছে। বিজিবিও শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাঁর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আবু সাঈদের পরিবারসহ আন্দোলনে নিহত অন্য পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আর্থিক সহায়তা ও সঞ্চয়পত্র দিয়েছিলেন।

বিএনপিও বিরোধী দলে থাকাকালে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে তারেক রহমান তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সর্বশেষ বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নামও শহীদ আবু সাঈদের নামে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

একটি পরিবারের পাশে এতগুলো প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পক্ষের এগিয়ে আসা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আবু সাঈদের পরিবারের এই সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন আসে, পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া সব পরিবারের ক্ষেত্রেই কি এমন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তা দেখা যায়? তাঁদের মৃত্যুর পরও কি রাষ্ট্রের একই রকম দায়িত্ব থাকে না?

আবু সাঈদের পরিবারকে সহায়তা করা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি হলো, অন্য দরিদ্র মানুষের পরিবারগুলো কেন একই রকম গুরুত্ব পায় না। একজনের মৃত্যু জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলে তাঁর পরিবারকে ঘিরে এত উদ্যোগ দেখা যায়, অথচ অন্য কোনো শ্রমিক বা জেলের মৃত্যু কয়েক দিনের মধ্যেই সংবাদপত্রের পাতা থেকে হারিয়ে যায়।

এর উদাহরণ আমাদের খুব বেশি দূরে খুঁজতে হবে না। ২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকেরা যখন ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন, তখন পুলিশের গুলিতে রাসেল হাওলাদার, আঞ্জুয়ারা খাতুন ও জালাল উদ্দিন নিহত হন। তাঁদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও বিমার অর্থের ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতিপূরণ পাওয়া আর হত্যার বিচার পাওয়া তো এক বিষয় নয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, ঘটনার ছয় মাস পরও শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কোনো পুলিশ সদস্যের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি।

যে পুলিশ সদস্য গুলি চালিয়েছিলেন, যে কর্মকর্তা গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন কিংবা যাঁদের দায়িত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা ছিল, তাঁদের ভূমিকার জবাবদিহি কোথায়? শ্রমিকেরা মজুরি বাড়ানোর দাবি করেছিলেন। তাঁদের দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, আন্দোলনে কেউ আইন ভাঙলে তার বিচারও হতে পারে। কিন্তু দাবি আদায়ের আন্দোলনে শ্রমিককে গুলি করে হত্যার দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এবার আসি মেঘনা নদীর ঘটনায়। গত ২৯ অক্টোবর বরিশালের হিজলায় আকতার হাওলাদার নামে ৪০ বছর বয়সী এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনি মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। আইন ভেঙে মাছ ধরলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, জরিমানা হতে পারে, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মাছ ধরার অপরাধে একজন মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলার অধিকার কোনো বাহিনীর নেই।

এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্যেও নৌ-পুলিশের গুলির কথা এসেছে। অন্যদিকে নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ড ওই এলাকায় অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। ফলে গুলি আসলে কারা চালিয়েছিল, কোন ইউনিটের সদস্যরা সেখানে দায়িত্বে ছিলেন এবং কোন অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। শুধু একটি বাহিনীর বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি শেষ করা যায় না।

সেদিন দায়িত্বে থাকা সদস্যদের তালিকা, অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব, নৌযানের চলাচলের রেকর্ড এবং গুলির আলামত পরীক্ষা করতে হবে। যদি কোনো বাহিনীর সদস্য গুলি চালিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পরিচয় ও দায় প্রকাশ করতে হবে। আর যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে গুলি চালানো হয়ে থাকে, তাহলে সেই নির্দেশদাতাকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জেলে নিষেধাজ্ঞা ভেঙেছেন কি না, সেটি তদন্ত হবে; কিন্তু তাঁকে গুলি করে হত্যার অভিযোগের তদন্তও একই গুরুত্বে হতে হবে। একটি অপরাধ আরেকটি অপরাধের বৈধতা দিতে পারে না।

এবার আসি আরেকজন নির্মাণশ্রমিকের ঘটনায়। গত সেপ্টেম্বরে বারিধারায় ২৪ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। দ্রুতগতির একটি গাড়ি ফুটপাতে উঠে তাঁকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও কিশোরটির গাড়ি থেকে বের হওয়ার দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। অথচ মামলায় চালক হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারাকের নাম আসে। পরে পুলিশ কিশোরটিকে আবার আটক করে।

অর্থাৎ গাড়িটি আসলে কে চালাচ্ছিল, তা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা মিলিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি। কেউ প্রভাবশালী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে তদন্তের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। দুর্ঘটনার জন্য যিনি দায়ী, তাঁকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতেই হবে।

এর মধ্যে মেহেদীর পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতার খবরও আসে। পরিবারের আর্থিক অসহায়ত্বের মধ্যে এই অর্থ তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত সমঝোতা দিয়ে কি একজন মানুষের মৃত্যুর দায় শেষ হয়ে যায়? সড়ক পরিবহন আইনের মামলার বিচার ব্যক্তিগত সমঝোতায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। এখানে শুধু ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নয়, গাড়ি কে চালাচ্ছিল, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং তদন্তে কোনো অসংগতি থাকলে তার জন্য কারা দায়ী, সেসব প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন। একজন নির্মাণশ্রমিকের জীবন কি কেবল কয়েক লাখ টাকার সমঝোতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে?

আমাদের দেশে দরিদ্র মানুষের মৃত্যুর পর পরিবারের হাতে কিছু টাকা তুলে দেওয়ার বিষয়টি অনেক সময় বড় করে দেখা হয়। কিন্তু সেই অর্থের সঙ্গে ন্যায়বিচারকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। ক্ষতিপূরণ পরিবারের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে পারে, কিন্তু অপরাধীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে না। আবার কোনো পরিবার আর্থিক চাপে সমঝোতা করলেই যে ঘটনার দায় শেষ হয়ে গেল, এমনটাও নয়। দরিদ্র পরিবারের কাছে কয়েক লাখ টাকা অনেক বড় অঙ্ক হতে পারে। কিন্তু সেই আর্থিক অসহায়ত্ব যেন অপরাধীর দায়মুক্তির সুযোগ হয়ে না দাঁড়ায়।

দেশের ভেতরে দরিদ্র শ্রমিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কার ২৪ বছর বয়সী অভিবাসী নির্মাণশ্রমিক আনোজান শিবরাজের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। শ্রীলঙ্কা সরকার আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়। বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের দল সৌদি আরবে পাঠানো হয়। পরে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে।

অন্যদিকে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশের কনস্যুলেট জানায়, কার্যকরের আগে তাদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। দুটি ঘটনার অভিযোগ ও আইনি পরিস্থিতি এক নয়, তাই ফলাফলও একই হওয়ার কথা নয়। কিন্তু একজন নাগরিকের জীবন রক্ষায় রাষ্ট্র কতটা আগেভাগে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারে, শ্রীলঙ্কার ঘটনাটি তার একটি উদাহরণ। বিদেশে কর্মরত একজন শ্রমিকের জীবনও রাষ্ট্রের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

দেশের পোশাকশ্রমিকেরা আবারও মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁদের দাবি ৩০ হাজার টাকা, অথচ বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখানে ৩০ হাজার টাকার দাবি করলেই শ্রমিকদের লোভী বা উসকানিদাতা বলা যায় না। মালিকপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি, আলোচনা এবং মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দাবির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

আবার আন্দোলনের সুযোগে কেউ ভাঙচুর বা নাশকতা করলে তারও তদন্ত হওয়া দরকার। কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে সহিংসতা ঘটালে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু কয়েকজনের অপরাধের দায় সব শ্রমিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিংবা তাঁদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো কোনো সমাধান নয়। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আর নাশকতাকারীদের অপরাধকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

আবু সাঈদের পরিবারের পাশে রাষ্ট্র দাঁড়িয়েছে, এটি ভালো উদ্যোগ ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু আলোচিত বা প্রতীকী হয়ে ওঠা মানুষের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নয়। যে শ্রমিকের মৃত্যু সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় আসে না, যে জেলের মৃত্যুর খবর কয়েক দিনের মধ্যে হারিয়ে যায়, যে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর পর পরিবারকে সমঝোতার টাকার ওপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের প্রতিও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সহায়তা যেন কারও পরিচিতি, রাজনৈতিক গুরুত্ব কিংবা মৃত্যুর ঘটনা কতটা আলোচিত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর না করে।

কবি নজরুল বলেছিলেন, দারিদ্র্য তাঁকে মহান করেছে। বাস্তবে দারিদ্র্য মানুষকে মহান করে না। দারিদ্র্য মানুষকে অসহায় করে, অনেক সময় নিজের অধিকার আদায় করতেও ভয় পাইয়ে দেয়। একজন মানুষকে মহান হওয়ার পরীক্ষা দেওয়ার আগে তাঁকে মানুষ হিসেবে বাঁচার সুযোগ দেওয়া দরকার। রাষ্ট্রের কাছে দরিদ্র মানুষের এতটুকু প্রত্যাশা তো খুব বেশি হওয়ার কথা নয়।


## তথ্যসূত্র

1. [আবু সাঈদের পরিবারের সহায়তা — The Daily Star]
2. [শ্রমিক হত্যা ও ক্ষতিপূরণ — ILO]
3. [শ্রমিক হত্যায় জবাবদিহি — Amnesty International]
4. [আখতার হাওলাদার হত্যার ঘটনা — The Daily Star]
5. [মেহেদীর পরিবারকে ৯ লাখ টাকা সমঝোতা — The Business Standard]
6. [আনোজানের মৃত্যুদণ্ড বাতিল — Daily Mirror]
7. [দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর — The Daily Star]
8. [পোশাকশ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন — Reuters]



মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৯

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

জুলাই কে প্রথম প্রথম ও যৌক্তিক মনে হয়েছে এখন গার্মেন্টসে বেতন ভাতা বৃদ্ধি তেমন মনে হচ্ছে।‌ মিরপুর নাকি সংঘর্ষ ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করেছে গার্মেন্টস কর্মীরা। কোনটা যে সরকার পতনের আন্দোলন আর বিদেশী ষড়যন্ত্র আর কোনটা যৌক্তিক আন্দোলন এখন এইডা ই মাথায় ধরে না......

২| ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: দেখেছেন কবি সাহেব, দারিদ্র্য আমাকে কতটা মহান করেছে,
আলুভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছি।’

.....................................................................................
ফ্যামেলী কার্ড কি এই দারিদ্র থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে নাই ???
সে কারনে এই ব্লগে প্রশ্ন রেখেছিলাম শুধুমাত্র পে - স্কেল নিয়ে মাথা
ঘামালে কি দারিদ্র উত্তরণ ঘটবে ?
তাহলে বেসরকারী খাতের চাকুরীজীবিদের কি হবে ???

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.