| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজা রাজবর্মণ বড়ই অস্থির।অন্তপুরের বাইরের বারান্দায় ক্রমাগত অস্থির ভাবে পায়চারি করছেন।অন্তপুরে রানী নলিনী প্রসব বেদনায় ছটফট করছেন।হঠাৎ অন্তপুর থেকে এক দাসী দৌড়ে বেরিয়ে এলো।'মহারাজের জয় হোক।মহারাজের কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে।'-দাসী সংবাদ দিলো।
মহারাজ রাজবর্মণ পায়চারি থামালেন। নাক ও চোখদুটো কুঁচকালেন কিছুক্ষন।তারপর গলা থেকে একটা হার দাসীর উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়ে বললেন-'যাও, বিদায় হও'।হাবভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে এই সংবাদ মহারাজের মনে যে সুখানুভুতি সৃষ্টি করেছে,তা নয়।
উনিশ বছর পর----
চন্দ্রাপুরী রাজ্য.....
'মহারাজের জয় হোক'
চন্দ্রপুরীর মহারাজ বীরাচার তার গরগড়ায় মনোনিবেশ করেছিলেন।এবার চোখ খুললেন।দেখলেন বছর তেইশের যুবক সৌর্য তার সুন্দর,সবল ও সুঠাম শরীর নিয়ে তার সামনে নতজানু হয়ে বসে।সৌর্য মহামন্ত্রীর একমাত্র পুত্র সৌর্য।প্রসব কালে সৌর্যর মা অর্থাৎ মহামন্ত্রীর স্ত্রী রমলাদেবী দেহ রাখেন।অন্যদিকে মহারাজও নিঃসন্তান।তাই বলতে গেলে সৌর্যকে তিনি নিজের ছেলের মতোই দেখেন।সৌর্য বড় হয়েছেও মহারানী কুলন্তীনি দেবীর আঁচলের তলায়।মহারাজ বীরাচার কে সৌর্য মহারাজ বলে সম্বোধন করলেও,মহারানী কে সে' বড় মা' বলেই ডাকে।
'সৌর্য'-গুরুগম্ভীর স্বরে ডেকে উঠলেন মহারাজা বীরাচার।সৌর্য মুখ তুললো।মহারাজ বললেন-'সৌর্য,আমি তোমায় আমার অশ্বারোহী বাহিনীর সেনাপতি বানাতে চাই।'
'আপনার যা আদেশ,মহারাজ।'
'আর হ্যাঁ,শোনো।সেনাপতির পদে যোগ দেবার পূর্বে আমি চাই যে তুমি বিশ্ব ভ্রমণে বের হও।'
'তার কী আবশ্যকতা আছে,মহারাজ!'
'হ্যাঁ আছে।আমি জানি তুমি সর্ব শাস্ত্রে পারদর্শী,রণকৌশলও তুমি নিপুন।তবুও শেখার কোনো শেষ নেই।দেশ-বিদেশের বহু জিনিস তুমি জানো না।বিদেশের বহু-রণকৌশল থেকে তুমি অজ্ঞাত।তাই বলছি,ভ্রমণ নয়।মূলত শিক্ষার স্বার্থে তুমি ভ্রমণে বেরোবে।তবে রাজ বেশে নয়,সকলের অজ্ঞাতে ছদ্মবেশে যাবে তুমি।কেউ তোমায় চিনবে না।'
'আজ্ঞে মহারাজ।'
'ঠিক আছে,প্রস্তুত হও।'
তুন্দ্রনগর রাজ্যের রাজধানীর পাশে শালবিহারী বনে মহেশানী দেবীর মন্দির।অতিমাত্রায় নির্জন।সোমেন্দ্র সৌর্যকে বললো-ওই মন্দিরের পুরোহিত কিন্তু ভালো জ্যোতিষী।লোক-মুখে জনশ্রুতি আছে।একবার দেখে এলে কেমন হয়? সোমেন্দ্র সৌর্যের ছেলেবেলার সঙ্গী ও অন্তরঙ্গ বন্ধু।সৌর্যর বিদেশ ভ্রমণের সঙ্গী।সৌর্য মন্দিরের সু-উচ্চ চূড়ার দিকে তাকিয়ে বললো-কথাটা মন্দ বলো নি মিত্র।
পুরোহিত রুদ্রকর্ন সৌর্যর দিকে এক পলক তাকিয়েই জবাব দিলো-ক্ষত্রিয়।তারপর আরো কিছু সময় সৌর্যর কপালের দিকে একভাবে তাকিয়ে রইলো।তারপর বললেন -ভাগ্যে রাজ্যযোগ আছে। এবার সৌর্য অবাক হলো।পুরোহিত বলে চললেন-কিন্তু তার আগে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা।পুরোহিত আরও কিছু বলতেন ,কিন্তু তখনই সে রাজ্যের এক সৈন্যের প্রবেশ ঘটলো।সৈন্য পুরোহিতের উদ্দেশ্যে বললো-রাজকন্যা পদার্পন করছেন।অতঃপর পুরোহিত সৌর্যর উদ্দেশ্যে বললেন-আপনি এখন আসুন।রাজকন্যা যখন এ মন্দিরের গর্ভ গৃহে প্রবেশ করেন,তখন অন্যদের এ মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ।
সৌর্য মৃদু হাঁসলো।তারপর সোমেন্দ্রকে নিয়ে বেরিয়ে এলো।
মিত্র,রাজকন্যাকে দেখবার বড় সাধ জেগেছে মনে।কথা শুনে সোমেন্দ্র সৌর্যর দিকে তাকালো।তারপর হেঁসে ফেললো।
রাজকুমারী লগ্নভদ্রার এ কদিন কেবলই মনে হচ্ছে একজোড়া চোখ যেন তাকে পর্যবেক্ষণ করছে।সে যখন মহেশানী দেবীর মন্দিরে যায় তখন।সাধারণত প্রাসাদ সীমান্তর বাইরে খুবই কম যান লগ্নভদ্রা।
তবে আজ তার এক দারুন পরিকল্পনা আছে।
বনপথে সঙ্গীসাথী সহ হাটছে লগ্নভদ্রা।পেছনে একদল সৈন্য কড়া দৃষ্টি রাখছে চারিদিকে।হঠাৎ দেখা গেল সামনের ঝোপ ভেদ করে তিনটে বুনো শুয়োর বেরিয়ে এলো,আর ধাবিত হলো রাজকুমারী লগ্নভদ্রা আর তার সঙ্গিনীদের দিকে।এতটাই কম সময়ের মধ্যে তারা বেরিয়ে এলো যে পেছনের সৈনিকরা শুধু হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলো।আর ঠিক তখনই বন জঙ্গলের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো সৌর্য।এক সাথে তিনটে তির বেরোলো তার ধনুক দিয়ে।অব্যর্থ লক্ষভেদ।রাজকুমারী প্রাণে বাঁচলেন।রাজকুমারী মনে মনে মৃদু হাসলেন।সৌর্য চলে যাচ্ছিল,লগ্নভদ্রা এক দাসীকে দিয়ে সৌর্যকে ডেকে পাঠালো।সৌর্য এলো।ভদ্রা জিজ্ঞাস করলো-তুমি চন্দ্রাপুরীর রাজকুমার।এই বনে কী করছো?
সৌর্য জবাব দিলো-ভ্রান্ত।সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা।আমি চন্দ্রাপুরীর রাজকুমার নই।ভদ্রা মৃদু হাঁসলো।তারপরে বললো-মিথ্যার রাজদণ্ড জানো?
সৌর্যও জবাব দিলো-মিথ্যা বলিনি,তাই আপনার রাজ্যের ওই সংক্রান্ত কোনো দণ্ড জানার আগ্রহ.....আমার নেই।
রাজকুমারী আবার মৃদু হাঁসলেন।তারপর বললেন-তুমি আমার প্রাণ বাঁচিয়েছো, পুরস্কার স্বরূপ কী পেতে চাও?
-আপাতত.....আমার চাওয়ার কিছু নেই,তবে রাজকুমারীর সম্মতি থাকলে আমি তা সময় মতো চেয়ে নেব।
রাজকুমারী আবার মৃদু হাঁসলেন।হাতটাকে মুখের সামনে এনে একরকম ভঙ্গি করে বললেন-তাই হবে।
সৌর্য ফিরে চললো।রাজকুমারীর পুনঃ -পুণ হাঁসি, কেন জানি তার বুকে সুক্ষ্ম এক অজানা অনুভূতি তৈরি করলো।তার মনে,রাজকুমারীর জন্য যে সামান্য তম স্থান সৃষ্টি হয়েছে তা সোমেন্দ্রকে কে জানতে দিলো না।
দিন দুই আগে রাজকুমারী লগ্নভদ্রা রুদ্রকর্ণকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন-পুরোহিত মশাই ,আপনি দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বিচক্ষণ মানুষ।আপনার জ্ঞান অনেক।দয়া করে বলে দিন,কিছু দিন থেকেই মনে হচ্ছে এক জোড়া আঁখি আমায় যেন পর্যবেক্ষণ করছে।এটা কী ঠিক?
পুরোহিত রুদ্রকর্ণ জবাব দিয়েছিলেন-হ্যাঁ কন্যা,ওই আঁখি জোড়া চন্দ্রাপুরী রাজ্যের সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর।
তাই আজ ভদ্রা দেখতে চেয়েছিল-চন্দ্রাপুরীর উত্তরাধিকারী কে।সেই দুটি নয়নের মালিক কে,যা তাকে পর্যবেক্ষণ করে।মনে মনে হাসলো লগ্নভদ্রা।কারণ তার পরিকল্পনা সফল।
এর পর আরো এক মাস কেটে গেছে।আর প্রত্যেকদিনই চোখাচোখি হয়েছে ভদ্রা -সৌর্যর।তাদের উভয়েরই মনে প্রেম-নামক অনুভূতি ক্রমশ কব্জা করছে।
এদিকে তুদ্রনগরের মহারাজ রাজবর্মণ দুমাসের জন্য মিত্ররাজ্য শ্যামনগরে গমন করেছেন।উদ্দেশ্য আর একটি মিত্র রাজ্য।রাজবর্মণ অত্যন্ত সু-পরিকল্পনার সাথে রাজ্য পরিচালনা করতেন ।যাতে যুদ্ধ না বাঁধে,তাই আশে পাশের প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করে চলেছেন।তবে রাজ্য ত্যাগ করার পূর্বে তিনি তার প্রাণাধিক পুত্র রাজকুমার যোগেশচন্দ্রকে রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে গেলেন এবং এটাও জানালেন যে,রাজকুমার যেন কোনো বড় সিদ্ধান্ত না নেন।আগে যেন রাজবর্মণের সাথে যোগাযোগ করে।
চন্দ্রাপুরীর মহারাজ বীরাচারের পত্র পেয়ে বেশ শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল সৌর্য।
অসময়ে পত্র!পত্র পড়ে তার বিস্ময়ের মাত্রা আরো বাড়লো।রাজার তলব.....জরুরী।তাই সৌর্য ফিরে চললো স্বদেশে।পেছনে পরে রইলো তার প্রেয়সী লগ্নভদ্রা আর মহেশানী দেবীর মন্দির।মহেশানী দেবী যেন হেঁসে উঠলেন,সৌর্যর ললাট লিপি দেখে।
এদিকে তুদ্রনগর রাজ্যের নতুন পরিচালক কুমার যোগেশচন্দ্র দেখলেন তার রাজ্য বেশ ছোট।কিন্তু পিতা যদি ফিরে এসে দেখে যে তার রাজ্য এক বিরাট সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে,তখন তিনি বেশ অবাকই হবেন বৈকি।কিন্তু এত তাড়াতাড়ি সাম্রাজ্য বাড়াতে গেলে বড় রাজ্য আক্রমণ করতে হবে।হোক গে.....সাম্রাজ্য বাড়ানোটাই মূল কথা।অতি সত্তর সেনাপতি কে আদেশ দিলেন,পার্শ্ববর্তী চন্দ্রাপুরী রাজ্য আক্রমণ করতে।
মহারাজ বীরাচার এ হেন এক ছোট মিত্র রাজ্যের কাছে যুদ্ধের প্রস্তাব পেয়ে বেশ অবাক হয়েছিলেন।এত বড় আস্পর্ধা।তার থেকেও বড় কথা তিনি এমন কোনো কাজ করেন নি যাতে তুদ্রনগরের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়।তবে এ যুদ্ধ প্রস্তাব কেন!অত ভাববার সময় তখন নেই।তাছাড়া এই তো সুযোগ সৌর্যর সেনাপতি পদের রণ নিপুনতার পরিচয় নেওয়ার।তাই তিনি পত্র পাঠালেন সৌর্যকে।আর পত্র পেয়ে সৌর্য ফিরছে স্বদেশে।
যুদ্ধের দামামা বেজে গেছে।শঙ্খের ধ্বনিতে যুদ্ধের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে।মহামন্ত্রী কুমার যোগেশচন্দ্রকে এই হঠককারীতা সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ বুঝিয়েছেন।কিন্তু যোগেশের জেদের কাছে হার মেনেছেন তিনি।মহামন্ত্রী জানতেন এত বড় রাজ্যের কাছে পরাজিত হতে তুদ্রনগরের বেশী সময় লাগবে না।
যুদ্ধক্ষেত্রে সৌর্যের রণকৌশলের সামনে নিমিষেই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল তুন্দ্রনগর বাহিনী।তুন্দ্রনগরের মহামন্ত্রী আগেই পেয়েছিলেন পরাজয়ের গন্ধ।তাই তিনি আর দেরী করেন নি,দূত সহযোগে খবর পাঠিয়ে ছিলেন শ্যামনগর রাজ্যে,তুদ্রনগর রাজ যেখানে অতিথি হিসাবে সন্ধি স্থাপন করতে গেছিলেন।মহামন্ত্রী পত্রে সমস্যার কথা লিখে অতি সত্ত্বর ফিরে আসবার আহ্বান জানালেন।
যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ।বাধ্য হয়েই কুমার যোগেশচন্দ্রকে রণক্ষেত্রে নামতে হলো।তবে যোগেশচন্দ্রের বন্দি হতে বেশি সময় লাগলো না।তাকে বন্দি করে রাজ-সভায় নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা পেল সৌর্য।সামনে অসি উঁচিয়ে প্রতিরোধে এক নারী যোদ্ধা।সৌর্য কোনোদিনই নারীদের ছোট করে দেখেনি বা সব যোদ্ধা কে সমান ভাবে নেওয়ার শিক্ষা পেয়েছে তার গুরুর কাছে।তাই সে নিজেই নারীযোদ্ধার বিরুদ্ধে তরবারি ধরলো।মেয়েটার মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।পরনে ছিল সম্পূর্ণ যুদ্ধের পোশাক।তাই সৌর্যর এক রকম ধারণা ছিল-যে এই মোকাবেলা সাধারণ হবে না।
শুরুর দিকেই টলে গেল সৌর্য।বেশ কিছু অজানা পদ্ধতিতে তলোয়ার চালিয়েছে মেয়েটা,যার কোনো সমাধান সৌর্যর কাছে ছিল না।কিন্তু সৌর্যও বড় যোদ্ধা।সে,দমবার পাত্র নয়।সেও পাঁচ বছর বয়সে তলোয়ার ধরেছিল।গুপ্ত বিদ্যা তারও জানা আছে।বেশ কিছুক্ষণ সমান সমান যুদ্ধ হলো।অবশেষে সৌর্যর রণনিপুনতার সামনে একটু একটু করে মেয়েটা পিছু হঠতে বাধ্য হলো।কিন্তু সেও কম যায় না।বহু সময়ের পর মেয়েটা হার মানতে বাধ্য হলো।অবশেষে সে সৌর্যর সামনে আত্মসমর্পণ করলো।সৌর্যর মনে মেয়েটার মুখশ্রী নিয়ে বেশ কৌতুহল ছিল।তাই সে এক ঝটকায় মেয়েটার মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে দিলো।আর তারপরেই........চমকে উঠলো।লগ্নভদ্রা।নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছেনা সৌর্য।মেয়েটির স্নিদ্ধ রূপ সে এর আগে দেখেছে।কিন্তু তারই এমন হ্রিংস রূপ যে তাকে দেখতে হবে,সৌর্য তা সপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি।ধীরে ধীরে বললো-বন্দি বানিয়ে নাও একে।
স্থান-চন্দ্রাপুরী রাজসভা।
মহারাজ বীরাচারের সামনে বন্দি অবস্থায় নতজানু অবস্থায় বসে আছে,তুন্দ্রনগর রাজ্যের রাজপুত্র ও রাজকন্যা।ইতিমধ্যে চন্দ্রাপুরীর রাজপুরী তে পৌঁছে গেছেন তুন্দ্রনগরের রাজা রাজবর্মণ।তিনি মহারাজ বীরাচারের সাথে কিছুক্ষণ আগে এক সন্ধি স্থাপন করেছেন।তিনি সৌর্যর সাথে তার নিজ কন্যার বিবাহ দিয়ে মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হবেন।মহারাজ বীরাচার আদেশ দিলেন - ওদের মুক্তি দাও।ওরা এখন রাজ অতিথি।
রাজকাননে দাঁড়িয়ে ভদ্রা।আমোদ এর জন্য নয়।মনটা বড় বিষন্ন তার।কুমার যোগেশচন্দ্র পাশে এসে দাঁড়ালো।
-দিদি
-উঃ।আনমনা ভদ্রা সাড়া দিলো।জন্ম থেকেই ভদ্রা দেখেছে কোনো কিছুরই অভাব নেই তার।তবুও তার পিতার মনে কোথায় যেন এক হা হুতাশ।তখন ভদ্রার বয়স দেড় বছর।জন্ম নিলো যোগেশচন্দ্র।ছোট বেলায় ভাইয়ের অস্ত্র শিক্ষা দেখে বড় লোভ হতো।মা বুঝেছিলেন মেয়ের মনের কথা।কিন্তু ও রাজ্যের মেয়েদের হাতে যে অস্ত্র থাকা দণ্ডনীয়।তাই মায়ের মদতে গোপনে শিখতে লাগলো অস্ত্রবিদ্যা।মহামন্ত্রী স্বয়ং ভদ্রাকে অস্ত্র শিক্ষা দিতেন।কুমার যোগেশচন্দ্র যখন যুদ্ধ ক্ষেত্রে গেল,তখন মহামন্ত্রী নিজেই লগ্নভদ্রাকে নিযুক্ত করেছিলেন,কুমার যোগেশচন্দ্রকে রক্ষা করার জন্য।ভদ্রা এক বিন্দুও কল্পনা করতে পারেন নি,তাকে লড়তে হবে সৌর্যর বিরুদ্ধে।অন্য কেউ হলে হয়তো ভদ্রা যুদ্ধ করতো না,কিন্তু তার ভাই যে তার প্রাণের চেয়ে প্রিয়।বাধ্য হয়ে লড়েছিল সৌর্যর বিরুদ্ধে।
-দিদি,আবার ডাকলো রাজকুমার যোগেশচন্দ্র।
নিমগ্নিত চিন্তা থেকে ঘোরের মধ্যে সাড়া দিলো লগ্নভদ্রা-কিছু বলেছিলি,যোগেশ?
-আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি রে দিদি।সবাই বারণ করেছিল।তবুও আমি এতটা গোঁয়ার যে....
ভদ্রা কুমার যোগেশচন্দ্রের দিকে ফিরলো।কাঁধে হাত রেখে বললো-নিজের ভুলটা বুঝতে পারাটাও একটা বড় গুন। তারপর আরো কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো-যোগেশ এখন একটু যাও।আমি একটু একা থাকতে চাই।
যোগেশচন্দ্র কিছুই বুজলো না।শুধু অবুঝ ভাবে দিদির কথা মান্য করলো।
দূর থেকে এই দৃশ্য দেখছিলো আর এক জন।সে আর কেউ নয়,সৌর্য।ছোটবেলা থেকেই তার জীবন কেটেছে রাজমহিষীর আঁচলের তলায়।তবুও আজ পর্যন্ত তার পরিচয়-সে মন্ত্রীপুত্র।কিন্তু আর নয়।মহারাজ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি অপুত্রক।তাই তার অবর্তমানে চন্দ্রাপুরীর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী সৌর্য।সৌর্য-চন্দ্রাপুরীর ভবিষ্যৎ।মহামন্ত্রী বৃদ্ধ।কিন্তু তবুও তিনি সম্মতি দিয়েছেন এ ব্যাপারে।
সৌর্য এসে ঠিক লগ্নভদ্রার পশ্চাতে দাঁড়ালো।রাজকুমারী-সৌর্য ডাকলো।ভদ্রা পিছনে ফিরে তাকালো না।সৌর্য বলে যেতে লাগলো-রাজ কুমারী আপনার স্মৃতিতে হয়তো থাকবে।দুই মাস পূর্বে আপনি আমায় পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন।সুধিয়েছিলেন আমি কী চাই।আমি বলেছিলাম পরে চেয়ে নেব।আজ, সে সময় এসেছে।কিছুদিন পরেই আমাদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে।তার আগেই আমি আপনার কাছে আপনার মনটা চাই।
হঠাৎ রাজকুমারী লগ্নভদ্রা ফিরে দাঁড়ালো।তারপরে সৌর্যকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠলো।তার বিশ্বাস ছিলো,সৌর্য তাকে আর কোনদিন ভালোবাসবে না,কোনোদিন আপন করে নেবে না।
কিন্তু একটা কথা,সৌর্য বললো।বিয়ের পরেও কিন্ত তোমাকে অস্ত্র চর্চা করতে হবে,পুতুল সেজে অন্দরমহলে বসে থাকলে চলবে না।
ভদ্রা শুনে এবার হেঁসে ফেললো।বললো,তাহলে আমারও শর্ত আছে।রোজ সকালে কিন্তু আমার সাথে তোমায় এক হাত লড়তে হবে।
আকাশ বাতাস এক অনন্য সুখের অনুভূতিতে ভরে উঠলো।রোদের উচ্ছল আলোতে চারদিক আবেশিত হয়ে উঠলো।দখিণা বাতাসের মিস্টি সুবাস বইতে লাগলো।এ জগত সাক্ষী হয়ে রইল দুই নরনারীর অপূর্ব প্রেমকাঁথার।
©ফুয়াদ হাসান বাশার
২|
১১ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৩:৫১
ভুয়া মফিজ বলেছেন: লেখা ভালো হয়েছে.....তবে কে কোন রাজ্যের বুঝতে অসুবিধা হয়। আরেকটু গুছিয়ে লিখলে ভালো।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৩৬
রাজীব নুর বলেছেন: মহাভারতের কাহিনী নাকি?