| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
‘মোহাম্মদ’ আরবি শব্দ। আমাদের ধারণা ‘হাম্দ’ থেকে ‘মোহাম্মদ’ শব্দের উৎপত্তি। হাম্দ অর্থ প্রশংসা, মোহাম্মদ অর্থ প্রশংসিত। যেমন ঈমান অর্থ বিশ্বাস; ইহার পূর্বে মিম যুক্ত করে হয় ‘মুমীন’ যার অর্থ বিশ্বস্থ বা ভক্ত; ‘ছালাম’ এর পূর্বে মিম যুক্ত করলে ‘মোসলেম’ হয় ইত্যাদি। অর্থাৎ প্রধানতঃ আরবি গুণবাচক শব্দের পূর্বে ‘মিম’ যুক্ত করলেই নামবাচক শব্দে পরিণত হয় কিনা জানা নেই। তবে আরবি ব্যকরণের এই সুত্রটি সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। যেমন: ‘নাজিল’ এর পূর্বে ‘মিম’ যুক্ত হলে হয় ‘মুনজ্লি’, অথচ শব্দ দু’টির অর্থ আকাশ-পাতাল পার্থক্য। নাজিল অর্থ অবতীর্ণ, উদয়, প্রনোদিত, চেতন বা প্রেরণা; পক্ষান্তুরে মুনজিল অর্থ ঘর, গন্তব্য স্থল বা লক্ষ্য স্থল। অতএব ‘হাম্দ’ থেকে ‘মোহাম্মদ’ এর উৎপত্তি হতেও পারে, নাও হতে পারে।
কোরানের তথা নামাজের সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান ঘোষণা:
আল হামদু লীল্লাহী রাব্বিল আলামীন [১: ১] অর্থ : সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব চরাচরের প্রভূ আল্লাহর। এহেন স্বীকারোক্তি করার পরে,“ ‘হাম্দ’ থেকে মোহাম্মদ এবং উহার অর্থ প্রশংসিত, অতঃপর আব্দুল্লাহর পুত্র (মহানবি) প্রশংসিত (মোহাম্মদ); এ দু’টি বিশ্বাস পরস্পর বিপরীত বলে মনে হয়। এখানে আর একটি মৌলিক বিষয় উল্লেখ্য যে, ‘সমস্ত প্রশংসার দাবিদার যখন স্বয়ং আল্লাহ! মানুষ বা অন্য কিছু নয়, তখন স্বভাবতই স্বীকার করতে হবে যে, সমস্ত কলঙ্কের অংশীদার আমি বা আমরা। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, এখানে কারো অংশীদারীত্বের অর্থজ্ঞান করা পরিস্কার শেরেকী বলে সন্দেহ হয়; অর্থাত প্রশংসার কিছু অংশ স্রষ্টার, বাকি অংশ সৃষ্টির বা কোন ব্যক্তির’ এমন বিশ্বাস শেরেকী বলে মনে হয়! অতএব, এক্ষণে ‘মোহাম্মদ’ অর্থ প্রশংসিত এবং তার দাবিদার বা অংশিদার আব্দুল্লাহর পুত্রের (মহানবি)! এহেন স্ব বিরোধী এবং দ্বৈত বিশ্বাসের সুযোগ-সুবিধা আর থাকে বলে মনে হয় না। অতএব ঐ সম্বন্ধীয় আয়াতগুলির পুনঃ গবেষণা/বিবেচনার দাবি রাখে!
পুনশ্চঃ ব্যকরণ মতে: ‘মোহাম্মদ’ থেকে ‘আহম্মদ’ (যথার্থ) শব্দের উৎপত্তি কিন্তু প্রচলিত অর্থে তার অর্থ ‘প্রশংসাকারী!' উল্লিখিত অর্থেও শব্দ দু’টি পরস্পর বিপরীত। অর্থাৎ ‘মোহাম্মদ’ অর্থ প্রশংসিত বা প্রশংসাপ্রাপক; পক্ষান্তরে ‘আহম্মদ’ অর্থ প্রশংসাকারী বা প্রশংসাপ্রেরক! অর্থাৎ দাতা ও গ্রহীতা। অর্থাৎ স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক। স্রষ্টা প্রশংসা পায় আর সৃষ্টি প্রশংসা দেয়। অতএব, এক্ষণে আব্দুল্লার পুত্রের (মহানবি) জন্মের পরে তার নানা-দাদাগণ, তাদের মাতৃভাষা আরবি জানা সত্বেও এই বিপরীত অর্থবোধক দু’টি নাম একই ব্যক্তিকে কি করে প্রদান করলেন! আর কি করেই বা তার অনুসারী তথা আরবি জানা সম্মানিত আলেম আল্লামাগণ বিশ্বাস করেন ও করান! ভয় পাচ্ছি! আরবি অজ্ঞতা বশতঃ কোথাও ভুল করছি কি না! আরবি ব্যকরণের আলজামউল মাকছুর বা ‘ভংগুর বহুবচন’ এর সুত্র মতে প্রধানতঃ একবচন শব্দের পূর্বে ‘আলিফ’ যুক্ত করে বহুবচন করতে হয়। যেমন: ‘নবি’ একবচন, আম্বিয়া বহুবচন; ‘ছালাম’ একবচন, ‘আছলাম’ বহুবচন; ‘অলি’ একবচন ‘আউলীয়া বহুবচন; ‘কালাম’ একবচন, ‘আক্লাম’ বহুবচন ইত্যাদি। সে মতে ‘মোহাম্মদ’ একবচন, ‘আহম্মদ’ তার বহুবচন হওয়া স্বাভাবিক এবং যুক্তিসঙ্গত বটে! সত্য কিনা জানা নেই। অতএব ‘মোহাম্মদ’ শব্দের অর্থ যদি হয় ‘প্রশংসিত/প্রশংসাকারী’ তবে তার বহুবচনে ‘আহম্মদ’ এর অর্থ হওয়া উচিৎ ‘প্রশংসিতগণ/প্রশংসাকারীগণ’; কিন্তু এক বচনে ‘প্রশংসাকারী অর্থ করার যুক্তি বা দলিল পত্র কোথায় ! ধারণাটি ভুলও হতে পারে। শরিয়তের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
‘মোহাম্মদ’ অর্থ মহাপুরুষ! খেতাবটি কারো ব্যক্তিগত বা জন্মগত নাম যে নয়! বা ছিল না তা উল্লিখিত বর্ণনায় প্রমান পাওয়া যায়। ‘মোহাম্মদ’ রাজা-বাদশা, প্রেসিডেন্ট, ফেরাউন ইত্যাদির মত আল্লাহ প্রদত্ত সর্বশ্রেষ্ঠ খেতাব মাত্র। মোহাম্মদ না হয়ে কেউ রাছুল-নবি হতে পারে না; সকল রাছুল-নবিগণই মহাপুরুষ বা মোহাম্মদ। এজন্যই বেদ, গীতা, তোরাহ, ইঞ্জিলে এমনকি আদমের ইতিহাসেও ‘মোহাম্মদ’ এর আগমণ ভবিষ্যৎ বাণীর অনুসরণে পরম্পরায় এসেছিলেন ব্রম্মা, কৃষ্ন, বিষ্নু, রাম, শিব, হরি, হারুন, ঈছা-মুছাসহ আরো অসংখ্য; যারা সকলেই মোহাম্মদ বা মহাপুরুষ ছিলেন। তবে এ কথা সত্য যে, ‘মোহাম্মদ, নবি, রাছুল মাওলা, খোদা ইত্যাদি জন্মগত নাম হলেও আপত্তির কিছু নেই। তবে উহার ধাতুগত অর্থ খেতাব; ‘ফেরাউন’ খেতাবটি আজও শরিয়ত নির্দ্দিষ্ট একজন ব্যক্তির নাম হিসাবে বিশ্বাস করছে। আর খেতাব অর্থেই লক্ষ-কোটি মোসলমানগণ তাদের নামের পূর্বে ‘মোহাম্মদ’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন।
অতীতের সকল মহাপুরুষই পরবর্তী মহাপুরুষের (মোহাম্মদ) আগমনের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন, পদবি নামে, জন্মগত নামে নয়; জন্মগত নাম তাদের জানার কথাও নয়।
কথিত হয় যে, কৃষ্ণ বা হিন্দু সমর্থিত নবিগণ বলেছেন, ‘আমার পরে মোহাম্মদ আসবেন’; আসছেন মোহাম্মদ মুছা; মুছা বলেছেন, ‘আমার পরে মোহাম্মদ আসবেন’; আসছেন মোহাম্মদ ঈসা; ঈসা বলেছেন, ‘আমার পরে আহম্মদ আসবেন;’ কিন্তু আহম্মদ আসেননি! আসছেন ‘মোহাম্মদ মোস্তফা বা মোহাম্মদ আলামীন। শরিয়তের বিভিন্ন বর্ণনা ও আলামত মতে ‘আহম্মদ’ই মোহাম্মদ এবং ‘মোহাম্মদ’ই আহম্মদ বলে স্বীকৃত হলেও কোরানে তার স্বচ্ছ সাক্ষি/সমর্থন নেই। তাছাড়া আদম থেকে মূছা পর্যন্ত ক্রমান্বয় ‘মোহাম্মদ’ নাম পরম্পরায় ভবিষ্যৎ বাণী করার পর হঠাৎ ঈছা এসে সমস্ত বিশ্বাস উল্টিয়ে বা প্রত্যাখ্যান করে ‘আহম্মদ’ নামের ভবিষ্যৎ বানী করার যুক্তি কি! এবং স্বয়ং মোহাম্মদও ঐ একই বাণী প্রাপ্ত হওয়ার রহস্য কি! তা ভেবে দেখার বিষয়!
বিংশ শতাব্দির পূর্বে রাছুলের মোহাম্মদ মোস্তফা’ নামটি পাঠ্য-পুস্তকে বহুল ব্যবহৃত হতো। আব্দুল্লাহর পুত্রের এই ‘মোস্তফা’ নামটি পরবর্তিতে আরববাসী কর্তৃক প্রদত্ত্ব ‘আলামীন’ খেতাবে ঢেকে গিয়েছিল; অতঃপর পরম্পরায় ‘আলামীন’ নামটি আল্লাহ প্রদত্ত্ব ‘মোহাম্মদ’ নামে ঢেকে ফেলা বিচিত্র নয়। ঈছার সুত্রে আলামীনের মুখেও ‘আহম্মদ’ শব্দটি কোরানে উচ্চারিত হয়েছে। অতএব ‘আহম্মদ’ (মহাপুরুষগণ/মোহাম্মদগণ] সম্বন্ধে নতুন করে গবেষণার দরকার।
জ্ঞানীদের পুনঃ ভেবে দেখা উচিৎ যে, কথিত মতে শিব-কৃষ্ণ বললেন, ‘আমার পরে মোহাম্মদ আসবেন’ কিন্তু কথিত মোহাম্মদ না এসে মুছা আসলেন কেন? মুছা বললেন, ‘আমার পরে মোহাম্মদ আসবেন’ কিন্তু মোহাম্মদ না এসে ঈসা আসলেন কেন? ঈসা বললেন, ‘আমার পরে আহাম্মদ আসবেন’ অতঃপর ‘আহম্মদ’ না এসে মোহাম্মদ আসলেন কেন! এমনকি কথিক হয় আদম থেকেই ‘মোহাম্মদ’ আসার ভবিষ্যৎ বাণী প্রচারিত হয়ে আসছে! কিন্তু তার পূর্বে অসংখ্য নবি-রাছুল আসবেন/আসলেন! একথা কিন্তু কেউই ঘুণাক্ষরেও বলেননি! অথচ এসেছিলেন পর্যায়ক্রমে মনু-নূহ, ব্রম্মা-ইব্রাহীম, বুদ্ধ-যুলকেপ্লে, ইয়াসা-অশোক, শিব-শোয়েব, কৃষ্ন, ঈছা, মুছা, নানক এবং তাদের মত আরো অসংখ্য। যারা সকলেই (২: ১২৯) পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী প্রতিক্ষীত, প্রতিশ্রুত নবি-রাছুল হিসাবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত!
মূলতঃ যে কথাটি বলতে চেয়েছিলাম, ‘মোহাম্মদ’ অর্থ মহাপুরুষ, ‘আহম্মদ’ অর্থ মহাপুরুষগণ। সে কারনেই সকল নবিদের ভবিষ্যত বাণী অনুযায়ী পরবর্তি সকল মোহাম্মদের/মহাপুরুষদের/নবিদের আগমন হয় এবং স্বীকৃতি পায়, প্রতিষ্ঠা লাভ করে; যা কোরানের পাতায় পাতায় সাক্ষি। অন্যথায় কথিত আদম থেকে মোহাম্মদের পূর্বের কোন নবি-রাছুলকেই স্বীকার করে নেয়ার মওকা থাকে না!
বিনীত।
২|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০১
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: লা ক্বাদ জা আকুম রাসূলুম মিন আনফুসিকুম ....
এর ব্যাখ্যায় মনে হয় আরো ষ্পষ্ট হয় বিষয়টি।
আপনাকেও ছালাম।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:০৩
ভীম-রুল বলেছেন: খুবই চমকপ্রদ আলোচনা। আগের লেখা গুলোর তুলনায় পড়তে সহজ হয়েছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর... এই আলোচনা ভালো লেগেছে, মনু-নুহ, ব্রক্ষ্মা-ইব্রাহীম ইত্যাদি এক-এক মিল বিষয়ে অন্যকোন পোস্টে আলোচনা করার অনুরোধ রাখছি।