| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নববর্ষের ক্ষুদ্র উপহার হিসেবে জনাব তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে একটি দিকনির্দেশনামূলক কলাম লিখেছি বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক - বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম-এ।
লেখাটির শিরোনাম গুগল করে পড়তে পারেন - 'রাজনৈতিক বাস্তবতা নিজেকে প্রমাণের সুযোগ এনে দিয়েছে তারেক রহমানকে'
মন্তব্য থাকলে কমেন্টে লিখতে পারেন।
পত্রিকার লিংক: https://bangla.bdnews24.com/opinion/f7a0e2b8ae9e
=রাজনৈতিক বাস্তবতা নিজেকে প্রমাণের সুযোগ এনে দিয়েছে তারেক রহমানকে=
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ঘটনা। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর দেশের রাজনীতিতে তিনি এমন এক সময় ফিরে এসেছেন যখন দেশ দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আস্থাহীনতা ও শাসনব্যবস্থার গভীর সংকট অতিক্রম করছে। এ প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার ঘরে ফেরা নয়; দেশের রাজনৈতিক ধারায় নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। ব্যক্তি তারেক রহমানের ঢালাও স্তুতি না করে তিনি কীভাবে বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে নিজেকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারেন—সে বিষয়ে আলাপ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
নির্বাসিত রাজনীতিকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আমাদের দেশে নতুন নয়। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, নেতার প্রত্যাবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার নিজের বা দেশের জন্য চূড়ান্ত সফলতা বয়ে আনে না। প্রত্যাবর্তনের পর নেতৃত্ব কীভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন, বা কোন পথে দেশকে এগিয়ে নিতে চান, সেটিই মূল বিবেচ্য হয়ে দাঁড়ায়। সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করলে প্রত্যাশা, সে যত আকাশচুম্বীই হোক, খুব দ্রুতই হতাশায় রূপ নিতে বাধ্য। এর আগে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এবং পরে তার কন্যা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। কিন্তু, তাদের প্রত্যাবর্তন দেশ ও জাতির স্বার্থে শেষ বিচারে কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার অবকাশ রাখে।
পলাতক শেখ হাসিনার নিকট অতীতের শাসনামল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়িত্ব তাকে আত্মতুষ্ট ও বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন করে তুলেছিল। নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যত অর্থহীন করে ফেলা, বিরোধী মত দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্বিচার ব্যবহার, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে নিয়োজিত করা–এসব ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি শেষ পর্যন্ত তাকেই ভোগ করতে হয়েছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে তিনি যে শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, তা জনগণের আস্থা নয়, বরং ভয় ও দমননীতির ওপর দাঁড়িয়েছিল। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, জোরজবরদস্তিতে কিছুটা প্রলম্বিত করা গেলেও এ ধরনের শাসনব্যবস্থা টেকসই হয় না। এ বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই এখন নতুন নেতৃত্ব, তিনি যে দলেরই হন, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ক্ষমতা কখনোই নিজের বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষমতা জনগণের দেওয়া একটি অস্থায়ী দায়িত্ব–এ কথা ভুলে গেলেই শুরু হয় পতনের পথচলা।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত–এ প্রশ্নে এখনই গভীর চিন্তাভাবনা শুরু করা জরুরি। আবেগনির্ভর বা একতরফা নির্ভরশীল সম্পর্ক কখনোই বাংলাদেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব জরুরি, কিন্তু সে বন্ধুত্ব হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। শক্তিশালী প্রতিবেশীর সমর্থনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার ধারণা যে কতটা ভ্রান্ত, তার প্রমাণ সাম্প্রতিক ইতিহাসেই স্পষ্ট। শক্তিশালী প্রতিবেশী ভারতের প্রতি নির্ভরশীলতা যে কিছুটা হলেও কমানো যায়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। আন্তরিকতা থাকলে একটি নির্বাচিত সরকার সে ধারা অব্যাহত রাখতে পারে।
রাজনীতিতে আস্থা পুনর্গঠনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো অতীতের ভুল স্বীকার করা। অতীতে যেসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব বিষয়ে জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষমা চাওয়া মানে নিজেকে ছোট করা নয়; বরং এটি জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি শক্তিশালী উপায়। যে নেতৃত্ব নিজের ভুল স্বীকার করতে জানে, জনগণ শেষ পর্যন্ত তাকেই বিশ্বাস করতে শেখে। অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে তারেক রহমান কোনপ্রকার ভুলভ্রান্তি করে থাকলে তা স্বীকার করে নিয়ে দেশের উন্নয়নে নিজেকে আরো আন্তরিকভাবে নিয়োজিত করার প্রত্যয়জ্ঞাপন করলে তা দেশের আপামর জনসাধারণ ইতিবাচক দৃষ্টিতেই নেবেন বলে প্রতীয়মান হয়।
তারেক রহমানের যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন বসবাসের অভিজ্ঞতা এ প্রেক্ষাপটে একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তার নির্বাসন কোন তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশে না হয়ে পৃথিবীর উন্নতদেশগুলোর একটিতে হওয়ায় তিনি যুক্তরাজ্যের মতো একটি উন্নতদেশের সমাজব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রয়োগ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ; ক্ষমতার চেয়ে আইন বড়; জবাবদিহিতা রয়েছে সরকারের সর্বস্তরে; আর, সুশাসনের মূল ভিত্তিই হলো জবাবদিহিতা। এই অভিজ্ঞতা যদি তিনি কেবল বক্তৃতা বা রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালান, তবে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে। তবে এখানে অন্ধ অনুকরণের নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত প্রয়োগ–বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই প্রয়োগ নিয়ে ভাবতে হবে। যেমন, কেউ যদি টরন্টো শহরে কয়েকদিন কাটিয়ে ঢাকায় ফিরে দাবি তোলে, ঢাকা শহরকে রাতারাতি টরন্টো বানিয়ে দিন, তবে তা হবে অলীক কল্পনা ও হাস্যকর। কারণ, এত বিশাল পরিবর্তন স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলো তেলবাজ ও সুবিধাবাদীদের দাপট। ক্ষমতার আশপাশে থাকা এই শ্রেণিই নেতাদের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে এই তেলবাজদের ভূমিকা ছিল স্পষ্ট। অতিরঞ্জিত প্রশংসা, তাকে নিয়ে লেখালেখির প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম জনসমর্থনের গল্প এবং ভিন্নমতকে ‘শত্রুতা’ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা তাকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে দেয়নি; অর্থাৎ, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভুলভ্রান্তি দেখেও তা না দেখার ভান করে একশ্রেণির সংবাদমাধ্যম নিজেদের হীনস্বার্থে স্লোগান দিয়েছিল: ‘সঠিক পথেই রয়েছে বাংলাদেশ’, ‘পথ হারাবে না বাংলাদেশ’, ইত্যাদি। শেষ পর্যন্ত এই বিভ্রমই তাকে নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তারেক রহমানকে নিয়ে বই-পুস্তক প্রকাশ এবং স্তুতিবাক্য শুরু হয়ে গেছে। তাকে মনে রাখতে হবে, প্রশংসায় বিগলিত না হয়ে ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষেত্রে নিজের বিবেক, যুক্তি ও তথ্যকে প্রাধান্য দেওয়াই হবে বিচক্ষণ নেতৃত্বের পরিচয়।
সম্প্রতি তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, এবং তৎপরবর্তীতে, কিছু চিহ্নিত মিডিয়া যেভাবে বাড়াবাড়ি রকমের কাভারেজ দিয়েছে এবং এখনও দিয়ে যাচ্ছে, তাদের অতীত ভূমিকা তারেক রহমানকে মনে রাখতে হবে। এই সব মিডিয়ার অনেকগুলো তাকে দুর্নীতির বরপুত্র আখ্যা দিয়েছিল, তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এতিমের হক খেয়েছেন বলে প্রচার করেছিল, সম্ভব সব উপায়ে ক্রমাগত আক্রমণ করে তারেক রহমানকে নির্বাসনযোগ্য করে তুলেছিল; সেই একই সংবাদমাধ্যম এখন তারেকের বন্দনায় নেমেছে। কেবল তারেক রহমান বা তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ নয়, তার পোষা বিড়াল জেবুকে নিয়েও ঘণ্টায় ঘণ্টায় অনলাইন মিডিয়ায় আপডেট দিয়ে চলেছে। এরাই ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনাকে সীমাহীন তেলবাজি করে পুরস্কার, সম্মাননা, আর্থিক-সামাজিক, ইত্যাদি বহুবিধ সুবিধা আদায় করে নিজেদের আখের গুছিয়েছিল। এখন আবার শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য করে তুলতে এদের ভূমিকা কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তারেক রহমানকে এ বাস্তবতা মাথায় রাখতে হবে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন আছে। তিনি তা পাচ্ছেন এবং পাবেনও। কিন্তু, নিরাপত্তার বাড়াবাড়িতে তিনি যেন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তার সুযোগ নেবে দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু রাজনৈতিক নেতা নামধারী সুযোগসন্ধানী। এ প্রবণতা ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। এর একটি উদাহরণ হতে পারে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এক প্রার্থী, যিনি হাসিনার একান্ত কাছের মানুষ, র্যাবের প্রাক্তন মহাপরিচালক, বর্তমানে সপরিবারে পলাতক বেনজির আহমদের ‘ক্যাশিয়ার ও ব্যবসায়িক পার্টনার’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পরপর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল। বর্তমানে বিএনপির মনোনয়ন লাভ করে এলাকায় সদর্পে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি কিভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সে প্রশ্নে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে তার ছবিও দেখা যাচ্ছে।
সুশাসন কায়েম করতে সক্ষম হলে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে ইতিহাসে একটি আলাদা সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করতে পারতেন। সে সুযোগ ইতিহাস তাকে দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। পুরো নির্বাচনি ব্যবস্থাকে অকেজো করে দিয়ে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের সামনে এখন সেই সুযোগ এসেছে। যদি দায়িত্বশীলতা, সংযম ও সততার সঙ্গে রাজনীতি করেন, তবে তার এবং একইসঙ্গে তার মা-বাবার সুনাম ও সম্মান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও অক্ষুন্ন থেকে যাবে। মনে রাখা দরকার, ইতিহাস যেমন সম্মান দেয়, তেমনি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নির্মমভাবে তা কেড়েও নেয়।
একসময় বাংলাদেশে ধারণা ছিল যে কোনো উপায়ে একটি নির্বাচন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেই সব হয়ে গেল। কিন্তু, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলতেন, তিনি ভারতকে যা দিয়েছেন তা অন্য কোন সরকার দেওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারবে না। সে সুবাদে ভারতের পূর্ণ সমর্থনও পেয়েছিল তার সরকার। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের আন্দোলনে তিনি উৎখাত হয়েছেন। এই আন্দোলনে দেশের হাজারো মানুষ নিজেদের জীবন দিতেও পিছপা হয়নি। এই ঐতিহাসিক ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিজদেশের জনসমর্থন ছাড়া কোনো সরকারই টেকসই হতে পারে না, তা সে যত বড়ো দেশের অনুগ্রহপুষ্ট হোক। ভিন্ন ভাষায় বলা চলে, ভবিষ্যতের সরকারে নতুন করে স্বৈরাচারী প্রবণতা দেখা দিলে জনগণ আবারও মাঠে নামতে দ্বিধা করবে না। স্বৈরাচার হটাতে দেশের তরুণরা চব্বিশে যে সক্ষমতা দেখিয়েছে, তার রেশ কাটতে কয়েক দশক লেগে যাবে নিঃসন্দেহে।
বলা বাহুল্য, নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই নিজেকে বিজয়ী মনে করার প্রবণতাও রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী হতে পারে। এক শ্রেণির মিডিয়ার বাড়াবাড়িতে বিএনপি নির্বাচিত হয়ে যাবে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হলেও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে তা আগে থেকে বলা মুশকিল। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নতদেশেও, যেখানে মিডিয়াগুলো লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করে জনমতের জরিপ চালিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকে, তাদের ভবিষ্যদ্বাণীও ভুল প্রমাণিত হতে দেখা যায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। সত্য হলো, সুসংগঠিত ও নীরব জনমত শেষ মুহূর্তে সব রাজনৈতিক হিসাব পাল্টে দিতে পারে। তারেক রহমানকে এ বিষয়টি ও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, ইতিহাস খুব কম মানুষকেই বারবার নিজেকে প্রমাণের সুযোগ দেয়। তারেক রহমান তেমন একটি বিরল সুযোগের মুখোমুখি। এই নতুন সুযোগ যদি সত্যিকার অর্থে দেশসেবা, গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কাজে লাগানো যায়, তবেই তার দেশপ্রেমের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যাবে। নির্বাচিত হলে তারেক রহমান যদি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা দলীয় লাভ-লোভের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেন তবেই হবে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সার্থকতা।
এম এল গনি - ফেইসবুক: https://www.facebook.com/moh.l.gani/
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৫
রাজীব নুর বলেছেন: হাসিনাকে পলাতক বলছেন কেন?
সে তো পালিয়ে যায়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাকে সসম্মানে হেলিকাপ্টারে তুলে দিয়েছে।