নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\'এম এল গনি\' cut & paste করে Google-এ search করলে আমার সম্পর্কে জানা যাবে। https://www.facebook.com/moh.l.gani

এমএলজি

এমএলজি › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুষ্ঠু নির্বাচনের পরীক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ, দায় ও করণীয়

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৬

সরাসরি দৈনিক ইত্তেফাক হতে পড়ুন: https://www.ittefaq.com.bd/769584
সুষ্ঠু নির্বাচনের পরীক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ, দায় ও করণীয়

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এক জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে রাষ্ট্রকে একটি সংঘাতমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব, অন্যদিকে, দুর্নীতি, মবসন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা এবং পুরনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সুবিধাভোগীদের পুনরুত্থান - এই দ্বিমুখী চাপ সরকারের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য প্রশংসা অর্জন করলেও কিছু দুর্বলতাও রয়ে গেছে এ সরকারের কর্মকাণ্ডে। বিশেষত প্রশাসন ও গণমাধ্যমে হাসিনা আমলের দাপটবাজদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকা এবং দুর্নীতি পরিস্থিতির উন্নয়নে ব্যর্থতা দেশবাসীর উদ্বেগকে আরও ঘনীভূত করেছে। এমন বাস্তবতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে গতানুগতিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কিছু নতুন, দৃশ্যমান ও সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে।

স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রথম শর্ত হলো একটি যথার্থ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবিধানিকভাবে স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক চাপ ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের কারণে ইসির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়। অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রকাশ্যে ইসির পূর্ণ কর্তৃত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে হবে এবং সেই অঙ্গীকার বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ের ওপর ইসির স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

এছাড়া, আসন পুনর্বিন্যাস, ভোটের বিস্তারিত সময়সূচী ও বিরোধ নিষ্পত্তির মতো ইসির সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও নির্দেশিকা প্রকাশ সন্দেহ ও বিভ্রান্তি কমাতে সহায়ক হবে। প্রয়োজনে ইসির সঙ্গে স্বাধীন পর্যবেক্ষক হিসেবে স্বচ্ছ ইমেজের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও নিরপেক্ষ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে - এতে ইসির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ
বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথে অন্যতম বড় বাধা হলো প্রশাসনে দলীয় মনোভাবসম্পন্ন কর্মকর্তাদের অব্যাহত আধিপত্য। নির্বাচনকে সামনে রেখে পতিত স্বৈরাচারী ব্যবস্থার প্রতি অনুগত বলে পরিচিত আমলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসকরা একটি অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে পারেন। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যকর প্রশাসনিক রদবদল করতে হবে - কেবল এক নির্বাচনী এলাকা হতে অন্য এলাকায় বদলি এক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনবে না।

যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক পক্ষপাত, দুর্নীতি বা নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ ছিল, তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে একটি বাস্তবানুগ আচরণবিধি প্রণয়ন ও কার্যকর করে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের আচরণে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কর্মকাণ্ডে এ বার্তা স্পষ্ট হতে হবে যে - রাষ্ট্রযন্ত্র ভোটারদের সেবা প্রদানের জন্য, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে জিতিয়ে দেয়ার জন্য নয়।

নির্বাচনী ঝুঁকি মানচিত্র প্রণয়ন
দেশজুড়ে প্রশাসনিক “রেড জোন” হিসেবে চিহ্নিত যেসব জেলা, থানা বা অফিসে অতীতে রাজনৈতিক পক্ষপাত, নির্বাচন প্রভাবিত করা বা দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন বিশেষ তদারকি, কেন্দ্রীয় মনিটরিং, এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, করা যেতে পারে। এতে প্রশাসনের ভেতরে একটি সতর্কতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি তৈরি হবে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি “নির্বাচনী ঝুঁকি মানচিত্র (Risk Mapping)”-ও তৈরি করা যেতে পারে। এতে কোন এলাকায় সহিংসতা, কারচুপি বা প্রশাসনিক প্রভাবের আশঙ্কা বেশি তা আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এই মানচিত্র অনুযায়ী অতিরিক্ত নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সম্ভাব্য সংকট এড়ানো সহজ হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন
গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় জনমনে ভীতি ও আশংকার সঞ্চার হয়েছে। মব-সন্ত্রাস, ভয়ভীতি, সহিংসতা বা দায়মুক্তির পরিবেশে কোনো নির্বাচনই অবাধ হতে পারে না। তাই, অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচনী সময়ের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও নিরপেক্ষ কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালনা করতে হবে। রাজনৈতিক সমাবেশ ও ভোটের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত 'নির্বাচন নিরাপত্তা ইউনিট'ও গঠন করা যেতে পারে।

ভোট বেচাকেনা ভোটারদের ভোট প্রদানের স্বাধীন চিন্তাকে প্রভাবিত করে। তাই, ভোটপ্রদানের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে - তেমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে নজর রাখতে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানো যেতে পারে। তবে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই - এ বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হলেই জন-আস্থা বাড়বে।

বিশেষ নির্বাচন আদালত গঠন
হটলাইন, ডিজিটাল অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ও প্রার্থীরা নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কয়েকটি দৃশ্যমান পদক্ষেপই শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। অস্থায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি নতুন করে নির্বাচনকালীন “বিশেষ নির্বাচন আদালত” গঠন করা যেতে পারে, যেখানে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। চাঁদাবাজি, ভোটকেন্দ্র দখল, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো বা অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এসব আদালতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হলে তা নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে সহায়ক হবে।

নির্বাচনী বিতর্ক ও আলোচনা অনুষ্ঠান
উন্নতদেশের আদলে রাষ্ট্রীয় ও প্রভাবশালী বেসরকারি গণমাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও স্থান বরাদ্দ, নির্বাচনী বিতর্ক ও নীতিনির্ভর আলোচনা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। মান্ধাতার আমলের জনসমাগমের শোডাউন নিরুৎসাহিত করা, এবং তার পরিবর্তে গণযোগাযোগের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে প্রার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি, একটি স্বাধীন 'মিডিয়া পর্যবেক্ষণ পরিষদ' গঠন করে একচেটিয়া প্রচারণা বা পক্ষপাতদুষ্ট উপস্থাপনা শনাক্ত করাও জরুরি। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য বহুমাত্রিক ও স্বাধীন গণমাধ্যম একান্ত প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকার এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক নয়, বরং সমান সুযোগভিত্তিক নীতি গ্রহণ করতে পারে।

সকল পক্ষের সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ
একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব রাজনৈতিক পক্ষকে বিশ্বাস করতে হবে যে তারা সুষম মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন সভা-সমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রমের অনুমতি ন্যায়সঙ্গতভাবে ও যথাসম্ভব দ্রুত দেওয়া হয়। সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের পাশাপাশি একটি লিখিত “নির্বাচনী আচরণগত চুক্তি” করা যেতে পারে। এতে সহিংসতা, ভুল তথ্য প্রচার ও গণতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য পরিহার, প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি না করা এবং নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার থাকবে। এই চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যভাবে দায়ীদের নাম ঘোষণা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক চাপ তৈরি হবে।

নির্বাচনী প্রচার ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা
আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের সিংহভাগই ব্যবসায়ী হওয়ায় নির্বাচন প্রভাবিত করতে বড়ো অংকের অর্থ বিনিয়োগের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থব্যয়ে লাগাম টেনে ধরতে না পারলে নির্বাচন কিছু ব্যবসায়ীর টাকার খেলায় পরিণত হতে বাধ্য, যা অনভিপ্রেত। এ উদ্দেশ্যে, নির্বাচনী প্রচার-ব্যয়ের বাস্তবসম্মত বিধিমালা অপরিহার্য। ব্যয়সীমা কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে এবং দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে বিধিমালা লঙ্ঘনের শাস্তি দিতে হবে। ন্যায়সঙ্গত ও দৃশ্যমান প্রতিযোগিতা দেখলে নাগরিকবৃন্দ তাদের পছন্দের প্রার্থী হেরে গেলেও ফলাফল মেনে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে প্রশ্নাতীতভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে সমান সময় ও কভারেজ দিতে হবে। একইসঙ্গে বেসরকারি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্য পক্ষপাত, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার হচ্ছে কিনা তা কড়া নজরদারিতে রাখতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা উৎসাহিত করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং টেলিভিশন বিতর্কের আয়োজন ভোটারদের সচেতনতা ও আস্থা বাড়াতে পারে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র নয়, নাগরিক সমাজকেও শক্তিশালী ভূমিকা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, আইনজীবী, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে “নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক নেটওয়ার্ক” গঠন করা যেতে পারে। তরুণদের এই সম্পৃক্ততা একদিকে ভোটার সচেতনতা বাড়াবে, অন্যদিকে কারচুপির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশ্বাসযোগ্য দেশীয় পর্যবেক্ষক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। ভোটকেন্দ্র, গণনা কেন্দ্র ও পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া - প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি অনিয়ম নিরুৎসাহিত করবে এবং স্বচ্ছতা বাড়াবে। নাগরিক পর্যবেক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করাও একান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি, বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও আমন্ত্রণ জানাতে হবে, অর্থবহ প্রবেশাধিকার দিতে হবে এবং তাদের সুপারিশ গঠনমূলকভাবে বিবেচনা করতে হবে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে নয়, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই ন্যস্ত থাকতে হবে।

গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি
এ লেখার প্রয়োজনে আমি তৃণমূল পর্যায়ে কয়েকজন ভোটারের সাথে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় দেখেছি তাঁরা গণভোট বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন না। বলা চলে, গণভোটের বিষয়বস্তু বর্তমানে কিছু উচ্চশিক্ষিত এলিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ, জুলাই আন্দোলনের মূল ধারণা বা স্পিরিটের প্রেক্ষাপটে গণভোট অনুষ্ঠান এ নির্বাচনের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই, দেশের সাধারণ মানুষকে গণভোট কি এবং তাদের সুচিন্তিত মতামত কেন প্রয়োজন সে বিষয়ে অবহিত করার জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল গণভোটে 'না' ভোট দেবার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের আনাচেকানাচে অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত নাগরিকদের গণভোটে 'হ্যাঁ' বলার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দেবার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ হতে যথেষ্ট উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিলে ভবিষ্যতে পলাতক শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচার পয়দা বন্ধ করা সম্ভব হবে - দেশের সাধারণ মানুষকে এ সত্যটি বুঝিয়ে দেয়া একান্ত প্রয়োজন। আর দেরি না করে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ব্যবহার করে দেশব্যাপী এ বিষয়ে কার্যকর প্রচারণা চালানো সময়ের দাবি।

পরিশেষে বলবো, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ, এবং একইসাথে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ঢেলে সাজানোর একটি অমূল্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। সে বিবেচনায় স্বৈরশাসন পরবর্তী এই নির্বাচন স্রেফ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয় - এটি হতে হবে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের ভিত্তি। সেই ভিত্তি শক্ত করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে জনপ্রিয়তার নয়, ইতিহাসের দায়ের কথা মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সচরাচর নিজেদের দোষ স্বীকার না করে পূর্বতন সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে পার পেতে চায়। প্রচলিত সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে উঠে নতুন, সাহসী ও স্বচ্ছ উদ্যোগ নিতে পারলে তবেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব।

লেখক: কানাডীয় অভিবাসন পরামর্শক, প্রকৌশলী, কথাসাহিত্যিক ও কলামিস্ট
ফেইসবুক: https://www.facebook.com/moh.l.gani

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.