নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\'এম এল গনি\' cut & paste করে Google-এ search করলে আমার সম্পর্কে জানা যাবে। https://www.facebook.com/moh.l.gani

এমএলজি

এমএলজি › বিস্তারিত পোস্টঃ

গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে কি?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৬


আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আপনার ভোটটি যে দলকেই দিন, জেনেবুঝে দিন। তবে, অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের সবার ভালোভাবে বুঝতে হবে ভোট দেবার আগে। সেটি হলো, গণভোটে 'হ্যাঁ' কি 'না' ভোট দেবেন তা, এবং সে বিষয়ে বিএনপি ও জামাত জোটের তুলনামূলক অবস্থান।

জামাত জোট বরাবরই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ছিল এবং আছে। অপরদিকে, দেরিতে হলেও বিএনপি হ্যাঁ ভোটে রাজি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দলটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদককে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলতে আমরা শুনেছি।

দুই দলের নির্বাচনী ইশতিহার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিএনপি জয়ী হলে তারা হ্যাঁ ভোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। তা হলো, মোট ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি অনুসরণ না করে নিম্নকক্ষে কোন দল কত আসন পাবে তার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা।

যারা বিষয়টি পরিষ্কার বুঝেননা তাদের জন্য একটা উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করি।

ধরুন, কোন একটি দল মোট ভোটের ৫ শতাংশ পেলো, কিন্তু, তারা সংসদে কোন পদ (এমপি) পায়নি। বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, কল্পিত দলটি উচ্চকক্ষে কোনো আসন পাবেনা। কিন্তু, জামাতের ইশতিহার অনুযায়ী, কল্পিত দলটি উচ্চকক্ষের আসন সংখ্যার ৫ শতাংশ, অর্থাৎ, প্রতি বিশটি আসনে একটি পাবে।

এবার শুনুন, সংসদে উচ্চকক্ষ কেন প্রয়োজন?

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশে দ্বি-কক্ষীয় সংসদ ব্যবস্থা চালু থাকলেও বাংলাদেশের সংসদে উচ্চকক্ষ বলে কিছু নেই। ফলে, কোন দল সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তারা অতি সহজেই 'যেমন খুশি তেমন' সিদ্ধান্ত নিতে পারে, বা প্রয়োজনে, সংবিধান সংশোধনের মতো কাজও করে ফেলতে পারে। এমন প্রবণতা অতীতের সরকারগুলোর ক্ষেত্রে আমরা বহুবার দেখেছি।

অপরদিকে, সকল দলের প্রতিনিধিত্বমূলক উচ্চকক্ষ থাকলে, সংসদের নিম্নকক্ষ থেকে যে প্রস্তাবগুলো আসে তা দ্বিতীয়বার খতিয়ে দেখার সুযোগ থাকে। এটাকে বলে 'চেক এন্ড ব্যালেন্স।' ফলে, কোন কারণে নিম্নকক্ষের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী বা বিতর্কিত মনে হলে উচ্চকক্ষ সে সিদ্ধান্তে না বলতে পারে। এতে জনস্বার্থ সংরক্ষিত হবারও অনুকূল পরিবেশ তৈরী হয়। এটি সম্ভব, একটি কার্যকর উচ্চকক্ষ গঠন করা সম্ভব হলে তবেই।

বিএনপির প্রস্তাবমতো, উচ্চকক্ষে সংসদের নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যানুপাতে আসন বন্টন করা হলে সরকারের পক্ষে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হবে। কারণ, নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতেই উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব থাকলে দুই কক্ষের মতামতে ব্যতিক্রম কিছু ঘটার কথা নয়। ফলে, নিম্নকক্ষের সিদ্ধান্ত সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রশ্নও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন জাগে, কাজে গতি বৃদ্ধি ঘটলেও এ ধরণের উচ্চকক্ষের আদৌ প্রয়োজন আছে কি?

অপরদিকে, ভোটের অনুপাতের হিসাবে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেক্ষেত্রে কোন ছোট দল সংসদীয় আসন লাভে (এমপি পদ) সক্ষম না হলেও তারা উচ্চকক্ষে মোট ভোটের অনুপাতে আসন লাভ করতে পারে। এতে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রেখে জনগণের যে ছোট অংশটি সে দলকে সমর্থন করেছে জাতীয় সংসদে তাদের আগ্রহ বা ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে। জামাত জোট শর্তহীনভাবে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে চাইছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাস্তবতায় সংসদ সদস্য হতে পারা মানেই ব্যক্তিগতভাবে বাড়ি, গাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট, বিদেশ ভ্রমন, ইত্যাদি বহুবিধ সুবিধা অর্জন ও ভোগ করা। সে প্রবণতা আমরা সব সরকারের আমলেই দেখেছি। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ কুচর্চা থেমে থাকেনি। যেমন, কয়েক উপদেষ্টা দীর্ঘদিন আগে পদ ছাড়লেও তাঁরা আজও সরকারের পক্ষ হতে দেয়া আলিশান বাসাগুলো ছেড়ে দেননি।

জনস্বার্থে একান্ত প্রয়োজন না হলে সংসদে উচ্চকক্ষ থাকা নিষ্প্রয়োজন। কারন, অকার্যকর উচ্চকক্ষ গঠিত হলে অহেতুক কিছু সংসদ সদস্যের পদ সৃষ্টি হবে, এবং জনগণকে তাদের পেছনে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে হবে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে যারা জয়ী হয়ে আসতে পারেননি তাদের অনেককে, বা নির্বাচনে জয়ীদের পরিবারের সদস্যগণকে এ উচ্চকক্ষে স্থান দেয়া হতে পারে। এদের পেছনে নানাভাবে অর্থ ব্যয় তৃতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র দেশের জন্য বিলাসিতারই নামান্তর। সর্বোপরি, অপ্রয়োজনীয় উচ্চকক্ষ গঠন হলে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও অকারণে ধীর হয়ে পড়বে।

সার্বিক বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সম্প্রতি বিএনপি যেভাবে হ্যাঁ ভোট দিতে সম্মত হয়েছে তা প্রকারান্তরে গণভোটে 'না' ভোট প্রদানেরই নামান্তর। গণভোটে কেবল হ্যাঁ ভোট দিলেই দ্বি-কক্ষীয় সংসদের যে সুবিধাগুলো অন্যান্য দেশ ভোগ করছে তা আমরাও পারবো কিনা তা নির্ভর করছে জামাত, বা বিএনপি, কোন দল ক্ষমতায় আসছে তার উপর।

অন্যবিধ যোগ্যতা বিবেচনার পাশাপাশি গণভোটের হ্যাঁ ভোট কিভাবে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে বিবেচনা করা হতে পারে সে বিষয়টিও আমলে নিতে হবে এবারের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে।

এম এল গনি - কলামনিস্ট

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.