| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি খোলা চিঠি -
দীর্ঘদিন ব্রিটেনের মতো একটি উন্নত দেশে বসবাস করার ফলে বাংলাদেশকেও একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে আনার চিন্তা আপনার মধ্যে কাজ করে, এটা বোঝা যায়। কিন্তু, আপনাকে ঘিরে থাকা অনেকেরই চিন্তা ও উদ্দেশ্য ভিন্ন। কমবেশি সবাই ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় ঔপনিবেশিক আমলের জমিদারদের মতো প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত।
আপনার উদ্দেশ্য যতই মহৎ হোক না কেন, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সমমনা ও আদর্শনিষ্ঠ একটি টীম (team), যা এখনো আপনি গড়ে তুলতে পারেননি। সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে ঋণখেলাপি, ব্যাংক লুটেরা এবং চিহ্নিত চাঁদাবাজদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দিয়ে। আপনি হয়তো ভেবেছিলেন, আপনার ছায়াতলে এসে এরা সবাই ভালো হয়ে যাবেন, কিন্তু, কুকুরের লেজ কি কখনো সোজা করা যায়? যতোদ্রুতসম্ভব এদের নিষ্ক্রিয় করে দেশপ্রেমিক, সৎ ও নীতিবান মানুষদের আপনার পাশে নিয়ে আসুন। আপনি একা খুব-কিছু করতে পারবেন না।
এতদিন আপনার শাসন নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলিনি। কারণ, পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে কোনো সরকারকে মূল্যায়ন করা সুবিবেচনার পরিচায়ক নয়। তবে এখন এমন একটি সময় এসেছে, যখন আপনার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মূল্যায়ন করার মতো যথেষ্ট সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। সচেতন নাগরিক হিসেবে ভালো-মন্দ নিয়ে মন্তব্য করা নাগরিক দায়িত্বেরই অংশ, সেই দায়বোধ থেকেই এসব কথা বলা। বিশ্বাস করুন, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাঁচটি টাকাও কানাডায় নিয়ে আসিনি, বরং, দেশের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কল্যানে অর্থ পাঠিয়েছি নিয়মিত। এমনকি, আজও একজনের মেয়ের বিয়েতে টাকা পাঠিয়েছি।
শুনেছি, বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত মীর শাহে আলম নামের ব্যক্তি আপনার বাল্যবন্ধু। তাঁর কিছু বেসামাল আচরণ না দেখলে হয়তো আপনাদের সম্পর্কের বিষয়টি আমাদের অনেকেরই জানা হতো না। কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর চেয়ারম্যান, যিনি একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, তাঁর সঙ্গে প্রকাশ্যে শাহে আলমের দুর্ব্যবহারের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। জনসমক্ষে এমন আচরণ অনভিপ্রেত।
তাছাড়া, সম্প্রতি নিজের ও আত্মীয়স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থাপনা ও স্থানের নামকরণ করার যে প্রবণতা তিনি শুরু করেছেন, তা এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়। শুধু দেশের মানুষই নয়, প্রবাসে থাকা আমরাও ইন্টারনেটের সুবাদে তার এই জমিদারি মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ দেখে ত্যক্তবিরক্ত। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির যতটা ক্ষতি হচ্ছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আপনার ভাবমূর্তি। কারণ, দেশ-বিদেশে মানুষ আপনাকে চেনে; আর, তাঁর পরিচিতি যেটুকু তা আপনারই বদান্যতায়।
আপনি ও আমি প্রায় সমবয়সী। আপনার স্কুলজীবনের একাধিক সহপাঠী আমার সঙ্গে বুয়েটে পড়েছেন। সে বিবেচনায় আপনাকে একজন বন্ধুও মনে করি। সেই অধিকারবোধ থেকেই বলছি, শাহে আলমদের মতো জমিদারি মানসিকতা ও উদ্ধত স্বভাবের যারা আপনার আশপাশে থেকে প্রতিনিয়ত আপনি ও আপনার দলকে বিব্রত করছে এবং আপনার রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিন। অন্যথায়, বিএনপির যে সামান্য ভাবমূর্তি এখনো অবশিষ্ট আছে, সেটিও একসময় হারিয়ে যাবে।
স্বৈরাচারী হাসিনা হটানোর উত্থাল দিনগুলোতে মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত সেই বিখ্যাত শ্লোগান, 'দেশটা কারো বাপের না', আপনার টিমের সদস্যদের সকাল-সন্ধ্যা মনে করিয়ে দিন যাতে তারা নিজেদের জনগনের প্রভু বা জমিদার না ভেবে সেবক ভাবতে অনুপ্রাণিত হন।
আরেকটা কথা, আজকালকার এআই-এর যুগে সকল তথ্য মানুষের আঙুলের ডগায়, অর্থাৎ, তথ্য মুখস্থ করা নিষ্প্রয়োজন। তাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের উচিত হচ্ছে না সংবিধান মুখস্থ করে তাঁর মূল্যবান সময়ের অপচয় করা। তারচেয়ে বরং সময়টুকু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দিলে প্রতিদিন এতো এতো চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি, বা খুনখারাবি দেখতে হতোনা আমাদের। সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রটেকশন নিয়ে চলে না। তাদের নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব তো তাঁরই।
শুভকামনা।
পত্রিকার লিংক: https://www.jagobangla.com/opinion/19680
[এম এল গনি - অভিবাসন পরামর্শক, প্রকৌশলী ও লেখক।]
ফেইসবুক: https://www.facebook.com/moh.l.gani/
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:১১
গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: ধন্যবাদ । আপনার একাডেমিক পরিচয়ের কারণে কমেন্ট করছি । নয়তো আমাদের দেশে যা চলছে, তা নিয়ে কোন সুস্থ্য মানুষের পক্ষে কোন সুস্থ্য মন্তব্য করার মত পরিবেশ আর আছে বলে মনে হয় না । আপনার কথার সরাসরি জবাব দেবার আগে, একটা উদাহরণ দেয়া দরকার মনে করছি । প্রজাতন্ত্রের একজন চাকর হিসেবে আমি দীর্ঘকাল জনগণের সেবা করতে গিয়ে দেখেছি, এই দেশে আমার মত চাকরদের যা করা উচিৎ ছিল, সরকারি চেয়ারে বসা জমিদাররা তা কেউই করেনা, করতে দেয় না, এমনকি কিছু করতে চাইলে অযোগ্য, পাগোল উপাধি দিয়ে কোণঠাসা করে রাখা হত । নীতি নির্ধারকরা আমার মত বেকুবদের আচরণ দেখেই বুঝে নিত, এদেরকে কোন গুরুত্বপূর্ণ জনসেবার কাজে পোষ্টিং দেয়া যাবে না, কেননা ওরা হচ্ছে ভিন্ন গ্রহের মানুষ । যুগের সাথে বেমানান মহা মানব সেজেছে। কেন যে এসব লোকজনকে সরকারি চাকরি দিয়েছে ? হয়তো এরকম কিছু আলোচনা করে তাদের কর্ম বন্টন নীতি বাস্তবায়ন হত । এরকম ছিটেফোটা কিছু বোকা, পাগোলদের মত পেটের দায়ে অবসর পর্যন্ত আমাকেও অনেকটা কাপুরুষের মত পৌঁছাতে হয়েছে । আমি চাকরিরত থাকা অবস্থায়ও নিজের বিরুদ্ধে নানা রকম প্লাটফরমে লেখালেখি করতাম । আমার বন্ধুরা আমাকে বলত, “তুই নিজের বিরুদ্ধেই কলম ধরিস?” জবাব দিতাম না । আমি ভাবতাম, উর্ধতন যাদেরকে নির্ভেজাল মনে করে শ্রদ্ধা করতাম, তারা কতিপয় মানুষ যদি ঠিক পথে থাকে, তাহলে অনিয়মকে যারা নিয়ম বানিয়েছে, তারা পরাজিত হবে । কিন্তু এক সময়ে বুঝতে পারলাম, অনৈতিকতার সাথে প্রায় শতভাগ কম্প্রোমাইজ করে চলেন। তখন থেকে এমন কিছু কাজের সাথে থেকে জীবন শেষ করেছি, যেখানে সরাসরি পাবলিক ফাংশন ছিল না, কেরানীগিরি করা ছাড়া । আমি যতটুকু বুঝেছি, বাংলাদেশকে ধ্বংস করেছে এই দেশের অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিত এলিট শ্রেণী । যাদের স্বরূপ প্রকাশ্য হয়ে গিয়েছে, বিগত ১৬ বছরে । এমনকি যাদেরকে এক সময় আইডল মনে করতাম, দলে দলে তাদেরকেও দেখেছি, ফুলের তোড়া হাতি নিয়ে কদমবুচি করে জমিদারী খাস কামরার চাকর হয়ে যেতে । সেইসব স্বার্থপর আমলা ( সামরিক-বেসামরিক), ব্যবসায়ি, মেইন ষ্ট্রিম মিডিয়ার কয়েকজন ধুর্ত শয়তান, কিছু নীতিহীন বুদ্ধিজীবি খ্যাত বুদ্ধির হাটের ফড়িয়া কারবারীরা- যারা একটা গুচ্ছশক্তির মাধ্যমে জনগণকে বোকা বানিয়ে দেশের সর্বনাশ করেছে। আর এটা ৫৫ বছরের সকল সরকারই করেছে । কেননা সরকার যারা গঠণ করেছে, তাদের বাস্তব চরিত্র দেখা গেছে অনেকটা ঠিকাদারদের মত । ৫ বছরের একটা ঠিকাদারী কাজ পেয়েছে । মনের আনন্দে তারা তাদের ব্যবসা করেছে । বিরোধী দল নামক কিছু স্বার্থপর নেতা বিরোধী বিরোধী নাটক করেছে, তলে তলে ক্ষমতাসীনদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন, বন্ধুত্বের খাতিরে তাদের ঠিকাদারীর কারবার থেকে ভাগ খেয়েছে । এটাইতো বাস্তবতা হিসেবে দেখে আসলাম । সার কথা হচ্ছে, এই রাষ্ট্র কোন শক্তিশালী সরকার কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে না । এ রাষ্ট্রে সো-কল্ড ডিপষ্টেট নামক শক্তির জন্য সর্বদা একটা দুর্বল সরকার প্রয়োজন । বিগত ১৬ বছর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তারা সেই কাজই করছেন । আর সেই সো কল্ড ডিপ ষ্টেট নামক বিষবৃক্ষ ( যা এই দেশের ক্ষমতার চেয়ারপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতারাই জন্ম দিয়েছেন ) হচ্ছে জনগণের গলায় প্রবেশ করা বিষ । যা থেকে এই জাতি উত্তোরণের কোন পথ পাচ্ছে না । ১৯৭৫ এ পেয়েছিল, ১৯৮১ সালেই হারিয়েছে । ২০২৪্ এ পেয়েছিল । একই ফর্মুলায় হারিয়েছে । আর কোনদিন জনগণ তাদের রাষ্ট্র ফিরে পাবে কি না, সন্দেহ আছে । আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনার বাবার মত হতে পারেন নি, মানে হতে দেয়াই হয়নি । তিনি জনগণের কাছে তাদের রাষ্ট্র ফিরিয়ে দিতে পারবেন ? আমার মনে হয় না । কেননা তিনিও ঐ বিষবৃক্ষের কাছে খুব অসহায় বলেই মনে করছি ।