নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

সাধু সাবধান!

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১

রোমান সাম্রাজ্যের পম্পেই এবং বর্তমান বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও সময়কাল সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও, মানুষের সামাজিক আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের কিছু ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নিচে পম্পেইয়ের সেই সময়ের নৈতিক অবক্ষয়ের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরছি-

যৌনতা ও অনৈতিক ব্যবসা:-

পম্পেই: সেখানে বেশ্যাবৃত্তি বা পতিতালয় (লুপানার) ছিল সম্পূর্ণ বৈধ, উন্মুক্ত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ব্যবসা। রাস্তায় বা দেওয়ালে প্রকাশ্য যৌন প্রতীক ও বিজ্ঞাপন আঁকা থাকত।
বাংলাদেশ: বাংলাদেশে পম্পেইয়ের মতো সামাজিকভাবে যৌনতার উন্মুক্ত প্রদর্শন বা প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা (কিছু নির্দিষ্ট আইনি পতিতালয় ছাড়া) নেই। তবে এখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গোপন এসকর্ট সার্ভিস, অনলাইন পর্নোগ্রাফি এবং অনৈতিক ব্যবসার বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

মানবধিকার লঙ্ঘন ও আধুনিক দাসপ্রথা:-

পম্পেই: সমাজ ছিল দাসপ্রথার ওপর নির্ভরশীল। দাসদের কোনো অধিকার ছিল না; তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক শ্রম খাটানো ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
বাংলাদেশ: আইনিভাবে দাসপ্রথা না থাকলেও বাংলাদেশে গৃহকর্মী নির্যাতন, জোরপূর্বক শিশুশ্রম, ইটভাটায় শ্রমিকদের বন্দি রেখে কাজ করানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারের মতো ঘটনাগুলো আধুনিক রূপের দাসপ্রথারই প্রতিফলন।

নিষ্ঠুরতা ও সামাজিক অবক্ষয়:-

পম্পেই: গ্ল্যাডিয়েটরদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং মানুষ বা পশুর মৃত্যু দেখে হাজার হাজার মানুষ হাততালি দিয়ে আনন্দ উল্লাস করত।
বাংলাদেশ: বাংলাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, প্রকাশ্যে কুপিয়ে মানুষ হত্যা এবং সেই নির্মম দৃশ্য প্রতিবাদের বদলে সাধারণ মানুষের মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ বা ভিড় জমানোর মানসিকতার মধ্যে পম্পেইয়ের সেই 'সহিংসতা উপভোগের' আধুনিক রূপ দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্নীতি:-

পম্পেই: ধনী প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হতে নাগরিকদের বিনামূল্যে খাবার, মদ এবং গ্ল্যাডিয়েটর খেলার টিকিটের টোপ দিয়ে ভোট কিনত।
বাংলাদেশ: বাংলাদেশের রাজনীতিতেও কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব প্রবল। ভোট কেনাবেচা, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি, সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়ানো এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের মতো চরম নৈতিক স্খলন এখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে।

চরম সামাজিক বৈষম্য:-

পম্পেই: এক শ্রেণির মানুষ যখন বাগান ও ফোয়ারা ঘেরা বিশাল প্রাসাদে বিলাসী জীবন কাটাত, অন্য বড় অংশটি তখন ভাঙা ও নোংরা ফ্ল্যাটে মানবেতর জীবনযাপন করত।
বাংলাদেশ: বর্তমান বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট। একদিকে গুলশান-বনানীর বিলাসবহুল জীবন ও দামী গাড়ির ছড়াছড়ি, অন্যদিকে বস্তিবাসী বা নিম্নবিত্ত মানুষের দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য তীব্র সংগ্রাম পম্পেইয়ের সেই চরম বৈষম্যকেই মনে করিয়ে দেয়।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:৩৪

এইচ এন নার্গিস বলেছেন: সঠিক বক্তব্য ।

২| ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:৫৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বর্তমান বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট।
................................................................................
এর পাশাপাশি আমাদের নৈতিকতা ও সততার অভাবে সমাজে
সর্বক্ষেত্রে অবক্ষয় শুরু হয়েছে এর প্রতিকার না হলে আমরা
অনতিবিলম্বে অসভ্য ও ভগ্ন রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে চলেছি ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.