| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজকের তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক আগ্রহ। বাজারে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তর বই আছে। কিন্তু বেশির ভাগ বই-ই সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। অনেকে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তারা তাদের বইয়ে তাদের কৃতিত্বটাকে বড় করে তুলেছেন। আবার, কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধটাকে দেখেছেন সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। আজকের তরুণ প্রজন্ম যে ইতিহাস শুনছেন বা জানছেন তার অনেকটা আংশিক সত্য; কোন কোন ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আংশিক সত্য কোন কোন সময় মিথ্যার চেয়েও খারাপ।
এমন এক ‘হ-য-ব-র-ল’ অবস্থায় গোলাম মুরশিদের “মুক্তিযুদ্ধ ও তারপরঃ একটি নির্দলীয় ইতিহাস” হতে পারে সঠিক পথের দিশারী। এ বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বইটি পক্ষপাতহীন কিন্তু রেফারেন্সপূর্ণ বর্ণনার সাথে লেখকের যৌক্তিক অভিমত দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যারা নবীন পাঠক তাদের জন্য এ বই হতে পারে ভাল রেফারেন্সের আঁধার।
বইটি চার ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে, বাংলা ও বাঙালির কথা সেই সাথে বঙ্গভঙ্গ এবং মুসলমানদের ক্ষমতায়নের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে, দেশবিভাগ, একুশে ফেব্রুয়ারি এবং পঞ্চাশ-ষাটের দশকের রাজনীতি প্রাধান্য পেয়েছে। স্বাধিকার থেকে কিভাবে স্বাধীনতা আন্দোলন হল ইতিহাস পাওয়া যায় তৃতীয় ভাগে। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আজকের বাংলাদেশে স্বধীনতার ঘোষক কে তা নিয়ে যে রাজনীতি বা বিতর্ক তার প্রকৃত ইতিহাস লেখক এখানে তুলে ধরে সব বিতর্কের এপিটাফ রচনা করেছেন। আমাদের মত দ্বিধাগ্রস্ত তরুণদের অবশ্যই এই ইতিহাস ভালো করে জানা দরকার। যে মহানব্রত নিয়ে চিরকালের অনৈক্য বাঙালি জাতি বাঙালির শ্রেষ্ট সন্তান বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্য হয়েছিলো স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে এ স্বপ্ন বালির বাশের মত ভেস্তে যায়। কিন্তু কেন এমনটি হয়েছিলো? যে মুজিবকে বাঙালিরা দেবতার আসনে বসিয়ে ছিলো পরবর্তী সময়ে তারাই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করল। মুজিব পরবর্তী অরাজকতার মধ্যে নানা নাটকের মাধ্যমে মেজর জিয়া উত্থান। জিয়ার শাসনামলের ভালো ও কালো দিকগুলো এ বই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্টা করতে গিয়ে তিনি কিভাবে পাকিস্তানপন্থী নেতাদের পুনর্বাসন করেছেন তার একটি উদাহরণ হচ্ছে সাবেক মুসলিম লীগ নেতা শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়ে তিনি এ ধারার সূচনা করেন।
বিদ্রঃ আমার মত সাধারণ পাঠক আরও দুটি মুক্তিযুদ্ধের বই পড়তে সবাইকে উৎসাহ দিব।
১। “বাংলাদেশের ইতিহাস ১৯৪৭-৭১”, লেখকঃ ড.মো.মাহবুবুর রহমান।
২। “আমি বিজয় দেখেছি”, লেখকঃ এম.আর.আখতার মুকুল।
©somewhere in net ltd.