| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে“ ফেইলুর ইজ দ্যা পিলার অব সাকসেস” কিন্তু আকাশ তার জীবনের সফলতার পিলার স্থাপনের মতো ফেল করতে পারে নাই। প্রতিকূল পরিবেশে কায়ক্লেসে জীবন-যাপন করে নিজস্ব কৌশলে পড়ালেখায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে না পারলেও মেধাবী ছাত্র তকমা পেয়েছিল ছোট্টবেলা থেকেই। প্রথম শ্রেণিতে ক্যাপটেন নির্বাচনে নিজ যোগ্যতায় অপ্রতিদ্বন্দী প্রার্থী হিসেবে শ্রেণিশিক্ষক কর্তৃক ক্যাপটেন হিসেবে সিলেক্ট করার পরক্ষণেই স্কুলের পাশের বাড়ির বড় ভাইয়ের হস্তক্ষেপে ( বর্তমানে বাংলাদেশের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ এর অনুরূপ) নির্বাচনে অযোগ্য ডামি প্রার্থীকে সকল শিক্ষার্থী ভোট দেয় এক প্যাকেট সুপার বিস্কুট খেয়ে (বর্তমানের নাগরিকদের ২০০ টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি) আকাশকে নির্বাচনে ফেল করিয়ে জীবনের প্রথমেই ব্যর্থতার স্বাদ উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়া হয়।
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সকল বিষয়ে লেটার মার্ক পেয়েও প্রথম হতে পারলো না আকাশ অথচ বাংলায় লেটার না পেয়েও ফাস্ট হলো অ্ন্য কেউ।
হাইস্কুলে উঠে গণিতের নতুন বিষয় বীজ গণিত সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে আকাশ পাটিগনিত ও জ্যামিতির উত্তর করে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে। না বোঝার কারনে ফাস্ট বয় একটা জ্যামিতির উত্তর করতে না পারলেও আকাশ ঠিকই সঠিক উত্তর করে।
এসএসসি পরীক্ষায় ছয় বিষয়ে লেটার মার্ক পেলেও পড়ালেখা না করায় মোট নম্বর আটশত পার করতে পারে নি অভাগা আকাশ।
আকাশ যথেষ্ট মেধাবী হলেও উচ্চ মাধ্যমিকে গনিতের হাতে কলমে চর্চা না করায় টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করে শিক্ষাজীবনে প্রথম ফেল করার রেকর্ড অর্জন করে। ফাইনাল পরীক্ষায় গনিতে ৬০% এর উপরে মার্ক পেলেও বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার যোগ্য হতে পারে নি।
সবচেয়ে কঠিন বিষয় (পদার্থ বিজ্ঞান) নিয়ে বিএসসি(সম্মান) ডিগ্রী অর্জন করে উচ্চতর ডিগ্রী ও গবেষণা করার জন্য বুয়েটে এমফিল করার জন্য পদার্থ বিজ্ঞানে ভর্তি হলে এমএসসি করতে নিরুৎসাহিত করেন পূর্বের প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধান। এমএসসি তে ভর্তি থাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আকাশ। যেখানে গরু গাধা সবাই এমএসসি পাস করে সেখানে ফেল করে বসে আকাশ। ধারানা করা হয় এক পাগলাটে বহিরাগত পরীক্ষকের ভুমিকার দরুণ ফেল করার সুযোগ তৈরি হলেও সেই ফেল কোন সাকসেস এর পিলার গড়তে পারে নি।
বুয়েটে গবেষণার জন্য ভর্তি হলেও পরিবেশ না থাকায় এবং বাস্তবতার কঠিন করাঘাতে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে না পারায় তত্ত্বীয় বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট কমে যায় যা শেষ বিষয়ে ৪ পয়েন্ট পেয়ে গড়ে গ্রহণযোগ্যতা পায়। দুই বছরের এমফিল ডিগ্রী আড়াই বছরে শেষ করার আগেই দুই বার বিসিএস পাস করলেও ক্যাডার হতে পারে নি অভাগা আকাশ। অবশেষে একটা প্রথম শ্রেণির সরকারি (৯ম গ্রেড) চাকুরি নিয়ে সফলতার পিলার স্থাপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আজও।
©somewhere in net ltd.