| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই তিনি কাজ শুরু করেছেন। এই কথাটা তিনি নিজেই বলেছেন, গতকাল, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। আর এই কথাটা পড়ে আমার বুকের ভেতরে একটা উষ্ণতা অনুভব করেছি , যেটা আগে কখনো আসেনি। বাংলাদেশ অনেক নেতা দেখেছে। কিন্তু যিনি ক্ষমতায় বসেই পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা ভাবেন, যিনি বৈষম্য দূর করার কথা শুধু বক্তৃতায় না বলে সত্যিই বরাদ্দ দেন, তারেক রহমান সেই বিরল প্রজাতির নেতা। পঁচিশ দিনে তিনি যা করেছেন, সেটা একটু গুছিয়ে বলা দরকার, কারণ এত কিছু একসাথে হয়েছে যে অনেকের চোখ এড়িয়ে গেছে।
প্রথমেই কৃষক। দেশের বারো লাখ প্রান্তিক কৃষক, যারা দশ হাজার টাকার ঋণ শোধ করতে পারেননি, যারা ব্যাংকের খাতায় বছরের পর বছর খেলাপি হয়ে বসে ছিলেন তাদের সেই ঋণ মাফ হয়ে গেছে। পনেরোশো কোটি টাকা। শুধু এই একটা সিদ্ধান্তের জন্য। এই মানুষগুলো এখন আবার ব্যাংকে যেতে পারবেন, নতুন ঋণ নিতে পারবেন, নতুন মৌসুমে চাষ করতে পারবেন। এর দাম কি টাকায় পরিমাপ করা যায়?
তারপর জ্বালানি। ইরানে যুদ্ধ লেগেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলছে না ঠিকমতো, বিশ্ববাজারে LNG এর দাম তিন মাসে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে একজন দুর্বল নেতা হাত গুটিয়ে বসে থাকতেন, দাম বাড়িয়ে দিতেন, মানুষকে বলতেন সহ্য করতে। তারেক রহমান সেটা করেননি। চব্বিশ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন। গ্যাস চালু রেখেছেন। সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল, কিন্তু তিনি নিয়েছেন।
এরপর যে কাজটা করেছেন সেটা হয়তো সবচেয়ে কম আলোচনা হয়েছে, কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম, খাদেম -মন্দিরের পুরোহিত, সেবাইত - বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ -গির্জার যাজক - এই মানুষগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের পাশে থেকেছেন, জীবনের কঠিন মুহূর্তে পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু রাষ্ট্র কোনোদিন তাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি। আজ থেকে প্রতি মাসে তারা সম্মানী পাবেন। ইমাম পাবেন পাঁচ হাজার, মোয়াজ্জেন তিন হাজার, খাদেম দুই হাজার। পুরোহিত পাঁচ হাজার, সেবাইত তিন হাজার। প্রতি বছর চার হাজার চারশো কোটি টাকা। চার বছরে সতেরো হাজার ছয়শো কোটি। এই মানুষগুলো এত বছর পরে অবশেষে রাষ্ট্রের কাছ থেকে একটু স্বীকৃতি পেলেন।
ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানরা মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। চৌদ্দই এপ্রিল থেকে কৃষক কার্ড আসছে। ষোলোই মার্চ থেকে দিনাজপুরে খাল খনন শুরু হচ্ছে। প্রতিটা ঘোষণায় তারিখ আছে, প্রতিটায় মানুষের নাম আছে।
এত কিছুর মাঝে একটা ছোট্ট খবর চাপা পড়ে গেছে। দেশের পনেরো লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন কমিশনের জন্য চল্লিশ হাজার কোটি টাকা আলাদা রাখা ছিল। সেই টাকার উনচল্লিশ হাজার আটত্রিশ কোটি সাত লাখ টাকা এই সব কাজে চলে গেছে। বেতন কমিশন এ বছর আর হচ্ছে না। কিন্তু সরকারি কর্মচারীরা তো পচা , এটা সবাই জানে। তাদের বেতন না বাড়লে কারো খুব একটা মাথাব্যথা নেই।
আসলে এটাই সত্যিকারের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। যে শ্রেণিকে সমাজ আগে থেকেই অপছন্দ করে, তার বরাদ্দ সরিয়ে যাদের সমাজ ভালোবাসে তাদের দিলে কেউ প্রশ্ন করে না। কৃষক ভালো, ইমাম ভালো, গরিব নারী ভালো ; শুধু সরকারি কর্মচারী খারাপ। এই সমীকরণটা মাথায় রেখে বাজেট বানালে রাজনীতি অনেক সহজ হয়ে যায়।
মার্ক্স বলেছিলেন ধনীর থেকে নিয়ে গরিবকে দাও। তারেক রহমান সেটা একটু ঘুরিয়ে করেছেন। সরকারি কর্মচারদের বেতন-ভাতা থেকে নিয়ে, ব্যাংককে দিয়েছেন, জ্বালানি কোম্পানিকে দিয়েছেন, ধর্মীয় নেতাদের দিয়েছেন, আর চার কোটি পরিবারকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আয় এখনো সেভাবে আসেনি, কিন্তু খরচ দারুণ গতিতে এগোচ্ছে। সমাজতন্ত্রে আয়ের আগে ব্যয় করাটাই আসল সাহস। সেই সাহস তারেক রহমানের আছে, এটা এখন পরিষ্কার। লাল সালাম, কমরেড। 
১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:১০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: চাঁদগাজীর আপত্তি কেন থাকবে ? তিনি নিজেই আরেক কমরেড । ![]()
২|
১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: তিনি কমরেড তারেক রহমান বলতে চাননা,
বলেন খাম্বামিয়া !
...............................................................
প্রযুক্তির যুগে, আমগাছে লিচু ফলে,
অতএব, আমরা ব্যতিক্রম আশা করতে পারিনা ???
১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:৩২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তারেক রহমান যে গতিতে কাজ করছেন গাজি সাহেব একদিন নিজে থেকেই বলবেন আমার ভুল হয়ে গেছে । ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: তাহলে আমার আশার গাছে
ফল ফলতে শুরু করেছে ?
.......................................................
এতে চাঁদগাজীর আপত্তি নেই তো ?