নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩১)

০৬ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:২৮



সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২। আমরা লোকমানকে হিকমাত দান করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তো তা’ করে নিজের জন্য। আর কেউ অকৃতজ্ঞ হলে আল্লাহ তো ধনি ও প্রশংসিত।

* হযরত লোকমানকে আল্লাহ চিকিৎসাহিকমাত দিয়েছেন। তাঁর থেকে বড় হিকমাত সামরিক হিকমাত দিয়েছেন আল্লাহ মহানবিকে (রা.)। এর মাধ্যমে মুসলিমগণ মুসলিম শাসন পায়। মুসলিমদের জন্য মুসলিম শাসন কতটা জরুরী সেটা আমরা ভারতের হিন্দু শাসন দেখে বুঝতে পারি। মহানবরি (সা.) পর হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও মহানবরি (সা.) আহলে বাইত আব্বাসীয় মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফাগণ ও তাঁদের অনুসারি তুর্কী হানাফী সুলতানগণ বারশত বছর সামরিক হিকমাত সমৃদ্ধ ছিলেন। তাঁরা মুসলিমদের বিশাল রাষ্ট্র শাসন করেছেন। রাসূল (সা.) অসংকলিত অভিন্ন ফিকাহ প্রচার করেছেন। এটি বাদ দিয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) হাদিস প্রচার করেন। তাঁদের সাথে মোনাফেক নিজেদের কথাকে হাদিস হিসাবে প্রচার করে মহানবির (সা.) অভিন্ন ফিকাহ নষ্ট করে। অভিন্ন ফিকাহ নষ্ট হওয়ার কারণে মুসলিম বহু দলে বিভক্ত হয়। তখন ইমাম আবু হানিফা অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও মহানবরি (সা.) আহলে বাইত আব্বাসীয় মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফা হারুনুর রশিদ ইমাম আবু হানিফার (র.) অভিন্ন ফিকাহ পরিশোধন করে হানাফী মাযহাব নামে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। এরপর ছিয়াশি মুসলিম বিশ্ব আমির হানাফী মাযহাবের অনুসারী হয়। হানাফী বিরোধীদের অনুসারী নয় কোন মুসলিম বিশ্ব আমির। রাসূলের (সা.) পর আল্লাহ মুসলিম বিশ্ব আমিরের অনুসরন ফরজ করায় মুসলিম বিশ্ব আমিরের অনুসারি হানাফী হেদায়াত প্রাপ্ত এবং তাঁদের বিরোধীরা পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী। তাদের বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ তারা মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিকারী।তাদের কোন নেতা মুসলিমদের বিশ্ব শাসক নয়। যেমন এখন সৌদি বাদশা, ইরানের ইমাম, আফগান আমির মুসলিমদের বিশ্ব শাসক নয়। রাসূল (সা.) মুসলিমদের বিশ্ব শাসক ছিলেন। তিনি মুসলিমদেরকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। আঞ্চলিক শাসক মুসলিমদেরকে ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত করে। সেজন্য আঞ্চলিক শাসকদের ইসলাম ঐক্যবদ্ধ ইসলাম নয়। আল্লাহ ঐক্যবদ্ধ ইসলামের কথাও বলেছেন।

সূরাঃ ৩১ লোকমান, ২ নং থেকে ৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
২। এগুলি জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত।
৩। পথ-নির্দেশ ও দয়াসরূপ সৎকর্ম পরায়নদের জন্য।
৪। যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয়, আর তারাই আখিরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী।
৫। তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে আছে এবং তারাই সফলকাম।

* কোরআনের পথ-নির্দেশ হলো অভিন্ন ফিকাহ। এর পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল হয়। আল্লাহ সত্যবাদীগণের সাথে থাকতে আদেশ করেছেন। রাসূল (সা.) থেকে একমাত্র সত্যবাদী খেতাব প্রাপ্ত ছিলেন হযরত আবু বকর (রা.)। তাঁর বিরোধী হযরত আলী (রা.) ছিলেন পশুপ্রধানের খেতাব প্রাপ্ত। অভিন্ন ফিকায় হযরত আবু বকর (রা.) খলিফা হলে হযরত আলী (রা.) এর বিরোধীতা করে। অভিন্ন ফিকাহের পরিবর্তে বাতিল হওয়া হাদিস দিয়ে হযরত আলী (রা.) হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতের বিরোধীতা করেন।আল্লাহ তিনি ও তাঁর আহলে বাইতের যারা হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতে অসন্তুষ্ট তাঁদের হত্যাকান্ডের ব্যবস্থা করেন। ইদানিং এ ধারায় হযরত আলীর (রা.) আহলে বাইত ইমাম আলী খামেনী নিহত হন। তবে হযরত আলীর (রা.) আহলে বাইতের যারা হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতের বিরোধী নন অন্য কোন কারণ না থাকলে তাঁরা হত্যাকান্ডের বাইরে থাকছেন। হানাফীরা হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতের অকুন্ঠ সমর্থক। আল্লাহ তাদেরকে রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে দিয়েছেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও মহানবরি (সা.) আহলে বাইত আব্বাসীয় মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফাগণ ও তাঁদের অনুসারি তুর্কী হানাফী সুলতানগণ প্রায় বারশত বছর মুসলিম বিশ্ব শাসন করেছে। এখনো তুর্কী হানাফীরা বীর। তাদের বখতিয়ার মাত্র সতেরজন সৈন্য নিয়ে বাংলা জয় করেন।এখন বাংলাদেশীরা একটি হানাফী সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম রাষ্ট্র। যারা গেরিলা যুদ্ধে বিশ্বসেরা। হানাফী আফগান অজেয় এবং হানাফী পাকিস্তান আনবিক শক্তির অধিকারী। সামরিক শক্তির হিকমাত প্রাপ্তদের ধারে কাছেও অহানাফী কোন পক্ষ নাই। তাহলে তারা হেদায়াতে আছে সেটা কিভাবে বলা যায়?

সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৩। স্মরণ কর, যখন লোকমান উপদেশাচ্ছলে তার পুত্রকে বলেছিল, হে পুত্র! আল্লাহর সাথে শিরক করবে না। নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম।

* অহানাফী সালাফী পক্ষ আল্লাহকে আরশে সীমাবদ্ধ করে সীমাবদ্ধদের কাতারে আল্লাহকে শরিক করে শির্কে লিপ্ত হয়। হানাফীরা এধরণের শির্কের থেকে মুক্ত। তারা বলে আল্লাহ তাঁর আরশ হতে অসীমে বিদ্যমাণ। তিনি নভমন্ডল ও ভূমন্ডলের নূর। কোন নাপাক নূরকে স্পর্শ করতে পারে না বলে আল্লাহ পবিত্র। আল্লাহ মানুষের সাথেই থাকেন। মানুষ টয়লেটে প্রবেশ করতে আল্লাহকে এর বাইরে রেখে যায় না। তবে টয়লেটে মানুষকে নাপাক স্পর্শ করতে পারলেও টয়লেটের নাপাক আল্লাহকে স্পর্শ করতে পারে না। টয়লেটে আল্লাহ থাকতে পারেন না বলে সালাফীরা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫। তোমার পিতা-মাতা যদি আমার সমকক্ষ দাঁড় করাতে তোমার সাথে জিহাদ করে যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই।তাহলে তুমি তাদের কথা মানবে না, তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে সদভাবে বসবাস করবে এবং যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অবলম্বন কর, অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট এবং তোমরা যা করতে আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে অবহিত করব।

* আল্লাহকে আরশে সীমাবদ্ধ করা হলে সীমাবদ্ধকে আল্লাহর সমকক্ষ করা হয়। বাস্তবে আরশ থেকে নূরের মাধ্যমে আল্লাহ অসীমে বিস্তৃত। নূরের মাধ্যমে তিনি মানুষের ঘাড়ের নিকটেও বিদ্যমাণ। নূরের মাধ্যমে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমাণ তো বটেই এমনকি তিনি সর্বত্রের বাইরেও বিদ্যমাণ। কারণ আল্লাহ সর্বত্রের থেকেও বড়। যারা আল্লাহকে আরশে সীমাবদ্ধ করে তারা আল্লাহকে ছোট করে। এসব ঘৃণিত আকিদা থেকে হানাফীরা মুক্ত।

সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৬। হে পুত্র! ক্ষুদ্র বস্তুটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং উহা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মাটির নীচে, আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন।আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।

* আল্লাহর জ্ঞান ও উপলব্ধি ভরাট বস্তুর ভিতরেও পৌঁছে যায়্ এভাবে তিনি সকল ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড়। তাঁকে কোন কিছুর সমাণ করা সবচেয়ে বড় অপরাধ। হানাফীরা আল্লাহকে কোন কিছুর সমান বা তাঁকে কোন কিছু থেকে ছোট বলে না। সাধারণত তিনি নিরাকার। আকারে অসীমত্ত না থাকায় এটি আল্লাহর পছন্দ নয়। তবে বান্দার সাথে দেখা দেওয়ার প্রয়োজনে আল্লাহ আকার ধারণ করে নূরের মাধ্যমে নিজের অসীমত্ত প্রকাশ করবেন।

সূরাঃ ৩১ লোকমান, ২৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৭। পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় আর সমূদ্র হয় কালি এবং এর সাথে আরো সাত সমূদ্র যুক্ত হয় তবু আল্লাহর কথা শেষ হবে না। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।

* যাঁর প্রশংসা অসীম তিনি অসীম নন এটি অবাস্তব চিন্তা। আল্লাহ আরশ থেকে নূরের মাধ্যমে অসীমত্বে বিরাজমাণ। আল্লাহ উপরে মানে তাঁর প্রধান অবস্থান উপরে। আকাশ ও জমিনে কুরসিতে তাঁর পা বিদ্যমাণ। কেউ যেখানেই সেজদা করুক না কেন সে আল্লাহর পায়ে সিজদা করে।ভরাট বস্তুর ভিতরে আল্লাহর নূর প্রবেশ করতে পারে বিধায় ভরাট বস্তুর ভিতরেও আল্লাহ দেখতে পান। আল্লাহকে হানাফীদের অসমি বিশ্বাস একটি বিশুদ্ধ বিশ্বাস। যারা আল্লাহকে অসীম থেকে ছোট করে তারা আল্লাহর অসীমত্বের কুফরী করে। হানাফীরা এ ধরণের কুফুরী থেকে মুক্ত।

সূরাঃ ৩১ লোকমান, ৩৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৪। কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে। কেউ জানে না আগামী কাল সে কি অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু ঘটবে।নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।

* আল্লাহ সব কিছু জানেন। যারা সসীম তারা সব কিছু জানে না। আল্লাহ তাদের মত নন বিধায় তিনি তাদের মত সসীম নন। যেহেতু তিনি সসীম নন সেহেতু তিনি অসীম। তাঁকে অসীম বলা তাঁকে সম্মান করা, তাঁকে সসীম বলা হলো সসীমের সাথে তাঁর শিরক করা। হানাফীরা হলো শিরক থেকে মুক্ত একনিষ্ঠ । আর একনিষ্ঠের আরবী হলো হানাফী। তাদের সাথে না থেকে কারো পক্ষে সঠিক থাকা সম্ভব নয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.