নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ! যা চেয়েছিলাম, তার চেয়েও বেশি দয়া করেছেন আমার পরম প্রিয় রব। যা পাইনি, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই—কারণ জানি, তিনি দেন শুধু কল্যাণই। সিজদাবনত শুকরিয়া।\n\nপ্রত্যাশার একটি ঘর এখনও কি ফাঁকা পড়ে আছে কি না, জানি না। তবে এটুকু জানি—

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, ২য় এবং শেষ পর্ব

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৭

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, ২য় এবং শেষ পর্ব

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

ক্রোনোবায়োলজিকাল এবং শারীরিক পরিবর্তন

জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তন

রমজানের রোজা শরীরের জৈবিক ঘড়ি (ক্রোনোবায়োলজি) প্রভাবিত করে। একটি রিভিউ (Karger Publishers) অনুসারে, রোজা শরীরের তাপমাত্রা, কর্টিসল, মেলাটোনিন এবং গ্লুকোজের সার্কেডিয়ান রিদম পরিবর্তন করে। এটি HDL এবং অ্যাপোপ্রোটিন A1 বাড়ায় এবং LDL কমায়, যা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য উপকারী। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলো রোড ট্র্যাফিক দুর্ঘটনার ঘটনা বাড়াতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এই পরিবর্তনগুলো আচরণগত এবং জৈবিক, যা রোজার স্বাস্থ্যকর প্রভাবের অংশ। প্রচলিত রোজা শব্দটি আরবী সিয়ামের স্থান দখল করলেও নিছক উপবাস বা রোজা সিয়ামের প্রতিশব্দ নয়। রোজা মানুষকে যে সংযমিতা শিক্ষা দেয়, তা তার শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক। রোজা শরীরের order ও discipline অর্থাৎ নিয়ম শৃঙ্খলাকে ফিরিয়ে এনে শরীরকে কার্যক্ষম করে তোলে।

শরীরের ইঞ্জিন মডেল

আমাদের শরীর একটা ইঞ্জিনের মত। খাবার হচ্ছে এই ইঞ্জিনের ফুয়েল বা জ্বালানী। পাকস্থলীতে যতক্ষণ খাবার থাকে ততক্ষণ ইঞ্জিন চলতেই থাকবে। যখন খাবার ফুরিয়ে যাবে তখন শরীরের মধ্যে যে খাবার জমা থাকে মেদ বা চর্বি হিসেবে তা খাবার হিসেবে কাজ করে ইঞ্জিনকে চালিয়ে নিতে; অনেকটা রিজার্ভ ট্যাংকির মত। চর্বি ফুরিয়ে গেলে টান পড়ে মজুদ প্রোটিনের। আবার অত্যধিক খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে যে বাড়তি মেদ বা কোলেস্টেরল জন্মে তা থেকে শরীরে নানাবিধ রোগ জন্মে। তাই শরীরের এই অবাঞ্ছিত মেদকে জ্বালানী হিসেবে পুড়িয়ে ফেলাই বাঞ্ছনীয়। রোজা এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ প্রতিরোধ

শরীরে বেশী কোলেস্টেরল জমা হলে শিরা উপশিরার ভিতরের প্রশস্ততা কমে যায়। তখন এরা পর্যাপ্ত রক্ত বহন করতে পারে না। ফলে এক দিকে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়, অন্য দিকে হৃৎপিন্ডের প্রধান রক্ত বহনকারী করোনারী আর্টারী পর্যাপ্ত রক্ত বহনে অক্ষম হয়ে পড়ে। তখন হৃৎপিন্ডের কাজ বন্ধ হয়ে আসে; যার ফলে বুকে দারুন ব্যাথার সৃষ্টি হয় এবং হঠাৎ করেই মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরে নতুন করে কোলেস্টেরল জমতে পারে না, বরং জমাকৃত কোলেস্টেরল ক্ষয় হয়ে শরীরের বাড়তি ওজন ও উচ্চ রক্ত চাপ কমে আসে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

এই সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের মূলমন্ত্র সুশৃঙ্খল জীবন পদ্ধতি। সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী সিয়াম সাধনা করলে এই সময় রক্তে গ্লুকোজ ও চর্বির পরিমাণ হ্রাস পায়। রোজাদার ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে এক ধরনের চর্বি, যা লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (ক্ষতিকারক চর্বি) নামে পরিচিত, কমে যায় এবং হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (উপকারী চর্বি) বৃদ্ধি পায়। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেক কমে যায়।

শরীরের ডিটক্স

একই সাথে শরীরে ডি-টক্সিফিকেশন ঘটে। অর্থাৎ এই সময়ে শরীরে জমে থাকা কিছু ক্ষতিকর পদার্থ প্রস্রাব, পায়খানা, ঘাম ইত্যাদি বডি ফ্লুইডের সাথেই দ্রবীভূত হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

গ্লুকোজ ধারণা সংশোধন

অনেকের ধারনা রোজা রেখে সারাদিন উপবাস থাকলে শরীরের গ্লুকোজ বা চিনির পরিমাণ কমে গিয়ে শরীর দূর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা শরীরে রিজার্ভ ট্যাংকির মত চিনি জমা রাখার ব্যবস্থা করেছেন। শরীরে চিনির পরিমাণ কমে গেলে মেদ থেকে এমনকি আমিষ জাতীয় খাবার থেকেও শরীরে চিনি সরবরাহ হতে পারে। অর্থাৎ যে চিনি আমাদের মস্তিস্ক ও শরীরের জন্য অতি প্রয়োজন তা জমাকৃত মেদ থেকে ক একদিন নয়, ক এক সপ্তাহ শরীরকে চালিয়ে নিতে পারে।

ডায়াবেটিস এবং আলসার ভুল ধারণা

অনেকের ধারনা রমজান মাস ডায়াবেটিস ও আলসার রোগীদের জন্য অনেক সমস্যা, কারণ এসব রোগীদের ঘন ঘন ঔষধ খেতে হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ঘন ঘন খাবার খেলে আলসার সারার চেয়ে বেড়ে যায়। বরং নিয়মিত এবং পরিমিত খাবার খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং আলসারও বৃদ্ধি পায় না।

গ্যাষ্ট্রিক রোগের উপকার

যাদের গ্যাষ্ট্রিক আলসার আছে, তাদের জন্য রোজা উপকারী, কেননা খাওয়ার পর গ্যাষ্ট্রিক আলসারের ব্যাথা বেড়ে যায়। রোজা রেখে সারাদিন না খেয়ে থাকলে পাকস্থলী একটু বিশ্রাম পায় তাতে ব্যাথা কমে যায় অর্থাৎ রোগীর উপকার হয়।

খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম

আমাদের দেশে আমরা বড় অনিয়ম করি খাওয়া-দাওয়ায়। কোন সময় খাব, কতটুকু খাব, কি কি খাবার উপকারী, কি কি খাবার অপকারী এসব ব্যাপারে আমরা বড়ই উদাসীন। রমজান মাসে কারো জন্য ইফতারী ও সেহেরী আলাদা আলাদা সময়ে হয় না। কাজেই খাবারের মধ্যে আমরা যদি নিয়ম মানতে চেষ্টা করি তাহলে, এই রমজানকেই আমাদের অনুসরণ করতে হবে।

রমজানের চিকিৎসা মূল্য

চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রমজান মাস একটা নেয়ামত ও বরকতের মাস। কারণ এতে শরীর সুস্থ রাখার নানান উপায় অনুশীলন আছে। এই উপায়, অনুশীলন গুলো আমরা সব সময় চর্চা করতে পারি না। অথচ, এই রমজান মাস আমাদের সেই সুযোগ এনে দেয়। আমাদের দেশে কেউ না খেয়ে মরে না। বেশি খেয়ে মরে, অপরিমিত খেয়ে মরে।

শৃঙ্খলা ও বিশ্রাম

রোজা খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা এনে দেয়। যা শারীরিক উৎকর্ষ সাধনে বিশেষ সহায়ক। সব ব্যাপারে রোজা মানুষকে সংযমি হতে শিক্ষা দেয় খাদ্যে সংযমি হওয়া তার মধ্যে অন্যতম। রমজান মাসে খাদ্যের intake কম হলে অর্থাৎ শরীরে খাদ্য নামক জ্বালানী কম প্রবেশ করলে ক একটা পার্টস একটু বিশাম পায়। বিশেষ করে ঐ সব পার্টস যাদের সাথে পাকস্থলীর সম্পর্ক রয়েছে।

টক্সিন দূরীকরণ

তাছাড়া সারা বছর দেহে যে toxin বা জৈব বিষ জমা হয় এক মাস রোজা রাখার ফলে তা দূরীভূত হয়ে দেহ কোষ নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে।

বিজ্ঞানীদের পরামর্শ

রাশিয়ার একজন বিজ্ঞানী প্রফেসর নাটিকন বলেন- তিনটি নিয়ম পালন করলে শরীরের বিষাক্ত জীবাণু বের হয়ে যাবে এবং বার্ধক্য কমিয়ে দেবে। (ক) শারীরিক পরিশ্রম দেহের শিরা উপশিরার সতেজতা ও সজীবতা বজায় রাখে। (খ) প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করা ও (গ) প্রত্যেক মাসে অন্ততঃ একদিন অভুক্ত থাকা। মহানবী (সা.) রমজান মাস ছাড়াও প্রতি মাসে ৩/৪টি রোজা রাখতেন এবং বলতেন, রোজা রাখ এবং সুস্থ থাক। রক্ত সঞ্চালন এবং দেহের গ্রন্থি সমূহের উপর রোজার সুফল ও প্রতিক্রিয়া সর্বাধিক। রোজা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে উজ্জীবিত করে।

মানসিক স্বাস্থ্য এবং ঘুমের ফলাফল

রমজানের রোজা মানসিক স্বাস্থ্য এবং ঘুমের উপর মিশ্র প্রভাব ফেলে। একটি গবেষণা (MDPI Health Sciences) অনুসারে, রোজার সময় ডিপ্রেশন, অ্যাঙ্গজাইটি এবং স্ট্রেসের লেভেল স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু ঘুমের গুণমান খারাপ হয় (PSQI স্কোর ৬.৪৮)। সুখ এবং জীবন সন্তুষ্টি স্ট্রেস, অ্যাঙ্গজাইটি এবং ডিপ্রেশন কমায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে সুখ স্ট্রেস কমায় এবং জীবন সন্তুষ্টি অ্যাঙ্গজাইটি এবং ডিপ্রেশন কমায়; নারীদের ক্ষেত্রে ঘুমের সময়কাল এবং ওষুধের ব্যবহার স্ট্রেস প্রভাবিত করে। রোজা আধ্যাত্মিকতা বাড়িয়ে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে, কিন্তু ঘুমের ব্যাঘাতের জন্য কর্মক্ষেত্রে সহায়তা প্রয়োজন। রোজা মানুষকে যে সংযমিতা শিক্ষা দেয়, তা তার শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক। রোজা শরীরের order ও discipline অর্থাৎ নিয়ম শৃঙ্খলাকে ফিরিয়ে এনে শরীরকে কার্যক্ষম করে তোলে।

টাইম-রেস্ট্রিকটেড ফিডিং এবং মেটাবলিক ফলাফল

রমজানের রোজা টাইম-রেস্ট্রিকটেড ফিডিং (TRE) এর মতো, যা মেটাবলিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। একটি RCT (PubMed) অনুসারে, ৮-১০ ঘণ্টার খাওয়ার উইন্ডো মেটাবলিক সিন্ড্রোমযুক্ত ব্যক্তিদের HbA1c ০.১০% কমায়, ফাস্টিং গ্লুকোজ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স উন্নত করে। এটি কার্ডিওমেটাবলিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং স্ট্যান্ডার্ড চিকিত্সার সাথে যুক্ত করে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। রোজা রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তুরস্কের গবেষকরা ইরান, মিসর, কুয়েতসহ আরও কয়েকটি দেশের করা ১৬টি গবেষণা একত্র করে দেখেছেন যে, রোজা রাখার পর নারী-পুরুষ উভয়ের রক্তে সুগারের মাত্রা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। আরেকটি আলাদা গবেষণায় ইন্দোনেশিয়ার গবেষকরা ২৮টি গবেষণা একত্র করে দেখেছেন, রমজানের রোজা রাখার ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উন্নতি হয়েছে। (প্রবন্ধ : Time restricted eating for the prevention of type 2 diabetes)।

ডা. ফারাদেই আজিজি এবং ডা. শিয়াকোলা ডায়াবেটিস রোগীদের উপর এক বিশেষ জরিপ চালান। সেখানে কিছু রোগীকে রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয় এবং কিছু রোগীকে অনুৎসাহিক করা হয়। Diabetes and the Ramadan fast শিরোনামে ওয়েব সাইটে তারা এ রোগীদের জন্য বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। যে সব ডায়াবেটিক রোগী ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল নয় অর্থাৎ মুখে ওষুধ এবং পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং শরীর চর্চা করে থাকেন তাদের রোজা রাখতে তেমন কোন অসুবিধা হয় না, এক্ষেত্রে সাহরীর কিছু সময় পূর্বে ওষুধ সেবন করতে হবে এবং ইফতারের তালিকায় শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কম রাখতে হবে। এছাড়া তাদের নিয়মিত গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হবে যাতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার তারতম্য অস্বাভাবিক না হয়ে যায়।

যে সব রোগী শুধুমাত্র ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ এ ছাড়া অন্যকোন উপায়ে রক্তের চিনির মাত্র নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না তাদের খুবই সতর্কতার সাথে রোজা রাখতে হবে। এসব রোগীর চিনির মাত্রা খুব নিচে নেমে গিয়ে রোগী শকে (hypoglycemic shock) চলে যেতে পারে। সেজন্য শকের যে সব লক্ষণ রয়েছে সেগুলো রোগীকে খুব সাবধানতার সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেমন-অনেক ঘামতে থাকা, অস্থিরতা অনুভব করা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি। এসব রোগীর যেকোন সময় এধরনের সমস্যা হতে পারে বিধায় সবসময় ডায়াবেটিক রোগীর id কার্ড বহন করতে হবে। নিয়মিত প্রস্রাব (ketone urine) পরীক্ষা করা ও সব সময় একজন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। এইসব রোগীকে রোজা রাখতে উৎসাহিত করা হয় না।

রোজা না রাখাই ভালো যাদের জন্য:

আধুনিক চিকিৎ-বিজ্ঞানীয় গাইডলাইন (যেমন International Diabetes Federation-IDF এবং Diabetes and Ramadan-DAR Alliance-এর সুপারিশ) এর আলোকে কিছু অসুস্থ ব্যক্তিদের রোজা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে যা ইসলামি ফতোয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ ইসলামে রোজা না রাখার মূল ভিত্তি হলো "ক্ষতির আশঙ্কা" বা "অক্ষমতা"। কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে: وَمَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ অর্থাৎ, "আর যে অসুস্থ হবে বা সফরে থাকবে, তবে অন্য দিনগুলো থেকে সংখ্যা পূরণ করবে।" (সুরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)। এখানে "অসুস্থতা" বলতে এমন রোগ বোঝায় যা রোজা রাখলে বেড়ে যাবে বা শারীরিক ক্ষতি হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেছেন: وَلَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ অর্থাৎ, "আল্লাহ তোমাদের কোনো কষ্ট বা জটিলতা চান না।" (সুরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)।

১. শুধুমাত্র ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগী। ২. একেবারেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না (রক্তের গ্লুকোজ) এমন রোগীর (very labile diabetes) ৩. যে সব ডায়াবেটিক রোগী অন্যকোন জটিল রোগে আক্রান্ত যেমন-বুকে ব্যথা (unstable angina pectoris) এবং অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ (uncontrolled hypertension) ৪. যাদের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা রয়েছে যেমন-neurotic diabetic ৫. সন্তান সম্ভাবা ডায়াবেটিক মা। ৬. যাদের ডায়াবেটিসের সাথে ঘন ঘন ইনফেকশনের ইতিহাস রয়েছে (prone infections, recurrent infections) ৭. এমন বয়স্ক রোগী যারা ডায়াবেটিসজনিত অসুস্থতা ব্যাখ্যা করতে পারেন না। ৮. রমজান মাসেই যদি দুই থেকে তিনবার রক্তে গ্লুকোজ মাত্রা খুব কম বা বেশি হয়ে থাকে (hypoglycemia or hyperglycemia)।

অনেক রোগী রয়েছে যারা অধিক ওজন সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছে তারাও রোজা রাখার ক্ষেত্রে অনেক সাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। রমজান শুধু দৈহিক অসুস্থতাই নয়, যারা অনেকদিন ধরে মানসিক অবসন্নতা বা বিভিন্ন রকম দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত তাদের জন্যও চিকিৎসা হিসেবে কাজ করছে। এরকম একটি জরিপে দেখা গেছে রোজা রাখার কারণে যেসব রোগী তাদের কথাবার্তা এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম নিময়-শৃক্মখলার মাধ্যমে অতিবাহিত করেছে তাদের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করা গেছে।

ইসলামি স্কলারদের ফতোয়ায় ডায়াবেটিসকে "অসুস্থতা" হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু এটা কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে। যদি রোজা রাখলে hypoglycemia (নিম্ন রক্তশর্করা), hyperglycemia (উচ্চ রক্তশর্করা), ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস বা অন্য কমপ্লিকেশনের ঝুঁকি থাকে, তাহলে রোজা না রাখা জায়েজ, এমনকি ওয়াজিব। কিন্তু যদি রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং চিকিত্সকের মতে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তাহলে রোজা রাখতে হবে। পরে কাজা (মেক-আপ) বা ফিদিয়া (প্রতি রোজায় একজন মিসকিনকে খাবার দেওয়া) দিয়ে পূরণ করতে হয় যদি স্থায়ী অক্ষমতা হয়।

ডায়েটারি ইনটেক এবং স্বাস্থ্য বায়োমার্কারের ভিন্নতা

খাদ্য গ্রহণের পরিবর্তন

রমজানের রোজায় ডায়েটারি ইনটেক এবং বায়োমার্কারের ফলাফল ভিন্নতাপূর্ণ। একটি রিভিউ (Nutrition Journal, SpringerLink) অনুসারে, সেলফ-রিপোর্টেড ডায়েট ডেটা প্রায়শই বায়াসড, যেমন এনার্জি ইনটেক ৩০-৪০% কম দেখায়। মেটাবলোমিক্স-ভিত্তিক বায়োমার্কারগুলো খাদ্য এবং পুষ্টির অবজেক্টিভ মাপকাঠি প্রদান করে, কিন্তু ভিন্নতা দেখা যায়: কিছু খাদ্যের জন্য স্পেসিফিক বায়োমার্কার আছে (যেমন টারটারিক অ্যাসিড আঙ্গুরের জন্য), কিন্তু ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের জন্য ভ্যারিয়েশন ব্যাখ্যা ৩৬% পর্যন্ত। ডায়েটারি প্যাটার্নের সাথে সংযোগ দুর্বল এবং রোগের অ্যাসোসিয়েশন সেলফ-রিপোর্টের চেয়ে শক্তিশালী কিন্তু বয়সভিত্তিক ভিন্ন। এটি নিউট্রিশনাল এপিডেমিওলজিতে বায়োমার্কারের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ দেখায়।

স্বাস্থ্যকর পরামর্শ

রোজা থেকে শারীরিক ফায়দা লাভের জন্যে রোজাদারদের প্রতি ডা. আমীর আই, আহমদ আনকাহর কতিপয় মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো নীচে দেয়া হলো: ১. যদি আপনি বিত্তবান হোন তবে অধিক ভোজন ও চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার করে চলুন। রোজা রেখে সুস্থ থাকুন এ প্রতীক গ্রহণ করুন। ২. সহায় সম্বলহীন আপন ভাইকে সাহায্য করুন। ৩. রমজান মাস সম্পদশালীদের জন্যে নিবেশ আর গরীবদের জন্য ভালো খাবার মাস মনে করুন। ৪. দিনের বেলা ক্ষুৎপিপাসার তাড়না থেকে মুক্তি পেতে হলে রাতে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার করুন। ৫. খাদ্য ভালোভাবে চিবিয়ে খান। ৬. খাবার ব্যবস্থা করতে না পারলে শুধুমাত্র দুধের উপর নির্ভর করতে পারেন। ৭. যথাসম্ভব ইফতার তাড়াতাড়ি আর সেহেরী দেরীতে খাওয়া ভালো। ৮. সেহরী খেয়ে সটান না হয়ে বিনিদ্র রজনী যাপন করুন। তাতে খাদ্য ঠিকমত হজম হয়।

৯. ইফতারের পর চটপটি জাতীয় এবং ঠান্ডা জিনিস অধিক পরিমাণে গ্রহণ করবেন না। ১০. সারাদিন কাজে লিপ্ত থাকুন। ক্ষুৎপিপাসা ভুলতে চেষ্টা করবেন না। ১১. রমজান মাসে নেক কাজ ও ত্যাগ তিতিক্ষার যে অভ্যাস আপনার মাঝে সৃষ্টি হয়েছে, তা সবসময় চালু রাখুন। ১২. জীবনের চড়াই উৎরাই সবসময় রোজার দাবিকে সমুন্নত রাখুন। ১৩. কু-চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত থাকুন। কুচিন্তা বিষসদৃশ যা স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে দেয়। কুচিন্তা ও কুধারণার উপশম না ওষুধে হয় না খাদ্যে। ১৪. মুসলমান নিজেদের জীবনে স্বল্পতুষ্টি, তাওয়াক্কুল শান্তি ও মনের সন্তুষ্টির মত বেশিষ্ট্যসমূহ বাস্তবায়িত করার মধ্য দিয়ে রমজানের বরকতের পর্যবেক্ষণ করবে। এর মধ্যেই সাহসের বিস্তৃতি ও মনের শান্তি এবং এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানুষের আরোগ্য লাভের গুপ্ত রহস্য। ১৫. রমজানের সিয়াম সাধনায় মুসলমান হবে স্বাস্থ্যবান এবং পুণ্য ও পবিত্র আত্মার অধিকারী।

উপমহাদেশীয় খাদ্যাভ্যাসের ভুল

উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশের মানুষ ইফতার ও সাহরীতে সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ না করে মুখরোচক মশলাদার খাবার গ্রহণ করে। এতে পাকস্থলীর এসিডিটি, আলসার, বদহজম আরো বেড়ে যায়।

নবীজীর (সা.) সুন্নাহ অনুসরণ

তিরমিজি শরীফে এসেছে রাসূল (সা.) মাগরিবের নামাজের পূর্বে কয়েকটি তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। খেজুর না থাকলে কয়েক কোশ পানিই পান করতেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেন না এতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না পায় তবে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কারণ পানি হলো পবিত্রকারী।

সুপারিশকৃত ইফতার খাবার

উপমহাদেশে ইফতারের রকমারি আয়োজন থাকলেও আমাদের সারাবিশ্বের মুসলমানদের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা উচিৎ। সাধারণত পানি, খেজুর, মুড়ি, ফলের রস, চিড়ার পানি, (বা এ দ্বারা তৈরি খাবার), দুধ ইত্যাদি দিয়ে ইফতারের আয়োজন করা যেতে পারে।

খাদ্য নির্বাচন এবং উদ্দেশ্য পূরণ

রমজানে দুই খাবার গ্রহণের মধ্যবর্তী সময় কম থাকায় পাকস্থলী গুরুপাক খাবার দিয়ে বোঝাই না করাই উত্তম। আসল বিষয় হলো রমজানের উদ্দেশ্য পূরণে রকমারি খাবার আয়োজন রোজার সুফলকে ম্লান করে দেয়।

রোজা রাখার ব্যাপারে বিধি নিষেধ

রোজা রাখা না রাখার ব্যাপারে আমরা মাঝে মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। এমন অনেক অসুস্থ্য ব্যক্তি আছেন যাদের রোজা রাখলে আরো অসুস্থ্য হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাদের রোজা রাখার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা উচিৎ নয়। আবার ঠিক ততটা অসুস্থ্য নয় কিন্তু ছোটখাট অসুস্থ্যতাকে বড় করে দেখিয়ে রোজা না রাখাও বৈধ নয়। কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত অথবা সফরে থাকে, সে যেন অন্য দিনসমূহে এই সংখ্যা পূর্ণ করে। (সূরা বাকারাহ) রাসূল (সা.) সফররত রোজাদারদেরকে কখনো কখনো তিরস্কার করেছেন। এক্ষেত্রে স্মরণ রাখা দরকার, প্রয়োজনীয় ও জরুরি ক্ষেত্রে সফর হলে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। শুধুমাত্র বেড়ানোর উদ্দেশ্যে এই নিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ কিছু রোগে যেমন-উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে রোজা রাখতে হবে। কেননা এসব এমন ধরনের অসুস্থতা যা সম্পূর্ণ আরোগ্য হয় না। ফলে রোগী রমজান ছাড়া অন্যসময়ও এসব রোজা পূর্ণ করতে চাইলেও একই পরিস্থিতিতেই পড়তে হয়। তাদের উচিত যোগ্য এবং অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ করে সেই অনুযায়ী আমল করা।

উপসংহার

রমজানের রোজা শুধু আধ্যাত্মিক উন্নয়নের পথ নয়, বরং শরীর ও মনের সুস্থতার এক অপূর্ব সমাহার। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, মেটাবলিক ভারসাম্য স্থাপন করে, কার্ডিওভাসকুলার সুরক্ষা প্রদান করে এবং মানসিক শান্তি আনে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে প্রমাণিত। তবে এই পরিবর্তনগুলো অস্থায়ী হলেও, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে রোগীদের জন্য অভিজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ অপরিহার্য। ভবিষ্যত গবেষণা এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং বায়োমার্কারের ব্যবহার আরও বাড়াবে। ধর্মীয়ভাবে এটি আল্লাহ তাআ'লার নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম সময়, যা বিজ্ঞানের গবেষনায় প্রমানিত উপকারের সাথে মিলে জীবনকে সম্পূর্ণতা দান করে। কুরআনের প্রতিটি বিধানই মানব জাতির জন্যে কল্যাণকর, রোজার মধ্যে নিহিত প্রভূত কল্যাণ গবেষণায় সুপ্রমাণিত। আল্লাহ তাআ'লা আমাদেরকে রমজানের সিয়াম সাধনায় শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা দান করুন, যাতে আমরা এই মাসের বরকত পুরোপুরি লাভ করতে পারি।

রেফারেন্স

১। Effect of Ramadan Fasting on Weight and Body Composition... - Nutrients Journal, MDPI.
২। Physiological changes during Ramadan fasting - PubMed.
৩। Ramadan intermittent fasting and endothelial/cardiovascular effects - Journal of Clinical Medicine, MDPI.
৪। Chronobiological and physiological changes during intermittent fasting - Karger Publishers.
৫। Mental health & sleep outcomes during Ramadan fasting - MDPI Health Sciences.
৬। Time-restricted feeding effects on metabolic outcomes - PubMed.
৭। Heterogeneous findings in dietary intake & health biomarkers - Nutrition Journal, SpringerLink.
৮। Quran Verses And Hadiths About Ramadan In Arabic And English - Click This Link
৯। Forty Hadith on Ramadan - Click This Link
১০। 40 Virtues of Ramadan - Click This Link
১১। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে রোজা .........
১২। রোজা: স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের আলোকে - Daily Inqilab, ২০ মার্চ ২০২৫.
১৩। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে রোজার তাৎপর্য ও উপকারিতা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজার যত উপকারিতা - মোঃ মামুনুর রহমান.
১৪। বিশ্ববিখ্যাত ২২ জন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে রমজান ও রোজা! - জাগো নিউজ, ১২ জুলাই ২০১৫.
১৫। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে রোজার উপকারিতা - মুহাম্মাদ মিযানুর রহমান, ১৩ এপ্রিল ২০২৩.

পোস্ট পাঠ এবং সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লেখা ভালো হয়েছে ।

২| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৮

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: পড়লাম ভাই।রোজার আত্মিক উপকার নিয়েও একটি পোস্ট দিয়েন

৩| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: একটি অফ টপিক@ইদানিং কিছু গনমাধ্যম মধ্যযুগকে বর্বর যুগ হিসেবে প্রকাশ করছে।মধ্যযুগকি সত্যিই বর্বর ছিলো।আমরা সাধারন ইতিহাসে পড়ে এসেছি মধ্যযুগ ছিলো স্বর্ণযুগ।জানিনা আপনি ইতিহাসের ছাত্র কিনা।এই বিষয়ে একটি তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট চাই।মধ্যযুগ কি সত্যি বর্বর ছিলো কিনা,নাকি উর্বর ছিলো

৪| ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩

রাজীব নুর বলেছেন: লেখার কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না নাকি??

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.