নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিদায়, বিদায় প্রিয় যুক্তিবাদী

০৯ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

বিদায়, বিদায় প্রিয় যুক্তিবাদী

পীরজাদা আলহাজ্ব মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী। ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে কিছু কণ্ঠ থাকে, যেগুলো শুধু শব্দ নয়; হৃদয়ের ভেতরে ঢুকে আলো জ্বালিয়ে দেয়। বাংলার ইসলামী অঙ্গনে এমনই এক আলোকিত কণ্ঠ নীরব হয়ে গেল। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারের পথে যাত্রা করে চলে গেলেন প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আমাদের সময়, বিশেষ করে আমাদের ছাত্রজীবনে, ৮০, ৯০ দশকের দিকে ইসলামী বক্তাদের মধ্যে যাঁরা গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে উজ্জ্বল দুই নক্ষত্রের একজন ছিলেন আল্লামা সাঈদি রহ., আর অন্যজন মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী। তাঁদের হৃদয়স্পর্শী বয়ান শুনে বহু তরুণের হৃদয়ে ঈমানের আলো জ্বলে উঠেছিল। পথভোলা হাজারো মানুষ পেয়েছিলেন পথের দিশা।

গত মঙ্গলবার ৩ মার্চ ২০২৬ সকাল পৌনে আটটার দিকে রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাওলানা যুক্তিবাদী। তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই অসংখ্য মানুষ শোকাহত হয়ে পড়েন। যেন ইসলামী বয়ানের এক পরিচিত কণ্ঠ হঠাৎ করেই থেমে গেল।

১৯৪৭ সালে -এ জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা ছিলেন ছারছিনা পীর সাহেবের একজন খলিফা। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।

নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে থেকে ১৯৬৩ সালে দাখিল ও ১৯৬৫ সালে আলিম পাস করেন। এরপর থেকে ১৯৬৭ সালে ফাজিল সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ হয়।

তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় ছিল ওয়াজের মঞ্চে। গ্রাম থেকে শহর, অলি-গলি থেকে বিশাল ময়দান, সর্বত্র শোনা গেছে তাঁর সুললিত ও দরাজ কণ্ঠ। কুরআন, হাদিস, নবী-রাসূল, সাহাবি ও আওলিয়ায়ে কেরামের জীবনী তিনি এমন আবেগ ও যুক্তির সঙ্গে উপস্থাপন করতেন যে শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে শুনতেন।

তিনি শুধু বাংলাদেশের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সফর করেছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

ওয়াজ মাহফিলের হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও তিনি লিখেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইসলামে নারীর মর্যাদা, ধর্ম ও ইবাদত, মুক্তির সহজ পথ, রাসুলে খোদা (সা), মক্কাতে রাসুল (সা), মদিনাতে রাসুল (সা) এবং শানে রাসুল (সা)। এসব গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি ইসলামের শিক্ষা মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরেছেন।

মানুষ তাঁকে কেন যুক্তিবাদী বলত? কারণ তাঁর বক্তব্যে ছিল আবেগের সঙ্গে যুক্তির শক্তিশালী সমন্বয়। তিনি শুধু হৃদয় স্পর্শ করতেন না, মানুষের চিন্তাকেও জাগিয়ে তুলতেন। তাই আজও “যুক্তিবাদী” শব্দটি উচ্চারিত হলে অনেকের মনে ভেসে ওঠে তাঁরই মুখ।

আজ তাঁর কণ্ঠ থেমে গেছে, কিন্তু তাঁর বয়ান, তাঁর চিন্তা, তাঁর দাওয়াত বহু মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

হে আল্লাহ, আপনি তাঁকে ক্ষমা করুন। তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।
আমিন।

যুক্তিবাদীর হৃদয় ছোঁয়া কিছু বক্তব্য-

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: একজন ধার্মিক ব্যাক্তি আর কি যুক্তি দিবেন??
তার যুক্তি হবে কোরআন আর হাদিস দ্বারা। অর্থ্যাত লজিকহীন যুক্তি। কিন্তু মুখের কথায় চিড়া ভিজে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.