| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দৃশ্য- ১
স্থান - গণ ভবন
প্রধান মন্ত্রী হাসিনা অস্থিরভাবে পায়চারী করছেন।কয়েকটি কারণে তার মন খুব-ই পেরেশান হয়ে আছে , তিনি ভাবছেন , গত চার বছর পুলিশদের এত সুবিধা দেয়ার পর,ছাত্র লীগের সব নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের পুলিস বাহিনীতে ঢুকিয়েও তারা কিভাবে জামাতের হাতে মার খেতে পারে ? তাহলে কি ছাত্রলীগ তার দেয়া শিক্ষা- " একটির বদলে দশটি লাশ ফেলতে হবে" - ভুলে গেছে ? অথবা তার দেয়া শিক্ষা গ্রহণ করেনি ?
-খুব খারাপ!খুব খারাপ ! তিনি অস্ফুট স্বরে বলে উঠলেন । আরেকটা বেপার তার কিছুতেই মাথায় ঢুকছেনা যে , বিএনপি কি ধরনের দল ! যাদের কিনা অলমোস্ট তার দলের মত জনপ্রিয়তা আছে, তারা কেনো তাদের মহাসচিবকে এতদিন আটক রাখার পর ও এতো নিরামিষ টাইপের আন্দোলন করছে! তার দল আওয়ামী লীগের সাথে এমন কিছু হলে তো তারা ৩৬৬ দিন-ই হরতাল করে ফেলতেন ! ভাবলেন , ইসঃ ওদেরকে যদি তার পরবর্তী পিএইচডি র জন্য তৈরি করা গবেষণাপত্র " কার্যকর ধংসাত্মক বিরোধীদলীয় কর্মসূচি" উপহার দিতে পারতেন ! তারপর নিজের মনেই একটু হেসে উঠলেন, নিজেকে বললেন, হাসিনা, তুই আসলে একটু বেশি-ই উদার আছিস " ! পরক্ষনেই আবার নিজের উপর একটু বিরক্ত হলেন এই চিন্তা করে যে, এই উদারতা দেখাতে গিয়েই তো গোলাম আজমের দোয়া নিতে গিয়েছিলেন , যার জন্য তাকে এখন অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে! গোলাম আজমের দোয়া চাইতে যাওয়ার আরেকটি কারণ অবস্য ছিল যা হলো , গোলাম আজম হলো তার বেয়াই মোশাররফের ভাব গুরু ! গো. আ.র দোয়া নেয়াতে তখন তার বেয়াই খুব খুশি হয়েছিলেন এবং যার প্রভাবে তার কন্যার পারিবারিক জীবন আরো মধুময় হয়ে উঠেছিল! নিজের সন্তানদের সুখের জন্য তিনি যেকোনো কিছু করতে রাজি আছেন, যে কোনো কিছু!! ঠিক এ কারনেই পুতুলের বাচ্চার জন্মের সময় তিনি প্রধামন্ত্রিত্ব থেকে ছুটি নিয়ে মাতৃত্বের এক অপূর্ব পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন! দুর্মুখেরা অনেক কথা বললে-ও তিনি গা করেননি ! এবারও এই যে পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাঙ্ক -কে বিদায় করে দিলেন শুধু তার ছেলে, মেয়ে আর বোনের যেন কোনো বদনাম না হয় , শুধু এ কারণে! আমি কি আর ওই এইট পাস খালেদার মত বেকুব যে ছেলেকে ভবন খুলে বসে থাকতে দেবো! আমার পিএইচডি ডিগ্রী আছে, আমি চিন্তাও করি ডিগ্রী অনুযায়ী! বেচারা তারেক , বিএনপিকে তৃনমূল থেকে গুছিয়ে ফেলেছিল আরেকটু হলে, ভাগ্গিস মিডিয়া কে ভালই মেনিপূলাট করতে পেরেছিলাম তখন, দলের তৃণমূলের পরিসংখ্যান রাখার ভবনকে বানিয়ে দিলাম দুর্নীতির ভবন! কিন্তু আফসোস বিরোধীদলে থাকতে যত সোজা ভাবে তা পেরেছিলাম, এবার মাহমুদুর রহমানের মত কিছু রাজাকারের জন্য আবুল, সুরঞ্জিত আর আমার ছেলে, মেয়ে আর বোনের সব কারবার ফাঁস হয়ে গেল ! ফেইসবুক টা হয়ে হয়েছে আরেক বিপদ , এখন যে কেউই কথা ফাঁস করতে পারে! জয় পোলাটারে দিয়া কিচ্ছু হবেনা...শাকিলের ডাকে চিন্তার জাল ছিড়ল প্রধানমন্ত্রীর ।
- নেত্রী, মাহমুদ হাসান আর হানিফ এসেছেন
-ওদেরকে অপেক্ষা করতে বলো
নাহ! মনটা কিছুতেই আর শান্ত হচ্ছেনা , প্রধানমন্ত্রী এবার তার শোয়ার ঘরে এলেন ।বের করে আনলেন বেশ কিছু চিঠির একটি বান্ডিল! এই চিঠি গুলো তার বাবার! বিভিন্ন জনের কাছ থেকে তার বাবার পাওয়া এ চিঠি গুলো তিনি খুব যত্নে আগলে রেখেছেন ! যখনি কোনো কাজে আটকে যান বা মন খুব অশান্ত থাকে তখন তিনি এর মাঝ থেকে কিছু চিঠি নিয়ে পড়েন এবংএক আশ্চর্য উপায়ে তার একটা সমাধান খুঁজে পান , বিরোধী দলের তৈরি করা অনেক সমস্যা তিনি এই চিঠি পরেই সমাধান করেছেন ! অনেকটা মুন্না ভাই এমবিবিএস' র " জাদু কা ঝাপ্পি'র মত , বলা যায়" চিঠি কা ঝাপ্পি" ।চিঠি গুলো গুছিয়ে রাখতে গিয়েই হঠাত চোখে পড়ল একটি চিঠি নিচে পরে আছে , তুলে নিলেন সে চিঠিটা , কিছুক্ষণ পড়েই আশেপাশে তাকালেন , শাকিল-কে ডেকে জিগ্গেস করলেন সে ছাড়া অন্য কেউ আর এসেছিল কিনা এখানে , না সুচক উত্তর পেয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলেন যেন ! ভাবলেন, শাকিল টা বেশ ভালই, যদি রেন্টুর মত কেউ হত তাহলে আজ দফারফা হয়ে যেত! একটা নতুন আইডিয়া এলো মাথায় প্রধানমন্ত্রীর, মনটা হঠাত খুব ভালো হয়ে গেলো! কিন্তু কিছু খাস লোক লাগবে আইডিয়াটা কাজে লাগানোর জন্য! আচ্ছা,হাসান মাহমুদ আর হানিফ তো এসে বসে আছে! একেই বলে সোনায় সোহাগা ! হা.মা. আর হানিফের মত খাস লোক আর কোথায় পাবো, ওরা তো আমার মনের কথা কি করে যেন ওদের বক্তৃতা আর সংবাদ সম্মেলনে বলে দেয় ! ওদেরকে তো আমি নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করতে পারি ! প্রধানমন্ত্রী চললেন যেখানে তার খাস লোকেরা অপেক্ষা করে আছে সেখানে ....
২য় দৃশ্য:
স্থান: নির্বাহী সম্পাদকের অফিস রুম
আমাদের সময়.কম
ফেনসিডিলের বোতলটা একচুমুকে শেষ করে ডিমার লাইট টা অন করে নিজের চেয়ার- এ এসে গা এলিয়ে দিল সৈয়দ বোরহানি! মনটা আজ তার খুব উদাস হয়েছে! মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় মিলন মাহমুদের মত আত্মহত্যা করতে কিন্তু ঠিক সাহস করে উঠতে পারেন না! গতবার আওয়ামী আমলে কিছু টিভি অনুষ্ঠান করে মানুষকে ব্লাকমেল করে মুটামুটি ভালই কামিয়েছিল কিন্তু এবার বয়সটাও বেড়ে গেল কিন্তু কামাতে পারলনা আবুল, শালা চন্জিত আর তানভীরের তুলনায় কিছুই! এখন শেষ সময় আর করবেও বা কিভাবে , নিজের দলের প্রতি একটা দায়িত্ব শীলতা আছে না! বোরহানি ভাবছিল, কোনো রকমে যদি একটা বড় ধান্দা করা যেতো! ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ল বোরহানি! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খবর দিয়েছে বরহানিকে গণভবনে ! দুরুদুরু মনে গণভবনে যেতে যেতে ভাবছিল বোরহানি কি কারণে ডাক পড়তে পারে এই অধমের ! রঙিন স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে যাচ্ছিল সে গণভবনের দিকে!ভাবতেই পুলকিত হয়ে উঠছিল তার মন ! বোরহান ভাবলো , সে কি আর তোফায়েলের মত বোকা, এক বছরের মন্ত্রী এক বছরই সই! তোফায়েল নাহয় আগেই খেয়ে নিয়েছে অনেক , আমি তো চির ভুখা! গণভবন পৌছে দেখতে পায় হাসান মাহমুদ, হানিফ, শাকিল আর প্রধানমন্ত্রী সয়ং অপেক্ষা করছেন তার জন্য! কার মুখ যে দেখেছিল আজ সকালে ! তাকে ঢুকতে দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন
- কি বেপার বোরহান, দলের জন্য তো কিছুই করলেনা এবার! একটা বড় কাজ দিব তোমাকে ভাবছি , পারবে তো?
-বরহানিকে একবার বলেই দেখুন নেত্রী !
-আবুলের কথা জানো তো, বেটা কে মন্ত্রী বানিয়ে দিলাম দৌড়-এ প্রথম হওয়াতে , বেকুবটার জন্য এখন ডুবতে বসেছি , তথ্য উপদেষ্টার পদ টা তো দিতে চাই তোমাকে তবে ...
-তবে তবে, বোরহানি উদগ্রীব হয়ে জানতে চায় !
-একটা চিঠি ছাপাতে হবে তোমাদের পত্রিকায়,লীড নিউস হতে হবে, শুধু একটা নামের প্রথম অংশটা বদলাতে হবে!
-নেত্রী, পুরা চিঠিই পাল্টে দিতে পারব , আমার উপর শুধু একবার ভরসা করেই দেখুন
-এই তোমরা সবাই আমার ভবিষ্যত তথ্য উপদেষ্টাকে কনগ্রাচুলেট কর ...
শব্দের অধিক দ্রুত গতিতে অফিস-এ ফিরে চিঠিটার নামের UR RAHMAN ঠিক রেখে বাকিটুকু পাল্টে দিল, কিছু ভুল বানান ঠিক করে দিলো! যেমন,খুব সাবধানতার সাথে ঠিক করে দিলো "carefull " বানানটা(?!) ভাবলো জীবনের এই সুযোগ কোনভাবেই হাতছাড়া করা যাবেনা বলেই হাত টা ঝাড়া দিতেই দেশকে রাখা ফুলদানিটা পড়ে ভেঙ্গে গেল! ঘুমটা ভেঙ্গে বোরহানির মন এমন খারাপ হলো মনে হলো ফুলদানি নয় সে নিজেই ভেঙ্গে পড়ল! ঠিক সেই সময় তার রুমে এসে ঢুকলো হানিফ এবং শাকিল! হানিফের হাতে একটা চিঠি! মন্ত্রমুগ্ধের মত সেই চিঠির দিকে তাকিয়ে রইলো সৈয়দ বোরহানি! হানিফ এবংশাকিল সেই আলো ডিম করা স্বপ্নময় রুমে বরহানিকে কিছুক্ষণ একটা কিছু বুঝিয়ে বের হয়ে গেলো! ওরা চলে যাওয়ার পর বোরহানি একটা গান ছাড়ল তার ডেস্কের পিসিতে,"আমার স্বপ্ন যে সত্তি হলো আ....জ , আহা ......
পাদটিকা :
১) আমাদের সময়.কম ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ , লীড নিউস করে " জিয়াকে লেখা কর্নেল বেগের চিঠি" ।
২) শেখ হাসিনার আইডিয়াটা ছিল , তার বাবা শেখ মুজিব উর রহমান কে লিখা কর্নেল বেগের চিঠিটা মেজর জিয়া উর রহমান নামে প্রকাশ করে দেশে একটা দাঙ্গা টাইপের কিছু লাগানো যাতে তৃতীয় শক্তির সহায়তায় তিনি ২০০৮ এর মতো আবার ক্ষমতায় আসতে পারে ! কিন্তু বিএনপি পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারী ভাষার মাস এবংএস. এস.সি. পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে একমাসের নিরুত্তাপ ও নিরীহ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সুচনা করে, যদিও বিএনপির মিডিয়া উইং দুর্বল হওয়াতে এই কর্মসূচী শুধুমাত্র নিরুত্তাপ ও নিরীহ বলেই প্রচারিত হয়, অভূতপূর্ব বলে তেমন প্রচার পায়না ! দেশে কোনো দাঙ্গা না লাগায় সৈয়দ বোরহানির-ও আর তথ্য উপদেষ্টা হওয়া হয়ে উঠেনা ! চু:চু:! বোরহানি আরো ২০০ বোতল ফেনসিডিলের আর্জেন্ট অর্ডার করে, যারা আজ আমাদের সময়.কমের অফিসের পাশের রাস্তা দিয়ে যাবেন ভালো করে লক্ষ্য করলে খালি বোতল দেখতে পাবেন ! শেখ হাসিনা বিএনপিকে না ক্ষেপাতে পেরে জামাত-কে ক্ষেপানোর প্লান এ অথবা জামাতের সাথে মিল দেয়ার প্লান বি করে.... প্লান বি ভালোভাবে কার্যকর হয় এবং কাদের মোল্লার ফাসির বদলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়, আওয়ামী লিগ ও জামাত সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করতে থাকে আর জনগণ শুধু চাইয়া দেখে... আর দেখে...
দৃশ্য- ১
স্থান - গণ ভবন
প্রধান মন্ত্রী হাসিনা অস্থিরভাবে পায়চারী করছেন।কয়েকটি কারণে তার মন খুব-ই পেরেশান হয়ে আছে , তিনি ভাবছেন , গত চার বছর পুলিশদের এত সুবিধা দেয়ার পর,ছাত্র লীগের সব নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের পুলিস বাহিনীতে ঢুকিয়েও তারা কিভাবে জামাতের হাতে মার খেতে পারে ? তাহলে কি ছাত্রলীগ তার দেয়া শিক্ষা- " একটির বদলে দশটি লাশ ফেলতে হবে" - ভুলে গেছে ? অথবা তার দেয়া শিক্ষা গ্রহণ করেনি ?
-খুব খারাপ!খুব খারাপ ! তিনি অস্ফুট স্বরে বলে উঠলেন । আরেকটা বেপার তার কিছুতেই মাথায় ঢুকছেনা যে , বিএনপি কি ধরনের দল ! যাদের কিনা অলমোস্ট তার দলের মত জনপ্রিয়তা আছে, তারা কেনো তাদের মহাসচিবকে এতদিন আটক রাখার পর ও এতো নিরামিষ টাইপের আন্দোলন করছে! তার দল আওয়ামী লীগের সাথে এমন কিছু হলে তো তারা ৩৬৬ দিন-ই হরতাল করে ফেলতেন ! ভাবলেন , ইসঃ ওদেরকে যদি তার পরবর্তী পিএইচডি র জন্য তৈরি করা গবেষণাপত্র " কার্যকর ধংসাত্মক বিরোধীদলীয় কর্মসূচি" উপহার দিতে পারতেন ! তারপর নিজের মনেই একটু হেসে উঠলেন, নিজেকে বললেন, হাসিনা, তুই আসলে একটু বেশি-ই উদার আছিস " ! পরক্ষনেই আবার নিজের উপর একটু বিরক্ত হলেন এই চিন্তা করে যে, এই উদারতা দেখাতে গিয়েই তো গোলাম আজমের দোয়া নিতে গিয়েছিলেন , যার জন্য তাকে এখন অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে! গোলাম আজমের দোয়া চাইতে যাওয়ার আরেকটি কারণ অবস্য ছিল যা হলো , গোলাম আজম হলো তার বেয়াই মোশাররফের ভাব গুরু ! গো. আ.র দোয়া নেয়াতে তখন তার বেয়াই খুব খুশি হয়েছিলেন এবং যার প্রভাবে তার কন্যার পারিবারিক জীবন আরো মধুময় হয়ে উঠেছিল! নিজের সন্তানদের সুখের জন্য তিনি যেকোনো কিছু করতে রাজি আছেন, যে কোনো কিছু!! ঠিক এ কারনেই পুতুলের বাচ্চার জন্মের সময় তিনি প্রধামন্ত্রিত্ব থেকে ছুটি নিয়ে মাতৃত্বের এক অপূর্ব পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন! দুর্মুখেরা অনেক কথা বললে-ও তিনি গা করেননি ! এবারও এই যে পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাঙ্ক -কে বিদায় করে দিলেন শুধু তার ছেলে, মেয়ে আর বোনের যেন কোনো বদনাম না হয় , শুধু এ কারণে! আমি কি আর ওই এইট পাস খালেদার মত বেকুব যে ছেলেকে ভবন খুলে বসে থাকতে দেবো! আমার পিএইচডি ডিগ্রী আছে, আমি চিন্তাও করি ডিগ্রী অনুযায়ী! বেচারা তারেক , বিএনপিকে তৃনমূল থেকে গুছিয়ে ফেলেছিল আরেকটু হলে, ভাগ্গিস মিডিয়া কে ভালই মেনিপূলাট করতে পেরেছিলাম তখন, দলের তৃণমূলের পরিসংখ্যান রাখার ভবনকে বানিয়ে দিলাম দুর্নীতির ভবন! কিন্তু আফসোস বিরোধীদলে থাকতে যত সোজা ভাবে তা পেরেছিলাম, এবার মাহমুদুর রহমানের মত কিছু রাজাকারের জন্য আবুল, সুরঞ্জিত আর আমার ছেলে, মেয়ে আর বোনের সব কারবার ফাঁস হয়ে গেল ! ফেইসবুক টা হয়ে হয়েছে আরেক বিপদ , এখন যে কেউই কথা ফাঁস করতে পারে! জয় পোলাটারে দিয়া কিচ্ছু হবেনা...শাকিলের ডাকে চিন্তার জাল ছিড়ল প্রধানমন্ত্রীর ।
- নেত্রী, মাহমুদ হাসান আর হানিফ এসেছেন
-ওদেরকে অপেক্ষা করতে বলো
নাহ! মনটা কিছুতেই আর শান্ত হচ্ছেনা , প্রধানমন্ত্রী এবার তার শোয়ার ঘরে এলেন ।বের করে আনলেন বেশ কিছু চিঠির একটি বান্ডিল! এই চিঠি গুলো তার বাবার! বিভিন্ন জনের কাছ থেকে তার বাবার পাওয়া এ চিঠি গুলো তিনি খুব যত্নে আগলে রেখেছেন ! যখনি কোনো কাজে আটকে যান বা মন খুব অশান্ত থাকে তখন তিনি এর মাঝ থেকে কিছু চিঠি নিয়ে পড়েন এবংএক আশ্চর্য উপায়ে তার একটা সমাধান খুঁজে পান , বিরোধী দলের তৈরি করা অনেক সমস্যা তিনি এই চিঠি পরেই সমাধান করেছেন ! অনেকটা মুন্না ভাই এমবিবিএস' র " জাদু কা ঝাপ্পি'র মত , বলা যায়" চিঠি কা ঝাপ্পি" ।চিঠি গুলো গুছিয়ে রাখতে গিয়েই হঠাত চোখে পড়ল একটি চিঠি নিচে পরে আছে , তুলে নিলেন সে চিঠিটা , কিছুক্ষণ পড়েই আশেপাশে তাকালেন , শাকিল-কে ডেকে জিগ্গেস করলেন সে ছাড়া অন্য কেউ আর এসেছিল কিনা এখানে , না সুচক উত্তর পেয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলেন যেন ! ভাবলেন, শাকিল টা বেশ ভালই, যদি রেন্টুর মত কেউ হত তাহলে আজ দফারফা হয়ে যেত! একটা নতুন আইডিয়া এলো মাথায় প্রধানমন্ত্রীর, মনটা হঠাত খুব ভালো হয়ে গেলো! কিন্তু কিছু খাস লোক লাগবে আইডিয়াটা কাজে লাগানোর জন্য! আচ্ছা,হাসান মাহমুদ আর হানিফ তো এসে বসে আছে! একেই বলে সোনায় সোহাগা ! হা.মা. আর হানিফের মত খাস লোক আর কোথায় পাবো, ওরা তো আমার মনের কথা কি করে যেন ওদের বক্তৃতা আর সংবাদ সম্মেলনে বলে দেয় ! ওদেরকে তো আমি নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করতে পারি ! প্রধানমন্ত্রী চললেন যেখানে তার খাস লোকেরা অপেক্ষা করে আছে সেখানে ....
২য় দৃশ্য:
স্থান: নির্বাহী সম্পাদকের অফিস রুম
আমাদের সময়.কম
ফেনসিডিলের বোতলটা একচুমুকে শেষ করে ডিমার লাইট টা অন করে নিজের চেয়ার- এ এসে গা এলিয়ে দিল সৈয়দ বোরহানি! মনটা আজ তার খুব উদাস হয়েছে! মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় মিলন মাহমুদের মত আত্মহত্যা করতে কিন্তু ঠিক সাহস করে উঠতে পারেন না! গতবার আওয়ামী আমলে কিছু টিভি অনুষ্ঠান করে মানুষকে ব্লাকমেল করে মুটামুটি ভালই কামিয়েছিল কিন্তু এবার বয়সটাও বেড়ে গেল কিন্তু কামাতে পারলনা আবুল, শালা চন্জিত আর তানভীরের তুলনায় কিছুই! এখন শেষ সময় আর করবেও বা কিভাবে , নিজের দলের প্রতি একটা দায়িত্ব শীলতা আছে না! বোরহানি ভাবছিল, কোনো রকমে যদি একটা বড় ধান্দা করা যেতো! ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ল বোরহানি! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খবর দিয়েছে বরহানিকে গণভবনে ! দুরুদুরু মনে গণভবনে যেতে যেতে ভাবছিল বোরহানি কি কারণে ডাক পড়তে পারে এই অধমের ! রঙিন স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে যাচ্ছিল সে গণভবনের দিকে!ভাবতেই পুলকিত হয়ে উঠছিল তার মন ! বোরহান ভাবলো , সে কি আর তোফায়েলের মত বোকা, এক বছরের মন্ত্রী এক বছরই সই! তোফায়েল নাহয় আগেই খেয়ে নিয়েছে অনেক , আমি তো চির ভুখা! গণভবন পৌছে দেখতে পায় হাসান মাহমুদ, হানিফ, শাকিল আর প্রধানমন্ত্রী সয়ং অপেক্ষা করছেন তার জন্য! কার মুখ যে দেখেছিল আজ সকালে ! তাকে ঢুকতে দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন
- কি বেপার বোরহান, দলের জন্য তো কিছুই করলেনা এবার! একটা বড় কাজ দিব তোমাকে ভাবছি , পারবে তো?
-বরহানিকে একবার বলেই দেখুন নেত্রী !
-আবুলের কথা জানো তো, বেটা কে মন্ত্রী বানিয়ে দিলাম দৌড়-এ প্রথম হওয়াতে , বেকুবটার জন্য এখন ডুবতে বসেছি , তথ্য উপদেষ্টার পদ টা তো দিতে চাই তোমাকে তবে ...
-তবে তবে, বোরহানি উদগ্রীব হয়ে জানতে চায় !
-একটা চিঠি ছাপাতে হবে তোমাদের পত্রিকায়,লীড নিউস হতে হবে, শুধু একটা নামের প্রথম অংশটা বদলাতে হবে!
-নেত্রী, পুরা চিঠিই পাল্টে দিতে পারব , আমার উপর শুধু একবার ভরসা করেই দেখুন
-এই তোমরা সবাই আমার ভবিষ্যত তথ্য উপদেষ্টাকে কনগ্রাচুলেট কর ...
শব্দের অধিক দ্রুত গতিতে অফিস-এ ফিরে চিঠিটার নামের UR RAHMAN ঠিক রেখে বাকিটুকু পাল্টে দিল, কিছু ভুল বানান ঠিক করে দিলো! যেমন,খুব সাবধানতার সাথে ঠিক করে দিলো "carefull " বানানটা(?!) ভাবলো জীবনের এই সুযোগ কোনভাবেই হাতছাড়া করা যাবেনা বলেই হাত টা ঝাড়া দিতেই দেশকে রাখা ফুলদানিটা পড়ে ভেঙ্গে গেল! ঘুমটা ভেঙ্গে বোরহানির মন এমন খারাপ হলো মনে হলো ফুলদানি নয় সে নিজেই ভেঙ্গে পড়ল! ঠিক সেই সময় তার রুমে এসে ঢুকলো হানিফ এবং শাকিল! হানিফের হাতে একটা চিঠি! মন্ত্রমুগ্ধের মত সেই চিঠির দিকে তাকিয়ে রইলো সৈয়দ বোরহানি! হানিফ এবংশাকিল সেই আলো ডিম করা স্বপ্নময় রুমে বরহানিকে কিছুক্ষণ একটা কিছু বুঝিয়ে বের হয়ে গেলো! ওরা চলে যাওয়ার পর বোরহানি একটা গান ছাড়ল তার ডেস্কের পিসিতে,"আমার স্বপ্ন যে সত্তি হলো আ....জ , আহা ......
পাদটিকা :
১) আমাদের সময়.কম ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ , লীড নিউস করে " জিয়াকে লেখা কর্নেল বেগের চিঠি" ।
২) শেখ হাসিনার আইডিয়াটা ছিল , তার বাবা শেখ মুজিব উর রহমান কে লিখা কর্নেল বেগের চিঠিটা মেজর জিয়া উর রহমান নামে প্রকাশ করে দেশে একটা দাঙ্গা টাইপের কিছু লাগানো যাতে তৃতীয় শক্তির সহায়তায় তিনি ২০০৮ এর মতো আবার ক্ষমতায় আসতে পারে ! কিন্তু বিএনপি পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারী ভাষার মাস এবংএস. এস.সি. পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে একমাসের নিরুত্তাপ ও নিরীহ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সুচনা করে, যদিও বিএনপির মিডিয়া উইং দুর্বল হওয়াতে এই কর্মসূচী শুধুমাত্র নিরুত্তাপ ও নিরীহ বলেই প্রচারিত হয়, অভূতপূর্ব বলে তেমন প্রচার পায়না ! দেশে কোনো দাঙ্গা না লাগায় সৈয়দ বোরহানির-ও আর তথ্য উপদেষ্টা হওয়া হয়ে উঠেনা ! চু:চু:! বোরহানি আরো ২০০ বোতল ফেনসিডিলের আর্জেন্ট অর্ডার করে, যারা আজ আমাদের সময়.কমের অফিসের পাশের রাস্তা দিয়ে যাবেন ভালো করে লক্ষ্য করলে খালি বোতল দেখতে পাবেন ! শেখ হাসিনা বিএনপিকে না ক্ষেপাতে পেরে জামাত-কে ক্ষেপানোর প্লান এ অথবা জামাতের সাথে মিল দেয়ার প্লান বি করে.... প্লান বি ভালোভাবে কার্যকর হয় এবং কাদের মোল্লার ফাসির বদলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়, আওয়ামী লিগ ও জামাত সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করতে থাকে আর জনগণ শুধু চাইয়া দেখে... আর দেখে.....
©somewhere in net ltd.