নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিরন চাকমা

নিরন চাকমা › বিস্তারিত পোস্টঃ

তরুণ প্রজন্মের আওয়াজ উঠুক সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৩৭

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তরুণ প্রজন্ম যে আওয়াজ তুলেছে সে আওয়াজ আজ সারা বাংলায় ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের সাথে একাত্ম হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসর দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্ম দেখিয়ে দিচ্ছে আমরাও পারি। তরুণ প্রজন্মের এই বাধ ভাঙা জোয়ারে ভেসে যেতে চলেছে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রাজাকার সহ সব যুদ্ধাপরাধীদের আশা-আকাঙ্খা।



যে দাবিতে গোটা দেশ আজ দ্রোহের আগুনে জ্বলছে সে আগুন ছড়িয়ে দিতে হবে সকল অন্যায়-অবিচার ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি আদায় করার পর দায়িত্ব সম্পন্ন করার কোন চিন্তা যদি শাহবাগ চত্বরের আন্দোলিত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে থেকে থাকে তাহলে এদেশের তেমন কোন পরিবর্তন সাধিত হবে না। শাসকগোষ্ঠি চায় যেনতেনভাবে তরুণ প্রজন্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে বা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। এটা তরুণ প্রজন্মকে দৃঢ়চিত্তে মনে রাখতে হবে।



পনের কোটি মানুষের এই দেশে বাঙালি ছাড়াও রয়েছে ৪৫টির অধিক সংখ্যালঘু ভিন্ন ভিন্ন জাতি। এছাড়াও রয়েছে ধর্মীয়

সংখ্যালঘু জনগণ। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪২ বছরেও এদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারেনি। বৃহৎ বাঙালি জাত্যাভিমানে এদেশে বার বার জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত নিষ্পেষিত হয়ে এসেছে। আজো এর তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেছে তা বলা যায় না। যদিও দেশে যেই সরকার ক্ষমতায় আসুক সে সরকার অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রের চেহারার কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না।



বাংলাদেশের এক দশমাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এখানে যুগ যুগ ধরে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং, খিয়াং সহ ১৩টি সংখ্যালঘু জাতি বসবাস করে আসছে।এসব জাতিগুলোর উপর জারি রাখা হয়েছে নিপীড়নের স্টিম রোলার। এখানে ডজনের অধিক গণহত্যা সংঘটিত করা হয়েছে, শত শত ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছাড়খার করে দেয়া হয়েছে, হাজার হাজার একর ভূমি বেদখল করা হয়েছে। এসব ঘটনার কোনটিরই আজো বিচার করা হয় নি।

অঘোষিত সেনাশাসন ‘অপারেশন উত্তরণ’ জারি রাখার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো পর্যন্ত বৃহৎ সংখ্যক সেনা উপস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। ১৯৯৭ সালে সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও পরিস্থিতির আজো তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি।



শাহবাগ চত্বরের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিকে একমাত্র দাবিতে পরিণত করলে হবে না। পাশাপাশি এদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও আওয়াজ তুলতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এদেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, সংখ্যালঘু জাতি ও জনগণ শাসক-শোষকের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আসছে। দেশে অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনা ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাত্রা বেড়ে চলেছে। তাই, এই আন্দোলন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির পাশাপাশি সরকার তথা শাসকগোষ্ঠির শোষণ-নিপীড়ন, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধেও সমস্বরে আওয়াজ উঠুক। সকলের মনে জাগরিত হোক শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার চেতনায় শাণিত হোক নতুন প্রজন্ম।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.