| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বেশ কয়েক মাস ধরে পুলিশ সংস্কার নিয়ে বেশ কথাবার্তা শুনা যাচ্ছে। তৈরি করা হয়েছে পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭ এর খসড়া। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় হতে খসড়াটি অধিকতর পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য ফেরৎ পাঠান হয়েছে। খসড়াটি পড়ে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এ অধ্যাদেশ অকার্যকর, অযৌক্তিক এবং বাংলাদেশের জনগন তথা সমগ্র দেশের জন্য অমঙ্গলকর। বিষয়টি একটু পর্যালোচনা করা যাকঃ-
১ ) এ অধ্যাদেশ পুলিশকে রাজনীতি মুক্তকরনের কথা বলা হলেও পুলিশ কমিশনের গঠন প্রকৃতির মধ্যে রাজনীতিবিদদেরকে রাখা হয়েছে যা পুলিশ বাহিনীকে আরো বেশী রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ করতে পারে।
২) বর্তমানে পুলিশ বাহিনী সরকার কর্তৃক পরিচালিত হওয়ার পরও তাদের কার্যক্রম প্রশ্নাতীত নয়। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় কিছুদিন পূর্বে একজন সহকারী পুলিশ সুপার চট্টগ্রামে দাকাতি করতে যেয়ে ধৃত হয়েছেন যা ছিল জাতীর জন্য লজ্জাজনক ব্যাপার।
৩) এ ধরনের অধ্যাদেশ কার্যকরী হলে পুলিশের আভ্যন্তরীন এবং পুলিশের সাথে অন্যান্য বিভাগের যে সমতা রয়েছে তা’ ভেঙ্গে যাবে যা কখনোই দেশ ও জাতির জন্য সুফল বয়ে আনবে না।
৪) এ অধ্যাদেশে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটে এবং পুলিশ সুপারের মধ্যে সম্পর্কের স্পস্টতা নাই। জেলার আইন-শৃংখলা রক্ষার্থে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের যৌথ ভূমিকা থাকা সত্তেও এ অধ্যাদেশে পুলিশ সুপার/পুলিশ প্রধানকেই সকল বিষয়ে প্রাধান্য দেয়ার অর্থ হ’ল এ দেশকে পুলিশ নিয়মের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত করা। আধুনিক রাষ্ট্র চিন্তায় পুলিশী রাষ্ট্রের কোন বিধান নাই।
৫) এ অধ্যাদেশে সরকারকে পুলিশ প্রধানের সাথে পরামর্শ/সুপারিশ ইত্যাদি গ্রহন করার কথা বলা হয়েছে যা রাষ্ট্র যন্ত্র নামক যে প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার অস্তিত্ব বিলিন করার জন্য যথেষ্ট। যে কোন দেশে সরকারের পরামর্শক্রমে সকল বাহিনী কাজ করে থাকে। কিন্তু এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে সরকার পুলিশ প্রধানের নিকট পরামর্শ করবেন যা Good Governance এর পরিপন্থী।
৬) সংবিধান অনুযায়ী কোন সরকারী কর্মচারী/কর্মকর্তা (সাংবিধানিক পদ ব্যতীত) সরকারের নিয়ন্ত্রন বহির্ভূত নয়। Inspector General of Police পদটি কোন সাংবিধানিক পদ নয় বিধায়, এ পদের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রনবিহীন অধ্যাদেশের যে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে তা’ দেশদ্রোহীতার সামিল।
৭) সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী বিভাগ হল Cabinet. ক্যাবিনেটের মাঠ পর্যায়ে সকল কার্যক্রম/প্রতিবেদন, জবাবদিহিতা ইত্যাদি জেলা প্রশাসক/জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এ অধ্যাদেশের ফলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/জেলা প্রশাসকের ভূমিকা পুলিশ বাহিনীর কাছে ন্যস্ত হবে কিনা তা স্পস্ট নয়।
আমাদের মনে রাখা উচিৎ বাংলাদেশ পুলিশ শুধুমাত্র একটি অস্ত্রধারী বাহিনী ছাড়া অন্য কিছু নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা কেবল মাত্র জনপ্রতিনিধির এবং তা’ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির এবং নির্বাহী বিভাগের উপর; কোন বাহিনীর কাজ হল সরকারের তথা তার প্রতিনিধির আদেশ/নির্দেশ অনুযায়ী কার্য পরিচালনা করা।
৮) দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য BDR, Army, Navy এবং Air Force রয়েছে। পুলিশের কাজ হল জনগণের উপর সরকারের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করা ও দেশের শান্তি শৃংখলা রক্ষার্থে আদালতের আদেশ নির্দেশ পালন করা। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা কিংবা জাতীয় প্রবৃদ্ধি / interest বৃদ্ধিকরন পুলিশের ভূমিকা নয়। এ সকল কাজ করার জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন দপ্তর ও পর্যাপ্ত লোকবল রয়েছে।
৯) এ অধ্যাদেশে DM/ADM/Executive Magistrate/Magistrates Commissioner/Judge এ শব্দ সমূহের সঙ্গা নাই এবং এঁদের সাথে পুলিশের সম্পর্ক কি হওয়া উচিৎ তা’ স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা নাই।
১০) এ অধ্যাদেশের ০৩ থেকে ০৫ নং ধারায় যে সকল কাজের কথা বলা হয়েছে তা’ পুলিশ বাহিনীর কাজ নয়। এ সকল কাজের অধিকাংশই সম্পন্ন করার জন্য সরকারের আরও বিভাগ রয়েছে। এছাড়া CrPC তে পুলিশের কাজের যে বর্ননা রয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছেনা। বর্তমান অবস্থায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, চার্জসীট প্রনয়ন ও আসামী ধৃতকরনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান কাজের সাথে যদি অতিরিক্ত আরও কাজ দেয়া হয় তাহলে দেশের বিচার ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটবে।
১১) পুলিশ সরকারের অন্যান্য বাহিনীর ন্যায় একটা বাহিনী মাত্র। এ অধ্যাদেশে পুলিশকে একটি বাহিনীর পরিবর্তে “পুলিশ প্রশাসন” বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি, বন্দুক কিংবা লাঠি দ্বারা প্রশাসন পরিচালিত হয় না। অতএব, পুলিশের সাথে “প্রশাসন” শব্দ জড়ানোর কোন ভিত্তি নাই।
১২) সংবিধান ও CrPC অনুযায়ী কোন আসামীকে ধরার পর বিচারের জন্য পুলিশ আসামীকে যথাসময়ে আদালতে উপাস্থাপন করবে; কিন্তু এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে পুলিশ বিচারের ব্যবস্থা করবে। এটা সংবিধান ও CrPC কে অবজ্ঞা করার সামীল।
আমরা যদি এই অধ্যাদেশের প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা করি তাহলেও অনেক অসংগতি দেখতে পাবো। নিচে কিছু ধারা পর্যালোচনা করা হলোঃ
ধারা ৪(১)
এই ধারাতে পুলিশের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অন্যান্য বিভাগের সাথে সমন্বয় সাধন করা ইত্যাদি পুলিশের কাজ হিসেবে দেখানে হয়েছে। কিন্তু এগুলো জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/ জেলা প্রশাসকের কাজ। এতদ বিষয়ে পুলিশের কোন ভূমিকা থাকার কথা নয়। পুলিশকে যদি এ সকল কাজ করার অনুমোদন দেয়া হয় তবে তাদের স্বেচ্ছাচারিতা আরও বেড়ে যাবে যা কারো কাম্য নয়।
ধারা ৪(৩)
এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে পুলিশ কোন সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিংবা অপরাধের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে সমন/ওয়ারেন্ট/সার্চ ওয়ারেন্ট অথবা অন্য কোন Process চাইতে পারে। কিন্তূ মামলা শুরু হবার পূর্বে পুলিশ আদালতের নিকট এ ধরনের দাবী করতে পারে না।
ধারা ৬
এ ধারায় পুলিশ বাহিনীকে দেশে বিদেশে যেকোন পদে পদায়িত করার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তূ পুলিশ বাহিনীকে সরকার বেতন-ভাতা-রেশন দিয়ে পুলিশী কাজের জন্য নয়োগ দিয়েছে, যেকোন পদে পদায়নের জন্য নয়। ফলে অধ্যাদেশের এ ধরনের নিয়মের ফলে সরকার/জনগন পুলিশের সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এছাড়া এ ধরনের পদায়ন করা হলে অন্যান্য বিভাগের সাথে পুলিশের অসন্তোষ দেখা দিবে এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মচারী/কর্মকর্তারা তাদের আইন সিদ্ধ অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
ধারা ৭(২)
এ ধারায় পুলিশ প্রধানের Retirement বয়স হিসেবে না দেখিয়ে মেয়াদ হিসেবে দেখানো হয়েছে।এখেত্রে ৫৭ বছর হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ প্রধান অবসরে নাও যেতে পারেন- যা Junior Officer দের পদোন্নতিকে ব্যহত করবে। এ ধরনের উদ্ভট নিয়ম আর কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় না। আমরা মনে করি BSR অনুযায়ী চাকুরীর বয়স নির্ধারিত হওয়া উচিৎ।
ধারা ৭(৩)
এ ধারায় স্বরাষ্ট্র সচিবের সকল ক্ষমতা পুলিশ প্রধানের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এই ধারাটির প্রস্তাব আনার আগে ভাবা উচিৎ ছিল এতে বাংলাদেশ সরকারের Rules of Business / Allocation of Services এর ব্যত্যয় ঘটবে কিনা।
ধারা ৭(৪) ও ৭(৮)
এ ধারা অনুযায়ী সরকার কোন পুলিশ সদস্যকে বদলী/নিয়োগ করতে চাইলে পুলিশ কমিশনের সাথে পরামর্শ করতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু সরকার পুলিশ বাহিনীর অধঃস্তন কেউ নয় যে তাঁকে পুলিশ বাহিনীর সাথে পরামর্শ করে কাজ করতে হবে। ইহা সংবিধানের ৫৫(২) উপধারার পরিপন্থী। উল্লেখ্য যে, কোন নির্দিষ্ট বাহিনীর উপর সরকারের কর্তৃত্ব না থাকলে সরকারের সার্বভৌমত্ব ব্যহত হয়।
ধারা ৭(৭)
এ ধারা অনুযায়ী পুলিশ কমিশন নির্ধারন করবে পুলিশ প্রধান কে হবে। কিন্তু Rules of Business অনুযায়ী পুলিশ প্রধান নিয়োগ দেয়া মন্ত্রনালয়ের কাজ, পুলিশ কমিশনের নয়।
ধারা ৮(১)
কী পরিমাণ পুলিশ দেশে রাখবে তা চিন্তাভাবনার এখতিয়ার সরকারের। সরকার অন্যান্য বিভাগের ন্যায় সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতের উপর নির্ভর করে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পদ সৃষ্টি বা বিলুপ্তি করবে। অধ্যাদেশের এ প্রস্তাব বা বিধান সংবিধানের ১৩৩ ধারার পরিপন্থি।
ধারা ৮ (২)
ইতিমধ্যে সরকার পুলিশ বাহিনীর জন্য রেশন সহ আরো কিছু অতিরিক্ত সুবিধার বিধান করেছে। যা সমমর্যাদার অন্যান্য চাকুরীতে নাই। বর্তমানে তাদের জন্য যদি আলাদা পে-কমিশন গঠন করা হয় তাহলে তা অন্যান্য ক্যাডারের সাথে পুলিশ বাহিনীর দ্বন্দ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া অন্যান্য ক্যাডার/ডিপার্টমেন্টের মধ্যে বিরুপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।
ধারা ৮ (৩)
সংবিধান পরিপন্থি। কোন ডিপার্টমেন্টের আভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তনের জন্য সরকারের আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। দেশের সকল বিভাগ/ক্যাডার যদি এমন দাবী করে তাহলে সরকার বিপাকে পড়বে এবং সরকার কর্তৃক প্রণীত বিভিন্ন সার্ভিস রুলস্ ব্যহত হবে।
ধারা ৮ (৩)
পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান । ইহা স্বায়ত্ত শাসিত । পিএসসি তার মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডে কাকে রাখবে কিংবা কাকে রাখবে না তা পিএসসি এর এখতিয়ার । এ অধ্যাদেশের অত্র বিধানানুযায়ী পিএসসি এর সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব করে সংবিধানের পরিপন্থি কাজ করা হচ্ছে।
ধারা ৯
সরকারের কাজ। সরকার ইহা করলে সরকারের প্রয়োজনে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ কাজ সম্পাদন করবে।
ধারা ১০(১)
পুলিশ বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত না হয়ে কোন ব্যক্তি/কর্মকর্তা/ কর্তৃপক্ষ/ আদালত কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত হবেন না।
ধারা ১১(১)
পুলিশ বিভাগের সকল আর্থিক/জনবল/বদলী/প্রেষণ ইত্যাদি সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সরকারের। ইহা পুলিশ প্রধানের এখতিয়ার নয়।
ধারা ১১(২)
পুলিশের কাজ নিরাপত্ত নিশ্চিত করা প্রটোকল দেয়া নয়। কোন বাহিনী কর্তৃক রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার পরিচালনার বিধান নাই।
ধারা ১২
সরকারের প্রয়োজনে সরকার ইচ্ছা করলে কোন পুলিশ কর্মকর্তা/ কর্মচারীকে যেকোন সময় কোন কারণ দর্শানো ব্যতিত বদলী করতে পারবে। সরকারকে কোন ব্যক্তির বদলীর বিষয়ে বাধিত করা সরকারের মৌলিক ক্ষমতা ক্ষুন্ন করার অনুরূপ।
ধারা ১৩
আইন ও আর্থিক বিষয়ে পরামর্শের জন্য সরকারের আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয় রয়েছে। অতএব এ বিষয়ে পরামর্শের জন্য পুলিশ বিভাগের জন্য পৃথক কোন সংস্থার প্রয়োজন নাই।
ধারা ১৪
এ ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগে নতুন নতুন পদ সৃষ্টি হবে। যার সরকারের জন্য অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার বিধান করা বোঝা হয়ে দাড়াবে। তাছাড়া ইহা পুলিশ বিভাগের জন্য প্রবর্তন করলে সরকারের অন্যান্য সংস্থা একই দাবী তুলতে পারে। যা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে।
ধারা ১৫
পুলিশ জেলা/পুলিশ ডিস্ট্রিক্ট বলতে কোন জেলা থাকবে না। বর্তমানে পরিচালিত পিআরবি অনুযায় পুলিশ এর যে ওয়ার্কিং জুরিডিকশন রয়েছে সেভাবে পুলিশ বাহিনী কাজ করবে। অন্যথায় নতুন পদের সৃষ্টি হবে এতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বৃদ্ধি পাবে যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বহন করতে হবে। জেলার পুলিশ প্রধান জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ক্ষমতা প্রাপ্ত নির্বাহী বিভাগের পরামর্শ ক্রমে কাজ করবে।
ধারা ১৬(১)(২)
সরকার চাকুরিতে বদলীর ক্ষেত্রে পুলিশ প্রধানে রিকমেন্ডেশন মানতে বাধ্য নয় এবং লিখিতভাবে সরকার কারণ দর্শাতে বাধ্য নয়। সরকারকে জবাবদিহিমূলক এমন খসড়া প্রণয়ন বরং সরকারকে হেয় করার নামান্তর যাহা সরকারী চাকুরী বিধিমালার পরিপন্থি। এহেন খসড়া প্রণয়নের জন্য বিএসআর অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
ধারা ১৯
তদন্ত ইউনিট এবং প্রসিকিউশন ইউনিট পৃথক ভাবে গঠন করতে হবে। তদন্ত ইউনিট সকল মামলা তদন্ত করবে। শুধুমাত্র সাত বছরের অধিক সাজা প্রাপ্ত মামলা তদন্ত করবে না।
ধারা ২১ (৬)
অতিরিক্ত লোক নিয়োগের ফলে অর্থের অপচয় ঘটবে। এক্ষেত্রে জিপি পিপি রয়েছে। লিগ্যাল এডভাইজার নিয়োগ করা কোন প্রয়োজন নাই।
ধারা ২৩(১)
এ সকল ক্ষেত্রে সহযোগীতা প্রদানের জন্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। এ ধরণের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অর্থের অপচয় ঘটবে। জনগণের প্রয়োজনে পুলিশের জন্য ইন্টারনাল টেলিকমিউনিকেশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
ধারা ২৫
অন্য কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলী করা হলে জনগণ সেই পুলিশের পুলিশী সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সরকারের, পুলিশ কমিশন বা পুলিশ প্রধানের নয়। সরকার বলবৎ থাকা অবস্থায় থাকায় পুলিশ কমিশনের আদৌ কোন প্রয়োজন নাই।
ধারা ২৯
পুলিশের প্রমোশনের ক্ষেত্রে যে সকল উপাদানের কথা বলা হয়েছে তার সাথে সততার বিষয়টি যোগ করা উচিত।
ধারা ৩০(৩)
সরকারের অন্যান্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যে বিধিমালা প্রযোজ্য সে বিধিমালা অনুযায়ী হতে হবে।
ধারা ৩৩(১)
সংবিধান কর্তৃক Comptroller & Auditor General কে দেশের সকল বিভাগের সকল হিসাব নিরীক্ষা করার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রধান তাদের হিসাব-নিকাশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। কাজেই ধারা ৩৩(১) সংবিধান পরিপন্থি।
ধারা ৩৪ ও ৩৫
Special পুলিশ নিয়োগের যে বিধান রয়েছে এতে রাজনীতিকরন বাড়বে। যে দল ক্ষমতায় থাকবে সে দলের লোক জন পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে এবং পুলিশের সম্মান নষ্ট করবে।
ধারা ৩৭
পুলিশ কোন দল বা ব্যক্তি দ্বারা প্রভাবিত হবে না। এ কথা বলে এ অধ্যাদেশ প্রস্তুত করা হলেও দলীয় মন্ত্রী পুলিশ কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন এবং ৪ জন এমপিকে পুলিশ কমিশনে অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলা হয়েছে। দলীয় লোক কখনো পুলিশের উপর প্রভাব ফেলবে না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
ধারা ৫০
সরকারের আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জিপি, পিপি এসকল ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান থাকায় অতিরিক্ত কোন ফিন্যানসিয়াল বা লিগ্যাল এডভাইজারের প্রয়োজন নাই।
ধারা ৫৭
নগরায়নের ক্ষেত্রে নগর কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এবং এ উন্নয়নের জন্য সকল বিভাগ বিদ্যমান রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের অধীনেও পুলিশ রয়েছে । অতএব নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে পুলিশ এর কোন ভূমিকা থাকার কথা নয়।
-------------- সমাপ্ত --------------
Source: http://www.NokshiLife.co.cc
©somewhere in net ltd.