নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

অপলক

তত্ত্ব, তথ্য ও অনুভূতি ভাগাভাগি করা আমার অভিপ্রায়। কারও যদি ইচ্ছে হয় তবে যে কেউ আমার এই ব্লগের যে কোন কিছু নিজের সংগ্রহে রাখতে পারে।

অপলক › বিস্তারিত পোস্টঃ

যে লাউ সেই কদু...

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩০



বেকারত্ব দূর করা গেলে কেবল অর্থনৈতিক মুক্তিই আসবে না, বরং সমাজ থেকে কমবে অপকর্ম, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, রাহাজানি, সুদ, ঘুষ, অপমৃত্যু, ধর্ষণ, সামাজিক সম্পর্কের গভীরতা, সন্তান জন্মদানের হার, পুষ্টিহীনতা, রোগবালাই, পরিবেশ দূষন সহ আরও অনেক কিছু। বাড়বে সচেতনতা, অবিবাহিত মানুষের সংখ্যা, ডিভোর্সের সংখ্যা, লিভটুগেদার, জিডিপি, পার্সপোর্টের মান, আমদানি রপ্তানি, টাকার মান ইত্যাদি।

যখন একটি দেশের জনগোষ্ঠী কর্মক্ষম করে তোলা হয় এবং সেই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী নিজেদের মেধা, কর্মশক্তি এবং অভিজ্ঞতা অর্থপূর্ণ ভাল কাজের সুযোগ পায়, তখন সমাজের বহু সামাজিক সমস্যার স্বয়ংক্রিয় সমাধান ঘটে। কিন্তু সরকার যদি ভাবে, সামাজিক ভাতা কার্ড, কৃষক কার্ড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার আপডেট, দাতা সংস্থা থেকে দেশে ডলার ঢোকালেই দেশের উন্নতি হবে, তাহলে সেটা ভুল।

চীনে একটা বিখ্যাত প্রবাদ আছে, "কাউকে একটি মাছ দিলে আপনি তাকে এক বেলার আহার দিলেন, কিন্তু তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দিলে আপনি তাকে সারাজীবনের আহারের ব্যবস্থা করে দিলেন।" বিবিএস-এর হিসাব মতে, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী মোট বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার। কেন তাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে? এই প্রায় ২৬ লাখ মানুষকে শিক্ষিত করতে সরকার তহবিল ফাকা হয়নি। যদি তাদের কাজে লাগানো না যায়, তাহলে তো পুরো ইনভেস্টমেন্ট কার্যত নষ্ট, পানিতে ফেলা।

বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের মোট ১১ হাজার ৪৯৫টি অনুমোদিত পদ শূন্য রয়েছে। সরকার কেন শূন্য রাখবে? হয়ত বলবে ডিগ্রি ধারী চিকিৎসক নেই। তাহলে প্রাইভেট/পাবলিক মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট খুলতে হবে। যারা পল্লিচিকিৎসক আছেন, তাদেরকে MBBS, BDS এর মত ডিগ্রী নিতে সুযোগ দিতে হবে।

দক্ষিন কোরিয়া, স্বাধীনতা লাভের পর রাতারাতি উন্নত হয়নি। তাদের সরকার প্রধান জেনারেল পার্ক চুং-হি (১৯৬১–১৯৭৯)-এর শাসনকালের দেশ চালনা ও দেশ গড়ার ইতিহাস পড়লে বোঝা যায়, মানতে হবেই দেশ গড়তে তিনি কতটা জিনিয়াস ছিলেন। কেমন হওয়া উচিত একজন সরকার প্রধানের সেটা পার্ক চুং-হি বা মহাথির মোহাম্মদ কে দেখে শেখা উচিত। খাল খনন, বাসস্ট্যান্ড সরানো বা সচিবালয় সরিয়ে আর RAB কে SRB বানিয়ে লাভ নেই। দলীয় লোকদের কার্ড দিয়ে বা পূজামন্ডব ঘুরে বেরিয়েও ফায়দা নেই। ওতে মানুষের পেটে ভাত জোটে না। কর্মপরিবেশ তৈরী হয় না। বিশাল বহর নিয়ে পরিদর্শনে গেলে জনগনের টাকা ঝরে যায়।

মানুষ যখন কাজ করতে পারবে, তার মানসিক বৈকল্য এবং অথনৈতিক চাপ কমে যাবে। পরিবার থেকে শুরু কিন্তু সমাজেও এর প্রভাব পরবে। বৃহত্তর অর্থে সারা দেশেও। পরিবারের পরিবেশ যখন সুস্থ্য সুন্দর হবে, তখন সামাজিক অবক্ষয় কমে যাবে। মানুষের চাহিদার শেষ নেই। চাহিদা বাড়া মানে যোগান বাড়াতে হবে। মনের ভেতরে যখন চাহিদা তৈরী হবে, তখন সেই কর্মক্ষম মানুষটি আরও বেশি উপার্জন করতে চাইবে। হয়ত সে ওভার ডিউটি করবে, পার্ট টাইম জব খুজে নেবে ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যে। কিন্তু কাজ করার স্কোপ যদি না থাকে, তাহলে তারা যে কোন দুষ্ট লোকের দুষ্ট অফারে ঝুকে পড়বে। কারন দিন শেষে প্রত্যেকটা মানুষের ব্যাসিক কিছু জিনিসের প্রয়োজন থাকে।

লক্ষ্য করলে দেখবেন, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় সবচেয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা বেশি। নিজের মুরগি পাশের বাসায় ডিম পাড়া নিয়েও মানুষ খুনাখুনি হয়। কারন কম শিক্ষিত + মাদ্রাসা বেশি (উৎপাদন বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা) + বেকার সংখ্যা বেশি। ঠিক পাশের জেলা নরসিংদিতে তেমন কোন ক্রাইম নেই। কারনটা খুবই স্পষ্ট। এমন কোন ঘর নেই যে, তাদের কোন সন্তান বসে আছে। সবাই কর্ম মুখর।

বলা হয়, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। একটা বেকার ছেলে যখন সারাদিন শুয়ে বসে থাকে, আপনজনদের নানা কথায় মন খারাপ থাকে, তখনই সে নেশার রাজ্যে পা বাড়ায় সবকিছু ভুলে থাকতে। অবশ্য এটাই একমাত্র কারন নয়। কিন্তু অনেক প্রধান কারনগুলোর মধ্যে একটি।

কাজেই সরকারকে কাজের ক্ষেত্র তৈরী করতে হবে এবং সে অনুযায়ী জনবল তৈরী করতে হবে। শুরুতে আমি খুব সংক্ষেপে বলেছি, বেকারত্ত্ব দূর করা গেলে কি বাড়বে আর কি কমবে। যে বুঝদার, সে ঠিক-ই বুঝবে। আর যদি জাহেদ উর রহমান, মাহদী আমিনের মত বেশি বুজনেওয়ালা বকর বকর উপদেষ্টার বুদ্ধিতে চলে, তাহলে যে লাউ সেই কদু।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সরকার যদি ভাবে, সামাজিক ভাতা কার্ড, কৃষক কার্ড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার আপডেট,
দাতা সংস্থা থেকে দেশে ডলার ঢোকালেই দেশের উন্নতি হবে, তাহলে সেটা ভুল।

...........................................................................................................
আপনার উপলব্ধির বাস্তবতা আছে,
কিন্ত সরকারে এত বিষেশজ্ঞ থাকতে তারা
বুঝতে পারছে না কেন ?

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬

অপলক বলেছেন: প্রথমত, মাথায় তো কিছু থাকতে হবে...
দ্বিতীয়ত, ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে ২ জন কোন রকম চলে। বাকি গুলা ত্যানা চেড়ার ওস্তাদ...


দেশ চালাতে যোগ্যতা লাগে, বলিষ্ঠ হওয়া লাগে, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা লাগে...দ্বায়ীত্ববান হতে হয়। পরিবার তান্ত্রিক রাষ্ট্রবাবস্থায় যোগ্যরা রাষ্ট্র পরিচালনার দ্বায়ীত্ব পায় না। আম ছালা আর কাঁঠাল তলা দিয়ে সংসদ ভরে গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.