| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে মুরগী রান্না করে দেয়া হয়।
আপনি মেনে নেন, কারণ আপনি সংখ্যালঘু।
আপনার ধর্মীয় উৎসব- ঈদের সময় দু-চারটা মসজিদ ভাঙা একটা রুটিনের পর্যায়ে পড়ে গেছে। না, প্রাণহানি বা এ জাতীয় ব্যাপার ঘটে না খুব একটা, এই দু-চারটে এরকম কোলাটেরাল ড্যামেজ আর কী। এসবও মেনে নিতে হয়, কারণ আপনি সংখ্যালঘু।
আপনার আত্মীয়স্বজন কারো সাথে হয় নি, তবে প্রতিবছরই দুই চারজন মুসলমানকে গীতা অবমাননার কারণে আধমরা করা হয়, বা মেরে ফেলা হয়। বেশি কিছু না, একটু গুজব রটিয়ে দিলেই হবে।
এসবও আপনি মেনে নেন, কারণ আপনি সংখ্যালঘু।
সৌভাগ্যের ব্যাপার, আপনার জীবনে এসব কিছুই ঘটে না। আপনি মুসলমান, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। তাই আপনি জন্মসূত্রে কিছু সুবিধা পান। আপনার অনেক হিন্দু বন্ধু বান্ধব আছে। তাদেরকে আপনি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করে, চলতে ফিরতে দেখেন। আপনার পরিচিত কোনো হিন্দুর জমি-জিরাত দখল করা হয় নি, বা তাদের ওপর সহিংসতা করা হয় নি। গ্রাম পোড়ানোর ঘটনা তো খুবই বিরল। দুই বছরে বড়জোর একবার ঘটে। আর 'আলেম'দের ওয়াজে কাফের আখ্যা পাওয়া নিয়ে অত না ভাবলেই চলবে। আপনার ধর্মে ওসব নেই।
তাই আপনার কাছে মনে হয় যে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশে খারাপ আর কী আছে! ঐ মাঝেমধ্যে একটু ওসব ঘটে আর কী! জন্মের পর থেকেই কীভাবে প্রতিদিন তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয় যে তারা সংখ্যালঘু, সেই গল্পগুলি আপনার শোনার প্রয়োজন নেই।
আপনি বড়ই অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার। গন্ডগোলের সময়ে মন্দির পাহাড়া দেন। কিন্তু এই প্রশ্ন তোলেন না, কেন পাহাড়া দিতে হবে মন্দির!
আর তাই এটাও বোঝেন না, কেন হিন্দু পরিবারের চারজন একসাথে মারা গেলে কোনোকিছু প্রমাণিত হবার আগেই হিন্দুরা আতঙ্কিত হয়, দোষারোপ করে। আপনার কাছে পরিসংখ্যান আছে একখান বটে, যে গত দুই বছরে অনেক হিন্দুকে সহিংসতার সম্মুখীন হতে হয়েছে ঠিকই, তবে তা ধর্মীয় কারণে নয়, ওসব নেহায়েত রাজনৈতিক ব্যাপার।
আর বাড়ী দখলের জন্যে নিদারাবাদ হত্যাকান্ডের কথা তো মনে থাকারও কথা নয়। বহুদিন পর্যন্ত মানুষ জেনেছিল, ওরা কেউ মারা যায় নি। ইন্ডিয়া ভেগে গেছে। হিন্দুদের যা স্বভাব আর কী! ওসব অবশ্য অনেক আগের কথা।
তাই, আপনি বরং ওদের অসহিষ্ণু আচরণের জন্যে একটু বকে দিয়ে ঘুমোতে যেতে পারেন। সেটাই ভালো।
শুভরাত্রি!
২|
২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আপনার ধর্মীয় উৎসব- ঈদের সময় দু-চারটা মসজিদ
ভাঙা একটা রুটিনের পর্যায়ে পড়ে গেছে।
............................................................................
সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মীয় গোড়ামী কোনটাই কাম্য নয় ।
তবু পৃথিবীতে স্বার্থপর লোকজন কিছূ সুযোগ পেলেই এসব
ঘটায় , ট্রাম্পের মতো কিছু সূদুর প্রসারী লাভের জন্য ।
তাই বলা যায় দিন দিনই পৃথিবী অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে
আমাদের লোভী স্বার্থর কারনে ।
৩|
২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩১
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
আমাদের সময়ের কথা বাদই দিচ্ছি। আমি জানি ব্লগে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের লেখক / পাঠক অনেক আছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন: - আপনাদের সময়েও বাজারে গঞ্জে এতো এতো সেলুনে এতো এতো চুল দাড়ি কাটার নাপিত ছিলো, এরা কোথায় গিয়েছে? কারণ কি?
হিন্দু বড় বড় ব্যবসায়ী আপনাদের মতো নিরাপত্তার ভয়ে মাইগ্রেশন করেছে - ঠিক আছে। নাপিত কামার কুমার তাতী এরা কোথায় পালালো আর কেনো?
এই সমাজে আপনি কতোটা নিরাপদ?
৪|
২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৩৮
মাথা পাগলা বলেছেন: মন্দিরে পাহারা দেওয়ার বিষয়টা গর্বের চেয়ে বরং আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাটাই বেশি তুলে ধরে। ধর্মীয় অবমাননা নিয়ে যতবারই সমস্যা হতে দেখেছি, প্রায় সবই শুক্রবার নামাজের পর হয়েছে। গুটিকয়েক খারাপ মানুষ আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আসে। এমনভাবে পরিস্থিতি তৈরি করে যে, সাধারণ মানুষও তাদের সাথে যোগ দেয়। মব জাস্টিস পুলিশ কিছু করতে পারে না।
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:২৫
আহমেদ জী এস বলেছেন: হাসান মাহবুব,
অনেকদিন পরে লিখলেন মনে হয়! বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন রকমের মনস্তত্ত্ব । এর পেছনে রাজনীতির দায়টাই মনে হয় মূখ্য। ।