| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নর্দমার কিট
নিজেকে খুজে ফিরি বাহিরে ভিতরে,বাস্তবে অবাস্তবে,শহরে অরণ্যে।এই খোজা-খুজিতেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছে আর হ্যাঁ যতদিন নিজেকে খুজে না পাই ততদিন,আমি আমিই।
প্রতিটি মানুষের জীবনে ২/১ জন অনন্ত জলিল(অসম্ভবকে সম্ভব করে এমন)থাকে।স্থান,কাল,পাত্র ভেদে এর সংখ্যা ২ এর অধিক হতে পারে সেটা বিষয় না।আমরা exception is not an example নীতি তে বিশ্বাসী হয়ে আমার আত্মকথন শুরু করবো।যা আপনাদের অত্যন্ত বিরক্তিকর লাগতে পারে।কিছু করার নাই।
১
অনন্ত জলিল কে আমরা দু ভাগে ভাগ করতে পারি
১-পারিবারের ভিতরের অনন্ত জলিল
২-পরিবারের বাহিরের অনন্ত জলিল
আজকের আত্মকথন পরিবারের বাহিরের অনন্ত জলিলকে নিয়ে...............
ক্লাস নাইনে উঠেই প্রেম শুরু করলাম।আর কিছু বুঝি না বুঝি প্রেমের উপরে তখন পুরোপুরি PHD প্রাপ্ত একজন অধ্যাপক।বন্ধু মহলে অতি আদরের সাথে সমাদৃত।2007 সালে আর কয়জন প্রেম করে।তখনও ফোন জিনিসটা অতটা সস্তা না।আমার বয়সের গুটি কয়েকের হাতে ফোন।গুটি কয়েক ছেলে প্রেম করে সে গুটি কয়েকের মধ্যে আমি এক জন গুটি।এ কারনে আমার স্রধেয় দাদা কতৃক(বড় ভাই,বস,অধিকতর সিনিয়ার,দীক্ষা গুরু,মুশকিল আসান বাবা,সব সমস্যার সমাধান) অগণিত বার বেদম প্রহার,ফোন কেড়ে নেয়া,বাড়ি থেকে বের করে দেয়া,বাড়িতে আটকে রাখা ইত্যাদি রকম তৈরিকৃত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম।(তখন রাগ লাগতো,এখন বুঝি তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন)দাদার সাথে এখন সেই সব দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে হাসাহাসি হয়।
২
তার নাম ছিল সাহারা মাসরুর শিমু।মজার বিষয় হচ্ছে বাসায় এবং আমার প্রাক্তন এলাকায় আমাকে সবাই আদর করে শিমুল না ডেকে শিমুই ডাকতো।একারনে আমার প্রিয়তমা (দুক্ষিত প্রাক্তন প্রিয়তমা) এবং আমাকে নানান রকম অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হত।বন্ধু মহলে এ নিয়ে হাসি ঠাট্টা তামাসা নিত্য দিনের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছিল।তারা আমাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন সুত্রও দাড় করিয়েছিল যেমন (s+s)2/s2।
সে পরাশুনা করতো রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে আর আমি কালেক্টরেটে স্কুল অ্যান্ড কলেজে।বিস্তর ব্যবধান তারপরেও প্রেমটা হয়ে গিয়েছিল এলাকার বড় ভাই স্বনামধন্য সিনিয়ার আমার আপনা মানুষ স্মরণ(BBA,MBA প্রক্রিয়াধিন) ভাইয়ের দ্বারা।বলে নেই স্মরণ ভাই আমার প্রাক্তন প্রিয়তমার বড় বোনের প্রিয়তম ছিল।সেই সুবাদে তিনি হয়ে গেলেন আমার ভায়রা ভাই (১ সপ্তাহ আগে এই সব বিষয় নিয়ে তার সাথে হোটেল পিয়াসী নামক এক কুখ্যাত হোটেলে বিস্তর আলাপ আলোচনা করেছি।বর্তমানে আমার প্রাক্তন ভায়রা ভাইয়ের প্রিয়তমাও এখন তার কাছে প্রাক্তন)।
৩
সাহারা মাসরুর শিমু ছিল আমার কাছে অনন্ত জলিলের মত।আমার এমন কোন সমস্যা নাই যার সমাধান তার কাছে ছিল না।আজব একটা চরিত্র তখন বুঝি নাই এখন বুঝি।কোন সমস্যার সম্মুখীন হলেই আমি নির্দ্বিধায় তার শরণাপন্ন হতাম এবং সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।নিচে উদাহরন সহ ব্যক্ষা করছি............
ঘটনা ১- ২০১১ সাল রাজশাহীতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়েছি।যাওয়ার সময় ভালই গেলাম আসার সময় অবস্থা খারাপ।কোন বাসে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই।কি আর করি ওকে ফোন দিলাম সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।আমি রাজশাহী থেকে রংপুর অতি আনন্দের সহিত সিস দিতে দিতে সিটে বসে এলাম।
ঘটনা ২- (মনে হয় ২০১০ সাল) কোন একটা বই আমার খুব দরকার।সারা রংপুর চসে বেড়ালাম ফলাফল শূন্য।প্রিয়তমার শরণাপন্ন হলাম,পরের দিন সেই লেখকের পুরো সমগ্র আমার বাসায় হাজির।
ঘটনা ৩-এক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রম তোলার সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও আমার প্রিয়তমার চেষ্টায় ফ্রম তুলতে পেরেছিলাম।বর্তমানে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ইউনিটেই আমি অধ্যায়নরত।
ঘটনা ৪-আব্বা আম্মা কোন এক কাজে গ্রামে গিয়েছে।বাসায় ছোট বোন আর আমি ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে চিন্তা করছি আহারে আজকে যদি ভাল মন্দ কিছু খেতে পারতাম(আমার জন্মদিন ছিল)।বলা নেই কওয়া নেই হটাত করে এক টিফিন ক্যারিয়ার খাবার নিয়ে আমার প্রিয়তমা বাসায় হাজির।আজব এক অবস্থা...... কি করে বুঝে যায় মেয়েটা।
আসলে এভাবে বর্ণনা দিয়ে মেয়েটাকে উপস্থাপন করে হয়তো ওকে ছোট করে ফেলতে পারি।হাজার হাজার ঘটনা আছে কোনটা ছেড়ে কোনটা লিখবো এটাই বড় সমস্যা।ঘটনা গুলো হয়তো অত্যন্ত ছোট মনে হচ্ছে কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করলে অনেক ছোট কিছুও অনেক বড় হয়ে দাড়ায়।
৪
সম্পর্কটা ২০১১ এর শেষের দিকে কোন এক মাসে নষ্ট হয়ে যায়।ওর সাথে সম্পর্কে ছিলাম চার বছর।মজার ব্যপার সম্পর্ক বিচ্ছেদেরও হয়ে গেল প্রায় চার বছর।এর মধ্যে নো যোগাযোগ নো ফোনালাপ নো দেখা দেখি।আজব না।আজকে চার বছর পর এসে উপলব্ধি করছি আসলে আমার ভালোর জন্যই ও আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল।আমি বাস্তবতা খুব কম বুঝতাম।বাসায় ছিল অনন্ত জলিল বাসার বাহিরেও ছিল অনন্ত জলিল।আমার বাস্তবতা বুঝে কাজ কি।সব সমস্যাতো ওরাই সমাধান করে।আমার শুধু কষ্ট করে মুখ ফুটে বলতে হয়।মাঝে মাঝে চেষ্টা করতাম ইশারায় বুঝাতে,না বুঝলে তুলকালাম।আহারে বেচারির উপর অনেক অত্যাচার করেছি(একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম)।আমার ইগো একটু কম হলেই হয়তো সম্পর্কটা নষ্ট হত না।আমার অনন্ত জলিল আমার কাছেই থাকতো,আমার অসম্ভব গুলোকে সম্ভব করতো।
৫
আসলে প্রতিটা সম্পর্কই দামি তা সেটা রক্তের,প্রেমের বা বন্ধুত্বের যেটারই হোক না কেন।প্রতিটা সম্পরকেই একজন অনন্ত জলিল থাকে।সমস্যা হচ্ছে সময় থাকতে এ অনন্ত জলিলকে অনেকেই খুজে পায়না।প্রতিটা সম্পর্ককেই সম্মান করুন।আজকে যাকে সাপ মনে হচ্ছে চলে যাওয়ার পর হয়তো দেখছেন এই সাপই ছিল আপনার জীবনের অরজিনাল অনন্ত জলিল।
২|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:০৮
নর্দমার কিট বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৫৭
এহসান সাবির বলেছেন: বেশ!