| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নর্দমার কিট
নিজেকে খুজে ফিরি বাহিরে ভিতরে,বাস্তবে অবাস্তবে,শহরে অরণ্যে।এই খোজা-খুজিতেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছে আর হ্যাঁ যতদিন নিজেকে খুজে না পাই ততদিন,আমি আমিই।
অপু সেই রাত ১১ টা থেকে একের পর এক কল দিয়ে চলছে দিপার ফোনে।এখন প্রায় রাত ২ টা।এর মধ্যে প্রায় শ বারের মত ফোন দেয়া হয়ে গেছে।অপু আর নিতে পারছে না।বিছানার এ মাথা থেকে ও মাথা রাজ্যের অস্থিরতা নিয়ে গড়াগড়ি দিচ্ছে আর ছটফট করছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে অপুর কাছে দিপার ঘুম ভাঙ্গানোর ওষুধ আছে।এ ওষুধের নাম সঞ্জীবনী বনলতা রসায়ন।অপুই নামটা দিয়েছে।এ ওষুধের কাজ হচ্ছে ঘুমন্ত মানুষের ঘুম ভাঙ্গানো।ওষুধ প্রয়োগে প্রতিক্রিয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উভয়েই তাৎক্ষণিক দেখা যায়।ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগের পর প্রয়োগদাতাকে শুধু অপেক্ষা করতে হয়।অপু সেই মহাঔশোধ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিল।রাত ২.৩০ মিনিটে ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।অপু মনে মনে হাসা শুরু করলো।
রাত 2.30 মিনিট।অপু এখন ওষুধ প্রয়োগ করবে।সে চিন্তা করলো প্রথমেই ফুল ডোজ দিবে না,হালকাটা দিবে।কাজ না হলে ফুল ডোজ।
অপু ফোনবুক ঘেঁটে দিপার বাবার নাম্বার বের করলো।দিপার বাবা প্রশাসনের লোক,অত্যন্ত কড়া ব্যক্তিত্ব।ওষুধ দিতে গিয়ে নিজেই সঞ্জীবনী বনলতা রসায়ন হয়ে যায় কিনা এ নিয়েও সে সমান্য দুশ্চিন্তা করলো।পরে একটা হাসি দিয়ে ভাবলো ধুর দিপা আছে কিসের জন্য।দীপাই বাঁচিয়ে নিবে।
অপু দিপার বাবার নাম্বারে ফোন দিলো।পর পর দু বার রিং হওয়ার ফোনটা রিসিভ হল।প্রথম ৭ সেকেন্ড দু প্রান্ত থেকেই নিরবতা।অতঃপর ওপরপ্রান্ত থেকে দীপার বাবার প্রখর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন কণ্ঠ ফোনের স্পিকার কাপিয়ে বলে উঠলো,হ্যালো।
অপুর জান বের হয়ে যায় যায় অবস্থা।নিজেকে কোনরকম সামলে নিয়ে চুপ মেরে থাকলো।
ওপর প্রান্ত থেকে দীপার বাবার আরও কয়েকবার হ্যালো হ্যালো করে অত্যন্ত কড়া গলায় স্টুপিড বলে কটাস করে ফোনটা কেটে দিলো।
অপু হাফ ছেড়ে বাচলো।তার এখন হাসি পাচ্ছে।হালকা ডোজটা দেয়া হয়ে গেছে।দীপার বাবার ঘুম ভেঙ্গে গেছে।সে এখন বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে যাবে।ফ্রেস হবে।ফ্রেস হয়েই মেয়ের রুমে যাবে।লাইট জ্বালাবে।মেয়েকে দেখবে।লাইটটা অফ করবে।কিছুক্ষন বারান্দায় পায়চারি করবে তারপর ঘুমতে চলে যাবে।অনেক বড় কর্মযজ্ঞ।এর মধ্যে দীপার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া স্বাভাবিক।তার অবচেতন মন এলারম বাজানো শুরু করবে,বলবে ঐ তোমার না অপুর সাথে কথা বলার কথা ছিল।দিপা অপুকে ফোন দিবে।আপু ফোনের অপেক্ষা করতে লাগলো।
১০ মিনিট পার হয়ে গেলো কোন ফোন নেই।অপু একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়ল।চিন্তা করলো কি আর করা ফুল ডোজটা দিতেই হবে।কিচ্ছু করার নাই।এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপুর জানা আছে।এর প্রভাবে দিপা কেন পুরো বাড়ির ঘুম ভেঙ্গে যাবে।অপু মন খারাপ করে দীপার বাবাকে আবার ফোন দিলো।এবার প্রথমবারেই ফোনটা রিসিভ হল।ওপর প্রান্ত থেকে গম্ভির কণ্ঠ হ্যালো।
অপু আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে বললো মিস্টার আনিস আপনার মেয়ে সুসাইড করতে যাচ্ছে ওকে বাচান এখনি।go fast and save your child.এই বলেই অপু ফোনটা কেটে দিলো।সিম টু টা অফ করে ফেললো।
৬ মিনিট পর অপুর ফোনটা বেজে উঠলো।দিপা ফোন দিয়েছে।অপু ফোন রিসিভ করলো।ওপর প্রান্ত থেকে,এই তোমার এয়ারটেল অফ কেন।
অপু বললো,আমার এয়ারটেল অফ আমিতো খেয়ালি করিনি।সরি এখনি অন করছি।
অপু এয়ারটেল অন করলো।দিপাকে ফোন দিলো।
দিপা-আমি তোমাকে কত ভালোবাসি প্রমান পাইছো।তোমার সাথে কথা বলার জন্য রাত ২.৩০ পর্যন্ত জেগে আছি।
অপু মনে মনে হাসলো।এ জগত অনেক রহস্যে ঘেরা।আজকের ঘটনাটাও না হয় সেরকমই একটা রহস্যের অংশ হয়ে থাকলো।সে দিপাকে কিছুই বলবে না।দীপার ভালবাসারই জয় হোক।
অপু আর দিপা ভালবাসতে শুরু করলো।রাতের বাড়ার সাথে সাথে,তাদের ভালবাসাও গভির হতে লাগলো।
২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১১:২০
নর্দমার কিট বলেছেন: বুদ্ধি কিন্তু ব্যবহার করতে হবে নিজের রিস্কে।ধরা খেলে অপু বা লেখক কারো দোষ নেই বলে দিলাম জনাব।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:০৪
হাসান মাহবুব বলেছেন: বেশ ভালো বুদ্ধি তো!