নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সাধারণ মানুষ,যে সব সময় অসাধারনের খোঁজে থাকে।যেটা খুব বোকা বা অতি চালাকের লক্ষণ হতে পারে।

নর্দমার কিট

নিজেকে খুজে ফিরি বাহিরে ভিতরে,বাস্তবে অবাস্তবে,শহরে অরণ্যে।এই খোজা-খুজিতেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছে আর হ্যাঁ যতদিন নিজেকে খুজে না পাই ততদিন,আমি আমিই।

নর্দমার কিট › বিস্তারিত পোস্টঃ

অপু এবং চাঁদ মামার গল্প

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১১:১৭

অপু রুমের সাথে লাগোয়া ছোট বেলকুনিটায় বসে আছে।রাত ৩ টা।পুরো শহর ঘুমে।অপুর ঘুম পাচ্ছে না।অপু সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ পুরো রাত জাগবে।রাত জাগাটা অপুর মধ্যে নেই।ইদানিং জাগছে।আপু ভাবে ও মনে হয় দিন দিন ইনসমেনিয়াক হয়ে পড়ছে।অপুর রাত জাগার সুনিদ্রিষ্ট একটা কারণ আছে।এখন সেই কারণটা মনে করতে চাচ্ছে না।কি লাভ মনে করে।শুধু শুধু কষ্ট বাড়বে।কষ্ট বাড়লে রাতটাকে উপভোগ করতে পারবে না।অপু রাতটাকে উপভোগ করতে চাচ্ছে।

আজকে ভরা পূর্ণিমা।অপুদের এই ছোট বেলকুনিটা থেকে চাঁদ দেখতে হয় খুব কায়দা করে।বেলকুনির মেঝেতে শুয়ে না পড়লে পুরো চাঁদটা দেখা যায় না।অপুর কোন কালেই পূর্ণিমা ভালো লাগতো না।এসব নিয়ে মাথাও ঘামায় নি।এইতো কিছু দিন আগে সুপার মুন না কি মুন গেলো।সবাই কত আয়োজন করে দেখলো।অপু ঘরের দরজা বন্ধ করে ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট বইটা নিয়ে পরে থাকলো।অপুর ছোটবোন এসে না বললে,কখনই জানতে পারতো না কি মহাজাগতিক একটা ঘটনা ঘটে গেছে প্রকৃতিতে।

অপু সিগারেট ধরালো।অপু নিয়মিত সিগারেট খায়না,মাঝে মাঝে খায়।খুব আনন্দ অথবা খুব কষ্টে থাকলে খায়।আজকে কষ্টে আছে তাই খাচ্ছে।অপু বেলকুনির মেঝেতে শুয়ে পড়লো।আজ কেন জানি চাঁদটাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে।মেঝেতে শুয়ে চাঁদটার দিকে তাকালো,সিগারেটে লম্বা একটা টান দিলো।আল্প কিছু সময় ধরে রেখে রিং এর মত করে ধোঁয়াটা ছাড়ল।রিং টা চক্কর দিতে দিতে বেলকুনির সিলিংএ লেগে অদৃশ্য হয়ে গেলোআপু আরও একটা রিং বানালো তবে এবার আর রিঙটার দিকে নজর দিলো না।চাঁদটার দিকে তাকালো।অপুর এখন চাঁদটার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে।
অপু চাঁদকে ডাক দিলো,এই চাঁদ মামা কেমন আছো।বাড়ির সবার খবর কি?মামি ভালো আছে তো।কি হল কথার উত্তর দেও না কেন।
চাঁদ নিসচুপ
অপু আবার ডাক দিলো,এই চাঁদ মামা।কি হল,আমাকে পছন্দ হয়নি তোমার।
চাঁদ নিসচুপ
ও বুঝেছি তুমি কথা বলবে না।ঠিক আছে কথা বলতে হবে না।আমিই কথা বলছি তুমি চুপ মেরে শুনো।
আচ্ছা চাঁদ মামা ঐ বিশাল মহাশুন্যে অন্যের ধার করা আলো নিয়ে জ্বলো।তোমার খারাপ লাগে না।সারা রাত একা একা ঝুলে থাকো।একটা সঙ্গী সাথিতো জুটিয়ে নিতে পারো।নাকি একা থাকতে থাকতে অভ্যেস হয়ে গেছে।ধুর তোমার সাথে কথা বলে লাভ কি,তুমিতো বোবা।সারা রাত নির্লজ্জের মত পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কাজ কি তোমার।
অপু চুপ হয়ে যায়।সিগারেটে লম্বা একটা টান দেয়।জ্বলন্ত সিগারেটটার দিকে তাকিয়ে থাকে।ধোঁয়া ছেড়ে চোখ বন্ধ করে।ফিসফিস করে কথা বলতে শুরু করে,
জানো চাঁদ মামা আমিও না তোমার মত একা হয়ে গেছি।আমিও পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকি।তুমি উপর থেকে পৃথিবীটা দেখ,আমি ভিতর থেকে দেখি।ভিতর থেকে পৃথিবীটা না খুব বাজে।একদম আবেগহীন।আচ্ছা উপর থেকে পৃথিবীটা কেমন।ওখান থেকেও কি আবেগহীন।বাদ দেও তোমাকে প্রশ্ন করা বৃথা।তুমি বোবা।
অপু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে,ভালো থেকো চাঁদ মামা।আমি ঘুমাবো।আর রাত জাগবো না।তুমিও ঘুমিয়ে পর।

অপু ঘুমিয়ে পড়ে।ওর ছোট বারান্দাটায়।রাত নামে গভির রাত।যে রাত সমস্ত মায়া,ভালবাসা আবেগকে গিলে খায়।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:৩২

হাসান মাহবুব বলেছেন: একাকীত্বের সময়গুলোতে চাঁদকে বন্ধু বানিয়ে কথা বলাটা হয়তো বা কিছুটা হলেও শূন্যতার উপশম করতে পারে। ভালো লাগলো।

২| ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:১৯

নর্দমার কিট বলেছেন: যথার্থই বলেছেন।আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.