নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

"হুজুগে বাঙালি" অপবাদ থেকে মুক্তি চাই......

রাকিবুল ইসলাম প্রতীক

আমি রাজনীতি অপছন্দ করি না,কারন আমি গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি।

রাকিবুল ইসলাম প্রতীক › বিস্তারিত পোস্টঃ

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেখানে অসহায়

০২ রা এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৪:১৫

আনসার আলি সাহেবের জীবনে আজকে সবচেয়ে সুখের দিন।তাঁর ছেলে মকবুল সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমি থেকে ট্রেনিং শেষ করে শিক্ষানবিশ এসআই হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে।ডিউটির সময় কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে সহকর্মীদের কাছে ছেলের গল্প করেন আর গর্বে বুক ভরে ওঠে হাবিলদার আনসার আলীর।অবশ্য দুশ্চিন্তাও আছে।আল্লাহর গজব নেমেছে পুলিশের ওপর।সবার টার্গেট পুলিশ।ছেলেকে নিয়ে ভয় হয় তাঁর।ছেলে এই চাপ সামলাতে পারবে তো???

৩১ মার্চ।ডিউটিতে ছিলেন আনসার আলি।একটা ফোনকল পেলেন।তাঁর আদরের মকবুলের দুই কব্জি উড়ে গেছে শিবিরকর্মীদের হাতবোমায়।ছেলেকে দেখতে যান তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।ছেলে কোন কথা বলে না।শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।বাঁ চোখের কোণা দিয়ে শুধু গড়িয়ে পড়ে কয়েক ফোঁটা পানি।

কেউ চিকিৎসার ত্রুটি করছে না।হেলিকপ্টারে করে তাকে দ্রুত নেওয়া হয়েছিলো সিএমএইচে।তবে দুনিয়ায় কোন ডাক্তার নেই,যে তাঁর ছেলেকে ফিরিয়ে দেবে তাঁর কব্জি।এমন কেউ নেই,যে তাকে আবার তাঁর ডিউটিতে ফিরে যেতে দেবে।প্রমোশন পেয়ে ওসি সে হতে পারবে না।হয়ত বিয়ে করবে।কিন্তু তাঁর স্ত্রী একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হবে না।হবে একজন পঙ্গু লোকের স্ত্রী।ছোট্ট একটা গোলক।কোন বাড়ীর চিলেকোঠায় বসে হয়ত কিছু বখে যাওয়া যুবকের হাতে তৈরি এই হাতবোমা নামের গোলকটার কত্ত ক্ষমতা!!!!নিমেষেই একটা সুখী পরীবার হয়ে গেলো বাকি জীবনের জন্য বিষণ্ণ।

দেশে ইদানিং মানবাধীকার কর্মীদের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে।যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুষ্কৃতিকারীদের উপর গুলিবর্ষণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন,মানবাধীকারকর্মীদের হৃদয় কেঁদে উঠল।তাঁরা প্রতিবাদে ফেটে প্পড়ল।বাংলা সিনেমার জোকারদের মত কাপড় পরা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান তেঁতে উঠলেন।এ হতে পারে না!!!!!!গুলি করা যাবে না।তাঁরা মানুষ।তাদের জীবন মুল্যবান।অনেকের সারাজীবনের সঞ্চয়ে কেনা সস্তা গাড়ী,কিংবা দোকানে ভাংচুর চালানো মানুষের জন্মগত অধিকার।সুতরাং গুলি করা যাবে না।

এদের কেউই আনসার আলি,মকবুল মিয়ার কাছে আসলো না।আসবে কেনো???পুলিশরা আবার মানুষ নাকি???

পাশ্চাত্যের মুভি "ব্যাটম্যান বিগিনস" এ দেখেছিলাম একজন পুলিশ মৃত্যুর আশংকায় কর্তব্য বাদ দিয়ে চলে এসেছিলেন এই বলে "i didn't sign up for this."সোজা বাংলায়,"মরার জন্য চাকরি নেইনি।"আমার এক বন্ধু আমেরিকায় হোটেলে মাংস ভাজে।ঘন্টায় পায় ১০ ডলার।পুলিশের বেতনও যদি একই ধরি,তাহলে সে মাসে কামায় ২৫০০ ডলার।দেশি টাকায় প্রায় তিন লক্ষ টাকা।আর আমাদের দেশে তার ৫০ ভাগের একভাগ।অথচ,কখনো শুনিনি,কোন পুলিশ দৈনিক ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করেও কর্তব্য পালন না করে পালিয়েছে।

সমালোচনা করা সহজ।যে কেউই করতে পারে।কিন্তু করার আগে যাকে নিয়ে সমালোচনা,তার পরিস্থিতিকে বিবেচনা করা উচিত।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.