| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সংস্কৃতি এমন একটি শব্দ যার অর্থ শুধুমাত্র কয়েকটা বাক্যের সমণ¦য়ে বর্ণনা করা এক কথায় অসম্ভব। সেই প্রাচীনকাল থেকে মানুষকে কেন্দ্র করে চারপাশে গড়ে ওঠা সবকিছু মিলেই কিন্তু সংস্কৃতি। হাঁটাচলা , খাওয়াদাওয়া বা সে যাইহোক না কেন একটা জাতির সবকিছুই নিয়šিত্রত হয় একটি সংস্কৃতির দিয়েই।
একটি শিশু জন্মের পর থেকেই বেড়ে উঠতে থাকে তার নিজস্ব গণ্ডির ভিতর, তার আধো আধো কথা বলা,বেড়ে ওঠা সবই কিন্তু সংস্কৃতিরই একটি অংশ। শিশুটি তার মনের ভাব প্রকাশ করে তার মায়ের মুখে শোনা ভাষায়। কারণ সংস্কৃতির একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে ভাষা। বড় হওয়ার সাথে সাথে শিশুটির গণ্ডিটা বাড়তে থাকে এবং সে হয়ে ওঠে একটি জাতির অংশ তথা একটি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক ।
হাজার বছরের পুরোনো একটি জাতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরে সংস্কৃতি। নির্দিষ্ট কোন ভূখ-ের প্রত্যেকটি মানুষকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয়ের রূপ পায় তার নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমেই। আর সেই দিক থেকে বিচার করলে জাতি হিসেবে বাঙালিদের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি যেমন হাজার বছরের পুরোনো তেমনি সমৃদ্ধ। এই বাংলাতে যেমন আছে লালন, মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল তেমনি আছে ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, বাউল।এটাতো কেবল ক্ষুদ্র একটি অংশ । ইতিহাসের দিক থেকেও কতখানি সমৃদ্ধ । বহু রাজা শাসন করেছে বাংলার মানুষকে তবুও এদেশের মানুষ কখনই অন্যায় মেনে নেয়নি। গড়ে তুলেছে প্রতিবাদের ইতিহাস। এসেছে সাতচল্লিশ,বায়ান্ন এবং একাত্তর ।
এত সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকা সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র শক্তিশালী সংস্কৃতির কল্যাণে যে, তা অনস্বীকার্য। তবে আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে বর্তমানের আধুনিক বিশ্বায়নের যুগের সাথে তাল মেলাতে যেয়ে আমরা যেন ভুলতে বসেছি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির শক্তিকে। হারাতে বসেছি আমাদের শিকড়কে। বৃটিশরা নিয়ে গিয়েছিল আমাদের ধন-সম্পদকে। কিন্তু বর্তমান যুগে আধুনিকায়নের কথা বলে যে নতুন সংস্কৃতির আবির্ভাব ঘটেছে তা কি আদৌ কোন সংস্কৃতি না অপসংস্কৃতির জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেয়া সেটা কি একবার ভেবে দেখেছে এদেশের তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণি। ভার্চুয়াল এ জগতে লালন কিংবা ভাটিয়ালির পরিবর্তে এসেছে রক,পপ। যাত্রাপালার জায়গায় স্থান পেয়েছে হিন্দি সিনেমা। শিশুরা কার্টুন হিসেবে দেখছে ডোরেমন, যার কারণে বাংলার থেকে হাজার গুণে নিম্ন মানের ভাষা হওয়ার পরেও কোমলমতি শিশুদের হিন্দি ভাষার প্রতি দখল বাড়ছে বাংলা ভাষার থেকে অনেক বেশি। দাম্পত্য জীবনে হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাবে অভাবণীয় হারে বাড়ছে সন্দেহ, যার পরিণতি হিসেবে বিবাহ বিচ্ছেদে গড়াচ্ছে । অদ্ভুত এক অবক্ষয়ের দিকে পা বাড়িয়েছে এদেশের যুব সমাজ ।এই অবক্ষয় বা অপসংস্কৃতি কি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলাফল নয় ?
একটি দেশকে তার কাক্ষিত অর্জন থেকে পিছিয়ে দিতে শুধুমাত্র সেই দেশের সংস্কৃতি ধ্বংস করে দেয়াই যথেষ্ট। এই রূঢ় সত্যটা কবে বুঝব আমরা ? সব দেশের সংস্কৃতি অবশ্যই ঐতিহ্যের অধিকারি। কিন্তু সামাজিক প্রেক্ষাপট বা শিক্ষার হার কি সবদেশে একরকম হয় !
প্রত্যেকটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলতে পারে সে দেশের মিডিয়া। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের মিডিয়া এ বিষয়ে কতটুকু ভূমিকা রাখছে তাও প্রশ্নবিদ্ধ । পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে সব জায়গায় তাদের নিজস্বতা রয়েছে। আমাদের দেশের মিডিয়া গুলোর দৃষ্টিগোচর হওয়া উচিত্ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই শুধুমাত্র বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানোর উপরই কত নীতিমালা রয়েছে ।
এদিকে আমাদের মিডিয়া গুলোও দেখি শুধু ২১ফেব্রুয়ারি,২৬ মার্চ বা ১৬ ডিসেম্বরেই সীমাবদ্ধ যাচ্ছে। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে যে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণই বিরাজমান। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে মিডিয়া কেই পালন করতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রণী ভূমিকা। বাচ্চাদের বা হিন্দি সিরিয়ালের উপর দোষ চাপিয়ে দিলেই হবে না বরং দর্শক শ্রেণিকে ধরে রাখতে তাদের বিনোদনের জন্যে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে আমাদেরকেই। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে বাইরের দেশের শিল্পিদের দেশের আনার জন্যে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে,তা না করে সেখানে প্রচলিত কল্পকাহিনি গুলোর জন্যে মুলধন প্রয়োগ করলে এদেশের মানুষ ও সংস্কৃতি দুইই রক্ষা পেত। ঢালাও ভাবে অন্য সংস্কৃতির উপর দোষ না চাপিয়ে বরং নিজ ঐতিহ্য,সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরকেই বুঝতে হবে কোন জায়গায় দাঁড়ি এবং কমা টানা প্রয়োজন।
ভালকে ভাল মন্দকে মন্দ হিসেবে বিচার করার সময় হয়েছে আজ। শুধু মাত্র সবার সচেতনতাই পারে আমাদের হাজার বছরের অতীত গৌরবকে আবারও ফিরিয়ে আনতে ।
©somewhere in net ltd.