নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইসলাম ধর্মে বল প্রয়োগ নেই

I am a simple follower of the Holy Quran------আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে...

কুরআনের সৈনিক

`আপনি তাদের শাসক নন' ইসলামের অতুলনিয় সৌন্দর্যে র মাঝে একটি সৌন্দর্য হল, ধর্মীয় বিষয়ে কেবল উপদেশ দেয়ারই কথা বলা হয়েছে, দারোগাগিরি করার কথা বলেন নি। যেমন আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী খাতামান নাবীঈন (সা.)-কে মানুষের জন্য শাসক রূপে প্রেরণ করেন নি। আর শাসন করা কখনও ইসলামের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল না। ইসলামের মূল উদ্দেশ্য মানুষের আধ্যাত্মিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত। ইসলাম ধর্মীয় ব্যাপারে কোন জবরদস্তি করে না, বরং বারণ করে। স্বয়ং মহানবী (সা.)-কে আল্লাহ তায়ালা সম্বোধন করে বলেছেন, তুমি কেবল নসীহত করতে পার, তুমি কেবল একজন উপদেশদাতা। এর সাথে আল্লাহ তালা শাসন করার বিষয়ে শিক্ষা দিতে গিয়ে মোহাম্মদ (সা.)-কে সম্বোধন করে বলেন ‘আপনি তাদের জন্য শাসক নন।’ উপদেশ দেয়াই হল আপনার কাজ আর যারা অমান্য করবে কথা শুনবে না তাদের জন্য জাগতিক কোন বিধানের কথা বলেন নি বরং বলেছেন, ‘তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট। অতঃপর তাদের নিসাব নিকাশ নেয়া (অর্থাৎ শাস্তি বিধান করা) আমার দায়িত্ব।’ চমৎকার শিক্ষা। পৃথিবীর কোন ধর্মে এমন শিক্ষা খুঁজে পাওয়া ভার। অতএব ধর্মের নামে নৈরাজ্য ও অশান্তি সৃষ্টি করে ইসলামের মৌলিক এমন অনন্য শিক্ষাকে কালিমাযুক্ত করা মোটেও কোন ইসলাম প্রেমীর সাজে না।

কুরআনের সৈনিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্ম রক্ষার জিগির ও নেপথ্য কাহিনি

১১ ই এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৮





যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই এক শ্রেণীর আলেম-উলামা ঈমান রক্ষার দাবীতে ও ধর্ম অবমাননার শাস্তির দাবীতে মাঠ গরম করার পায়তারা কষছে৷ একজন সাধারণ পর্যবেক্ষকের পক্ষেও একথা বুঝতে অসুবিধা হয় না, কারা কার স্বার্থে এসব আন্দোলন রচনার অপচেষ্টা করছে৷

একটু খতিয়ে দেখা যাক, এ চিহ্নিত শ্রেণীর দাবী-দাওয়া কি? এদের দাবী এরা বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করেছে গত ১৯শে ফেব্রম্নয়ারী ২০১৩ তারিখে কয়েকটি দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায় ৷ এদের কথা হলো, ২০১০ সালের জুলাই মাসে কোথাকার কোন ব্লগার তার লেখায় মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করেছিল তাই সব ব্লগারই ইসলাম বিরোধী, নাস্তিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধী৷

এ বিষয়ে দাবী উপস্থাপনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রথম কথা হলো, মহানবী (সা.)-কে যদি ২০১০ সালের জুলাই মাসে সত্যিই কোন হতভাগা অবমাননা করেই থাকে তাহলে তখন কোথায় ছিল আপনাদের ধর্মীয় অনুভূতি আর কোথায় ছিল আপনাদের রসূল-প্রেম? আজ যখন স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রকে জাতি কোনঠাসা করে ফেলেছে তখন হঠাত্‍ করে উথলে উঠেছে আপনাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও রসূল-প্রেম। আপনারা যদি সত্যিই রসূল অবমাননার কারণে উদ্বেলিত হতেন তাহলে ২০১০ সালে আগষ্ট মাসের মধ্যেই আপনারা এসব অভাগার অযৌক্তিক ও অসত্য কথনের যৌক্তিক ও হৃদয়গ্রাহী সদুত্তর প্রদান করতেন ৷ এরপরও এই গুটিকতক তথাকথিত সন্দেহবাদীরা যদি আপনাদের প্রদানকৃত উত্তরের কোন পাল্টা যুক্তি দাঁড় করাতো, আপনারা নির্ভীক জ্ঞান তাপস হিসেবে সেগুলোরও অকাট্য খন্ডন প্রকাশ করে দিতেন ৷ কিন্তু না; আপনারা আলেম-আল্লামা নামধারী হওয়া সত্ত্বেও এ কাজ করেন নি ৷ অঘটন ঘটার তিন বছর পর যখন রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে একদল যুদ্ধাপরাধী জালে আটকে গেছে তখন আপনারা নিরীহ ধর্মপ্রাণ ছাত্র ও জনগণকে ধর্মীয় অনুভূতিতে সুড়সুড়ি দিয়ে তাদেরকে মাঠে নামানোর অপচেষ্টা করছেন ৷ ঝোপ বুঝে কোপ মারা আর কাকে বলে!

এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় কথা ধর্মপ্রাণ নিরীহ জনগণকে বলতে চাই, 'চিলে কান নিল, কান নিল- চীত্‍কার শুনলেই কি দিক-বিদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে চিলের খোঁজে ছুটতে হয়? বুদ্ধিমানদের মত একবার কানে হাত দিয়ে দেখতে হয় না? সত্যিই কি ধর্ম অবমাননা বা রসূল (সা.) অবমাননা করা সম্ভব? বাংলায় প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে৷ তা হলো, চাঁদে থুথু দিলে সে থুথু নিজের মুখেই পড়ে, চাঁদে পৌঁছায় না ৷ তাই যদি হয়, তাহলে সবচেয়ে সম্মানিত রসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.) বা পবিত্র ইসলামের বিরুদ্ধে আজে বাজে কথা বললে এতে ইসলামের কী ক্ষতি হতে পারে? আমাদের ধর্ম কি এতই ঠুনকো যে, মানুষের মুখের কথায় তা নষ্ট হয়ে যাবে? যে ধর্ম শত-সহস্র বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে ১৪'শ বছর পার করে টিকে গেছে সেটি সামান্য দু'একজন হতভাগা মানুষের কথায় ধ্বংস হয়ে যায় কীভাবে? মহানবী (সা.)-কে প্রথমে মক্কায় এবং পরবর্তীতে মদীনায় কত কটু-কথা, কত অপমান সহ্য করতে হয়েছে৷ এ কারণে কি তিনি কাউকে শাস্তি দিয়েছেন? কক্ষনো না৷ আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি, ধর্ম জগতের সবচেয়ে বড় অপরাধ হচ্ছে শিরক বা খোদার সাথে কাউকে সমকক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর বিষয়টি ৷ কিন্তু এ সত্ত্বেও শিরকের কারণে কোন জাগতিক শাস্তি প্রদানের বিধান নেই ৷ কেন? কারণ হলো, আল্লাহ স্বয়ং এর বিচার করবেন, বান্দা করবে না ৷ বরং মুশরিকরা যেসব জিনিষ বা মানুষকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায় তাদেরকেও মন্দ নামে ডাকতে খোদা তায়ালা নিষেধ করেছেন (সূরা আনআমঃ আয়াত, ১০৮)৷ যদি সবচেয়ে বড় গর্হিত ধর্মীয় অপরাধ শিরকেরই কোন জাগতিক শাস্তি না থাকে তাহলে অন্যান্য অপকর্মের ক্ষেত্রে আমাদের এত বাড়াবাড়ি কেন? আমরা কি তবে নৈরাজ্য সৃষ্টির কাজে লিপ্ত হচ্ছি! অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, নৈরাজ্য সৃষ্টি হত্যার চেয়েও গর্হিত অপরাধ! আল ফিতনাতু আশাদ্দু মিনাল কাত্লি (সূরা বাকারাঃ আয়াত, ১৯১)৷



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.