নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইসলাম ধর্মে বল প্রয়োগ নেই

I am a simple follower of the Holy Quran------আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে...

কুরআনের সৈনিক

`আপনি তাদের শাসক নন' ইসলামের অতুলনিয় সৌন্দর্যে র মাঝে একটি সৌন্দর্য হল, ধর্মীয় বিষয়ে কেবল উপদেশ দেয়ারই কথা বলা হয়েছে, দারোগাগিরি করার কথা বলেন নি। যেমন আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী খাতামান নাবীঈন (সা.)-কে মানুষের জন্য শাসক রূপে প্রেরণ করেন নি। আর শাসন করা কখনও ইসলামের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল না। ইসলামের মূল উদ্দেশ্য মানুষের আধ্যাত্মিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত। ইসলাম ধর্মীয় ব্যাপারে কোন জবরদস্তি করে না, বরং বারণ করে। স্বয়ং মহানবী (সা.)-কে আল্লাহ তায়ালা সম্বোধন করে বলেছেন, তুমি কেবল নসীহত করতে পার, তুমি কেবল একজন উপদেশদাতা। এর সাথে আল্লাহ তালা শাসন করার বিষয়ে শিক্ষা দিতে গিয়ে মোহাম্মদ (সা.)-কে সম্বোধন করে বলেন ‘আপনি তাদের জন্য শাসক নন।’ উপদেশ দেয়াই হল আপনার কাজ আর যারা অমান্য করবে কথা শুনবে না তাদের জন্য জাগতিক কোন বিধানের কথা বলেন নি বরং বলেছেন, ‘তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট। অতঃপর তাদের নিসাব নিকাশ নেয়া (অর্থাৎ শাস্তি বিধান করা) আমার দায়িত্ব।’ চমৎকার শিক্ষা। পৃথিবীর কোন ধর্মে এমন শিক্ষা খুঁজে পাওয়া ভার। অতএব ধর্মের নামে নৈরাজ্য ও অশান্তি সৃষ্টি করে ইসলামের মৌলিক এমন অনন্য শিক্ষাকে কালিমাযুক্ত করা মোটেও কোন ইসলাম প্রেমীর সাজে না।

কুরআনের সৈনিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলাম সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করে

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:৪২



মৌলভী জাফর আলী খান সাহেব নামে একজন লিখেছেন, স্বাধীন চিšÍন্তা-চেতনার বিশ্বাস পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আমদানীকৃত ৷ এই ধারণা মুসলমানরা পশ্চিমাদের কাছ থেকে শিখেছে ৷ কিন্তু মৌলভী জাফর আলী খান সাহেবের জানা উচিত, ব্যক্তি-স্বাধীনতার নীতি পশ্চিমাদের কাছ থেকে ধার করা নয় বরং এটি সেই নীতি যা সর্বপ্রথম কোরআন শরীফ বিশ্বকে শিখিয়েছে ৷ আকাশের নীচে কেবল একটি ঐশী গ্রন্থই আছে যা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ব্যক্তি-স্বাধীনতাকে প্রতিষ্ঠিত করে ৷ আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে কোরআন শরীফে ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে যে শিক্ষা দেয়া হয়েছে এমন শিক্ষ বিশ্বের আর কোন ঐশী কিতাব বা অন্য কোন কিতাবে খুঁজে পাওয়া যায় না৷ পশ্চিমা বিশ্ব যদি ধর্মীয় স্বাধীনতা শিখে থাকে তাহলে তারা তাদের উপর কৃত অত্যাচার নিপীড়ন ও বাড়াবাড়িতে অতিষ্ট হয়ে শিখতে বাধ্য হয়েছে ৷ ধর্মের নামে পশ্চিমাদের উপর যে

অবর্ণনীয় অত্যাচার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের যাতনার মাধ্যমে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং হত্যা করা হয়েছে আর এরই ফলশ্রুতিতেই তাদের মনে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঘৃণার জন্ম হয়েছে এবং এক প্রকার অতিষ্ট হয়েই তাদের মন ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি ঝুকেছে ৷ তারা এই শিক্ষা খৃষ্টধর্ম হতে লাভ করে নি বরং খৃষ্টান বযুর্গদের রক্তপাতের ঘটনা থেকে শিখেছে তাই এই শিক্ষা অর্জনের জন্য কাউকেই কৃতিত্ব দেয়া যায় না ৷ অপরদিকে আমাদের আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর ঐশী কিতাবে এ বিষয়ে নীতিগত শিক্ষা দিয়েছেন ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে কত স্পষ্ট শিক্ষা দিয়েছেন দেখুন, আল্লাহ তায়ালা বলেন:

ইন্না হাযিহী তাযকিরাতুন ফামান শাআত্তাখাযা ইলা রাবি্বহী সাবীলা (সূরা মুয্যাম্মেলঃ আয়াত ১৮ ও ১৯)

এরপর দেখুন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, কালস্না ইন্নাহু তাযকেরাতুন ফামান শাআ যাকারাহু (সূরা মুদাস্সেরঃ আয়াত ৫৪ ও ৫৫)

এরপর আল্লাহ তায়ালা বলেন, কুলিল হাক্কু মির রাবি্বকুম ফামান শাআ ফালই'মিন ওয়া মান শাআ ফালইয়াকফুর৷ (সূরা কাহ্ফঃ আয়াত ২৯)

এসব আয়াত হতে এ বিষয়টি দিব্য-দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যায়, ধর্মের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছেন ৷ আল্লাহ তায়ালা সত্য ও মিথ্যার বিবরণ স্পষ্টভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছেন ৷ সত্য পথে পরিচালিত হবার উপকারিতা এবং বক্র ও ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হবার অপকারিতা ও ক্ষতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন৷ এরপর মানুষ চাইলে সত্য পথ অবলম্বন করতে বা আর চাইলে বক্র-পথ অবলম্বন করতে পারে ৷ এমন স্পষ্ট অতুলনীয় শিক্ষার বর্তমানে কীভাবে বলা যায় যে, ইসলামে শিক্ষা হল, যারা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে মুরতাদ হতে চাইবে তাদেরকে তরবারির জোরে ইসলাম ধর্মে থাকতে বাধ্য করা হবে? আর যারা ইসলাম ধর্মে থাকতে চাইবে না তাদেরকে তাত্‍ক্ষণিকভাবে হত্যা করতে হবে? এমন ঘৃণ্য একটি শিক্ষা এক মুহূর্তের জন্যও কি কোরআনের মত কিতাবের প্রতি আরোপ করা যায়, যা দৃঢ় কন্ঠে বলছে, সত্য ও মিথ্যার পথ আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে বর্ণনা করে দিয়েছেন এবং উভয় পথ অবলম্বনের উপকারিতা ও অপকারিতাও বিস্তারিতভাবে বলে দিয়েছেন? অতএব এখন প্রত্যেকের অধিকার আছে সে চাইলে সত্যকে গ্রহণ করতে পারে আর চাইলে মিথ্যা ও বক্র-পথ অবলম্বন করতে পারে ৷ তাকে তার কৃতকর্ম অনুযায়ী প্রতিফল দেয়া হবে৷

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.