নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ব্লগিং জগতে প্রথম ঢুকলাম...

জীবনের পথে চলা নবীন এক পথিক...

রাফীদ চৌধুরী

জীবনকে সাজাতে চাই সুন্দর বাগিচায়... তাই করি যা মনে চায়... live it love it ENJOY it!!

রাফীদ চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

আনমনে...ফিরে দেখা...(৩)

৩০ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:২১

কয়েক দিন পার হয়ে গেল এর মাঝে। সব কিছুর ব্যাস্ততার মাঝে হিমসিম খাচ্ছি। আব্বুর সাথে তার অফিসেও যেতে হচ্ছে মাঝে মাঝে। তার পার্টনারদের আমাকে চিনিয়ে রাখার জন্য নাকি এই ব্যবস্থা। যাই হোক আব্বুর সাথে গাড়ি করে ফিরে আসছি, ধানমন্ডি ৭ এর সামনে জ্যামে বসে বোর হচ্ছি আর হাত দিয়ে কল্পনার মাঝে গীটারের তারে হাত বুলাচ্ছি, তখন হঠাৎ চোখে পড়ল তাকে।

জানালার গ্লাস নামিয়ে দেখলাম, সত্যি কি না। হ্যা কোন সন্দেহ নেই। হেটে হেটে যাচ্ছে, হাতে স্ক্রীপ্ট রাইটের ব্যাগ। চুলগুলো ছড়িয়ে রেখেছে, হাটার সাথে সাথে ঢেউ খেলছে ওর চুল।

ইশ! মেয়েটা চুল বেধে কেন ভার্সিটি আসে?

পাশ দিয়ে যাবার সময় চোখাচোখি হয়ে গেল। হালকা হাসলাম আমি। আমাকে দেখে থেমে দাড়িয়েছিল, মাথাটা একটু ঝাকিয়ে আবার হাটতে শুরু করল। নার্ভাস ভঙ্গিতে মাথা ঝাকানোটা আমার পছন্দ হল। আচ্ছা আমাকে দেখলে এত নার্ভাস হয় কেন তানিয়া?









পরের দিন বাসার পথে বাসের মাঝে দেখলাম তানিয়াকে। কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনে যাচ্ছে আর বাইরে তাকিয়ে কি যেন দেখছে।

আচ্ছা কি গান শুনতে পারে এমন মনযোগ দিয়ে?

পাশের সিটে গিয়ে বসলাম!

হঠাৎ তাকিয়ে হকচকিয়ে গেল সে। চুল ঠিক করে সোজা হয়ে বসল। কান থেকে হেডফোন খুলে নিয়েছে।

কেমন আছো তানিয়া?

হালকা মাথা দোলালো সে। আপনি?

এই তো মোটামুটি… মানে ভালো। তা কি গান শুনছিলে?

ভয়ার্ত চোখে তাড়াহুড়ো করে মোবাইল থেকে হেডফোনটা ছুটিয়ে ব্যাগে ভরল সে। না…তেমন কিছু না! চুলগুলো আবার মুখ থেকে সরাল। আবার নার্ভাস ভাবটা ফিরে এসেছে তার মাঝে।

তার এমন কান্ড দেখে হেসে ফেললাম আমি। না এত ভয় পাবার কিছু নেই! হাসতে হাসতে বললাম। প্রব্লেম হলে অন্য সিটে বসতে পারি…

না না সমস্যা নেই!

নেই? আচ্ছা যাও ঠিক আছে!

কাল কোথায় গিয়েছিলে? ধানমন্ডিতে দেখলাম যখন…

ও! ওখানে? ওখানে এক বান্ধবীর বাসায় গিয়েছিলাম আর কি! আপনি গাড়িতে ছিলেন মনে হচ্ছে?

হা আমার ওদিকে যেতে হচ্ছিল আর কি…

চুপচাপ বসে রইলাম… তানিয়া যেন মূর্তির মত বসে আছে। আড়চোখে তাকালাম, পাশে থেকে দেখতে মেয়েটাকে আরো অনেক সুন্দর মনে হয়। মাথা নিচু করে বসে আছে। ব্যাগের চেইন ধরে আনমনে টানছে। বাস থেকে নেমে পাশাপাশি হাটতে থাকলাম আমরা। অস্বস্থিকর নিরবতা চলে এল। আমি আর সে একি দিকে থাকি, কিন্তু অজানা একজনের সাথে হেটে গেলে যেমন লাগে আর কি… কি বলব বুঝতে পারছি না।

উম… তোমার বান্ধবী সেদিন বলল… কি গান কর তুমি?

তেমন কিছু না! যেন ব্যাপারটা কিছুই না।

তাই? রবীন্দ্রসংগীত কিছুই না?

না তা নাহ।

আমি শুনেছি ক্ল্যাসিকাল গান শেখা অনেক কঠিন। আমি বললাম। কবে থেকে শিখছ তুমি?

ছোটবেলা থেকে, আমার মা আমাকে শেখাতো… এর পর ছায়ানটে ভর্তি হলাম… সেখান থেকে…

বাহ ছোটকাল থেকেই গান গাও! তাই তো বলি ব্যান্ড মিউজিক কেন সহ্য করতে পারো না!

না…ব্যাপারটা তা না…! অস্বস্থির সাথে বলল তানিয়া। এখন আমার পাশাপাশি হাটছে।

তাই? হেসে ফেললাম। সেদিন কিন্তু কথাটা অন্যরকম শোনাচ্ছিল। এখান থেকে তুমি বায়ে চলে যাবে তাই না?

আলতো করে মাথা ঝাকাল তানিয়া।

আমার আরো সামনে যেতে হবে। তো আবারো হয়তো দেখা হবে হুম?

আবারো মাথা ঝোকালো সে। চোখ নিচের দিকে, আমার দিকে তাকাচ্ছে না।

আর… খোলা চুলে তোমাকে অনেক সুন্দর দেখায়! ওভাবে আসতে পারো না?

ঝট করে তাকালো সে, চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেল। মুখ লালচে হয়ে গেছে। কি বলবে বুঝতে পারছে না। তার চেহারা দেখে হঠাৎ গাল টিপে দিতে ইচ্ছে করল আমার ভীষণ!

মুচকি হাসলাম আমি, ঠিক আছে দেখা হবে! ভালো থেকো!

সে কোনরকম পালালো গলিটা দিয়ে। হেসে ফেললাম আমি। আর অবাক হয়ে ভাবছি কি করে যাচ্ছি আমি!



প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

মন্তব্য ০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.