| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
প্রশ্নটা শুনতে বেশ ভারী আর দার্শনিক ঠেকছে, তাই না? সোশ্যাল মিডিয়ার ইনটেলেকচুয়াল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গম্ভীর প্রফেসর , সবাই ইদানীং কপালে ভাঁজ ফেলে এই এক প্রশ্নই করছেন। নেপালের জেন-জি অভ্যুত্থানের নায়করা ক্ষমতায় যেতে পারল, কিন্তু বাংলাদেশের এনসিপি কেন পারল না? চমৎকার বিতর্ক ! শুধু সমস্যা একটাই—তুলনাটা করার আগে যে তুলাদণ্ডটা ঠিকঠাক মিলিয়ে নেওয়া দরকার ছিল, সেই শ্রমটুকু কেউ দেন নি ।
একটু নেপালের দিকে তাকানো যাক। রবি লামিছানে কিন্তু আকাশ থেকে টুপ করে পড়েননি। তিনি আমেরিকায় সাধারণ অভিবাসী হিসেবে সাবওয়ে রেস্টুরেন্টে কাজ করেছেন, সেখান থেকেই সাংবাদিকতায় পড়াশোনা। ২০১৭ সালে আমেরিকান নাগরিকত্ব বিসর্জন দিয়ে দেশে ফিরে ‘সিধা কুরা জনতা সঙ্গ’ শো-তে মন্ত্রী-আমলাদের ঘাম ছুটিয়ে ছাড়তেন। ২০১৩ সালে টানা ৬২ ঘণ্টার টক শো করে গিনেস রেকর্ড গড়া এই মানুষটি বছরের পর বছর জনমানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছেন। এরপর ২০২২ সালে যখন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) গড়লেন, তখন তার পেছনে ছিল দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা।
আবার বালেন্দ্র শাহর কথাই ধরুন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে ভারত থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করা এই তরুণ ২০১২ সাল থেকেই র্যাপ সংগীতের মাধ্যমে সমাজের পচন ধরিয়ে দিচ্ছিলেন। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র হয়ে তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আর স্বচ্ছতার যে নজির গড়েছেন, তা মিথ হয়ে গেছে। তাকে যখন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হওয়ার টোপ দেওয়া হলো, তিনি সগৌরবে তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন; আমি ভোটে জিতেই আসব। ২০২৫-এ এসে যখন এই দুই পরীক্ষিত জননেতা এক হলেন, তখনই আরএসপি অজেয় শক্তিতে পরিণত হলো। এটাই তাদের আসল ম্যাজিক।
উল্টো দিকে এনসিপির যাত্রাটা যেন অনেকটা রেডিমেড গল্পের মতো। আন্দোলন হলো, সরকার পড়ল, আর অমনি দলের নেতারা নতুন সরকারের উপদেষ্টা সেজে বসলেন ! ডিসি-এসপি পদায়নের মতো প্রশাসনিক সুবিধাও তাদের হাতের নাগালে চলে এল। এমনকি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসও তাদের প্রতি যে বিশেষ উষ্ণতা দেখিয়েছেন, তা একজন নিরপেক্ষ অভিভাবকের সাজে কি খুব একটা মানানসই ছিল? নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধান সুশীলা গার্কি কিন্তু কেবল নির্বাচনটাই করিয়েছিলেন, কোনো বিশেষ দলের পিঠ চাপড়ে দেননি। পার্থক্যটা ঠিক এখানেই।
এখন অনেকে অজুহাত দিচ্ছেন যে বিএনপি-জামায়াতের মতো বিশাল ভোটব্যাংকের সামনে মাঠ নাকি খুব কঠিন ছিল। মেনে নিলাম। কিন্তু একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন আরএসপি কোনো রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য ছাড়াই একদম সহজ মাঠে গোল দিয়েছে, আর এনসিপি সব রকম রেফারি সাপোর্ট পেয়েও কঠিন মাঠে খেই হারিয়ে ফেলেছে। তাহলে তুলনাটা আসলে কার পক্ষে যাচ্ছে? তার ওপর দলটির গায়ে লেগেছে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ আর মব কালচারকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো গুরুতর সব অভিযোগ। এগুলো কোনো রটনা নয়, একদম শ্রীঘর আর মামলার নথিপত্র। আরএসপির খাতায় এমন কালিমার ছিটেফোঁটাও নেই।
সবচেয়ে বড় গোলমালটা পাকিয়েছে তাদের মতাদর্শ নিয়ে। এনসিপি নিজেদের মধ্যপন্থী দাবি করলেও তাদের আসল চেহারাটা আসলে ধোঁয়াশায় ঘেরা। মুখে প্রগতিশীলতার বুলি অথচ কাজে বারবার কট্টর ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়া - এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষ ধরে ফেলেছে। জামায়াতের সাথে জোট করবে না বলে কসম কেটে শেষে সেই নির্বাচনী সমঝোতাতেই যাওয়া ! অর্থাৎ, নিজেদের ঘর সামলাতেই তারা হিমশিম খাচ্ছিল। বিশেষ করে নারী অধিকারের প্রশ্নে তাদের অস্পষ্ট অবস্থান আর নারীবিরোধী শক্তির সাথে গোপন আঁতাত বলে দেয়-তাদের পরিবর্তনের দাবিটা আসলে কতটা ফাঁপা ছিল।
আসলে আমরা ভুল অংকে উত্তর খুঁজছি। আরএসপি আর এনসিপি কক্ষনোই এক জিনিস নয়। একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ফসল, অন্যটি স্রেফ অ্যাক্টিভিজমের জোয়ারে ভেসে আসা এক অপক্ক আয়োজন। একটি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে, অন্যটি রাষ্ট্রীয় ছাতার নিচে রোদ পোহাতে চেয়েছে। এই দুইয়ের তুলনা করা মানে হলো: দুই দৌড়বিদের একজন সাইকেলে চড়ে এসেও হেরে গেছেন, আর আমরা গভীর উদ্বেগে ভাবছি পায়ে হেঁটে আসা লোকটা কেন জিতল ! রাজনীতিতে মোড়ক বদলালেই ভেতরের জিনিস বদলায় না ; এটা বুঝতে বাংলাদেশের মানুষের বেশি সময় লাগেনি ।
নেপালে আরএসপি পারল, বাংলাদেশে এনসিপি কেন পারল না - প্রথম আলো
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভারতের জনগণ কবে বুঝবে মোদি যে সমাজ কে বিভাজিত করে ফেলেছে ? কোনো কারণ ছাড়াই মুসলিম দের মারে , খুন করে বিজেপি আর আরএসএস জল্লাদেরা ।
২|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২৬
মেঠোপথ২৩ বলেছেন: যে পরিমান ইফতার পার্টি, মৌজ মাস্তি নিয়ে বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এনসিপির নেতারা , তাতে এনসিপির সামনে সুন্দর কোন ভবিষ্যত দেখতে পারছি না।
৩|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৩৭
ধুলো মেঘ বলেছেন: জুলাই বিপ্লব একটা অসাধারণ ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে পারত। এই বিপ্লবের অর্জন খেয়ে ফেলেছে মূলত তিনটি ঘটনাঃ
১। অনলাইন দেবতা পিনাকী-ইলিয়াসের ডাকে ৩২ নং ধানমন্ডি অসভ্য জানোয়ারের মত গুঁড়িয়ে দেওয়া।
২। হাদী হত্যাকান্ডের বিচার দাবীতে ভারতীয় দূতাবাসকে টার্গেট করে হামলার চেষ্টা করা, হাসানাত আবদুল্লাহ কর্তৃক সেভেন সিস্টার স্বাধীন করে দেবার শিশুসুলভ হুমকি।
৩। প্রথম আলো - ডেইলি স্টারের সামনে গরু জবাই ও জিয়াফত পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু অগ্নিসংযোগ করে সাংবাদিক হত্যার চেষ্টা, ছায়ানট ও উদীচির কার্যালয়ে হামলা - এই সো কল্ড জেনজিকে বর্বর হিসেবে চিহ্নিত করে দিল।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৫
ঊণকৌটী বলেছেন: নেপালের জনগণের মধ্যে সত্যিকারের দেশপ্রেম আছে, তারা সর্বোচ্চ দেশের হিতসাধনকারী কে সেইটা বুঝতে পেরেছেন |