নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রাকিব রোকন

খুব আড্ডাবাজ, মিশুক আর ভাবুক একজন মানুষ আমি।

রাকিব রোকন › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্রপল্লীতে !!!

০৫ ই জুন, ২০১৩ রাত ১২:১৩

এখন শহর আর গ্রামের মধ্যে পার্থক্যটা এতটাই প্রকট যে একটু ঊঁকি মারলেই তা চোখে পড়ে। শিক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিতসা, বাজার, সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রেই শহরের মানুষ গ্রামের মানুষের চেয়ে এ সুবিধাগুলো বেশি পেয়ে থাকে।

ভালো ভালো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সবগুলোই নগরপ্রধান। গ্রাম বা মফস্বল শহরে আপনি কোনো ইংরেজি মাধ্যম স্কুল খুঁজে পাবেন না। পেলেও সেটা নার্সারি/প্লে গ্রুপ পর্যন্তই। সংস্কৃতির বিকাশে যেসকল প্রতিষ্ঠান মূখ্য ভূমিকা পালন করে তাও নগরকেন্দ্রিক। চিকিতসা সেবা সেটা তো শহরেই ভালো পাওয়া যায়। ভালো কোন জিনিস কিনবেন? মফস্বল শহরে আপনার কাছে বিকল্প খুব কমই আছে। দোকানদাররাও তা ভালো করেই জানে। ফলে পছন্দসই জিনিস পেতে যেমন ঘাম ঝরাতে হয় তেমনি মূল্য গুনতে হয় একটু বেশিই। যেমনঃ আপনি যে টি-শার্ট নিউমার্কেটে ১৫০ টাকায় কিনতে পারবেন মফস্বল শহরে তা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় কিনতে হবে আপনাকে, তাও যে আপনি ঠিক ঐটাই পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। গ্রামে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস এসে তা নিভিয়েছে এমনটা কেউ কখনো শুনেছেন কিনা জানিনা, তবে আমি শুনিনি। ঢাকা শহর কিংবা বিভাগীয় শহর গুলোতে কিছু ফল আপনি বারো মাসই কিনতে পাবেন যা গ্রামাঞ্চলে কল্পনাতীত। দ্রুতগতির ইন্টারনেট কানেকশন গ্রামে থেকে চাওয়াটা অনেকেই বোকামী মনে করেন।



দৃশ্যত এই পার্থক্যগুলো সবাই দেখেও না দেখার ভান করে চলে; অনেকে হয়ত দেখেও দেখে না। কর্তৃপক্ষ ভাবেন শহরে মানুষের চাপ কীভাবে সামলানে যাবে? নতুন নতুন পরিকল্পনা করেন, মিটিং করেন, ওয়ার্কশপের আয়োজন করেন। এটা করেন, ওটা করেন, আরও কত কী যে করেন !!!

মানুষের আর দোষ কী বলুন? যাদের ঘটে বুদ্ধি আর পকেটে টাকা আছে তারা তো এই পার্থক্য দেখেই শহরমুখি হচ্ছে। আর যাদের বুদ্ধি আছে কিন্তু টাকা নাই তারা অনেকটা বুদ্ধির উপর ভর করেই নগরে পা ফেলছে। আর কর্তৃপক্ষ মাথায় হাত দিয়ে বসে বসে ভাবছে। কোন কারখানা কোথায় নিয়ে গেলে মানুষ কমবে, কোন পলিসি নিলে লোকজন এমুখো হবে না। অনেকটা বাহারী ফুলের বাগান করে মৌমাছি আটকানোর চিন্তা করার মত। ফলে বাড়ছে নানা সমস্যা। শহর গুলতে জনসংখ্যার ঘনত্ব, বাসস্থানের সমস্যা, ঝুঁকিতে পড়ছে আবাসন ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা আটকে পড়ছে জ্যামে, পরিবেশ দূষণ, শব্দ দূষণ আরো কত কী। কিন্তু কেউ এ দিকটা নজরে আনছেন না। শহর আর গ্রামের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনতে তেমন উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। তাই মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে দিনকে দিন গ্রামের মানুষ পিছিয়ে যাচ্ছে। আর শহর গুলো পরিনত হচ্ছে ঘিঞ্জি বস্তিতে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যদি 'সকলের সমান অধিকার' শুধুমাত্র এই একটা নীতি নিয়েও কাজ করতেন তাও এসকল সমস্যার সমাধান করা যেত। কিন্তু তাদের সময় নেই। আর যাদের সময় আছে তাদের কিছুই করার নেই। তাই তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেই ফেলেন, "ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্রপল্লীতে; এইখানে তাঁহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।"

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.