নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কে বলেছে স্রষ্টা অবতার পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে ?এখনও পাঠাচ্ছে মানব সমাজের মুক্তি বা সংস্কারে । ত্রাণকর্তা হিসাবে আবির্ভূত হয় কেউ না কেউ । যাদের কে পাঠান তাঁরা যুগের স্রষ্টা । তাঁরা গেয়ে যান মানবতার জয়গান । হ্যা তাঁদের অলৌকিক ক্ষমতা নেই ,নাযিল হয়নি কোনো ঐশী বাণী বা স্রষ্টার সানিধ্যে সাক্ষাত করাও সুযোগ হয়নি । কিন্তু সে সব মহাপুরুষদের স্রষ্টা একটু বেশিই বোধহয় দিয়েছেন । তাদের কে আমি অবতার বলবো না ঠিক, এ স্থানের পরে, যা থাকবে নিশ্চয় সেটাই ফেলা যাবে ।
গোবরে পদ্ম ফুল ফোটে এই লোক কথাটি শতভাগ প্রযোজ্য কাজী নজরুল ইসলাম ও শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে । কেউ কল্পনাও করতে পারেনি; চরুলিয়া,টুঙ্গি পাড়ার মত অজপাড়া গাঁয়ে
সর্বশ্রেষ্ঠ দুই বাঙালির জন্ম হবে । যেখানে অশিক্ষা,কুসংস্কার,অনাহারে-অনাদরে ক্ষুধায় কান্না ভেসে আসতো আকাশে বাতাসে ।অনেকের সন্ধ্যার পর ঘরে প্রদীপ জ্বেলে দেবার মত ও ক্ষমতা ছিলো না ।
বাংলাদেশ নামক চিত্রনাট্য রচনার কাজ শুরু হয়েছিলো হাজারো বছর আগে । যেখানে সমাজের নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তর কারও অবদান কম নয় । এসব গণমানুষের দাবি অগ্নিময় হাতে কলম ধরেছেন নজরুল;কলম নিঃসৃত অগ্নি ফুলিঙ্গের মাধ্যমে ছিঁড়েছেন বাঙালির মন । তিনি ভীরু বাঙালিকে প্রতিবাদী হওয়ার মন্ত্র শেখালেন আর তার বাস্তব রুপ দিতে উচ্চ কণ্ঠে পর্দার সামনে আনলেন শেখ মুজিব । তার ও আগে বাংলাদেশে ভ্রণ জন্ম নিয়েছিল কবির ‘বাংলাদেশ’ কবিতায় ।তখন বাঙালীর প্রবাদ পুরুষ হয়তো ব্যস্ত ছিলেন ঘুড়ি উড়াতে,কোন পাখির বাসায় কয়টা ডিম,কবে বাচ্চা ফুটবে, সে সব শৈশবের কাজে ।
……..সময়কাল ১৯২৯ সালের ১৫ ডিমেস্বার ।কাজী নজরুল ইসলামকে বাঙালী জাতির পক্ষ থেকে জাতীয় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়েছিল । সে দিন আরেক গুণী বাঙালি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বলেছিলেন‘‘ফরাসি বিপ্লবের সময় প্রত্যেক মানুষ অতি মানবে পরিণত হয়েছিল,আমার বিশ্বাস,নজরুলের কবিতা পাঠে আমাদের ভাবী বংশধরেরা এক অতি মানবে পরিণত হবে ।’
এই গুণীজনের আহবান কি বিফল হয়েছে ? আচ্ছা ১২ বছর বয়সী শেখ মুজিব কি সেদিন, শুনেছিলেন এ আহবান ।!সেটার প্রমাণ তো ৫২,৬৬,৭১ সালেই পাচ্ছি আমরা ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবির কিছু কথা না বললেই নয় ।
বলেছিলেন-
‘বিংশ শতাব্দীর অসম্ভবের সম্ভবনার যুগে জন্মগ্রহণ করেছি।এরি অভিযান সেনাদলের তুর্যবাদকের একজন আমি ।এই হোক আমার বড় পরিচয়। আমি জানি ,এই পথ যাত্রার পাকে পাকে বাঁকে বাঁকে কুটিল ফণা ভুজঙ্গ,প্রখর দংশন শার্দুল পশুরাজের ভ্রুকুটি! এবং তাদের নকর দংশনের মত আজো আমার অঙ্গে অঙ্গে। তবু এই পথ আমার ,ওই পথ আমার গতি,ওই আমার ধ্রুব।আমি শুধু সুন্দরের হাতে বীণা,পায়ে পদ্মফুলই দেখিনি,তাঁর চোখে জলভরা জল ও দেখেছি।শ্মাশানেরপথে, গোরস্থানের পথে তাকে ক্ষুধা-দীর্ণ মূর্তিতে,ব্যথিত পায়ে চলে যেতে দেখেছি । যুদ্ধভূমিতে তাঁকে দেখেছি,কারাগারে অন্ধকারে তাকে দেখেছি,ফাঁসির মঞ্চে তাকে দেখেছি ।’
আমার রবীন্দ্রনাথের একটি গান মনে পড়েছে‘‘আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান’’
নজরুলও জেনে শুনে অমৃতের বিষ পান করেছিলেন এবং অমরত্ব পেয়েছেন ।
বিদ্রোহী কবিতা শুনেননি এবং ৭ মার্চের ভাষণ দেখেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না । একটি জিনিস খেয়াল করেছেন কি ?
বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!.....
বঙ্গবন্ধুর ভাষণের অঙ্গ ভঙ্গি সাথে কণ্ঠ সব কিছুই মিলে গেল বিদ্রোহী কবিতার সাথে । এ তো কবির বিদ্রোহী কবিতার বাস্তব রুপ । এমন ই কি চেয়েছিলেন সংগ্রামী কবি ?
দু’জন মানুষের মাঝে অনেক মিল খুঁজে পাই । উভয়ে একই সাথে মানতাবাদী,গণতন্ত্রে বিশ্বাসী,সমাজতন্ত্রী, সাম্যবাদী,সংগ্রামী,নীতির কাছে আপোষহীন ,সকল জাতির , মানবতাবাদী,,গণ মানুষের বাঙালি । এমন ধর্মনিরপক্ষ বাঙালি একজনও নেই ।নজরুলের সাম্যবাদী যারা পড়েছেন । তাঁরা জানেন কতটা ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন তিনি।
‘‘কোন্ রণে কত খুন দিল নর,লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর,লেখা নাই তার পাশে’’
সাম্যবাদী-নজরুল
একজনের কিছু কথা যোগ করি ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলার বাস্তব স্রষ্টা । নজরুল বাঙালির বিদ্রোহী আত্মার রুপকার ,মুজিব বিদ্রোহীর প্রত্যক্ষ প্রতিকৃতি।নজরুল চেয়েছিলেন প্রতিটি বাঙালি সৈনিক হোক আর বঙ্গবন্ধু ভীরু বাঙালিকে পরিণত করেছিলেন মরণজয়ী মুক্তিযোদ্ধায়।নজরুলের বাংলার জয় আর বঙ্গবন্ধুর জয় বাংলা অভিন্ন উৎস থেকে উৎসারিত ।
মুহাম্মদ নরুল হুদা
জানি আপনার পড়তে কষ্ট হচ্ছে,দয়া করে একটু সময় দিন,শেষ প্রায় । চমক বাকি !
শেখ সাহেব যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গঠনের সাথে দৃপ্ত হাতে উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন; কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে নিয়ে অাসতে । কবির জন্ম দিন উপলক্ষে স্বস্বাক্ষরিত ‘হে কবি’ সম্মোধন করে আমন্ত্রণ জানিয়ে পত্র পাঠান শেখ মুজিব ।ভারতের বেশ কিছু প্রভাবশালী মানুষ স্বাভাবিক ভাবে বিরোধীতা করেছিলেন । কিন্তু মুজিব বোন ইন্ধীরা গান্ধীর আন্তরিকতা ও তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কাছে সব কিছু গুড়ে বালি
হয়ে গিয়েছিলো ।
কবি আসলেন,বিমান বন্দরে হাজার হাজার ফুলের ডালি নিয়ে আগত কবিকে বরণ করে নিতে জড়ো হয়েছিলো হাজার হাজার বাঙালী । এত লোক সমাগমের কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কবিকে আ্যাম্বুলেসে করে সোজা কবি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় । কবি ভবনকে শেখ মুজিব খুব সুন্দর করে সাজিয়েছিলেন । কিছুক্ষণ পর কবি ভবনে কবিকে বরণ নিতে উৎসুক হয়ে হাজির হন বঙ্গবন্ধু । হাতে ছিলো বিরাট ফুলের ডালি,মুখে বিজয়ের হাসি ।রাজনীতির কবি ও বিদ্রোহী কবির এই মিলনে পিনতন নীরবতা কাজ করেছিলো কিছু সময়ের জন্য । যেন এ নীরবতা না ভাঙ্গলেই ভালো হত ।
বাকরুদ্ধ নজরুল অবাক নয়নে দেখছিলেন বঙ্গবন্ধু কে । তখন কি তিনি ভেবেছিলেন রবার্ট ব্রাউনিংয়ের Patriot জনরোষে প্রাণবধ হলেও আমার বিদ্রোহীর সৃষ্টি ব্যর্থ হয়নি !নজরুল কি এই বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন ?
মুজিব কি ঠিক এই সময়টাতে ভেবেছিলেন ‘মহা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত আজ শান্ত কেন ? এখনো তো উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে!অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে! তবে কেন কবি নির্বাক !!
বাঙালির কবি যে দিন ঢাকায় এসেছিলেন ,সে দিনের ছবি ।
আমি শ্রদ্ধেয় অন্নদাশঙ্কর রায়ের পংক্তিমালা একটু এদিক সেদিক করে বলতে চাই -
‘যত কাল রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান
ততকাল রবে র্কীতি নজরুল-শেখ মুজিবুর রহমান’ ।।
শওকত ওসমান স্যার বলেছিলেন‘‘বাঙালি মুসলমান সমাজ হাজার বছরের ইতিহাসে দু’জন বাঙালি সৃষ্টি করতে পেরেছে’।
খুব সুন্দর বলেছেন তিনি ।
বাংলাদেশ নামক চলচ্চিত্র নির্মাণের পান্ডুলিপি লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম এবং সেটা দক্ষ হাতে পরিচালনা করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান । যেখানে অভিনয় করেছেন ,সকল ধর্মের মানুষ,নারী-পুরুষ,বাদ যায়নি চোর,বাটপার কিংবা ডাকাতরাও । কিন্তু এ গল্পে নায়কের প্রস্থান হয়েছে নির্মমভাবে ।
লেখাটি লিখতে যে সবের সাহায্য নিয়েছি-
বিদ্রোহী ও কবি বঙ্গবন্ধু,সাম্যবাদীএবং প্রথম আলো ।
লেখাটি উৎসর্গ করলাম ব্লগের নক্ষত্রের মত বিচরণকারী ব্লগার ও মুক্তিযোদ্ধা চাঁদগাজী স্যার কে । আপনার মত করে বলতে চাই । নজরুল কে বাংলাদেশে নিয়ে আসা,শেখ সাহেবের জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর একটি । দীর্ঘজীবী হোন আপনি । সুস্থ থাকুন সব সময়
নজরুল বিষয়ক আমার লেখা
যে তিনটি সাহিত্য আড্ডা বাংলা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার ।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:২৬
রাকু হাসান বলেছেন: প্রথম মন্তব্যে শুভেচ্ছা । এবং চা খান । শুভকামনা ভাই ।
২| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:১৮
সৈয়দ ইসলাম বলেছেন:
জ্ঞানও তথ্যাপূর্ণ পোস্টটি অসম্ভব ভাল লেগেছে।
অসম্ভব ভালবাসা এই দু'মহা মানুষের জন্য, সেই সাথে আমাদের রাকু হাসানের জন্য।
চল একসাথে গাই,
বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারী' আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
বল বীর-
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
ভূলোক দ্যূলোক গোলোক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দম, দূর্বিনীত, নৃশংস,
মহাপ্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দূর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল বীর-
চির-উন্নত মম শির!
আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
ফিং দিয়া দেই তিন দোল্;
আমি চপোলা-চপোল হিন্দোল।
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা’,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরীত্রির;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির অধীর।
বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির! আমি চির-দূরন্ত দুর্মদ
আমি দূর্দম মম প্রাণের পেয়ালা হর্দম্ হ্যায় হর্দম্ ভরপুর্ মদ। আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান। আমি ঈন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ তূর্য; আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর-
চির-উন্নত মম শির! আমি সন্ন্যাসী, সুর সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।
আমি বেদুইন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কূর্ণিশ।
আমি বজ্র, আমি ঈষাণ-বিষানে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শৃঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পাণির ডমরু ত্রিশুল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র-মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দহন করিব বিশ্ব।
আমি প্রাণ-খোলা হাসি উল্লাস, -আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস
আমি মহাপ্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি কভু প্রশান্ত, -কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছাস, আমি বারিধির মহাকল্লোল,
আমি উজ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল ঊর্মির হিন্দোল-দোল!- আমি বন্ধনহারা কুমারীর বেনী, তন্বী নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি! আমি উন্মন, মন-উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয় লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের
আমি অভিমানী চির ক্ষূব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যাথা সূনিবিড়,
চিত চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর থর থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল ক’রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তাঁর কাঁকণ-চুড়ির কন্-কন্।
আমি চির শিশু, চির কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাচুলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়াছবি!
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ! আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন চিতে চেতন,
আমি বিশ্বতোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালী দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,
তাজী বোর্রাক্ আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে! আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নেয়াদ্রী, বাড়ব বহ্নি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল, অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া, উড়ে চলি জোড় তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস সঞ্চারি’ ভুবনে সহসা, সঞ্চারি ভূমিকম্প। ধরি বাসুকির ফণা জাপটি’-
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি’। আমি দেবশিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা-সিন্ধু উতলা ঘুম্ঘুম্
ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্ঝুম
মম বাঁশরীর তানে পাশরি’।
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী। আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোযখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া! আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরনীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল ধ্বংস ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু জ্বালা, বিষধর কাল-ফণী!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি! আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩১
রাকু হাসান বলেছেন: বাহ বাহ কত সুন্দর মন্তব্য করেছেন । আমাদের রাকু হাসান ! দারুণ লাগলো ,আমি সেটাই হতে চাই । ভালবাসা নিন ।
এই কবিতা শুনলে রাতে ঘুম হারাম হয়ে যাবে কিছুক্ষণের জন্য । তবু সুর মেলালাম ভাইয়ের সাথে ।
শুভেচ্ছা নিন । ভাল থাকবেন সৈয়দ ভাইয়া
৩| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৪১
চাঁদগাজী বলেছেন:
১৬০ বছর কলোনিয়েল সিস্টেমে থেকে বাংগালীরা নি:স্ব হয়ে গিয়েছিলেন; এই কবিও দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন; ৯ বছর বয়সে মানুষকে আশা দিয়েছেন যে, আমরা বৃটিশকে তাড়িয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেরা গড়বো; সেটাই ছিল উনার ৯ বছর বয়সের 'লেটো গানের বিষয়'।
ভারত মুক্ত হয়েছিলো সেটা তিনি বুঝতেন কিনা, বলা মুশকিল ছিল; কলিকাতার মানুষ উনাকে সাহায্য করেছেন; তবে, সবচেয়ে বড় সন্মান করেছেন বাংগালদেশের মানুষ ও সরকারের হয়ে শেখ সাহেব।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:০৮
রাকু হাসান বলেছেন: বাহ চমৎকার মন্তব্য । লেটো দলের গানের বিষয়ে তেমন কিছূ জানা ছিলো না । সবচেয়ে বড় সন্মান করেছেন বাংগালদেশের মানুষ ও সরকারের হয়ে শেখ সাহেব।-- হুম একদম । কবি শেষ জীবন টা সম্মানের সাথে কাটিয়েছেন । তবে কবি যদি বুঝতো তিনি সম্মান টা পাচ্ছেন । কত খুশি হত ।
৪| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৪৩
চাঁদগাজী বলেছেন:
আপনার পোষ্টে আমার নাম আসাতে ভালো লাগছে, আপনাকে ধন্যবাদ; কবিরা আমাদের বিবেক ও কন্ঠস্বের।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১১
রাকু হাসান বলেছেন: স্যার এ লেখার মাধ্যমে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান দেওয়ার চেষ্টা মাত্র । আমার খুব ভালো লাগে যে ব্লগে একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে । কথা বলতে পারি । আমার দুর্বলতা আছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ।
ভাল থাকুন সেই দোয়া করি ।
৫| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:০৭
অন্তরন্তর বলেছেন: খুব খুব ভাল লিখেছেন।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১৪
রাকু হাসান বলেছেন: বাহ অন্তরন্তর ভাই । আপনার নিকে কমেন্ট তুলনামূলক কম । কিন্তু আমি বারবার ই পাশে পাই আপনাকে । খুব ভাল লাগে এটা । আপনার প্রশংসা পেয়ে সাহস পেলাম । কৃতজ্ঞতা ভাই । ভাল থাকবেন । আপনি ভাল আছেন তো !!
মন্তব্যে শুভেচ্ছা নিবেন । শুভরাত্রি ।
৬| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৩:১৯
কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিদ্রোহী কবির সাবলিল বিচরণ বাংলা সাহিত্যকে পুষ্প মন্ডিত করেছে। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, সংগীত, চলচ্চিত্র এবং পত্রিকা সম্পাদনা এসবের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চির ভাস্বর হয়ে রয়েছে। সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্র নানদনিকতায়, বিষয় বৈচিত্রে প্রেম, বিপ্লব ও জাগরণের সৃষ্টিশীলতায় উজ্জ্বল করে রেখেছেন। এ অসাধারণ প্রতিভার কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনার দিকে নজর ফেরালে দেখা যায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘ব্যথার দান’ যা একটি গল্প গ্রন্থ।
১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ২২ মার্চ কলকাতার মুসলিম পাবলিশিং হাউজ থেকে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে। সে বছরই একই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয় প্রবন্ধগ্রন্থ ‘যুগবাণী’। এটি প্রকাশের পর তৎকালীন বৃটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেন। এরপরও কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা থেমে থাকেনি। লিখে গেছেন অবিরামভাবে দেশের জন্য, নিপীড়িত মানুষের জন্য।
বাংলা সাহিত্যে নজরুলের রচনা প্রকাশের ক্রমধারার দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ব্যথার দান’। নজরুল সাহিত্যের এ গল্পগ্রন্থের আলোকপাত করতে গিয়ে দেখতে পাই প্রথম মহাযুদ্ধোত্তর কালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদেশের মানুষের বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবক্ষয় ও সংকটকে নিরীক্ষণ করেছেন। যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে সে সময়ের মানুষের বিপর্যয় ও অসহায়ত্বকে নজরুল পর্যবেক্ষণ করেছিলেন ফলে তাঁর লেখনিতে খুব সহজেই সাবলীলতা ফুটে উঠেছে। তাই দেখা যায় নজরুল সাহিত্যে এক বিশেষ অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছে দেশপ্রেম নিয়ে, যার অর্থ সাম্যবাদ ৷
তিনি সর্বস্তরের মানুষের জন্য যেমন সাহিত্য রচনা করেছেন তেমনি তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা তথা বৃটিশদের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর লিখনী সর্বদায় গর্জে উঠেছে।
তাই তিনি তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় বলেছেন-
“আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শশ্মান
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রানী-যুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য,
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরি, আর হাতে রণ-তূর্য।”
চমৎকার এ লেখাটির জন্য ধন্যবাদ প্রিয় রাকু হাসান ভাই৷অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো ৷
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৩৫
রাকু হাসান বলেছেন:
বাহ,বলা যায় মন্তব্যটি একটি পোস্ট । আপনি ঠিক বলেছেন । সাহিত্যের সকল স্তরে নজরুলের পদচিহ্ন রয়েছে । তিনি অনুভব করেছিলেন । এসব ক্ষেত্রে লেখা দরকার বাঙালি জাতিতে মননশীল সাহিত্যের দিকে নেয় যেতে । একবার তিনি আপুস করে বলেছিলেন ,আমাদের ভাল অনুবাদক দরকার ,কথা সাহিত্যক ও সমালোচক দরকার । অন্যতায় সমাজ পরিবর্তস সম্ভব নয় । তিনি এসব জেনেই সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় । আমাদের অভাব টা বুঝেতে পেরে ছিলেন । আমার কি মনে জানেন! কবি নির্দিষ্ট একটা কি দুটি শাখার বিচরণ করতো তাহলে সত্যিই আরও অসম্ভব রকম ভাল করতো । কিন্তু এত শাখায় বিচরণ করায় আমরা সন্তুষ্ট ই হয়েছি । সে সব শাখায় এখনও আমরা নজরুলের মত কেউ নেই । বহুমুখী প্রতিভার এক উজ্জল উদাহারণ । রবীন্দ্রনাথের পর তিনি সে দাবিদার একমাত্র ।
খুব ভাল লাগলো যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে সে সময়ের মানুষের বিপর্যয় ও অসহায়ত্বকে নজরুল পর্যবেক্ষণ করেছিলেন ফলে তাঁর লেখনিতে খুব সহজেই সাবলীলতা ফুটে উঠেছে।- নজরুল এসব মানুষদের কথাই সারা জীবন বলে গেছেন । তার প্রমাণ আমরা প্রতিটি বই ,কবিতায়,গানে পাই । বিংশ শতাব্দীর এক চেটিয়া রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয়তায় আমাদের নজরুল স্ব -মহিমায় উজ্জল হয়ে আছেন ।
আপনি সুন্দর বলেছেন ভাই ।বিদ্রোহী কবিতার প্রসঙ্গ এনেছেন । যা খুব যুক্তিযুক্ত । মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরি, আর হাতে রণ-তূর্য এই লাইনের মাধ্যমে আমি নজরুলের সারা জীবনের আপোষহীনতা দেখতে পাই । সারা টা জীবন এভাবেই লিখে গেছেন ।
আপনার প্রশংসা বরাবরই আমাার সাহস যোগায় । আজও তার ব্যতিক্রম ছিলো না । আপনার শুভকামনা আমি সাদরে নিলাম ।
আপনার জন্য ভালবাসা থাকলো । শুভ সকাল ,দিনটি ভাল কাটুক ।
৭| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ভোর ৬:১১
সনেট কবি বলেছেন: ভাল লিখেছেন
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৪০
রাকু হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ কবি । তো পোস্টের ব্যাপারে আর কিছু বললেন না । পড়েছেন জেনে খুশি হয়েছি । শুভেচ্ছা নিবেন সনেটি কবি ।
৮| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:২৭
রাজীব নুর বলেছেন: রবীন্দ্রনাথের লেখা সারাবিশ্ব ছড়িয়ে গেছে কিন্তু নজরুলের লেখা সারাবিশ্ব ছড়িতে দেওয়া হয়নি। এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। সরকারের উচিত ব্যবস্থা নেওয়া।
বঙ্গবন্ধুর মতো এই বাংলায় আর কেউ নেই।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৪৭
রাকু হাসান বলেছেন: আমার বেশ কিছু কষ্টের মাঝে একটি কষ্টের কথা বলেছেন । বেশ কয়েকজন বাঙালি গুণী লেখক হুমায়ূন স্যারের বই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে অনুবাদ করেছিলেন । সে সব বই ইংরেজি অনুবাদ করে বিশ্বের দরবারে বাঙা সাহিত্যের মান উজ্জল করছেন । এভাবে নজরুল কে নিয়ে কাজ করতো ,তাহলে খুব ভাল হত ,কিন্তু আমার মনে হয় পাঠকদের কাছে নজরুল কম আলোচিত হচ্ছে । বর্তমানের পাঠকদের বিবেচনায় । আরও পড়া উচিত । বাংলাদেশ সরকার যদি এ নিয়ে কাজ করে তাহলে সফলতা আসবে । নজরুল ইস্টটিউট কাজ করার কথা । দেখা যাক । গঠন মূলক মন্তব্য করার অনেক ভাল লাগা । শুভেচ্ছা নিন ভাইয়া । শুভ সকাল ,নি ভাল কাটুক আপনার । সেই কা্মনা ।
৯| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৭
মোঃ আল মামুন শাহ্ বলেছেন: আপনি হয়তো জেনে থাকবেন অথবা না জানলে খুশির খবর এই যে, চীনা ভাষায় কবি নজরুলের অনেক কবিতা ও গল্প অনুবাদ হয়েছে ।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৯
রাকু হাসান বলেছেন: গঠনমূলক মন্তব্য ! হ্যা হয়েছে চীন সহ বেশ কিছু ভাষায় অনূদিত হয়েছে । তবে আমার মতে আরও বড় পরিসরে হওযা উচিত ।
শুভেচ্ছা রইলো আপনার প্রতি । শুভকামনা ।
১০| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০৭
পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আজও যথারীতি আমার ভায়ের পোস্টটি চলে চোখের আড়ালে । যখন ধরলাম তখন বড্ড বেলা হয়ে থুক্কু রাত হয়ে গেছে। প্রথমে দুই বঙ্গসন্তানের মধ্যে তুলনামূলক মিল দেখে অবাক হলাম। কিন্তু পরে আরও অবাক হলাম কবিকে আর এক হাজার বছরের সেরা বঙ্গসন্তানের সম্মান জানানোর আয়োজন দেখে।
মন্তব্যগুলি সহ পোস্টটি কাল সময় নিয়ে আবার পড়তে আসবো।
শুভকামনা স্নেহের ছোটভাইকে।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:১৯
রাকু হাসান বলেছেন: আমার ভাই ! আমি সেই থেকে অপেক্ষা করছিলাম ভাইয়া কিছু বলে না কেন ! কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আপনার দুচিন্তা হচ্ছিলো তোমার জন্য । তারপর ব্লগ বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবো কোনো খারপ খবর আছে নাকি । আমার বোনের পোস্টে মন্তব্য করায় কিছুটা জানতে পেরেছি । সেই মন্তব্যে লাইক ও দিলাম । যেন আমার মনের প্রশ্নগুলোর উত্তর সেখানে দেওয়া ।
হুম অবাক হওয়ার কথাই । ইতিমধ্যে খুব সুন্দর মন্তব্য করেছো । আবার আসবে বাহ। আমার দেখা সেরা মন্তব্যকারী ভাই । ভাইয়ের সম্পর্ক দেখে না শুধু ,অন্য সব পোস্টেও খুব গঠনমূলক আন্তরিক মন্তব্য দেখতে পাই । এগুলো খুব ভাল লাগে অামার ,শিখতে চেষ্টা করি । আমার শ্রদ্ধা ভালবাসা থাকলো ভাইয়ের প্রতি ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:২০
রাকু হাসান বলেছেন: আমার এই লেখা টি কিন্তু নির্বাচিত পাতায় গেল ভাইয়া ,প্রথমবারের মত । । অনেকখুশি আমি
১১| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৫৯
চাঙ্কু বলেছেন: অনেকের পোষ্ট মিস করছি গত কয়েকদিনে। তোমারটা মিসাইতে চাইনি।
দুই কিংবদন্তিকে সুন্দর একটা লেখা লেখেচ। এক কিংবদন্তি আরেক কিংবদন্তিকে তার প্রাপ্য মর্যদা দিয়েছে।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:০৯
রাকু হাসান বলেছেন: আহ শান্তি শান্তি .।এত ব্যস্ততার মাঝেও পোস্টটা পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতাবোধ বেড়ে গেল আমার । সুন্দর হয়েছে জেনে ভাল লাগেছে ভাইয়া । হুম যথার্থ কথা বলেছেন - এক কিংবদন্তি আরেক কিংবদন্তিকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছে।
জাতি হিসাবে আমাদের যে কি ভাললাগা! ।ব্যক্তিগতভাবে দু জনের জন্য মাঝে মাঝে খুব কষ্ট লাগে । উনারা প্রাপ্য সুযোগ পেলে আামাদের অনেক দিতে পারতেন ।
ভাইয়া সুস্থ থাকুন ব্যস্ততা শেষ হোক .........শুভকামনা
১২| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:১৫
মাহমুদুর রহমান বলেছেন: আপনার লেখায় মুগ্ধ হলাম।আমাদের দেশে একদল মানুষ আছে যারা চায় রবীন্দ্রনাথকে জাতীয় কবির স্থান দিতে। কিন্তু পারছে না।সমস্যা শুধুমাত্র একটি জায়গায় কবিগুরু ভিনদেশী।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি তাদের ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধটুকুও যেন নেই।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:২৪
রাকু হাসান বলেছেন: সেটা খুব দুঃখজনক মাহমুদুর রহমান ভাই ! নজরুল বাঙালির সংস্কৃতিতে স্ব-মহিমায় উজ্জল ।যে বাঙালিত্ব আমরা ধারণ করছি এখন ,সেটার জন্য রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল ঢের এগিয়ে । আমি রবীন্দ্রনাথ কে ছোট করছি । উনার সাহিত্যকর্ম অনেক মূল্যবান । তবে তুলনা আনতে চাই না ।
গঠনমূলক মন্তব্য করেছেন । প্রশংসা পেয়ে ভাল লাগলো ।
শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ । শুভরাত্রি ।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৫৯
রাকু হাসান বলেছেন: সরি *আমি রবীন্দ্রনাথ কে ছোট করছি না ।
১৩| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:২৪
চঞ্চল হরিণী বলেছেন: আমরা যত জানতে থাকি তত আমাদের জানার ক্ষুধা বাড়ে এবং আগের জানার ভুলগুলো নিয়ে অবাক হয়ে যাই। ঠিক তেমনি এই লেখায় তোমার দৃষ্টিভঙ্গি আমার খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু কিছু কথায় হয়তো 'কিন্তু' আছে। 'হয়তো' এই জন্য যে আমি নিশ্চিত হওয়ার পথে আছি। অসম্ভব ভালোবাসি জাতীয় কবি নজরুলকে। বিনম্র শ্রদ্ধা বঙ্গবন্ধুর প্রতি। হাজার বছরের দুই শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালির মিলন তিথিটা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরেই থাকবে সবসময়। চাঁদগাজী ভাইকে উৎসর্গ করেছো দেখে ভালো লাগলো। আর নির্বাচিত পাতায় প্রথম স্থান পাওয়ায় আগেই অভিনন্দন জানিয়েছি, আবার জানালাম । আর হ্যাঁ, বাসার ভাইয়ের পোস্টও পড়ে এসেছি । অনেক অনেক শুভকামনা, ধন্যবাদ, ভালোবাসা সবকিছু জানালাম আমার প্রিয় ভাই রাক্কু কে ।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:২০
রাকু হাসান বলেছেন:
হায় হায় ! কখন মন্তব্য করলা রাতে দেখিই নাই
আমরা যত জানতে থাকি তত আমাদের জানার ক্ষুধা বাড়ে এবং আগের জানার ভুলগুলো নিয়ে অবাক হয়ে যাই-- এই কথাটি আমার সাথে অনেক যাই । আসলে সবার সাথেই । ক্লিকাইকে ক্লিকেইতে জীবন তামা তামা হয়ে যাই ,একটার পর একটা চিন্তা মাথায় আসতেই থাকে ,ব্রেইন এত সব প্রশ্ন করে আমার যে অনেক দিন ঘুমাতেই পারি না ।
বলেছো আমার দৃষ্টিভঙ্গি ভাল লাগছে ,সেটা তো আমার জন্য আনন্দের বিষয় তোমার ভাল লাগছে জেনে । তোমার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক আগেই ভাল্লাগছে । আজ একটা অতি পোপন কথা কই হুনো ,তোমারে হাত করছি কিল্লাই জানো ? ,তোমার দৃষ্টিভঙ্গি অন্নেক ভাল লাগে বলে । হাহাহাহাহাাহা
কিছু কথায় যদি কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে েএসে যাই ,কিছুটা হয়তো আঁচ করতে পারছি । তবে ভালটার ভাল বলার ই চেষ্টা ।
হে আর কইতে অই তিথিটা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরেই থাকবে সবসময়। ।
তোমার অভিনন্দন খুউউউউউউউউউউউউউউউব যত্ন সহকারে গ্রহণ করলাম । । যখন প্রথম দেখলাম ,আমার লেখা নির্বাচিত পাতায় গেছে তখনই তোমাকে জানাতে চেষ্টা করেছি কিন্তু নেট সমস্যার কারণে ঠিক সেই সময়ে হইনি ,একটু পর জানালাম । ভালই সব কিছু জানিয়ে গেলে , আমি বরং কপি পেস্ট করে দিলাম তোমার টা । ভালো থেকো আমার প্রিয় বোন । অনেক বেশি ভাল থেকো । তুমি মনে হয় ‘রাক্কু’ উচ্চারণ করতে লম্বা একটা দম নিয়ে জোরে কইছো
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:২২
রাকু হাসান বলেছেন: চাঁদ গাজী স্যার কে উৎসর্গ করার মত একটি পোস্ট মনে হলো তাই করলাম । তোমার ভাল লাগছে তাই ,আমারও ভাললাগা বেড়ে গেল । আহ যদি কাছের মানুষদের গল্প কবিতা দিয়ে উৎসর্গ স্বরুপ সম্মান প্রদর্শন করতে পারতাম । ।
১৪| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৬
:):):)(:(:(:হাসু মামা বলেছেন: ভালো লাগল ভাগ্নে ।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৭
রাকু হাসান বলেছেন: শুভেচ্ছা মামা ,ভুলেই গেলা আমাদের । । ভাল আছ তো ? আশা রাখছি ভাল আছ । আমিও ভাল ।
১৫| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৩:১৩
ল বলেছেন: রাকু ভাই আপনার ব্লগেে প্রথম নয় অনেক বার এসে পড়ে গেছি হয়তো মন্তব্য করতে পারি নাই
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৪
রাকু হাসান বলেছেন: বাহ বাহ লতিফ ভাই । খুব খুব ভাল লাগছে শুনে । আসলে এমন হয়ে থাকে । অনেকে পড়ে কিন্তু সবার মন্তব্য করে হওয়া উঠে না ,সেটা স্বাভাবিক সবার ক্ষেত্রেই । পাঠক বা মন্তব্যকারী+পাঠক সবাই কে আমার ভালোবাসা ।
জানানোর জন্য ধন্যবাদ ভাই! ভালবাসা বেড়ে গেল ।
শুভেচ্ছা জানবেন ।
১৬| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:১৭
সূর্যালোক । বলেছেন: Thanks for writing valuable post.
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১৮
রাকু হাসান বলেছেন: এই পোস্টটি পড়ার আন্তরিক ধন্যবাদ নিবেন । ভাইয়া । আমার অন্যতম প্রিয় একটি লেখা ।
১৭| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১৯
স্বপ্নডানা১২৩ বলেছেন: +
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ২:১৪
রাকু হাসান বলেছেন: শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ ।
১৮| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৭
আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: ভালো পোস্ট
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:০৯
রাকু হাসান বলেছেন:
ধন্যবাদ ভাইয়া । স্বাগতম আগমনে । শুভেচ্ছা ।
১৯| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৮
আরোগ্য বলেছেন: প্রিয় রাকু ভাই,
এই লেখাটি আমার ব্লগে আসার পূর্বের। অন্য পোস্টের লিংক ধরে এখানে আসা যদিও আরও আগেই আসতে পারতাম, দেরিতে আসার জন্য লজ্জিত।
প্রিয় কবি নজরুল নিয়ে আপনার গবেষণা যত পড়ি ততই মুগ্ধ হই। পোস্টের একটা কথা হাইলাইট করতে চাই।
‘‘ফরাসি বিপ্লবের সময় প্রত্যেক মানুষ
অতি মানবে পরিণত হয়েছিল,আমার বিশ্বাস,নজরুলের
কবিতা পাঠে আমাদের ভাবী বংশধরেরা এক অতি
মানবে পরিণত হবে ।’
একবার তা হয়েছে আমরা জানি কিন্তু আবারও এই মৃতপ্রায় বাংলাদেশিদের জাগিয়ে তোলার জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য প্রিয় কবির কবিতা গর্জে উঠুক, এই কামনা করি।
২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫
রাকু হাসান বলেছেন:
আরোগ্য ভাই । আপনার মন্তব্যে পাওয়া প্রশান্তি নিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলাম । একান্ত কারণে মন্তব্য করতে দেরি হয়েছি । ক্ষমা করবেন । আপনি এসেছেন আমার ব্লগ বাড়িতে সেটাই তো অনেক প্রাপ্তি আমার । এভাবে খোঁজে বের করে পড়া যে কি আনন্দ দেয় নিশ্চয় জানেন । আমারও তাই ।
যা হাইলাইট করেছেন । সেই লাইনটি আমি খুব যত্নে নোট করে রেখেছি । অসাধারণ কথা বলেছিলেন । বর্তমানে আমি নজরুলকে সবচেয়ে বেশি মিস করছি । একজন নজরুল অনন্ত দরকার আমাদের ।আপনার লিংকটি দিয়ে অনেক বড় উপকার করেছেন। যেসব তথ্যগুলো পোস্টে শেয়ার করেছে ।সেগুলো আগে কোনো কোনো বইয়ে পড়েছিলাম মনে হয় । এই পোস্টটি পড়িনি আমি । কাল কিছুটা পড়ছিলাম । আজ আবার পড়ে মন্তব্য নিয়ে আসছি আপনার পরের মন্তব্য ।হুম কথা হবে আবার .......
২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৮
রাকু হাসান বলেছেন:
আসুন চা পান করি
২০| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬
আরোগ্য বলেছেন: সামুতে এই পোস্টটি পেয়েছি।
ব্লগে যুক্ত হবার আগেই এটা পড়েছিলাম , গতরাতে আবারও পড়লাম। হয়তো আপনিও পড়েছেন। এ ব্যাপারে নজরুল বিশারদ রাকু ভাইয়ের মতামত আশা করছি।
২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:১১
রাকু হাসান বলেছেন:
পড়ছি বাকিটা । ভেবেছিলাম আমি এই টপিক নিয়ে পোস্ট করবো । এখন আপনিই খোঁজ দিলেন। ভালো লাগছেে এমন বিষয়ে লেখা পেয়ে । নতুন একটি বইয়ের সন্ধান পেলাম । অনেক কৃতজ্ঞতা ভাই । লেখার তথ্যসূত্রেই দুইটি বই আমার কাছে আছে । আরেকটি সংগ্রহ করে নেব । আপনার এই জিনিসটা ভালো লাগে । পড়ছেন বেশি ,লিখছেন কম । চা দিলাম ,এখন ব্লগিং করুন ইচ্ছামত । ভালো থাকুন নিজের মতো করে । শুভরাত্রি ।
২১| ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫২
আরোগ্য বলেছেন: আরে রাকু ভাই আপ্যায়ন যখন করতে চাইছেন তবে আপন ভেবে বলি আমার রং চা পছন্দ। লং এলাচ আর লেবুর রস দিয়ে। খুবই উপকারী।
২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০৪
রাকু হাসান বলেছেন:
কোনো সমস্যা নেই । রং চা বেটার ।
©somewhere in net ltd.
১| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:১০
মেহেদী হাসান হাসিব বলেছেন: ভাল লিখেছেন