নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পানিপখ

তুখোড়

তুখোড় › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধরলা নদীর তীরে।।

৩১ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৩:০০

মাঝে মাঝে ছোটখাট দূরত্বে সাইকেল টুর দিতে খুব ভাল লাগে। তাই সময় পেলেই সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি। লালমনিরহাট থেকে কুলাঘাটের দূরত্ব পনের কিঃমিঃ এর মত। কুলাঘাট দিয়ে ধরলা নদী পার হয়ে লালমনিরহাট থেকে কুড়িগ্রাম যাওয়া যায় খুব সহজেই। তাই মানুষজন এই পথটি ব্যবহার করে দূরত্ব কমানোর জন্য। যদিও এখানে কোন ব্রীজ বা সেতু নেই। নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করা হয়। এমনকি ছোট ছোট পিকআপ, মাইক্রোবাস নৌকার মাধ্যমে পার করা হয়। ধরলা নদীতে যাবার আগে রত্নাই নদী পরে। এটি একটি ছোট নদী। বর্ষাকালে যখন নদী ভরা থাকে তখন কোন সমস্যা হয়না নদী পারাপারে । কিন্তু নদীর পানি কমে গেলে নদী ছোট হয়ে আসে। তখন অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে তারপর নদীর কাছে যেতে হয়। এই নদীর পানি অনেক পরিষ্কার। এত স্বচ্ছ পানি দেখে পানিতে নামার লোভ সামলানো মুশকিল।



নদীর আশেপাশে অনেক ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা বাঁধা। এগুলোর মাধ্যমেই জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। কোথাও কোথাও দেখা যায় জেলে তার অবসর সময়ে নৌকায় বসে মাছ ধরার জাল বুনছে। এদের কাছে কিছু টাকা দিয়ে নৌকা নিয়ে নদীতে ঘোরা যায়। তাছাড়াও কিছু নৌকা আছে যেগুলোকে চার বলা হয়। এগুলো একসাথে দুটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা জোড়া দিয়ে বানানো হয়। এগুলোতে করেই পিকআপ ও মাইক্রোবাস নদী পার করা হয়।



এখানের মানুষের জীবনযাত্রা নদী কেন্দ্রীক। নদীই তাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ এবং নৌকাই একমাত্র বাহন। এই নদীতে শীতকালে কিছু অতিথি পাখি আসে। এরা শীত শেষ হওয়ার পর চলে যায়। নদী পাড়ের ছোট ছোট বাচ্চারা চরের বালুতে খেলাধূলা করে। চরে লাগানো হয় বিভিন্ন ফসল।



এই নদী যেমন তাদের জন্য আশির্বাদ তেমনি অভিশাপও। একদিকে চর জেগে উঠলে অন্যদিকে ভেঙে যায়। প্রায় প্রতিদিনই নদী ভাঙছে। এই ভাঙনের হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় তাদের নেই। তারা অনেকটা অবহেলিত। নেই কোন পাকা রাস্তা। কাঁচা রাস্তা আবার পুরোটা বালুময়। তাই চলাচলে হয় অসুবিধা। এতসবের মাঝেও তারা সুখেই আছে। তাদের চোখেমুখে আছে প্রশান্তির ছায়া।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.