| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমাকে যাচাই করার পূর্বে নিজেকে যাচাই করুন ।

ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৭টা ৫৪ মিনিট । চারিদিকে এশার নামাজের আজান শেষ হয়েছে । বাড়ির পুরুষরা সব মসজিদের দিকে ছুটে যাচ্ছে । কিন্তু একজন পুরুষ এইখানে শুয়ে আছেন । পুরুষটি লম্বায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি । বয়স ৮০’র কাছাকাছি হবে । মুখভর্তি সাদা দাঁড়ি । পরনে ধবধবে সাদা পোশাক ।
বাঁশঝাড়ের পাশে তিনি নিথর হয়ে শুয়ে আছেন । তাঁকে ঘিরে বাড়ির বউয়েরা দোয়া-দরুদ পাঠ করছেন । চারিদিকে আজান হয়ে গেলো কিন্তু তিনি আড়মোড়া ভেঙ্গে আর উঠলেন না । উঠবেন না আর কখনোই । জনম জনমের মতো ঘুমিয়ে পড়েছেন তিনি ।
পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল, কাজের ব্যস্ততা থেকে তিনি ছুটি নিয়েছেন । তিনি আর কোনোদিন ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি পরে সুলতানগঞ্জ/বনানী, দুবলাগাড়ী হাটে যাবেন না । বনানী হাটে জহুরুল কসাইয়ের গোশতের দোকানে ত্রিপলের ওপরে আর বসে থাকবেন না । হাটে গিয়ে গরম গরম ভাজিপুরি খাবেন না, আমাদের জন্য কিনবেন না ।
গায়ে জ্বর নিয়ে ঘাড়ে কোদাল নিয়ে তিনি আর কখনোই জমির কান্দা (কিনারা) কাটতে যাবেন না । করলা, আদা, পটল এসব আবাদ আর করবেন না ।
ঈদের আগে দুবলাগাড়ী হাটে গিয়ে গমের সেমাই আর কিনে আনবেন না ।
পোড়াদহ কিংবা খাউড়ার মেলায় গিয়ে চুন, ভাতের ঝুরি আর বড়ই কিনে আনবেন না । বলবেন না, ‘মেলাত যাবু, গেলে তোর বাপেক ক!’
বাড়ির গেটে এসে কলিংবেল চেপে ‘বউয়েরা সব কুটি বারে?’ বলে আর কখনও হাঁক দিবেন না ।
তিনি আর কখনও আসবেন না, তিনি আর ভালোবাসবেন না, তিনি আর কখনোই ফিরে আসবেন না ।
দাদাজান, আপনাকে কতটা ভালোবাসতাম তা হয়তো কখনও বোঝাতে পারিনি । সবসময় শুধু আপনার কাছে দোয়া চেয়েছি । আপনি সম্পদশালী মানুষ ছিলেন, আপনার বাপ-দাদারা প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন । আপনার পরিবারের সবাই হাজী ছিল বলে আপনার মা’কে মানুষ ‘হাজেনী’ বলে ডাকতো ।
গতকাল আপনার মায়ের শিওরেই আপনাকে রেখে এলাম অনন্তকালের জন্য । আপনি আমাদের ক্ষমা করুন । আপনার মতো ন্যায় ও ইনসাফের সাথে যেন অনাড়ম্বর জীবন কাটাতে পারি সেটাই ফরিয়াদ করি আল্লাহর দরবারে ।
সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | বুধবার | ১৮ মার্চ ২০২৬ ইং | আপন নীড়, বগুড়া
২|
১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৩২
অর্ক বলেছেন: খুবই দুঃখজনক! মন ভরে উঠলো ব্যথায়। তার পারলৌকিক সুখ কামনা করি। ভালো থাকবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন ।