নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অধিকার বঞ্চিত পৃথিবীর উত্তরাধীকারি

প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন

অপরিপক্ক কৃষক

প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

দুজনে একসাথে আধো জ্যোৎস্না রাতে!!

৩১ শে জুলাই, ২০২২ দুপুর ১২:১৮



ছাদের রেলিংএ হেলান দিয়ে এক পা টান করে এবং অন্য পায়ের হাঁটু আধেকটা ভাঁজ করে বসে আছি। পাশে রয়েছে সূচনা, ওর মাথাটা হেলানো আমার কাঁধে, নিয়ন্ত্রণহীন বেয়াড়া চুলগুলো নদীর মতো মৃদু ঢেউখেলে আমার বুকের বাঁ-পাশ বেয়ে নিচে নেমে গেছে। অপর পাশে টবে ফুটন্ত রজনীগন্ধার সাথে মিসেছে ওর চুলের সুবাস! অর্ধ চন্দ্রের আধো জ্যোৎস্না ভিজিয়ে দিচ্ছে আমাদের শরীর। রাতের মতো দুজনেই কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর প্রভাতের মতো নিরবতার জানালা খুলে সূচনা বললো, আচ্ছা প্লেনে কি হর্ণ আছে?

কেন বউ তুমি কি আকাশ পথে জগিং করবা নাকি? সূচনা কিছুটা ঢং করেই বললো, আহা বলোই না!

বুঝতে পারছি ও যে লাইন ধরেছে তাতে এই সুন্দর রাতটা মাটি করে ছাড়বে। লাইন ঘুরাতে হবে। বললাম না, প্লেনে হর্ণ নেই, প্লেন তোমার মতো না।

এমন উত্তরে সূচনা ভ্রু কুচকে বললো, আমার মতো না মানে? কী বলতে চাও তুমি, হু!

না মানে বলতে চাচ্ছি, প্লেন তোমার মতো চেঁচামেচি করে না।

কী, আমি চেঁচামেচি করি! ঠিকআছে!

কথাটা বলেই এক ঝাপটায় ওর মাথাটা আমার কাঁধ হতে প্রত্যাহার করে বিদ্যুৎ গতিতে কয়েক হাত দূরে গিয়ে বসেছে। তারপর হতে আর কোন কথা বলছে না। বুঝলাম বউ রেগে গেছে। আমিও কোন কথা না বলে চুপ করে বসে রইলাম।

সময়টা আবারো রাতের মতো গাঢ় নিরবতার গহ্বরে প্রবেশ করেছে। আসলে ও চেঁচামেচি করা মেয়ে না, আমি ওকে রাগানোর জন্যই এভাবে বলেছি, এবং যথারীতি কাজও হয়েছে, ও বেশ রেগেছে।

অর্ধবৃত্তাকার চাঁদের পানে মিসাইলের মতো মুখ তাক করে বসে আছি, তবে আঁখি যুগল কিছুটা বাঁকিয়ে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ওর মুখের এক্সপেশন নিচ্ছিদ্র নজরদারিতে রেখেছি। ওর সমস্ত রাগ অভিমান পর্যন্ত গড়িয়েছে! এইতো, যা চেয়েছি তাই হচ্ছে। অবশ্য আমি আগে থেকেই জানি ওর রাগ একটা সময় অভিমানে রূপান্তর হবে। সত্যি বলতে এই মেয়েটার অভিমানী মুখখানা আমাকে বেশ মুগ্ধ করে!

মনে মনে ভাবছি, আহা সে যে চেঁচামেচি করা মেয়ে না সেটা সে নিজেও জানে, আমি রাগানোর জন্যই মিথ্যা বলেছি এতটুকুও বুঝতে পারলো না! অবশ্য বুঝতে না পারায় ভালোই হয়েছে। মনে মনে নিজকে বলতে লাগলাম, শোন সাফোয়ান ও বুঝে ফেললে তোর উদ্দেশ্য কিন্তু সাধন হতো না।

এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আবিস্কার করলাম ওর চোখের কোনে জল জমেছে, এবং জলপ্রপাতের মতো সে জলের ধারা কপোল বেয়ে ঝরে পড়ছে! এইতো মিশন সাকসেস! এই সময়ের অপেক্ষাতেই ছিলাম!

কিছুক্ষণ আগে কয়েক হাতের যে দুরত্ব ও সৃষ্টি করেছিল, আমি উঠে একলাফেই তা ঘুচিয়ে ফেললাম। কাছে গিয়ে দু-হাতে ওর চোখ যুগল হতে ঝরে পড়া ঝর্ণাধারা মুছতে মুছতে মুখের কোনে এক চিলতে হাসি আটকে বললাম, কী হলো বাচ্চাদের মতো কাঁদছো কেন গো?

না, কোন উত্তর পেলাম না। ঝর্ণাধারা ঝরছে আর আমি মুছে দিচ্ছি, এবং মুছতে মুছতে একই প্রশ্ন দ্বিতীয়বার করলাম! এবারও কোন উত্তর না দিলেও প্রশ্ন শেষ হওয়া মাত্রই শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে, তবে কান্না থামেনি, বরং আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার টিশার্ট ভিজেছে ওর চোখের জলে। আমিও আর থামানোর চেষ্টা করছি না। কারণ আমি জানি এ কান্না ভালোবাসার, এ কান্না আবেগের!

চোখ নিংড়ে কেঁদে তারপর সে শান্ত হলো। আমিও চেয়েছি যতখুশি কাঁদুক, তাই বাঁধা দেইনি। প্রিয় মানুষটার বুকে মুখ গুঁজে কান্নার মধ্যে এক ঐশ্বরিক সুখানুভূতি অন্তর্নিহিত থাকে! সে সুখানুভূতি থেকে কেন ওকে বঞ্চিত করবো!

কান্না শেষে ক্ষণিকটা চুপ থেকে কিছুটা অবুঝ ভঙ্গিতে বললো, কাঁদিয়েছিলে কেন?

বললাম, পরম যত্নে তোমার চোখের জল মুছে দেবার জন্য।

তা কাঁদিয়ে আবার পরম যত্নে চোখের জলই বা কেন মুছতে এলে?

এইযে পরম আবেগে জড়িয়ে ধরে আছো, এটার জন্য! দ্যাখো খোলা আকাশ, মুক্ত বাতাস, আধো-জ্যোৎস্নায় তুমি পাশে আছো তবুও কিছু একটার অভাববোধ হচ্ছিল, এখন মনেহয় তা পূর্ণ হলো!

কথাটা শেষ হওয়া মাত্রই ঝাপটা মেরে বুক থেকে মাথা তুলে; আচ্ছা তারমানে আমাকে দিয়ে..! তুমি আস্ত একটা শয়তান! বলেই মুখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে ফেলেছে, কিছুটা লজ্জা পেয়েছে!

দেখলে তো এতোক্ষণ ঠিকই জড়িয়ে ছিলে, সত্যি কথা বলা মাত্রই ছেড়ে দিলে। এজন্যই বলা হয় বউয়ের কাছে টুকটাক মিথ্যা বলা জায়েজ। "ঠিকআছে থাকো তুমি আমি গেলাম" বলে উঠতে যাব, তখনি লক্ষ্য করলাম ওর হাত যুগল আমার হাতটা খু্ব শক্ত করে ধরে আছে। যেন আস্থা, ভরসা, বিশ্বাস এবং ভালোবাসার সবটুকু দিয়ে ও আমার হাতটা ধরে আছে, এ হাত ছাড়ানো সম্ভব না! বরং স্ত্রীর নিকট আস্থা এবং বিশ্বাসের পাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারাটা স্বামী হিসেবে পুরুষের স্বার্থকতা।

চাঁদটা মেঘের মধ্যে সাঁতার কাটছে। ওকে বললাম, "এ রাতে এ মসৌম নদীকা কিনারা এ চঞ্চল হাওয়া" গানটা খুবই শুনতে ইচ্ছে করছে, গাইবে?

ও পারবো না বলে গুনগুন করে গাওয়া শুরু করেছে। আমি মুগ্ধ হয়ে ওর গান শুনছি, আর আকাশ পানে তাকিয়ে মেঘ-চাঁদের খুনসুটি দেখতে দেখতে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছি…….

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.