নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

( Introspective Warrior) ছাকিবুর রাহাত [IW]

আমি আমার মতো । তুলনা দাও যতো । নিজেকে খুঁজে বেড়াই, নিজের মাঝে । আমি সাজাতে চাই সব নতুন সাজে । চরম সত্যটাকে জানিয়ে দেব বলে , পথচলি নিরবধি, ক্ষণিক এই জীবন কোলাহলে ।

এস. রাহাত Introspective

এস. রাহাত Introspective › বিস্তারিত পোস্টঃ

আয়না আর একটি ছেলের গল্প

১৬ ই মে, ২০১৪ সকাল ৯:৩১

এক ছেলে ছিল । সে ভালবাসত এক মেয়েকে, কিন্তু ছয়টি বছর ধরে সে এক তরফাই ভালবেসে গেছে নিরন্ত্র। যাকে ছেলেটা ভালবাসে, সেই মেয়েটার ইচ্ছা বা মতামত টুকুও জানার চেষ্টা করেনি কখনো । কখনো নিজে থেকে কোন প্রস্তাব তুলেনি, কখনো কথা বলেনি, দুবার মাত্র দেখা হয়েছে জীবনে আত্নীয়তার সুবাদে। কিন্তু কখনো ছেলেটি জানতে চায়নি মেয়েটি কেমন, ভাল না খারাপ, সে শুধু বেসেই গেছে ভালো, অবিরাম আপন মনে, নির্জনে, একাকী ...

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল ছয়টি বছর। ছেলেটি তখন অনেক বাস্তবতার সম্মুখীন ।

কিন্তু হাজারো ব্যস্ততাতেও সে একটি ক্ষণের জন্য ভুলে যেতে পারেনি মেয়েটিকে। বরং তার হৃদয়ের মাঝে তৈরি হয়ে গেছে এক কাল্পনিক চরিত্র । চরিত্রটা সেই মেয়েকেই কেন্দ্র করে। আসলে মেয়েটিই। তবে ঠিক যেন সে মেয়েটা নয়, তার কল্পনার প্রচণ্ড শক্তি যেন ছাপিয়ে গিয়েছে বাস্তবতা, আর কল্পনায় গড়ে তুলেছে এক নির্মল নিষ্কলঙ্ক চরিত্র । অথচ, মেয়েটির বাস্তব পৃথিবী সম্পর্কে সে তখনো না ওয়াকিফ। এভাবেই চলতে লাগল একমুখী বিক্রিয়াটি, তবে রসায়নে সে পড়েছে একমুখী ক্রিয়া বিক্রিয়া গুলো নিমেষেই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার একতরফা ভালবাসাটিও যেন ছিল সমবেগে অন্তহীন গতিশীল । সে গতি কখনো বা ত্বরণ তুলতো নির্জনে একাকীত্বতায় অদ্ভুত এক অনুভুতিতে, হয়তো চোখজোড়া ছলছলও করেছে কোন নিস্তব্ধ নিশীথে যা পুর্বে সে অনুভব করেনি ।

এভাবেই যেন ছেলেটির মানসপটে পাল তোলা তার ভালবাসার নৌকোটা চলতে থাকল, গন্তব্যহীন এক অন্তহীন পথে ...............



ছয় বছরের মাথায় হঠাৎ এক তুফান বয়ে গেল । ৬ জুন থেকে ২৪ জুন,২০১৩ । এ কয়েকটা দিনে মেয়েটি হঠাৎ করেই যেন ছেলেটির কাছে এসে গেল, একেবারেই কাছে, একদম আকস্মিকভাবে। ছেলেটিও মন প্রাণ দিয়ে তাকে কাছে টেনে নিতে চাইলো। কিন্তু কী একটা জিনিস যেন তার পথে আবছা এক অদৃশ্য বিঘ্নতার সৃষ্টি করছে । সে অনেক চেষ্টা করলো , তবে জিনিসটার কারণে পুরোপুরি বোধহয় স্বাগত জানাতে ভুল করলো সে । কাছে পেয়েও যেন অশেষ আকাঙখার মানুষটিকে সে কাছে টেনে নিতে পারলো না, বিক্রিয়া বিপরীত দিক থেকে ঘটতে চাইলো, সে বুঝতেও পারলো সেটা, এবার হয়তো মিলবে সাড়া। কিন্তু না, ঐ অদৃশ্য জিনিস আর প্রিয়তমার কাছে আসা যেন , সবকিছুই তালগোল পাকিয়ে গেল। যখন মেয়েটি চাইছে একটু কাছে আসতে, সে নিজের অজান্তেই যেন সরিয়ে দিচ্ছে তাকে মনের আঙিনা থেকে । আর সাড়া না পেয়ে যখন মেয়েটি দুরে সরে যেতে চাইছে , তখনি তীব্র আকাংখায় চাইছে তাকে কাছে টেনে নিয়ে আসতে, কিন্তু মেয়েটি ধীরে ধীরে ছেলেটির আবেশী আঙিনা পেরিয়ে ঐ দুরের পথে হাটতে থাকায় আর নাগাল পাওয়া গেল না ।

ছেলেটি চিৎকার দিয়ে ডাকল অনেক, কিন্তু ততক্ষণে মেয়েটি বোধহয় অনেকটা দুরত্ব পার হয়ে গিয়েছে ছেলেটাকে পেছনফেলে। ছেলেটি অনেক ডাকাডাকি করলো, কোন সাড়া আসলো না বিপরীত প্রান্তর থেকে। অনেক কান্নাকাটি করলো ছেলেটা । কিন্তু পরক্ষণেই রাগ হতে লাগল সে অদৃশ্য জিনিসটার উপর, কী সেটা? তাকে সরিয়ে রাখতে চায় তার দীর্ঘ লালিত আকাঙ্ক্ষা থেকে ? কী সেই জিনিস? যার কারণে সে কাছে টেনে নিতে পারলো না ভালবাসার মানুষটিকে? ছেলেটি খুঁজতে লাগল জিনিসটাকে, অনেক খুঁজাখুঁজি করলো, অবশেষে পেয়ে গেল একটা আয়না । সযত্নে নিয়ে এল ঘরে । কী আশ্চর্য ! আয়নাটা যেন তার অসংগতি গুলো কে দেখিয়ে দিচ্ছে ?

এতদিন যে সে বুঝতেই পারেনি তার সজ্জায় কত ভুল রয়ে গেছে। নিজেকে কতটা অবিন্যস্ত রেখে দিয়েছে এতকাল ধরে । কী আশ্চর্য আয়না সেটা! কোন কিছুই যেন বাদ রাখলো না আর, সবকিছুই দেখিয়ে দিচ্ছে মানসপটের সদ্য বিকশিত চক্ষু দুটোকে। একে একে অসংগতি গুলো চিহ্নিত করে নতুনভাবেই সাজাতে শুরু করলো ছেলেটা নিজেকে ।

এক এক টা ভুল ধরছে আর সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করছে ছেলেটা সে আয়না দেখে দেখে। কী অলৌকিক সে আয়না, কী ঐশী মহিমাময়।

ছেলেটি যেন নতুন একটা জীবনের প্রতিবিম্ব দেখতে পেল । কী সুন্দর সেই প্রতিচ্ছবি ! চির মহিমাময়, শাশ্বত, চিরন্তন। যাদুময় আয়নায় ফুটে উঠা সেই প্রতিবিম্বের মতো করেই সাজতে চাই ছেলেটা এখন। অন্য কিছুই এখন তার আর ভাল লাগেনা। কোন অশেষ আকাঙ্ক্ষিত অতীত এখন আর তার মনে সাড়া জাগাতে পারে না। ছেলেটি এখন খুবই ব্যস্ত। সে নিজের জীবনকে এখন নতুন করে গুছিয়ে নিতে চায়, নিজেকে দেখতে চায় চির সজ্জিত হিসেবে, সেই আয়নার সামনেই দাড়িয়ে সে পার করতে চায় তার জীবন। যদি কোন অসুন্দর আর অসংগতি এসে পড়ে, তাকে নির্দ্বিধায় উপড়ে ফেলে দিতে ছেলেটির কোন দুর্বলতা নেই।

ও আচ্ছা, সেই মেয়েটির কথা? মেয়েটি এখনও নিজের মতোই আছে।

ছেলেটির এখন আর মনে পড়ে না মেয়েটির কথা, যদি কখনো পড়েও যায় তবে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ায় সে। নিজের স্বরূপটা আরেকবার দেখে নেয়। সে নিজেকে আর নিক্ষেপ করতে চায় না অবিন্যস্ত অসুন্দরের ধ্বংস গহবরে।

যদি কিছু করতে হয় , তবে করবে যথাযথ মানদণ্ডে, যখন সময় আসবে। যাক ওসব কথা। ছেলেটির এখন শুধু একটাই চাওয়া, একটাই চেষ্টা নিজেকে সাজানো , পরিপূর্ণ ভাবে - যেমনটি সে দেখতে পাচ্ছে, তার বুক সেল্ফ এর উপরে রাখা আয়নাটিতে ।



-ছাকিবুর রাহাত

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.