| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সালেহীন মুকুল
নিজেকে সংরক্ষন করার নিমিত্তে, কিছু কথা যা সব সময় বের হয় না সেসব কথাগুলোকে সংরক্ষন করা।
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে টানা সাত দিনের আন্দোলনেও ক্লান্তি নেই শাহবাগের জাগ্রত জনতার। সব শ্রেণির মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এই অংশগ্রহণের ফলে এ আন্দোলন নিয়ে সব বিভ্রান্তি, সব অপপ্রচার ‘ভেসে গেছে’ বলেই মনে করেন ব্লগার মাহমুদুল হক মুন্সী।
ট্রাইব্যুনালে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি যারা ফেইসবুকে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন- মাহমুদুল হক মুন্সী তাদেরই একজন ।
শাহবাগের আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সাড়া এবং আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্য মাহমুদুর জানান, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় হবে এবং তারপর আনন্দ মিছিল করবেন- এমন প্রস্তুতিই তারা নিয়েছিলেন। কিন্তু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মেনে নিতে না পেরে একাত্তরের শহীদ ও নির্যাতিতদের দায় মেটাতে তাৎক্ষণিকভাবে ফেইসবুকে ইভেন্ট তৈরি করে ছড়িয়ে দেন- ‘কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন হবে’। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে নানা শ্রেণির নানা বয়সের লাখো মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন প্রতিদিন। সকাল-দুপুর-রাত টানা চলছে জাগ্রত জনতার শ্লোগান- ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে জনতার এই গর্জন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। জাতীয় সংসদ থেকেও আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: ১/ আন্দোলন পরিচালনার জন্য কী কোনো কমিটি হয়েছে?
মাহমুদুল হক মুন্সী: কোনো কমিটি হয়নি। এখানে অংশগ্রহণকারী সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
২/ কমিটি বা কোনো কাঠামো না হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে?
আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা যাতে নষ্ট হয়- মূলত সেজন্যই কোনো কাঠামোর দিকে যাওয়া হয়নি। তবে যে সব সামাজিক-সাংস্কৃতি ও ছাত্র সংগঠন এখানে রয়েছে, তারা আন্দোলন পরিচালনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।
৩/ এক সপ্তাহ টানা অন্দোলন চালিয়ে আপনাদের কী মনে হচ্ছে?
টানা আন্দোলন চালাতে গিয়ে শারীরিকভাবে অনেকেই ক্লান্ত। কিন্তু প্রতিদিন এতো এতো মানুষের জোয়ার প্রতি মুহূর্তে আমাদের সাহসকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। শারীরিকভাবে ক্লান্ত হলেও মানসিকভাবে আমরা একটুও পিছিয়ে যাইনি। আমাদের মনোবল এখনো অটুট রয়েছে। বরং আমি বলব, সময়ের সাথে সাথে তা আরো দৃঢ় হচ্ছে।
৪/ আপনারা দিনভর ঠিক কীভাবে আন্দোলন পরিচালনা করছেন?
কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে আমরা এখানে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করছি। একদল বিশ্রাম নিচ্ছে, তারা ফিরে এলে আবার অন্যরা বিশ্রামে যাচ্ছে। এভাবেই চলছে। সত্যি বলতে এতো বড় আন্দোলনের অভিজ্ঞতা আমাদের কারো নেই। তাই প্রতিনিয়ত আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ আর যারা স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন, তারা সবাই অনেক সহযোগিতা করছেন। টানা পরিশ্রমে অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। তারা সুস্থ হয়ে আবার শাহবাগেই ফিরে আসছেন। এতে আমাদের সবার মনোবল বেড়ে যাচ্ছে।
৫/ আপনাদের এই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন আছে। বিরোধী দল বলেছে এটা সাজানো নাটক। আপনারা কি বলবেন?
আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে যাতে কোনো মতভেদ দেখা না দেয় সেজন্য আমরা একটি মিডিয়া সেল গঠন করেছি। আন্দোলন সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের কাছে তারা তুলে ধরছে।
আর জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে এ আন্দোলন নিয়ে অপ-প্রচার চালাচ্ছে। এটা তাদের অনেক পুরনো কৌশল। আমরা এতে ভয় পাই না। দেশের মানুষ অনেক সচেতন, তারা ভালো ভাবেই জানেন ও বোঝেন। এতে আমরা লক্ষ্য থেকে একবিন্দুও সরে আসব না।
৬/ আপনাদের পরবর্তী লক্ষ্য কী?
আমাদের প্রধান দাবি সবাই জানেন- যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি। এটা পূরণ হওয়ার পরে আমরা অন্য দাবিগুলোর বিষয়ে জোর দেব। সেগুলোর মধ্যে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবিরকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বিষয়টি রয়েছে। তবে প্রথম দাবি একটাই- যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি।
৭/ শাহবাগে আপনাদের এই অবস্থান কতো দিন চলবে?
এ আন্দোলনের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। যতোদিন দাবি পূরণ না হবে ততোদিন আমাদের অবস্থান চলবে।
৮/ আপনাদের ওপর কোনো ধরনের চাপ আছে?
সরকার পক্ষ থেকে এখনো আমাদের কোনো চাপ দেয়া হয়নি। তবে জামায়াত-শিবির আমাদের বিভিন্ন জনকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছ থেকে হুমকি আসছে। তবে আমরা এতে বিচলিত নই। দাবি আদায়ের পথ থেকে আমরা একবিন্দু সরে আসব না।
৯/ আপনাদের বিক্ষোভের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?
আপনারা দেখেছেন, এখানে আওয়ামী লীগ নেতা সাজেদা চৌধুরী, মাহবুবুল আলম হানিফ এসে ফিরে গেছেন। তারা কোনো বক্তব্য দিতে পরেননি।
১০/ বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থলে ছাত্রলীগের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন কথা এসেছে।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব ছাত্র সংগঠনই আমাদের সাথে একাত্ম হয়েছে। ছাত্রলীগও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠন বলে আমরা মনে করি। সে অবস্থান থেকেই তারা এখানে আছে। সব প্রগতিশীল সংগঠনও এখানে রয়েছে। আমাদের এ আন্দোলনে কারো ইন্ধন নেই। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরাই এ ধরনের অপ-প্রচার চালাচ্ছে। এটা জনগণের জায়গা, সবাই আসতে পারে।
১১/ এই যে অপপ্রচারের কথা বলছেন, এর বিরুদ্ধে আপনারা কিছু করছেন?
জামায়াত-শিবির রাজপথে হেরে গিয়ে অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের যারা এক্টিভিস্ট আছেন তারা সবাই রাজপথে। তাই সব সময় তারা জবাব দিতে পারছেন না। কিন্তু দেশের জনগণই তাদের এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছে।
১২/ দিন-রাত শাহবাগে অবস্থান করতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়াসহ অন্যান্য প্রয়োজনগুলো মেটাতে অর্থ পাচ্ছেন কোথা থেকে?
বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে আমাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই সাহায্য করছেন। কোনো বিশেষ ব্যক্তি নয়, বরং সমন্বিতভাবে সবাই এগিয়ে আসছেন।
সংবাদটি সংগ্রহ করা হয়েছেঃ Click This Link
©somewhere in net ltd.