নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ব্লগের স্বত্বাধিকারী সামিয়া

সামিয়া

Every breath is a blessing of Allah.

সামিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছোট গল্পঃ রিয়েলিটি

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৬

সুমনা নামের এই মানুষটার জীবনে আলাদা করে দেখার মতো কিছুই ছিল না। না তার চলাফেরায়, না তার যাতায়াতে, না তার প্রতিদিনকার সকালগুলোতে, না তার সমাজ ব্যাবস্থা কিংবা আশেপাশের চলতে ফিরতে থাকা মানুষের নানান আচরণে।
অথচ তার এই জীবনযাপনের ভেতরেই এক অস্বস্তিকর মন খারাপ করা ব্যাপার আছে।

সুমনা একটা কর্পোরেট অফিসে কাজ করে, ডেজিগনেশন ম্যানেজার। ওর অফিসে কোন ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটিজ নেই, প্রতিদিন সে রিকশায় চড়ে অফিসে আসে রিক্সায় করেই নিজের সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেয়। রাস্তার ধুলো, হর্নের শব্দ, লেট এই সকল কিছু তার প্রতিদিনের যাত্রার অন্তর্ভুক্ত,এর কোনো ব্যতিক্রম নেই, কোনো বিশেষত্ব নেই।

সুমনা যখন ওর বাচ্চার স্কুলের সামনে রিক্সা থেকে নামে, তখন তাকে স্কুলের সামনে থেকে একটু দূরে দাঁড়াতে হয়। প্রায়ই স্কুলের সিকিউরিটি গার্ডদের কণ্ঠে স্পষ্ট রূঢ়তা আর এক ধরনের কর্কশ নির্দেশ থাকে সুমনা সহ ওর মত রিক্সায় করে আসা গার্ডিয়ানদের প্রতি
- এই রিক্সা এইখানে রাখা যাবে না, সামনে যান তো।
রিক্সাওয়ালারা ভয়ে ভয়ে এক এক করে সরে সরে যায়। সুমনা চুপচাপ এসব দেখে কিছু বলে না। বলার মতো কিছু আছে কি না, সেটাও সে তখন নিশ্চিত থাকে না।

তাদের পাশ দিয়ে বেশ কিছু গাড়ি এসে থামে। সিকিউরিটি গার্ডরা তখন তড়িঘড়ি করে নেমে আসে।
- স্যার, স্যার বলে দরজা খুলে দেয় গাড়ির। নিজের হাতে গাড়িওয়ালাদের বাচ্চাদেরকে কোলে করে নামায়, ব্যাগ নিজেরাই হাতে নেয়। সিকিউরিটি গার্ডদের মুখে তখন আলাদা অমায়িক বিনয়ের হাসি থাকে। গাড়িওয়ালারাও সে সময় সুমনার মত গার্ডিয়ানদেরকে দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।
সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে সুমনা এই সবটা দেখে, তার অফিসের রহমানকেও দেখে গাড়ি করে তার বাচ্চাকে দিতে এসে এক্সট্রা অনার পেতে। চোখ সরালেই বাস্তবটা বদলে যাবে এমন এক ভ্রান্ত আশায় চোখ সরিয়ে ফেলে মাঝে মাঝে।

অফিসে তার অধীনে অনেক মানুষ, তাদেরই একজন রহমান। পেশায় ড্রাইভার। অফিসে রহমান সুমনাকে দেখলেই যথাসম্ভব বিনয় ও নরম গলায় সালাম দিয়ে মাথা নিচু করে থাকে অথবা পাশ কাটিয়ে চলে যায়।সেখানে সুমনা স্পষ্টভাবে একজন কর্তৃত্বশীল মানুষ।

অন্যদিকে রহমান। ড্রাইভারের চাকরি তাকে এক ধরনের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। সে প্রায়ই অফিসের গাড়িটা ব্যবহার করে, চকচকে গাড়ি, ভেতরে এসির শীতল বাতাস। সবকিছু ভীষণ লাক্সারিয়াস।

রহমান কোনভাবে বসকে ফাঁকি দিয়ে রোজ তার গাড়ি নিয়ে বাচ্চাকে স্কুলে দিতে আসে।
সে প্রায়ই সুমনা ম্যাডামকে দেখে যার কিনা ওর থেকে অফিসে অনেক অনেক সম্মান। কিন্তু এখানে… এখানে একটা গাড়ির কাছে তার এত পড়াশোনা, এত সাধনা, সন্মান সবটাই বৃথা।

স্কুলের ঘণ্টা বাজে। বাচ্চারা ভেতরে ঢুকে যায়।
সুমনা আবার রিকশায় উঠে বসে। রিকশাটা ধীরে ধীরে সামনে এগোয়। কালও সে এই পথেই আসবে। রিকশায়, ধুলোয়, হর্নের শব্দে। কোথাও তার কর্তৃত্ব আর কোথাও সে অদৃশ্য। এই দুইয়ের মাঝখানে বেঁচে থাকার যে পার্থক্য তার নাম টাকা।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভালো হয়েছে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.