| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
“ইরা ঘুম থেকে উঠো, এখন কয়টা বাজে?”
“ইরা পড়তে বসো, স্কুলে যাও।”,
“স্কুল থেকে সোজা বাড়ি ফিরবে, সেদিনের মতো কোরনা।”
“কোন বান্ধবীর বাসায় যাবে না, প্রয়োজনে ওরাই আসবে।”
বাবা মার মুখের এই অপ্রিয় কথাগুলো ইরার প্রায় প্রতিদিনই শুনতে হয়। জিলা গার্লস স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা সরকারি চাকুরে, তারই প্রতিফলন বছর না ঘুরতেই এক জায়গা থেকে অন্য কোথাও, শুধুমাত্র ক্লাস টুতেই ওরা এক জায়গায় দুই বছর ছিলো, তাও থ্রির পাট না চুকতেই আবার আরেক জায়গায় । জীবনের শুরুর এই সময়ে যাযাবর জীবনযাপনে অনভ্যস্ত ইরা, মনের ভেতর এর টানাপোড়েন তার ছোট্ট দেহমনটিকে একেবারেই বিষিয়ে তুলেছে। ইরা প্রায়ই তার বাবাকে বলে, আমি প্রতিবছর নতুন জায়গায় গিয়ে খাপ খাওয়াতে পারিনা, এ আমার অসহ্য মনে হয়, তুমি আমাকে ও মাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দাও, আমি তাওতো এক জায়গায় লেখাপড়া করতে পারবো।
একমাত্র মেয়েকে চোখের আড়াল করতে চান না রফিকুল সাহেব। জিলা পানিসম্পদ কর্মকর্তা, নিপাট ভদ্রলোক, ঘুষ খাননি জীবনে একটি বারের জন্যেও। ভাগ্যিস মেয়ের জন্যে অল্প কিছু টাকার এডুকেশন পলিসি করে রেখেছিলেন, নতুবা সংসারের খরচ চালিয়ে এখনকার সময়ে পড়ালেখা চালানোটা দুঃসাধ্য হয়ে যেত। ইরাকে মা সহ ঢাকায় না পাঠানোর এটাও একটা কারণ, অর্থনৈতিক সমস্যা। ঢাকায় নাকি আজকাল একটা দু’রুমের বাসার ভাড়াও কমপক্ষে আট হাজার টাকা, এতোটা
ব্যয়সংকুলান রফিক সাহেবের মতো লোকের কাছে সম্ভব নয়। ইরা মাঝেমাঝেই বাবাকে মাঝরাত্রে পায়চারি করতে দেখে, মেয়েও বুঝে বাবার অপারগতা, তবুও স্বভাবসুলভ প্রাঞ্জলতায় ছটফট করে মন, পুরনো স্কুল, টিচার, খেলার মাঠ, বান্ধবীরা, এসবই তার বুকের ভেতর হাহাকারের ধ্বনি বাজিয়ে তোলে।
রফিক সাহেব রাত্রিতে খাটে শুয়ে ভাবেন, আগামিকাল মেয়েটার ফাইনালের রেজাল্ট, বরাবরই সে মেধাতালিকায় স্থান করে নেয়, এবার সে একটু জোর দিয়ে বলেছে ফার্স্ট সে হবেই, বড্ড আবদার করেছে একটা কম্পিউটারের। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দিয়ে যদি একটা কম্পিউটার কেনা যায়, ভাবতে ভাবতেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে বুক থেকে। এদিক ওদিক ভাবতে ভাবতে গত পরশুর কথাটা মনে পড়ে যায়। মধ্যপাড়ার বখাটে সুমন চিৎকার করে শাসিয়েছে, ইরাকে সে তুলে নিয়ে যাবেই, ভয়ে কুঁকড়ে উঠেন রফিক সাহেব। ভয় পাবে বলে কিছুই বলা হয়নি ইরা ও তার মাকে, ইরাও কয়েক সপ্তাহ ধরে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। থানায় অবশ্য একটা জিডি করা আছে, দেখা যাক কি হয়। আরতো কয়েকটা মাস, সামনের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জে বদলি, কাগজপত্রও সব রেডি। মেয়েটারও একটা ভালো শহরে লেখাপড়া হবে।
আজ ইরার রেজাল্ট, বেশ সাজগোজ করেছে মেয়েটা, চোখে কাজল দিয়েছে, ডান দিকে খুব মনোযোগ দিয়ে সিঁথি করেছে, আর গত ঈদের কালো সিল্কের সালওয়ার-কামিজটা পড়েছে। নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে মার নিজেরই বাহবা দিতে হচ্ছে, ঠিক এতোটাই সুন্দর লাগছে আজকে ইরাকে। মেয়েকে প্রতিদিনের মত আজও নিজে রিকশায় করে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন, সুন্দর মেঘমুক্ত নীলাকাশ, শীতের আকাশে পেঁজাতুলোর মত মেঘ হাতছানি দেয় ইরাকে, অনেক বড় হতে ওকে, ঠিক ঐ আকাশের মত। জিলা স্কুলের মোড়ে পথ আটকায় তিন চারজন যুবক, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ যেন, ঠিক কুপির শেষের দিকের শিখার মত।
ঝলসে যাওয়া মুখ নিয়ে ইরা আজও প্রতিদিনই অফিসে যায়, বিয়ে না করেই দিব্যি চলছে তার জগতসংসার। বাবা রিটায়ার্ড ২ বছর, মা আর সে, ছোট্ট সংসারে সুখ আছে পরিপূর্ণ। সেই বখাটে সুমনের জেল হয়েছিলো, ছাড়া পেয়েছে কিনা সে জানে না, তবে তাকে চিরদিনের জন্যেই ছাড়পত্র পেতে হয়েছে জ্বালা নিয়ে বেঁচে থাকার।
ইরা মাঝে মাঝে ছুটি ছাটায় চলে যায় মেঘ, পাহাড়, সমুদ্রের কাছে। চুপিচুপি তাদের প্রশ্ন করে,
“কেউ ভালো না বাসুক, তোমরা বাসোনা?”
কেউ না শুনুক ইরা শুনতে পায়, ওরা সমস্বরে জবাব দেয়, “শুধু তোমায় নয় এ জগতের সকল দুঃখিদের আমরা ভালোবাসি, তার জন্যেইতো আমরা মেঘ, পাহাড় আর সমুদ্র, এত বিশাল! এত আবেগের রসদপূর্ণ কবিতার জন্মদাত্রী, তুমি ভালো থেকো, জগতের সব দুঃখিরা ভালো থাকুক, আনন্দে থাকুক।”
প্রতিবার আনন্দে এই সময়ে ইরার চোখ ভিজে ওঠে, মন বলে ওঠে, প্রকৃতি সুন্দর, সুন্দর এর চরিত্ররা।
২|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:০০
ব্লগার রানা বলেছেন: প্রথমে ভেবেছিলাম কমেডি হবে,, কিন্তু শেষে?????
যাকগল্প ভাল হইসে
৩|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:৩১
কালোপরী বলেছেন:
৪|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১২:১০
সারফারাজ হুসাইন বলেছেন: @বন্ধু আশরাফঃ টুকটাক লেখা হয়, আগামিতে একটা সংকলন বের করার ইচ্ছা আছে। ![]()
@ব্লগার রানাঃ ধন্যবাদ। ![]()
@কালোপরীঃ
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১:২৪
আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় বলেছেন:
গল্প লিখা কবে থেকে?