| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমরা বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি । আমার সাথে পাশাপাশি পৃথিবীতে আরো সাড়ে সাতশ কোটি মানুষ বসবাস করছে । বিজ্ঞান আমাদের যা বলে তা হলো, আনুমানিক প্রায় ৭০ হাজার আগে, এই আমরা আধুনিক Homo Sapiens এর আগমন ঘটেছে । Homo শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো জ্ঞানী ; আমি যখন আমাকে Homo Sapiens হিসাবে রিপ্রেজেন্ট করতেছি তখন কিন্তু আমি আমার অগোচরে নিজেকে জ্ঞানী বলে পরিচয় দিচ্ছি । মানুষের মধ্যে ভাবের উন্নত আদান-প্রদান মানুষকে এই আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে । এই ভাবের আদান-প্রদান আমরা কিভাবে করি ... ?
আমাদের মাঝে যে পঞ্চ-ইন্দ্রিইয়ের উপস্থিতি আছে; তারই সাহায্যে আমরা ভাবের আদান-প্রদান সহজেই করতে পারি । আরো পরিশুদ্ধ ভাবে বললে বলা যায়, পারিষ্পারিক সংকেত বিনিময় মাধ্যমেই আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোকে একেবারে হাতের মুঠোই তুলে আনতে পেরেছি । আমাকে যদি বলা হয়, এই পৃথীবিতে আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কি ... আমি চোখ বন্ধ করে বলবো "আমার দৃস্টিশক্তি" । হ্যাঁ; পঞ্চইন্দ্রিয়ের মধ্যে দৃস্টিশক্তি মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও জরুরী । অসীম মহাকাশ, আগাধ জলরাশি, অপার সৌন্দর্যমন্ডিত বিস্তৃত সমভূমি ,পাহাড়-পর্বত শ্রেনী -- এই অপার বিস্ময় দৃস্টিশক্তি ছাড়া উপভোগ করা অসম্ভব । আমরা প্রতিনিয়ত যে রঙ্গিন কল্পনা করি তা এই দৃস্টিশক্তির আশীর্বাদেই করতে পারি । কত কবি কত কাব্য করলো, কত প্রেমিক কত প্রেমে পড়লো -- এই রমনীদের বিচিত্র আঁখি যুগল দেখিয়া !! আমাদের চারপাশে নানা রঙের নানা ঢঙের মানুষের চলাফেরা করে । কারো সাথে কারো মিল নেই ; আমরা সহজেই বাহ্যিক বৈশিস্ট দেখে মানুষকে আলাদা করতে পারি । আমাদের প্রত্যেকের চোখের রঙ ( আইরিশ ) কিন্তু প্রায় একই ; কিছু ব্যতিক্রম আছে । সাধারনত একটা এলাকার Mass People এর চোখের রঙ প্রায় একই রকম হয়ে থাকে ।
এই পৃথীবিতে সবচেয়ে বেশী মানুষ বাদামী চোখের অধিকারী ; প্রায় মোট জনসংখ্যার অর্ধেক । আর সবচেয়ে কম দেখতে পাওয়া যায় সবুজ চোখের অধিকারী মানুষ । বেশী গাঢ় বাদামী চোখের মানুষ বেশীরভাগ দেখা যায় দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া , পশ্চিম এশিয়া , অশেনিয়া , সমগ্র আফ্রিকা এমনকি কিছু কিছু আমেরিকা মহাদেশেও । কম গাঢ় বাদামী চোখের মানুষ জন বেশী দেখা যায় ইরাক,ইরান,আফগানিস্থান,মিডেল ইস্ট এমনকি ইউরোপে কিছু কিছু অঞ্চলে । আমরা বাঙালী সবাই গড়-পড়তা বাদামী চোখের অধিকারী । মেলানিন নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থের ( পিগমেন্ট ) তারতম্যের জন্য চোখের আইরিশের ভিন্ন ভিন্ন রঙ হয়ে থাকে । বাদামী পিগমেন্টের উপস্থিতি কমবেশী হবার জন্যই আমরা চোখের আইরিশের এই বাদামী রঙ উজ্জ্বল বা অনুজ্জ্বল দেখি । এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বাদামী চোখের মানুষেরা সাধারনত বুদ্ধিমান,বিশ্বস্থ ও দয়ালু ( !! )হয়ে থাকে । জেনিটেক্যালি চোখেরএই বাদামী রঙ পরবর্তী প্রজন্মে প্রকট বৈশিস্ট সম্পন্ন হয়ে থাকে অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্মে বেশীরভাগ সন্তানই বাদামী চোখের অধিকারী হয়ে থাকবে ।
বর্তমান দুনিয়ায় প্রতি ছয়জন শিশুর মধ্যে একজন শিশু নীল চোখের অধিকারী হয়ে জন্মগ্রহন করে; তাতে বলা যায় বাদামী চোখের অধিকারী মানুষ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ । নীল চোখের মানুষজন সাধারনত মিস্টভাষী, দয়ালু ও আকর্ষনীয় হয়ে থাকে । সাধারনত চোখের আইরিশে কম পরিমান পিগমেন্ট থাকার জন্য মানুষের চোখের রঙ নীল হয়ে থাকে । একটি গবেষনায় দেখা গেছে, সকল নীল চোখের অধিকারী মানুষ একজন সাধারন পূর্বপুরুষ হতে এসেছে । প্রায় ছয় থেকে দশহাজার বছর পূর্বে এই কমন এন্সেস্টরের মিটেশন ঘটেছিল । তাহলে দেখা যাচ্ছে সকল নীল চোখের অধিকারী মানুষ-জন পরষ্পরের আত্নীয় ... কিঞ্চিৎ বিস্ময়কর !! এই সকল মানুষ-জন সাধারনত ইংল্যান্ড,আয়ারল্যান্ড ও উত্তর ইউরোপে বেশী দেখা যায় । আইসল্যান্ডে প্রায় আশিভাগ জনসংখ্যা নীল বা সবুজ ও প্রায় সকল নারীদের চোখের রঙ সবুজ হয়ে থাকে । সমগ্র পৃথিবীর প্রায় দুইভাগ মানুষের চোখের রঙ সবুজ ।
মেলানিনের পরিমান যদি অপেক্ষাকৃত আরো কম হয় , তবে চোখের আইরিশের রঙ হয় ধূসর । এই-রকম মানুষ বেশী দেখা যায় রাশিয়া,ফিনল্যান্ড,এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুনিয়া ও পূর্ব ইউরোপে । এরা মোটের উপর খুব আত্ম-নির্ভরশীল ও আকর্ষনীয় হয়ে থাকে ।
এছাড়া আরো বেশ কিছু রঙের আইরিশ দেখতে পাওয়া যায় । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হ্যাজেল বা হালকা বাদামি আইরিশ । এই আইরিশকে অনেকটা উজ্জ্বল নীল ও গাঢ় বাদামী রঙের মধ্যবর্তী বলা যায় । আলোর তারতম্যের কারনে মাঝে মধ্যে একে সোনালী বা গাঢ় সবুজ রঙের মনে হতে পারে । এই রকম মানুষ বেশী দেখা যায় , মিডেল ইস্ট ও উত্তর আফ্রিকায় বিশেষ করে আরব বেদুঈনদ । আম্বর বা পীত বর্ণের আইরিশ সাধারনত গাঢ় হলুদ বা কপারি সোনালী রঙের মত হয়ে থাকে । এই রকম চোখকে "নেকড়ের চোখ " এর সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে । সাধারনত ব্রাজিল ও এশিয়ার কিছু এলাকায় এরকম মানুষ-জন দেখা যায় ।
একজন মানুষের দুটি চোখের রঙ কি স্বাভাবিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে ...... হ্যাঁ, পারে । যদি পিগমেন্ট ডেভলপমেন্টের সময় কোন বাধা-বিঘ্ন ঘটে অথবা এক ধরনের জেনেটিক ডিস-অর্ডার আছে যা Benign বা Horner’s syndrome হিসাবে পরিচিত । 
©somewhere in net ltd.