নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। ফেসবুকে যুক্ত হোনঃ www.facebook.com/dev.d.nipun (DEV DULAL GUHO)

...নিপুণ কথন...

সময়ের সাথে দৌঁড়ে পারিনা, জীবনের দৌঁড়েও পিছিয়ে আমি!খুঁজে ফিরি আপন মানুষ, মাঝে মাঝে হই বেহুঁশ...হৃদয়ে অবিরাম স্বপ্ন গাঁথন, বলব আজ নিপুণ-কথন।

...নিপুণ কথন... › বিস্তারিত পোস্টঃ

কেমন হলো নতুন \'মন্ত্রীসভা\'?

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৪


সংসদে এমপি হিসেবে শপথপাঠ করতে জনাব তারেক রহমান যখন এসে নিজের চেয়ারে বসতে গেলেন, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও জনাব খন্দকার মোশাররফ হোসেন তখন উঠতে একটু দেরী করে ফেললেন বলে মনে হলো। এই দেরীই কি ভাগ্য নির্ধারণ করে দিলো কারো?

গয়েশ্বর বাবুর বেয়াই নিতাই রায় চৌধুরী জানামতে পেয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। নিতাই বাবু দীর্ঘদিন আমার ফ্রেন্ডলিস্টে ছিলেন লীগের আমলে। তিনি দেখেছেন আমার লড়াই-সংগ্রাম। মনে রেখেছেন কিনা জানা নেই। রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের পদেও দেখা যেতে পারে প্রথমে উল্লিখিত দুজনের কাউকে বা জনাব রুহুল কবির রিজভীকে।

জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানে দেশ জুড়ে ব্যাপক অভিযান হবে, জ*ঙ্গীদের জন্য নরক আনবেন তিনি দেশে। দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে, আওয়ামী লীগও ফিরবে। পুলিশ হত্যার বিচার শুরু হবে আজ থেকেই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। SI সন্তোষকে জ্বালিয়ে দেওয়ার আত্মস্বীকৃত খুনি মাহাদী-সুরভি জুটি পারলে এখনই পালাও।

ঠাকুরগাঁও এর এমপি ও বিএনপির মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতোদিন দলের জন্য যা করেছেন, তার ফল পেলেন। তারেক রহমানের প্রতি আনুগত্যের ফলও পেলেন। উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক উন্নতি হবে। যদিও হাসিনার আমলের শেষের দিকেই ঐ এলাকার রাস্তাঘাটে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

লালমনিরহাটের এমপি জনাব আসাদুল হাবিব দুলুকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় না দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার মানে এক সময়ের মঙ্গাপীরিত ঐ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন, তবে তা মূলত দুর্যোগ হলে ত্রাণ প্রদানের মাধ্যমে, ভারতের বিরুদ্ধে গিয়ে চিকেনস নেকের খুব কাছে চীনের সাথে তিস্তা মহাপরিকল্পনাটা মনে হয় আর হচ্ছে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাব খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়া মানে এই অঞ্চলে আমেরিকা ও ভারতের উভয়ের জয় ধরে রাখা। ঐসব দেশসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য সাবেকদের ভালোমন্দও তিনি দেখতে পারবেন। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরের শামা ওবায়েদ হলে, বিশ্ব বার্তা পাবে যে দেশটা এখনও আফগানিস্তান হয়ে যায়নি। বোরকার আধিপত্যের এই যুগেও তিনি খুবই স্মার্ট, সুন্দরী, শিক্ষিতা ও ভারী মেকআপ পরিহিত রমনী।

ঢাবি ক্যাম্পাসে ভর্তির পর প্রথম গিয়ে যার বক্তব্য শুনে দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম, সেই কাঁচাপাকা চুলের জোনায়েদ সাকির প্রতিমন্ত্রী হওয়া মানে পশ্চিমা ঘরানার বাম রাজনীতিকে স্বীকৃতি দেওয়া। এই তুখোড় বক্তাকে নিয়ে ট্রল কম হয়নি জুলাইয়ের আগে। এবার সংসদও প্রাণবন্ত করবেন তিনি।

মন্ত্রীপরিষদে নাকি আছেন মামা-ভাগ্নেও! সিরাজগঞ্জের কথা বলছি।

জনাব মিলন আবার শিক্ষায় ফেরা মানে জেন-জিকে আবার পড়ার টেবিলে ফেরানো। নকল-অটোপাশ আর চলবে না। শেখ সেলিম তথা শেখ হাসিনার আত্মীয় মুসা বিন শমশের পুত্র ববি হাজ্জাজের আরও ভালো বিকল্প ছিলো বলে অনেকের মত।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে 'ফজু পাগলা' মনে হচ্ছে নেই। তাঁর অতিরিক্ত বঙ্গবন্ধু প্রীতি ও লীগকে এখনই পুনর্বাসন করার মতো ফেসবুক পোস্টগুলো, 'জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু' লেখাই কি কাল হলো?

বিকাশ নূর বলে এত পঁচানো হলো, এতোবার খেলেন মার, তারপরেও আমার চেয়েও বয়সে ছোট নুরুল হক নুর (ভিপি নুর) এবার নাকি প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন! এর মধ্য দিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীদেরকেও জায়গা দেওয়া হলো, নাহিদ-সার্জিসরা বিক্ষোভ করতে গেলে নুরুর কর্মীদের পাবে না।

সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ ভাইয়ের এটা প্রাপ্য ছিলো। তিনি সিলেটে লীগের আমলেও দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে বিএনপিকে ধরে রেখেছেন। আমি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আমলে একবারই এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে ঢুকেছিলাম। যদিও মন্ত্রীর সাথে আমাকে দেখা করতে বা সালাম জানাতে দেয়া হয়নি, তবে সেখানে অপেক্ষারত এই আরিফ ভাই ও বোয়ালমারীর আরেক আরিফ দোলন ভাইকে পেয়েছিলাম। দোলন ভাই বিতর্কিত হলেও আরিফ ভাইয়ের জনপ্রিয়তার তুলনা সিলেটে নেই। যদিও তারা নির্যাতিত আমাকে কোনো উপকার করতে পারেননি তখন।

সরকারি চাকরি ছেড়ে যেদিন নির্বাচনে গেলেন, সেদিনই বুঝেছিলাম সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল আরও বড় পদে যাবেন। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, লীগকে তিনি নিষিদ্ধ করতে সারা দেননি। ড. আসিফ নজরুলের চেয়ার তিনি নিতে যাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।

বাকিদের অনেককেই আমি চিনি না। সাংবিধানিক বৈধতা নিশ্চিত করা গেলে আশা করি পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

এদিকে, ভারত বয়কট আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেড় বছরের মাঝেই ভারতের স্পিকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান হলো। অর্থাৎ ভারতকে বাদ দেওয়া গেলো না। তবে নরেন্দ্র মোদি আসলে আমরা যতটা সম্মানিত হতাম, এবার তা হলাম না। কারণ মন্ত্রীসভার শপথে প্রধানমন্ত্রী আসলেই সেটা বেশি সম্মানের ও স্বীকৃতির হতো৷ যাহোক, বালপাকনাদের বয়কটের হুমকিতে তা আর হলো না।
Devdulal Guha Nipun

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: বাংলাদেশে ভালো কিছুর আশা করতে নেই। একজন বলছিল গুড যদি ভালো হয় তবে তুই গুড, তোর বাপ গুড, তোর চৌদ্দগুষ্ঠি গুড। বিএনপির অতীত ভালো ছিল না। দেখা যাক ভবিষ্যত ভালো হয় কিনা।

২| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভিপি নুর যে পরিমাণ মাইর খাইসে সেটা নজিরবিহীন । তাকে সমমান করে ভালো করেছে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.