নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।
নীচে দেয়া চিত্রে রেনেসাঁ যুগের ইতালীয় শিল্পী সান্দ্রো বত্তিচেল্লি ( Sandro Botticelli) কর্তৃক অঙ্কিত Madonna of the Pomegranate চিত্রকর্মে ভার্জিন মেরির হাতে ধরা ডালিমটির অর্থ সম্পর্কে কিছু ব্যখ্যা দিয়ে লেখার কাহিনী হয়েছে শুরু।

চিত্রটিতে থাকা ডালিমটিকে হৃদযন্ত্রের গঠনের একটি যথার্থ প্রতিরূপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী বত্তিচেল্লি মানবদেহের অঙ্গসংস্থানবিদ্যা সম্পর্কে নতুন করে জাগ্রত আগ্রহ এবং প্রাচীন যুগের হারিয়ে যাওয়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান পুনরুদ্ধারের ধারার সঙ্গে পরিচিত হন। রেনেসাঁ যুগের শিল্পীরা মৃতদেহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে এই হারানো জ্ঞান পুনরায় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

রেনেসাঁ যুগে শিল্পীরা অঙ্গসংস্থানবিদ হওয়াকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করতেন, কারণ এতে মানবদেহ সম্পর্কে তাদের গভীর উপলব্ধি তৈরি হতো এবং তাদের শিল্পকর্ম আরও জীবন্ত ও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠত।এই লিংক https://en.wikipedia.org/wiki/Uffizi# ফলো করে ইটালির ফ্লোরেন্সে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত উফিজি আর্ট গ্যলারীতে (Uffizi Gallery) থাকা বত্তিচেল্লীর মত রেনেসাঁ যুগের শিল্পীদের আঁকা বিশ্বখ্যাত কিছু চিত্র কর্ম দেখতে
পারেন ।

উপরে তুলে দেয়া চিত্রটির নাম Madonna of the Pomegranate। এসেছে ভার্জিন মেরির হাতে ধরা ফলটির কারণে। ডালিমের ইংরেজী নাম Pomegranate। ডালিম এখানে যিশুর ভোগান্তি ও পুনরুত্থানের পূর্ণতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। খ্রিস্টধর্মে ডালিম জীবন থেকে মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের প্রতীক কারণ এর বীজ থেকে পুনরায় নতুন জীবন জন্ম নিতে পারে।

খোলা ডালিমের ভেতরে দেখা লাল বীজগুলো দর্শককে যিশুর রক্তপাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা মানবজাতিকে রক্ষা করেছিল। ডালিমের খোসা ছাড়ানো অংশে অসমমিত কুঠুরির মতো গঠন দেখা যায়, যা হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বত্তিচেল্লি ভেতরের স্পঞ্জের মতো ঝিল্লিকে এমনভাবে দেখিয়েছেন, যা বীজগুলিকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করেছে। এই পাঁচটি অংশ হৃদয়ের অলিন্দ (atria), নিলয় (ventricles) এবং প্রধান পালমোনারি ট্রাঙ্ককে নির্দেশ করে।

ডালিমের মুকুটসদৃশ অংশটি দুই ভাগে বিভক্ত, যা সুপিরিয়র ভেনা কাভা এবং তিনটি শাখাযুক্ত অ্যাওর্টার ধনুকের অনুকরণ বলে মনে হয়। ফলটি মেরির বক্ষের বাম পাশে ধরা হয়েছে, যা হৃদয়ের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়।
হৃদযন্ত্রের প্রকৃত অঙ্গসংস্থানের সঙ্গে এই বিস্ময়কর সাদৃশ্য এবং বক্ষস্থলের ওপর এর অবস্থান এই ধারণাকে শক্তিশালী করে যে, মেরি ও শিশুযিশুর হাতে ধরা ফলটির ভেতরে শিল্পী প্রতীকীভাবে একটি হৃদয় লুকিয়ে রেখেছেন।
ভার্জিন মেরির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাতা হিসেবে ভার্জিন মেরি যিশুর শৈশব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন; তিনি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের জন্য দৃঢ় মানসিক ও শারীরিক ভিত্তি প্রদান করেন। যিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মা অব্যাহতভাবে তাঁকে সমর্থন দেন এবং তাঁর বেড়ে ওঠা দেহের জন্য যথাযথ পুষ্টির ব্যবস্থা করেন।

মা হিসেবে ভার্জিন মেরির দায়িত্বের মধ্যে ছিল সুরক্ষা প্রদান, প্রয়োজনীয় দক্ষতা শিক্ষা দেওয়া, এবং এমন নিয়ম ও মূল্যবোধ শেখানো যা যিশু সারাজীবন বহন করবেন। ঈশ্বরের পুত্রকে জন্ম দেওয়া ও লালন-পালনের এই বিশেষ দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন বলে তাঁর মধ্যে সাহস, ভালোবাসা এবং গভীর বিশ্বাসের মতো বহু মহৎ গুণের প্রকাশ ঘটে। তিনি ঈশ্বরের পক্ষ থেকে অর্পিত এই মহান দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি ও আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছেন।

ডালিমের উন্নত জাতই হলো আনার বা বেদানা। ডালিম খুবই আকর্ষণীয়, মিষ্টি, সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। এ জন্যই তো এর এত কদর মায়েদের কাছে ।

শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবিটি গৃহ সজ্জাতেও ব্যবহৃত হয় অনেক অভিজাত মহলে ।

এর আদি নিবাস ইরাক ও ইরান। ককেশাস অঞ্চলে এর চাষ প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। সেখান থেকে তা ভারত উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করেছে।

বাংলাদেশের মাটি বেদানা চাষের জন্য উপযোগী বিধায় আমাদের দেশের বসতবাটির আঙ্গিনায় ডালিমের চাষ দেখা যায়। আমার দাদার বাড়ীর আঙগিনা জুরেই ছিল ফুলে ফলে ভরা গুটি কয়েক ডালিম গাছ ।
আহারে ডালিম ফুল আর ফল নিয়ে শ্রুতি মধুর কী গানই না ছিল ।
ছোটকালে সকলের চুপিসারে সমবয়সীদেরকে সাথে নিয়ে শীতকালে চাদনী রাতে চাদর মুরী দিয়ে যাত্রা পালায় গিয়ে দেখতাম আর নাচে গানে মাতিয়ে তুলা গান শুনে বাড়ীতে এসে পর দিন থেকেই ডালিম গাছের নীচে গিয়ে গানের অর্থ না বুঝেই গলা ছেরে হেরে গলায় গাইতাম ।
চারা গাছে ফুল ফুইটাসে
ডাল ভাইঙ্গ নারে মালি ফুল ছি্ইরোনা
পাকা ডালিম ভরবে রসে …..
পায়ে ধরে মিনতি করি
কাছে আইসনা হাত ধইরনা
ডাল ভাইঙ্গ নারে মালী
ফুল ছিইরোনা।

গলা ছেরে গানটি গাওয়ার সাথে সাথে্ই মা আর দাদীর কাছে বকুনী খেতাম । আর বুঝি গান জানসনা,আজ তোর বাপ বাড়ীতে আসুক, দেখবি লুকিয়ে যাত্রা পালা দেখে গান গাওয়া কাকে বলি । মনে মনে বলতাম গান গাইলে ক্ষতি টা কী?
তার পর বড় হয়ে বুঝলাম এর মর্ম কথা, গুরুজনদের সামনে কেমন করে তেমন গান গাইতাম সে কথা ভাবলে এখনো লজ্জা পাই । যাহোক অর্ধ শতাব্দিরও আগের সেই জনপ্রিয় গানটি নীচের লিংক ফলো করে যে কেও শুনতে পারেন।

আনার বা ডালিমের অনেক ঔষধী গুণও রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে আনার গাছ থেকে সারা বছর যেমনি পাওয়া যাবে ফল তেমনি একে ঔষধি কাজেও লাগানো যাবে । ছাদ বাগানে টবে বা ড্রামে খুব সহজেই ডালিমের তথা আনার বা বেদানার চাষ করা যায়।

ডালিমের ঔষুধি গুণের সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ একটি তালিকা নীচে তুলে দেয়া হল ।
ডালিম আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে বিভিন্ন উপকারী রাসায়নিক উপাদান থাকায় এটি বহু রোগ উপশমে কার্যকর। কবিরাজী মতে ডালিম হৃদয়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং কোষ্ঠ রোগীদের জন্যও ভালো। ডালিম গাছের ফল, খোসা, ফুল, পাতা ও শিকড় সব অংশই ঔষধি গুণসম্পন্ন।

১.রক্তপাত বন্ধে :ডালিমের ফুল বা পাতা ক্ষতস্থানে লাগালে রক্তপাত বন্ধ হতে সাহায্য করে।
২.নাক দিয়ে রক্ত পড়া : ডালিম ফুলের রস নাকে নিলে রক্তপাত কমে।
৩.আমাশয় নিরাময় :ডালিমের খোসা সিদ্ধ করে খেলে আমাশয়ে উপকার পাওয়া যায়।
৪.ত্বক ও নারী রোগে উপকারী : গাছের ছাল বাগি/উপদংশে কার্যকর; ফুল মধুর সাথে সেবনে শ্বেতপ্রদর ও রক্তপ্রদরে উপকার হয়।
৫.গর্ভপাতের ঝুঁকি কমাতে : ডালিম পাতার মিশ্রণ সেবনে উপকারের কথা বলা হয়।
৬.কৃমিনাশক : গাছের শিকড়ের ছাল কৃমি দূর করতে ব্যবহৃত হয়।
৭.শিশুদের পেটের রোগে : শিকড়ের ছাল মধুর সাথে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৮.রক্ত বৃদ্ধি : ডালিম খেলে শরীরে রক্ত বৃদ্ধি পায় বলে ধারণা রয়েছে।
৯.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে : প্রাকৃতিক ইনসুলিনের মতো কাজ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

মোটকথা হল ডালিম গাছের প্রতিটি অংশই মানবস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী; তাই এটি একটি উপকারী ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবে বিবেচিত। আমি প্রতিদিন একটি পাকা ডালিমের এক চতুতাংশ রসালো বিজ ও খোশা সহ চিবিয়ে খেয়ে ভাল ফল পাচ্ছি । আপনারা সকলে খেয়ে দেখতে পারেন । তবে যারা হালকা তিতা স্বাদও একেবারেই পছন্দ করেন না তারা শুধু ডালিমের মিষ্টি রসটুকু খেলেও উপকার পাবেন ইনসাল্লাহ।

ছবি : অন্তরজালে থাকা বিভিন্ন সুত্র হতে সংগৃহীত

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯

সুলাইমান হোসেন বলেছেন:

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



এত সুন্দর একটি ছবি যুক্ত করে যাওয়ার জন্য অন্তরিক ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

২| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: আলী ভাই আপনার ছবিগুলো বড় করতে চাইলে,ক্যানভাতে২১০০×২১০০ px সিলেক্ট করলে বড় করতে পারবেন,JPG ফরমেটে ডাউনলোড করতে হবে

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ ।
াআমি এতদিন ধরে ইমগুর ব্যবহার করে ছবি বড় করতাম ।
এখন বমাদের এই রিজিয়নে ইমগুর নিষিদ্ধ ।
তাই নতুন করে তো ইমগুর ব্যবহার করে ছবি বড় করা যাচ্ছেই না
উপরন্ত আমার প্রয় শ খানেক পোস্টে ইমগুর ব্যবহৃত হাজার খানেক
ছবি গুলি দেখা যাচ্চেনা । লেখা আসছে কনটেন্ট নট এভেইলেবল ।
তবে সেই পোস্টের ছবি গুলি দুনিয়ার অন্যান্য দেশ হতে দেখা যাচ্ছে ।
কোন পরামর্শ থাকলে দয়া করে দিবেন কিভাবে ছবি গুলি রেসটোর
করতে পারি ।

শুভেচ্ছা রইল

৩| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




দারুণ। ডালিম সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানলাম।
সবচেয়ে চমৎকৃত হলাম, খ্রিস্ট ধর্মে ডালিম পূনর্জন্মের প্রতীক, এটা জেনে।

তবে, চারা গাছে ফুল ফুটেছে গানটার নাচের ব্যাপারে একটু সন্দেহ আছে! প্রথম দিকে নায়িকার কোমরে যেভাবে নায়ক আঘাত করলেন, তাতে আমি হাসতে হাসতে পেটে ব্যাথা!! সন্দেহ হলো, আলী ভাই এটা রিকমেন্ড করেছেন কি না।

আর, ডালিম আমার গ্রামের ছোটবেলার বন্ধু। আজকে সন্ধ্যার সময়ে কথা হলো। তারপরেই, দেখি, আপনি পোস্ট দিয়েছেন! :)

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার সুন্দর ও আন্তরিক মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ডালিমকে আমরা সাধারণত শুধু একটি ফল
হিসেবেই দেখি, কিন্তু বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মে এর যে গভীর প্রতীকী অর্থ আছে বিশেষ করে খ্রিস্টধর্মে পুনর্জন্মের
প্রতীক হিসেবে তা সত্যিই বিস্ময় জাগায়। আপনি বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন জেনে ভালো লাগলো।

আর “চারা গাছে ফুল ফুটেছে” গানের নাচ নিয়ে আপনার সন্দেহ এবং হাসির অভিজ্ঞতা পড়েও আমিও হাসলাম!
শিল্পের সৌন্দর্য যেমন আছে, তেমনি কখনো কখনো কিছু মুহূর্ত আমাদের অপ্রত্যাশিত আনন্দও দিয়ে যায়
সম্ভবত সেই জায়গা থেকেই রিকমেন্ডেশনটা( যদিউ এটা ২টি অপসনের মধ্য ভুলবসত ১টি এসে পড়েছে
এখানে যা পরে পাল্টিয়ে দিয়েছি ) নিখুঁত নৃত্যবিশ্লেষণ হিসেবে নয়, বরং স্মৃতিমাখা বিনোদনের দিকটা ভেবে।

সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে শেষ কথাটা ডালিম আপনার শৈশবের বন্ধু, আর তার সঙ্গে কথা বলার পরই এই
পোস্ট চোখে পড়া! কখনো কখনো এমন কাকতালীয় ঘটনাগুলোই জীবনকে একটু রহস্যময়, একটু কবিতার
মতো করে তোলে। মনে হয়, স্মৃতি আর বর্তমান যেন অদৃশ্য কোনো সেতুতে যুক্ত হয়ে যায়।

শুভেচ্ছা রইল

৪| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৮

শায়মা বলেছেন: ডালিম যেমনই দেখতে সুন্দর তেমনই তার ভেতরের দানাগুলোর সাজসজ্জা। আর এর উপকারিতা জেনে তো আরও অবাক হলাম!
ছোটবেলায় ডালিম কুমারের গল্পও আমার অনেক প্রিয় ছিলো..... :)

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:১২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



হ্যা ডালিমের অনেক উপকারীতা । গতকাল পুরা একটা ডালিম খেতে এই লেখাটি লিখেছি । ডালিম খেতে খেতে
মনে হচ্ছিল সামু রাজনৈতিক ডামাপুলে বড় পান্তা মনে হচ্ছিল । তাই ভিন্ন কিছু লিখতে গিয়ে মনে হল রঙিন
ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গবিশ্লেষন করে যাই গল্প কবিতা ও আর্ট মিশিয়ে । কিন্তু দেখলাম ডালিম
বনে ফুল আর পাতা ছিরতে দুই একজন ছাড়া কেও আসেনা ।

তবে তোমার ডালিম কুমারের গল্পের কথা মনে হওয়ায় বই এর তাক খুজে প্রায় ৬০/৭০ বছরের পুরানো
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংকলিত ও সম্পাদিত কালজয়ী শিশুতোষ রূপকথা সংকলন ঠাকুরমার ঝুলি’
ব্ইটি বুক সেলফ থেকে নামিয়ে নিয়ে এসে পাতা উল্টালাম । এই বই যে কতবার পড়েছি ছোটকালে তার
কোন ইয়ত্তা নেই । দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংকলিত ও সম্পাদিত কালজয়ী শিশুতোষ রূপকথা সংকলন
‘ঠাকুরমার ঝুলি’-এর অন্যতম জনপ্রিয় গল্প ডালিম কুমার। গল্পটি পাঠের সময় মনে হতো ইস আমি যদি
ডালিম কুমার হতাম, হতাম বলে কথা, মনে হত আমিই বুঝি ডালিম কুমার । ডালিমের বীজের ভিতর
মানুষের জীবন কি আচানক কথা বলা হয়েছে গল্পে। কিন্তু কি অদ্ভুদ মিল দেখো আমার পোস্টের প্রচ্ছদ
ছবিতে দেখানো সেই পঞ্চদশ শতকের রেনেসিঁয় শিল্পী তার সুন্দর শিল্পকর্মে ডালিমকে যিশুর ভোগান্তি ও
পুনরুত্থানের পূর্ণতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। খ্রিস্টধর্মে ডালিম জীবন থেকে মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের
প্রতীক কারণ এর বীজ থেকে পুনরায় নতুন জীবন জন্ম নিতে পারে। সে চিত্রটিতে ফলটি মেরির বক্ষের বাম
পাশে ধরা হয়েছে, যা হৃদয়ের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়।হৃদযন্ত্রের প্রকৃত অঙ্গসংস্থানের সঙ্গে এই
বিস্ময়কর সাদৃশ্য এবং বক্ষস্থলের ওপর এর অবস্থান এই ধারণাকে শক্তিশালী করে যে, মেরি ও শিশুযিশুর
হাতে ধরা ফলটির ভেতরে শিল্পী প্রতীকীভাবে একটি হৃদয় লুকিয়ে রেখেছেন। দেখ ঠাকুমার ঝুলিতে থাকা
ডালিম কুমার গল্পটিতেও রাক্ষসটি মানুষের জীবনকে কেমন করে ডালিমের বীজে লুকিয়ে রেখে পাথর চাপা
দিয়ে রেখেছিল । কি রকম সুন্দর যোগসুত্র দেখা যায় সেই বিখ্যাত চিত্র কর্ম আর ডালিম কুমারের গল্পে।

যাহোক তোমার পছন্দের ডালিম কুমারকে এনে দিলাম এখানে :)


শুভেচ্ছা রইল

৫| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



লিংক পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ।

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




হ্যাঁ ভাই ভুলটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ । এই গান শুনে কেন মা দাদীর কাছে বকা খেয়েছিলাম তা বুঝাবার জন্য
প্রথম লিংকটা বাছাই করেছিলাম , কিন্তু সেটা ব্লগে দেয়া সমীচিণ হবেনা বিবেচনায় বিকল্প আরেকটি লিংক ও বাছাই
করে রেখেছিলাম । কিন্তু ভুল ক্রমে সেই আগের লিংকটি জুরে দিয়েছিলাম । এখন মা দাদীর মত আপনার ঈঙ্গিত দেখে
ভুলটি শুধরিয়ে সিলাম ।

শুভেচ্ছা রইল

৬| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৪৯

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই বিস্তারিত জানানোর জন্য। বিষয়টা সত্যিই বিব্রতকর। যেহেতু Imgur আমাদের অঞ্চলে নিষিদ্ধ, তাই পুরোনো ছবিগুলো “Content Not Available” দেখাচ্ছে।
সম্ভব হলে কয়েকটা উপায় চেষ্টা করতে পারেন—
১️⃣ যদি মূল ছবিগুলো আপনার কাছে সংরক্ষিত থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে অন্য কোনো ইমেজ হোস্টিং সাইটে (যেমন Postimages, ImgBB ইত্যাদি) আপলোড করে পোস্টগুলো আপডেট করতে পারেন।
২️⃣ বিকল্পভাবে VPN ব্যবহার করে ইমগুরে ঢুকে ছবিগুলো নতুন কোনো প্ল্যাটফর্মে ব্যাকআপ নিয়ে রাখতে পারেন।
৩️⃣ ভবিষ্যতের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা ভালো, যা অঞ্চলভিত্তিক ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
৪️⃣ চাইলে ব্লগের নিজস্ব সার্ভার বা সরাসরি আপলোড সিস্টেম থাকলে সেটাই সবচেয়ে নিরাপদ


Tor ব্রাউজার দিয়ে ঢুকতে পারেন,ব্লক করা সাইটেও ঢোকা যায়।

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ইমগুরের উপর যে এখানকার মিডিয়া কনট্রোল এমন নির্দয় হবে তা ভাবিনি কখনো ।
যাহোক আমার কাছে প্রায় সবগুলি ছবিরই ব্যাক আপ আছে । তবে হাজার হাজার ছবি,
কখন যে মেরামতি কাজ করি , হাতে সময়ো নাই । দেখা যাক ধিরে ধিরে চেষ্টা করব।
আবার এসে সু পরামর্শ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল
আপনার মন্তব্য লিখুন

৭| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: ওরে বাবা!!
এত কিছু!!!

গতকাল ফারাজার জন্য কিনেছি। ৫৫০ টাকা কেজি নিয়েছে। এত দাম কেন?

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



এখানকার বাজারে এই ফলটির দামই সবচেয়ে সস্তা ।
বড় একটি বেদানার দাম বাংলাদেশি ২৫০ টাকার মত
ওজনে প্রায় আধা কেজি।তাই দামে প্রায় সমান সমান।
দেশে আয় কম তাই দাম বেশি মনে হয় , দেশের
মানুষের আয় বাড়াতে হবে যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে ।
বাড়াতে হবে কর্মসঙস্থান ও উতপাদন একসাথে।

শুভেচ্ছা রইল

৮| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৬

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আমাদের দেশে ডালিম এত দাম ক্যারে বুঝি না :(

ডালিম নিয়ে একটা গদ্য লিখেছিলাম কোন সময় জানি

পাবো কিনা খুঁজে তাও জানি না।

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ডালিম কিংবা ডালিম কুমার নিয়ে সুন্দর গল্প লিখা আছে
দক্ষিনারঞ্জন মিত্রের সম্পাদিত ঠাকুমার ঝুলিতে ।
খুঁজে পাবেন যে কোন পাবলিক লাইব্রেরীতে ।

ডালিমের এত দাম বুঝেন না ক্যারে
ছাদ বাগানে লাগিয়ে দিন যতন করে
না ছিরিবেন পাতা না ছিরিবেন ফুল
সারা বছর খেতে পারবেন পাকা
রঙিন ডালিম হয়ে আকুল ।

শুভেচ্ছা রইল

৯| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ডালিম কিংবা ডালিম কুমার নিয়ে সুন্দর গল্প লিখা আছে
দক্ষিনারঞ্জন মিত্রের সম্পাদিত ঠাকুমার ঝুলিতে ।
খুঁজে পাবেন যে কোন পাবলিক লাইব্রেরীতে ।

ডালিমের এত দাম বুঝেন না ক্যারে
ছাদ বাগানে লাগিয়ে দিন যতন করে
না ছিরিবেন পাতা না ছিরিবেন ফুল
সারা বছর খেতে পারবেন পাকা
রঙিন ডালিম হয়ে আকুল ।

শুভেচ্ছা রইল

১০| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৭

হুমায়রা হারুন বলেছেন: খুব ভালো লাগলো পড়ে।
আজ থেকে ৩৫ বছর আগের কথা।
দেখা করতে গিয়েছি যার সাথে তিনি আমার স্যার না, আমার আম্মার স্যার। তখন উনি এমিরেটাস প্রফেসর। স্যার তার ছাত্রীকে ( মানে আম্মাকে) তার কন্যার সাথে (মানে আমাকে) দেখে জিজ্ঞেস করলেন, 'হুমায়রা নামের অর্থ কি? বলতো।'
আমি বললাম, 'আমি জানি না।'
তখন স্যার বলেছিলেন, 'হুমায়রা অর্থ ডালিমের লালচে আভা। ডালিম পাকা হলে, তার বাইরের আবরণ যে লালচে আভা ধারণ করে, তাকে বলে হুমায়রা।'
তারপর থেকে আজও স্যারের কথা মনে আছে। কখনো ভুলিনি।

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মন্তব্যটি পড়লাম, সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেল।

৩৫ বছর আগের সেই মুহূর্ত, যেখানে একজন এমিরিটাস অধ্যাপকের মাধুর্য ও সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে একটি ছোট্ট
নামের অর্থ প্রকাশ করেছেন এটাই প্রমাণ যে জ্ঞান শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তেও
ছড়িয়ে থাকে। হুমায়রা অর্থাৎ ডালিমের লালচে আভা,এটি শুধু নামের ব্যাখ্যা নয়, বরং স্মৃতির রঙও হয়ে
হয়ে গিয়েছে আপনার কাছে।

মনে হয়, প্রতিটি নামের সাথে একটি গল্প, একটি অনুভূতি, একটি আভা জড়িয়ে থাকে,ঠিক যেমন
হুমায়রার লালচে আভা, যা আজও আপনার মনে জীবন্ত।

চমৎকার স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

১১| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: এটা একটা পারফেক্ট ব্লগ ফিচারের উদাহরণ। দারুণ লাগলো পড়ে। জানতে ইচ্ছে করছে, হঠাৎ আপনার ডালিম নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে করলো কেন। শুভকামনা জানবেন।

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সুন্দর মুল্যায়নে অনুপ্রানীত ।
আমি নিয়মিত পাকা ডালিম ( বেদানা ) খাই রাতে শুবার আগে ।
শুয়ে শুয়ে খাচ্চিলাম আর ভাবছিলাম , স্বল্পমাত্রার হলেও ডায়াবেটিস নিয়ে
মিষ্টি রসে ভরা ডালিম খাওয়া কতটুকু সইবে প্রাণে , তা জানার জন্য
ডালিম নিয়ে একটু গবেষনা করে দেখাই যাক । একে নিয়ে বিভিন্ন
এঙ্গেল হতে গবেষনায় যে সকল বিষয় উঠে আসে তাতে মনে হল
বিষয়গুলি নিয়ে একটি পোষ্ট সামুতে সকলের সাথে শেয়ার করাই
যায় , সেই চিন্তাভাবনা হতেই এই পোস্টটির অবতারনা ।
বিলম্বিত উত্তর দানের জন্য দুঃখিত ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১২| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৪

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনার পোস্ট যেমন ভালো লাগে , তার থেকেও অধিক ভাল লাগে আপনার মন্তব্য এবং আমার মন্তব্যে আপনার প্রতিউত্তর। এখন ব্লগে আসলেই আপনার পাতা ঘুরে আসি।
'৩৫ বছর আগের সেই মুহূর্ত, যেখানে একজন এমিরিটাস অধ্যাপকের মাধুর্য ও সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে একটি ছোট্ট নামের অর্থ প্রকাশ করেছেন এটাই প্রমাণ যে জ্ঞান শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তেও ছড়িয়ে থাকে।' - আপনার এই কথাটি ভীষণ সত্য, যা আমি নিজেও এভাবে উপলব্ধি করিনি। স্যারের ব্যাখ্যা করে দেওয়া আমার নামের অর্থ আমার জীবনটাকেই, সেদিন থেকে পালটে দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.