| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
টেলিভিশনে আগে একটা বিজ্ঞাপন দেখাতো। একটা ছেলে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে এবং একজন মধ্য বয়স্ক লোক এসে বলছে, "এত দেশ দেশ করে কি হবে? দেশ আপনাকে খাওয়ায় না পড়ায়? যত সব ফালতু সেন্টিমেন্ট ! " ঠিক তখনই ছেলেটা ওই ভদ্রলোকের মাকে উদ্দেশ্য করে বলে , " এত মা মা করে কি হবে? মা আপনাকে খাওয়ায় না পড়ায়? যত সব ফালতু সেন্টিমেন্ট ! " এতে লোকটা খেপে গিয়ে ছেলেটাকে বলে , "মাকে নিয়ে আর একটা খারাপ কথা বললে কিন্তু...!" কথার মাঝখানে ছেলেটা ভদ্রলোককে থামিয়ে বলে , " দেশটা মা না? "
এখন হয়ত এমন বিজ্ঞাপন বানাতেও বিজ্ঞাপন নির্মাতারা লজ্জা পান। কারণ এই যুগে এই প্রেক্ষাপটে তো এই বিজ্ঞাপন মূল্যহীন। পাবলিক খাবে না। যেই সন্তান মাকে (অথবা বাবাকে) বৃদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে কাঁধের বোঝা মনে করে , তাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসতে পারে তার কাছে দেশের মূল্য যে কি তা বলাই বাহুল্য। কোনক্রমে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলেই হল ব্যাস তাকে আর পায় কে ! তখন প্রতি মা দিবসে মার জন্য একটা নতুন wish করার কথা আর মনে থাকে না , মনে থাকে না ছোট বেলায় পড়ার টেবিলে বসে মাকে বলা সেই কথা যে মা আমি অনেক বড় হয়ে তোমাকে বিদেশে ঘুরতে নিয়ে যাব। আমরা হলাম বৈজ্ঞানিক যুগের মানুষ। আমরা একক পরিবার মানে Nuclear Family তে আস্থাবাদী। স্বামী , স্ত্রী , একটি বড়জোর দুটি সন্তানই যথেষ্ট। ছেলে বড় হলে বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে হয়ে যায় আলাদা পরিবার। দেশে থেকেই কাজের জোগাড় করতে হয়তো তাই দেশটাকে আর ছাড়তে পারি না। যদি বিদেশে সবারই কোন না কোন স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা হত তাহলে দেশকেও হয়ত বেচে দেয়ার আগে দুবার ভাবতো না কেউ। আমরা মদ খেয়ে মাতাল হওয়া লোককে দেখেই বুঝতে পারি যে তিনি বেহুঁশ। কিন্তু যখন কেউ তার মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসতে যায় তখন আমরা বলি না যে সে মাতাল অথবা সে বেহুঁশ। সে নিজেও বুঝে না যে সে বেহুঁশ। কেউ যখন মাতাল হয়ে তার আশেপাশে তাণ্ডব চালায় তখন তাকে হাজার বুঝালেও সে থামে না। কিন্তু নেশা ছোটার পরেই সে বুঝতে পারে যে এতক্ষন কি কাজের কাজটাই না সে করেছে ! অপরাধী অপরাধ করার সময় কখনই ভাবে না সে অপরাধ করছে , তার মাথায় এই চিন্তাই আসে না তখন। কিন্তু অপরাধটা করার পরক্ষনেই তার মনে অপরাধ প্রবণতা জাগে। ঠিক তেমনি আমরা যখন মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসি তখন আমরাও বুঝি না যে আমাদের মা-বাবা আমার কাছে কি চায়? আমরা ভাবী ভালই তো মা সারাক্ষণ যত্নে থাকবে ,সময়মত খাওয়াদাওয়া করবে , তাছাড়া মা কে তো আমি সময় দিতেই পারি না । কিন্তু যখন আমরা নিজেরা বার্ধক্যে পৌঁছাব তখনই বুঝতে পারব যে কি নির্বোধের মত কাজ করেছিলাম তখন ! এমনও হতে পারে এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমার সন্তান আমার সাথেও করতে পারে। কিন্তু হায় ! তখন এই অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ক্ষমা পাওয়ার কোন উপায় ততদিনে আর থাকবে না। বাকি জীবনটা এই অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়েই কাটাতে হবে।
তাই আসুন সময় থাকতে একটু মা-বাবার দেখাশোনা করি। আর কিছু করতে না পারি অন্তত দিনের মধ্যে একবারের জন্য হলেও মায়ের দিকে হাসি মুখ করে জিজ্ঞেশ করি , "মা তুমি কেমন আছো? " এটা মায়ের প্রতি সহানুভূতি নয় এটাই ভালবাসা।
২|
২৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:৪৫
খেয়া ঘাট বলেছেন: ভালো লিখেছেন।
২৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:৫৪
জুনাইদ মাহমুদ রক্তিম বলেছেন: ধন্যবাদ সময় ব্যয় করে পড়ার জন্য।
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:২৬
ডি মুন বলেছেন: খুবই সত্য কথা বলেছেন