| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাহরিয়ার নভো
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী বিস্ববিদ্যালয়ে বিবিএ অধ্যায়নরত। নিজের চিন্তা চেতনা উন্মুক্ত করতে চাই। অন্যের চে্তনা নিয়ে ভাবতে চাই। মানুষের ভালো দিক কে গ্রহন করতে চাই আর খারাপ দিক সম্পরকে জানতে চাই।
বছর ঘুরে প্রবিত্রতা নিয়ে এলো মাহে রামযান। সেই সাথে এল পুরো পৃথীবি মাতানো বিশ্বকাপ । ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন ভাসছে পুর দেশ, সেই সাথে মুস্লিম বিশ্বে এসে গেল মাহে রামযান। সিয়াম সাধনা, আত্ম সধন, নেক আমল ইত্যাদি কর্মকান্ডের পাশাপাশি চলছে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা। ছাদে উঠলে দেখা যায় রংবেরঙ্গের পতাকা আর রাস্তায় বেরহলে শোনা যায় পছন্দের দল নিয়ে তর্ক বিতর্ক। বেশ মজার একটা মুহুর্ত।
বাংলাদেশ ও পিছিয়ে নেই। গণতান্ত্রিক এ দেশে মুসলিম ধর্মাবলম্বি মানুষ বেশী। কথিত আছে, রোযায় বাংগালীরা নাকি ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহকে দুনিয়াতে নামিয়ে আনে। এটা বেশ ভাল। একটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রে এটা বেশ খুশির খবর।
কিন্তু বিগত কয়েক দিনে যা দেখছি তা মোটেই মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র হিসাবা বিবেচনা করা যাবে না। কারন ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা এমন পরযায়ে গেছে যে পবিত্র মাহে রমযানের পবিত্রতা এতে খুন্ন হচ্ছে।
আমি ব্যাপারটা আরো খুলে বলিঃ ২য় রোযায় রাত ১০ টায় খেলা ছিল আরজেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের। সেইখেলায় আরজেন্টিনা ১-০ ব্যাবধানে জিতে। রাত ১০ টায় খেলা হও্য়ার কারনে আবশ্যিক ভাবে সেই খেলা শেষ হয় রাত ২ টায়। কারন ম্যাচ টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু আরজেন্টিনা জেতার পর পর বেশ কিছু পাড়া মহল্লা'র যা অবস্থা দেখলাম তা মুসলিম জাতি তে কখনোই কাম্য নয়। ইবাদাত বান্দেগীর মাসে এভাবে আতশ বাজী, পোটকা ফোটানো, বিকট শব্দের বাজী পোড়ানো এটা কতটুকু গ্রহন যোগ্য??? ইবাদাত বান্দেগীর মাসে অনেক ব্যাক্তি আছেন যারা রাত জেগে ইবাদাত করেন। আমার দাদি সহ পরিবারের অনেক মুরুব্বিই রাত জেগে ইবাদাতে ব্যাস্ত থাকেন। তাদের কি ইবাদাতে গোলযোগ হবে না??
ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে কোন ধরেন আতশবাজী, পটকা ফোটানো ইত্যাদি পুরপুরি নিষিদ্ধ।
আমরা সবাই ফুটবল প্রেমী। কিন্তু ধর্মের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা অবশ্যই রাখা উচিত। সাপোরট আমরা অবশ্যই করব। কিন্তু পবিত্রতা বা ধর্ম কে বিসরজন দিয়ে নয়।
আজ আমার এই লেখাটি যারা পড়ছেন আশা করি তারা খেয়াল রাখবেন যাতে নিজের পাড়া মহল্লায় এই পবিত্র মাহে রমযানের অসম্মানি নষ্ট না হয়। বিশ্বকাপ দেখুন, প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করুন। কিন্তু ধর্ম কে অপবিত্র করে নয়।
লেখাটি কষ্ট করে পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.