নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যের পথে থাকতে হবে অবিচল

মোঃ সালহউদ্দিন নাসিম

খুব সাধারণ একজন মানুষ। জীবনটাকে সাধারণ হিসেবেই পরিচালিত করার চেষ্টা.........।

মোঃ সালহউদ্দিন নাসিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

৯ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস – দুর্ণীতি দিবসের আয়োজন কি দুর্ণীতি দূর করার সামর্থ্য রাখে?

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৬



দুদক প্রতি বছর ৯ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করে। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৪ সালের একাদশতম দুর্নীতি বিরোধী দিবসে বাংলাদেশে প্রতিপাদ্য ছিল ‘রুখবো দুর্নীতি গড়ব দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ। আর এবার মানে ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে-
দেশ প্রেমের শপথ নিন – দুর্ণীতিকে বিদায় দিন।
আর্ন্তজাতিক এই দিবসটি উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। যা যা করে তা নিম্নরূপঃ
১. র‍্যালি
২. আলোচনা সভা
৩. দুর্ণীতি বিরোধী ডকুমেন্টারী ফিল্ম প্রদর্শন
৪. রেডিও টিভিতে গনসচেতনা সৃষ্টি বিষয়ক দুর্ণীতি বিরোধী টক শো – ইত্যাদি
এ বছর যেসব কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে তা দেখতে এই লিংকে যেতে পারেন- http://www.acc.org.bd/assets/work_programs_for_central_and_local_of_international_anti_corruption_day-2015_.pdf
এদের মূল বক্তব্য হচ্ছেঃ দুর্নীতি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর অন্যতম হচ্ছে জনগণের মধ্যে নৈতিকতা বোধ জাগিয়ে তোলা। নৈতিকতাই পারে দুর্নীতি রোধ করতে এটা অনস্বীকার্য।
কিন্তু নৈতিকতা কি করে জাগিয়ে তুলতে হবে এ বিষয়টি আসলেই বিতর্কিত বটে! উল্লেখিত বিষয়গুলিতে কি আসলেই নৈতিকতা জাগ্রত হয়? কিছুতো হয়ই বটে তবে যেটুকু হয় তাতে কি আসলেই দুর্ণীতি রোধ করা সম্ভব?
ফখরুদ্দিন মইন সরকারের আমলে বেশ মজার মজার কিছু অসাধারন তথ্য জাতির সামনে চলে এসেছিল। অতি আধুনিক, অতি শিক্ষিত এমনকি জাতির কর্ণধার পর্যায়ের অনেক বড় বড় হোমরা চোমরা লোকের দুর্নীতির চিত্র জাতির সামনে দিবালোকের মত উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছিল।
এখানে যে প্রশ্নটা উঠেছিল সেটা হল- এদের মাঝে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত অনেক ব্যক্তি ছিলেন- শিক্ষা কেন তাদেরকে নৈতিকতা শিক্ষা দিতে পারল না যা দিয়ে সে দুর্নীতি থেকে দূরে থাকতে পারত? সম্ভবত এটাই সত্য যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষিত মানুষ উপহার দিতে পারছে এটা সত্য তবে নৈতিক বোধ সম্পন্ন মানুষ খুব কম উপহার দিতে পারছে।
আলোচনা সভায় কিছু উপকার হয় এটা নিঃসন্দেহে আমরা বলতে পারি। তবে প্রশ্নটা এইটা যে আমাদের বক্তাগণ দুর্ণীতি রোধে যে ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন তা আদৌ কতটুকু কার্যকর?
১। মানবতাবোধ এবং সৎ থাকার প্রচেষ্টা
২। মানুষের অধিকারকে সন্মান করার চেষ্টা করা
৩। সীমাহীন লোভকে সংরবরণ করার চেষ্টা করা। ইত্যাদি বিষয়গুলোকে হাইলাইট করা হয়।

এইখানে একটা প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি আমিঃ ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় অনুভূতি কি আসলেই নৈতিকতার জন্য যথেষ্ট সহায়ক ! মুসলিম বা মোল্লারা আত্মপক্ষ সমর্থন করে একবাক্যে বলবেন যে অবশ্যই । কিন্তু এতে প্রশ্ন চলে আসে যে ৯০% মুসলমানের দেশে তাইলে এত দূর্নীতি থাকে কি করে? আরেকটি প্রশ্ন চলে আসে যে অমুসলিম দেশে যেমন ভারত যেখানে ধর্মের তেমন একটা বালাই নেই সেখানেও দুর্নিতি করে না এমন অফিসার দেখতে পাওয়া যায়। সেটা কি করে সম্ভব? আবার নাস্তিকদের মাঝে দৃঢ় নৈতিকতা সম্পন্ন লোক বেশ দেখা যায় যারা সত্যিকার অর্থেই দুর্নীতিকে মনে প্রাণেই ঘৃনা করেন। তাহলে কি এটা দাঁড়ায় যে ধর্ম ছাড়াও পূর্ণ নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ তৈরী করা সম্ভব?

একজন মুসলিম হিসেবে নয় একজন নিরপেক্ষ দার্শনিক যদি আমরা চিন্তা করি ইসলাম ধর্ম হিসেবে যা তার চেয়ে মতবাদ বা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে বেশি কার্যকর। আর তার সাথে ধর্মীও অনুভূতি যুক্ত করে দেওয়া হয় তবে তা নিঃসন্দেহে পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠে। ধর্মীয় অনুভূতি বাদ যারা নৈতিকতার কথা চিন্তা করেন তাদের জন্যেও ইসলামের নিয়মগুলো সুন্দর আর ধর্মীয় অনুভুতির সাথে যে চিন্তা করে সে হয় ওঠে পূর্নাঙ্গ নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন মানুষ।

যেমনঃ একজন কর্মচারী । সে সৎ । তার শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ তাকে দুর্নীতি করতে বাঁধা দেয়। সে হিন্দু বৈদ্য খৃষ্টান মুসলিম যা কিছু হতে পারে। অনেক কঠোর সংযম ও ধৈর্য্যের মাধ্যমে সে তার সৎ গুনাবলিকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু যখন এই সৎ থাকার জন্য সে পদে পদে নাজেহাল হবে এমন কি বিপদে পড়বে তখন তার পক্ষে সৎ জীবন ধরে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে । বিশেষ করে যখন তার সামনে সৎ থাকলে বিপদ আর না থাকলে লাভের হাতছানি তখন -------- কিন্তু ইসলামী আদর্শে এইটা অসম্ভব কারন এর দর্শনটাই হচ্ছে আরেকটি জীবনের সাথে সম্পর্কিত। এই জীবনে যা কিছুই ঘটবে তার ফলাফল আরেকটি জীবনে ঘটবে। সৎ থাকার পুরষ্কার সে পাবে কিন্তু সৎ না থাকলে সে শাস্তির মুখোমুখি হবে। এই অনুভূতি তাকে সৎ এর পথে অবিচল থাকতে সাহায্য করে অবিরত।

আরেকটি ব্যাপার সত্য -- বাংলাদেশে কেন সব দেশেই দুর্ণীতির মুল উৎসটা শুরু হয় জনগন থেকে। এ ব্যাপারে আমরা হয়তো সবাই একমত নাও হতে পারি তবে এটাই সত্য। জনগণ সচেতন হলে সৎ হলে প্রশাসন বলি আর দেশের যে কোন সেক্টর বলি দুর্নীতি কিছুটা হলেও কমতোই।

এইবার দেখুন বাংলাদেশের কিছু দুর্ণীতির চিত্র-------------

পুলিশ মামাদের কি দোষ ?


দেখেন ঘুষ নেয়ার পর কি বলে



বাংলার ফাটাকেষ্ট কর্তৃক দুর্ণীতি বিরোধী অভিযান-- সেলুট !


পাসপোর্ট অফিসের দুর্ণীতি দেখুন


শিক্ষাক্ষেত্রেও দুর্ণীতি !!! তাইলে কি হবে ?

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ২:৩৩

দেবজ্যোতিকাজল বলেছেন: ভাই রে আমরা মাতৃ দিবস , নারী দিবস , ভালবাসর দিবস করি সন্মান জানাতে বা শ্রদ্ধা জানাতে । কিন্তু দূর্নীতি দিবস আমরা কি কারণে পালন করছি?

২| ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ২:৩৫

দেবজ্যোতিকাজল বলেছেন: দূর্নীতি দিবস কি কারণে পালন করছি মানে লজিকটা কি?:D:D:D:D:D

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.