| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মো: আবু তাহের
আমি নতুন কিছু পড়তে ভালবাসি
![]()
''কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক,কে বলে তা বহুদূ্র ?
মানুষেরই মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর।''
এই কবিতার লাইন দুটো জানেনা এরকম মানুষ মনে হয় বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর সবাই জানেন যে, এই কবিতার লেখক হলেন মরহুম শেখ ফজলল করিম। সেই মহান কবির আজ মৃত্যুবাষিকী।
শেখ ফজলল করিমের জন্ম ৩০ চৈত্র ১২৮৯ বঙ্গাব্দে (২৮ সেপ্টেম্বর'১৮৮২ ইংরেজি) বর্তমান লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা বাজার গ্রামে । তার পিতার নাম আমিরউল্লাহ সরদার এবং মাতার নাম কোকিলা বিবি। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ফজলল করিম ছিলেন দ্বিতীয়। তার পারিবারিক ডাক নাম ছিল মোনা।
কাকিনা স্কুল থেকেই তাঁর লেখা-পড়া শুরু হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সে তার প্রথম কবিতার বই সরল পদ্য বিকাশ হাতে লিখে প্রকাশ করেন। ষষ্ঠ শ্রেণীতে তাকে রংপুর জেলা স্কুলে ভর্তি করা হলে তিনি তা ছেড়ে কাকিনা স্কুলে ফিরে আসেন। সেখান থেকেই ১৮৯৯ সালে মাইনর পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেন। এরপর তাকে আবারও রংপুর জেলা স্কুলে দেওয়া হলে স্কুলের বাধাধরা পড়াশোনায় মন বসাতে না পেরে তিনি সেখান থেকে আবারও ফিরে আসেন এবং জ্ঞানার্জনে উৎসাহী হয়ে প্রচুর বই পড়তে থাকেন।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বসিরন নেসা খাতুনের সাথে ফজলল করিমের বিয়ে হয়। এরপর অনেক কারণে তার স্কুল জীবনের ইতি ঘটে।
উনিশ বছর বয়সে বিদ্যালয়ের পাঠ ত্যাগ করে কাকিনা রেল স্টেশনের নিকটবর্তী মেসার্স এমডি আপকার কোম্পানির জুট ফার্মে চাকরি নেন। স্বীয় দক্ষতাগুণে সহকারী ম্যানেজার পদে উন্নীত হন। সাত বছর পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে কাকিনায় সাহারিয়া প্রিন্টিং ওয়ার্কস নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ ছাপাখানা থেকে তার সম্পাদনায় বাসনা নামে একটি উচ্চাঙ্গের মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
যদিও আমরা তাঁকে কবি হিসেবে চিনি কিন্তু তিনি শুধু কবি নন বরং একাধারে প্রবন্ধ, নাট্যকাব্য, জীবনীগ্রন্থ, ইতিহাস, গবেষণামূলক নিবন্ধ, সমাজ গঠনমূলক ও তত্ত্বকথা গল্প, শিশুতোষ সাহিত্য, নীতি কথা চরিত গ্রন্থ এবং অন্যান্য সমালোচনামূলক রচনা লিখেছেন।
কবির পথ চলা অবশ্য কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। অনেক বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করে কবিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কাকিনার তৎকালীন জমিদারের শোষনের বিরুদ্ধে লেখার কারণে নেমে আসে চরম নির্যাতন, এতে তিনি বেশ কিছুদিন আত্মগোপনও করে ছিলেন।
এতসব সমাস্যার মধ্যে থেকেও তিনি আমাদের জন্য অনেকগুলো বই রচনা করেছেন। সরল পদ্য বিকাশ (১৮৯৩), তৃষ্ণা (১৯০০), পরিত্রাণ কাব্য (১৯০৪), ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি (১৯১১), গাঁথা (১৯১৩) প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। লায়লী মজনু (১৯০৪) শেখ ফজলল করিমের রচিত উপন্যাস। মানসিংহ (১৯০৩), মহর্ষি হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির (র) জীবন-চরিত (১৯১৪), চিন্তার চাষ (নীতিকথা, ১৯১৬), বিবি রহিমা (জীবনী, ১৯১৮), পথ ও পাথেয় (১৯১৮), রাজর্ষি এবরাহীম (জীবনী, ১৯২৫), বিবি খাদিজা (জীবনী, ১৯২৭), বিবি ফাতেমা (জীবনী, ১৯২৭) ইত্যাদি তার লিখিত প্রসিদ্ধ গদ্যগ্রন্থ। হারুন-অর-রশিদের গল্প (১৯১৬) ও সোনার বাতি (১৯১৮) তার শিশুতোষ গ্রন্থ।
জীবনকালেই তিনি বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন। বাসনা সম্পাদনার সময় রোমিও-জুলিয়েট সম্পর্কিত তার একটি কবিতা পাঠ করে তৎকালীন সাহিত্যিকেরা তাকে বাংলার শেক্সপিয়র আখ্যা দেন। পথ ও পাথেয় গ্রন্থের জন্য তিনি রৌপ্যপদক লাভ করেন। ১৩২৩ বঙ্গাব্দে নদীয়া সাহিত্য সভা তাকে সহিত্যবিশারদ উপাধিতে ভূষিত করেন। চিন্তার চাষ গ্রন্থের জন্য তিনি নীতিভূষণ, কাশ্মীর শ্রীভারত ধর্ম মহামন্ডল তাকে রৌপ্যপদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া তৎকালীন বাংলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে কাব্য ভূষণ, সাহিত্যরণ, বিদ্যাবিনোদ, কাব্যরত্নাকর, ইত্যাদি উপাধিত ও সম্মানে ভূষিত করে। ![]()
চির শায়িত কবি শেখ ফজলল করিম
আমাদের দেশের মহান এই কবি ১৯৩৬ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
(কবির নাতী, বিভিন্ন পত্রিকা এবং উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য নিয়ে লেখা)
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৯
মো: আবু তাহের বলেছেন: পড়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ
২|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৮
নুর ফ্য়জুর রেজা বলেছেন: ++++
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫০
মো: আবু তাহের বলেছেন: ধন্যবাদ
৩|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫৩
পরিব্রাজক। বলেছেন: উনি কোথায় শায়িত আছেন জানেন ?
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫২
মো: আবু তাহের বলেছেন: ওনার বাড়ির পাশেই। সেখানে একটা মসজিদ আর পুকুর আছে তার পাশের ফুলবাগানে কবি শায়িত আছেন।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:৫৪
মুহাই বলেছেন: ধন্যবাদ মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ।