| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক

প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।
বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।
সবুজ ক্ষেতে সোনার ফসলে
স্বপ্ন বোনে প্রাণ
তারই হাতে জেগে ওঠে
আমাদের এই ধান।
গ্রাম-বাংলার চেনা দৃশ্যে
পুরুষ যেন এখনো মুখ্য
মাঠ-মাঠালির বিস্তীর্ণ বুকে
তাঁরই শ্রমের সুখ দু:খ কষ্ট।
কিন্তু ফসল উঠলে ঘরে
দৃশ্য বদলায় ধীরে ধীরে
নীরব শক্তি মমতার রূপ
জেগে ওঠে তখন ফিরে।
কুলা হাতে ধান ঝাড়াতে
উঠোন ভরে ধানের গানে
নারীর হাতে ছন্দ তোলে
সোনালি ধানের প্রাণে।
ধান শুকানো, সিদ্ধ করা
আবার রৌদ্রে তা শুকায়
ঢেকির পাড়ে তাল মিলিয়ে
পরিশ্রমের সুরটি যেন গায় ।
সাদা চালের দানা হয়ে
যখন হাসে ঘামঝড়া শস্য
উনুন জ্বেলে ভাতের গন্ধে
ভরে ওঠে কিষানের গৃহ।
পাতে ভাতের শুভ্র ঢেউয়ে
বউ ঝি মায়ের স্নেহ ঝরে
বাংলার কৃষি বাংলার প্রাণ
যেন নারীর হাতেই গড়ে।
তাই তো বলি কৃষকের ছবি
শুধু কি পুরুষ মানে?
বাংলার নারী শ্রমের রানী
আছেন সমান টানে।
মাঠের ফসল, ঘরের অন্ন
জীবন যাত্রার সকল ভার
পুরুষ-নারীর মিলিত ঘামে
সমৃদ্ধি আনে সোনার বাংলায়।
পোষ্টটি এই মেহনতি কিশান কিষানীদেরকে নিবেদিত করে লেখা হল শুরু ।
পোস্টটি নিন্ম লিখিত মোট ৪টি পর্বে গঠিত ।
পর্ব ১: বাংলাদেশের কৃষির বর্তমান অবস্থা ও কাঠামোগত সংকট
পর্ব ২: কৃষি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক শিক্ষণীয় উদাহরণ
পর্ব ৩: প্রযুক্তি আহরণের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পথ এবং বাংলাদেশ কৃষি আধুনিকায়ন ২০৩৫ ভিশন কাঠামো
পর্ব ৪ : বাংলাদেশ কৃষি আধুনিকায়ন ২০৩৫ রোডম্যাপ: কৌশলগত স্তম্ভ, অর্থায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক প্রভাব ও উপসংহার।
পর্ব ১ : বাংলাদেশের কৃষির বর্তমান অবস্থা ও কাঠামোগত সংকট
আমরা সকলেই জানি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষিখাত। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পখাতের কাঁচামাল সরবরাহ এবং সামগ্রিক আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। স্বাধীনতার পর খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ধান, সবজি, মাছ, ফল, হাঁস-মুরগি ও দুগ্ধ উৎপাদনে ধারাবাহিক অগ্রগতি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে এবং কৃষকের শ্রম, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও অভিযোজনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
কিন্তু এই অর্জনের পরও একটি মৌলিক বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই বাংলাদেশ এখনো কৃষিখাতকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিনির্ভর, টেকসই এবং বৈশ্বিক বাজারসংযুক্ত শিল্পখাতে রূপান্তর করতে পারেনি। কৃষির বর্তমান কাঠামো এখনো অনেকাংশে জীবিকানির্ভর, খণ্ডিত জমিভিত্তিক এবং প্রথাগত উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিপণন নেটওয়ার্ক এবং রপ্তানিমুখী মূল্যশৃঙ্খল এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর এখনো ঘটেনি।
এই সীমাবদ্ধতার পেছনে একাধিক কাঠামোগত কারণ রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধীরগতি, কৃষি ঋণ ও প্রণোদনা বিতরণে বৈষম্য, কৃষিপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটভিত্তিক গোষ্ঠীর আধিপত্য, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থার ঘাটতি, ফসল-পরবর্তী অপচয়, গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, এসব সমস্যা কৃষির সামগ্রিক অগ্রগতিকে সীমিত করে রেখেছে। ফলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন, কৃষিতে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়, এবং কৃষিকে একটি লাভজনক উদ্যোক্তা খাত হিসেবে গড়ে তোলার পথ বাধাগ্রস্ত হয়।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কৃষিকে একটি নতুন উন্নয়ন দর্শনের আওতায় পুনর্গঠন করা সময়ের দাবি। এই নীতিপত্রের মূল লক্ষ্য হলো কৃষিকে কেবল খাদ্য উৎপাদনের খাত হিসেবে নয়, বরং উচ্চমূল্যের, প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল, রপ্তানিমুখী এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।
এই রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন হবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সরলীকরণ, কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, স্মার্ট সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের কোল্ড-চেইন ও সংরক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলা, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি আহরণ, এবং সর্বোপরি কৃষককে ভর্তুকি নির্ভর উৎপাদক থেকে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তায় রূপান্তর করা।
এই পেস্টে বর্ণিত নীতিপত্রে বাংলাদেশের কৃষির বর্তমান বাস্তবতা, কাঠামোগত সংকট, আন্তর্জাতিক সফল মডেল থেকে শিক্ষণীয় বিষয়, প্রযুক্তি আহরণের কৌশলগত পথ, দশ বছর মেয়াদী তথা ২০৩৫ সালের ভিশন, বাস্তবায়নযোগ্য কৌশলগত স্তম্ভ, অর্থায়ন কাঠামো এবং প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রভাব সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এর কেন্দ্রীয় দর্শন একটিই “বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় শক্তি কেবল উর্বর জমি নয়; মানুষের শ্রম, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, অভিযোজনশীলতা এবং সঠিক নীতিগত দিকনির্দেশনা।”
যদি সুশাসন, প্রযুক্তি, বাজার সংস্কার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা একসঙ্গে কাজ করে, তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে কৃষি বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপ্লবের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
২. বাংলাদেশের কৃষির বর্তমান অবস্থা ও কাঠামোগত সংকট
১.১ কৃষিখাতের অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান
বাংলাদেশের কৃষি কেবল একটি উৎপাদন খাত নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর একটি মৌলিক স্তম্ভ। জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহ, শিল্পখাতের কাঁচামাল সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তা চাহিদা পূরণ সব ক্ষেত্রেই কৃষির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের কৃষি খাতের বাস্তব উপাত্ত ( উৎস: BBS (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো), DAE, FAO, World Bank, IFPRI প্রতিবেদনসমূহ)
১. জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান
কৃষি খাত বাংলাদেশের মোট GDP-এর প্রায় ১১%–১২% অবদান রাখে (সাম্প্রতিক গড় অনুমান)
চার্ট ১ : জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান
মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৩৭%–৪০% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল
চার্ট ২ : Employment share
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত । অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বলা যায় কৃষি এখনো দেশের সবচেয়ে বড় রুরাল এমপ্লয়মেন্ট জেনারেটর খাত।
২. জমি ও উৎপাদন কাঠামো
বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমি: প্রায় ৮.৩–৮.৫ মিলিয়ন হেক্টর
কৃষিজমি গড় আকার: ০.৩ - ০.৬ হেক্টর (খণ্ডিত ক্ষুদ্র জমি)
বছরে একাধিক ফসল চাষের হার: প্রায় ১৯০%–২০০% (cropping intensity)
অল্প জমিতে উচ্চমাত্রার উৎপাদন হলেও, scale economy নেই যা বাণিজ্যিক কৃষির প্রধান বাধা।
৩. প্রধান ফসল উৎপাদন (আনুমানিক বার্ষিক গড়)
ধান
মোট উৎপাদন: প্রায় ৩.৮–৪.০ কোটি মেট্রিক টন
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধান উৎপাদনকারী দেশ
সবজি
মোট উৎপাদন: প্রায় ১.২–১.৫ কোটি মেট্রিক টন
মাথাপিছু সবজি গ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও post-harvest loss এখনো বড় সমস্যা
আলু
উৎপাদন: প্রায় ১.০–১.১ কোটি মেট্রিক টন
উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ
মাছ
মোট উৎপাদন: প্রায় ৪৫–৫০ লাখ মেট্রিক টন
বাংলাদেশ বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয়
ফলমূল
মোট উৎপাদন: প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন-এর কাছাকাছি
আম, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা প্রধান
চার্ট ৩: Production Index
৪. সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা
মোট কৃষিজমির প্রায় ৭৫%–৮০% সেচনির্ভর
সেচের বড় অংশ আসে: ভূগর্ভস্থ পানি (groundwater) , অগভীর টিউবওয়েল , ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা প্রায় ৭০% ।
চার্ট ৪ : irrigation sources
এর ফলে বড় ঝুঁকি হল পানির স্তর হ্রাস আর উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ।
৫. কৃষি শ্রম ও জনশক্তি
কৃষিতে নিয়োজিত শ্রমশক্তি: প্রায় ৩ কোটিরো মানুষ (আনুমানিক)
গ্রামীণ নারী শ্রমশক্তির উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষিতে যুক্ত,কৃষি এখনো মূলত manual labour intensive sector
কৃষিপণ্যের বাজার ও মূল্য কাঠামো
কৃষকের উৎপাদনমূল্য ও ভোক্তা মূল্যের ব্যবধান: ২ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত
মধ্যস্বত্বভোগী ও আড়তদার চেইন এখনো প্রধান নিয়ন্ত্রক
সংগঠিত “cold chain economy” এখনো সীমিত
ফসল-পরবর্তী ক্ষতি (Post-Harvest Loss)
FAO ও বিভিন্ন গবেষণার গড় অনুযায়ী শাকসবজি ও ফলমূল: ২০%–৩০% পর্যন্ত ক্ষতি এবং আন্যান্য ফসলের মধ্যে
ধান ও শস্য: ১০%– ১৫% ক্ষতি হয় প্রতি বছর ।
চার্ট ৫ : ফসল-পরবর্তী ক্ষতি
ফসল -পরবর্তী ক্ষতির প্রধান কারণ হিসাবে বলা হয় সংরক্ষণ ঘাটতি , পরিবহন অদক্ষতা ও সুষ্প্রঠু ক্রিয়াজাতকরণ অভাব ।
৮. কৃষি অবকাঠামো ও প্রযুক্তি ব্যবহার
মুলত শারিরিক পরিশ্রমে হালের লাংগল জোয়াল মই , নিরানী , দা কুড়াল কাস্তে , ড্রামে পিটিয়ে ধান মারাই , তবে
যান্ত্রিকীকরণ (tractor, power tiller) দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এখনো অসম ।
যাদের হালের গরু নাই চাষের জন্য ভরষা তারা নীজেরাই
ড্রিপ ইরিগেশন ব্যবহার: খুব সীমিত
Drip irrigation system layout and its parts
গ্রিনহাউস/CEA কৃষি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে
কৃষি ডিজিটালাইজেশন আংশিক (pilot-based) ।
৯. কৃষি ঋণ ও অর্থায়ন
মোট কৃষি ঋণ প্রবাহ: বছরে প্রায় ২৫,০০০–৩০,০০০ কোটি টাকা (আনুমানিক)
ক্ষুদ্র কৃষকের বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে ।
১০. জলবায়ু ঝুঁকি ও কৃষি
প্রতি বছর বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততায় কৃষি ক্ষতি , উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২০% কৃষিজমি লবণাক্ততার ঝুঁকিতে
জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষি উৎপাদনশীলতা দীর্ঘমেয়াদে চাপের মধ্যে ।
এই তথ্য উপাত্ত থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়:বাংলাদেশ কৃষির শক্তি মুলত উর্বর জমি , উচ্চ উৎপাদন ঘনত্ব , মানবসম্পদ
বৈচিত্র্যময় ফসল ।
বাংলাদেশ কৃষির দুর্বলতার মধ্যে অন্যতম হল প্রযুক্তি কম , বাজার অকার্যকর , সংরক্ষণ দুর্বল , পানিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ ,value chain ভাঙা
চূড়ান্ত নীতিগত বার্তা হলো বাংলাদেশ কৃষির সমস্যা উৎপাদনের নয় বরং value creation, technology integration এবং market efficiency এর ঘাটতি।
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। একইসঙ্গে শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, পোল্ট্রি ও দুগ্ধ উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, কৃষি সম্প্রসারণ সেবা এবং কৃষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
কিন্তু কৃষির এই সাফল্য এখনো মূলত উৎপাদন-কেন্দ্রিক, মূল্য সংযোজন-কেন্দ্রিক নয়। অর্থাৎ আমরা বেশি উৎপাদন করছি, কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য আহরণে পিছিয়ে আছি। কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং, মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা এখনো সীমিত।
ফলে কৃষক উৎপাদন করেন, কিন্তু উৎপাদনের প্রকৃত অর্থনৈতিক সুফল অনেকাংশে অন্য স্তরে চলে যায়। এই বাস্তবতা পরিবর্তন না করলে কৃষিকে জাতীয় অর্থনীতির একটি উচ্চমূল্যের শিল্পখাতে উন্নীত করা সম্ভব হবে না।
১.২ কৃষির প্রধান কাঠামোগত সংকট
বাংলাদেশের কৃষির সামনে বর্তমানে কয়েকটি মৌলিক কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, যা সমাধান না করলে কৃষির আধুনিকায়ন কেবল নীতিপত্রের ভাষায় সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
১.২.১ ক্ষুদ্র ও খণ্ডিত জমির মালিকানা
দেশের অধিকাংশ কৃষিজমি ক্ষুদ্র ও খণ্ডিত আকারে বিভক্ত। এতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, বৃহৎ আকারে বাণিজ্যিক চাষাবাদ, পরিকল্পিত সেচ ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ উৎপাদন কাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।
১.২.২ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘমেয়াদি খরা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো জলবায়ুগত ঝুঁকি কৃষির ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।
১.২.৩ সেচে ভূগর্ভস্থ পানির অতিনির্ভরতা
বাংলাদেশের কৃষি সেচের বড় অংশ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অনেক এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ কৃষির জন্য উদ্বেগজনক।
১.২.৪ কৃষিঋণ ও প্রণোদনা প্রাপ্তিতে বৈষম্য
কাগজে-কলমে অনেক সহায়তা কর্মসূচি থাকলেও বাস্তবে ক্ষুদ্র কৃষক প্রায়শই সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেতে জটিলতার মুখে পড়েন।
১.২.৫ বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের আধিপত্য
একজন কৃষক বছরের পর বছর শ্রম, ঘাম ও পুঁজি বিনিয়োগ করে ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে গিয়ে প্রায়ই ন্যায্য মূল্য পান না। উৎপাদনস্থলে কম দাম এবং ভোক্তা পর্যায়ে কয়েকগুণ বেশি দামের ব্যবধানের মূল লাভ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠীর হাতে। কৃষক বঞ্চিত হন, ভোক্তা শোষিত হন, বাজারে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়।
১.২.৬ ফসল-পরবর্তী অপচয় ও সংরক্ষণ সংকট
পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ, আধুনিক গুদামজাতকরণ, দ্রুত পরিবহন এবং মানসম্মত প্যাকেজিংয়ের অভাবে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষকের লোকসান যেমন বাড়ে, তেমনি বাজারে কৃত্রিম সংকটের সুযোগও তৈরি হয়।
১.২.৭ গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের দুর্বল সংযোগ
কৃষি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সেই প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছায় না। গবেষণা, সম্প্রসারণ সেবা ও কৃষকের বাস্তব প্রয়োগ এই তিন স্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এখনো দুর্বল।
১.৩ পরিবর্তনের অনিবার্যতা
এখন আর প্রশ্ন এই নয় যে বাংলাদেশ কৃষিতে উন্নতি করেছে কি না
প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি কৃষিকে আগামী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পখাতে রূপান্তর করতে প্রস্তুত?
যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে প্রচলিত চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে কৃষিকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে হবে।
কৃষি শুধু ফসল উৎপাদন নয়; কৃষি হলো প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজার সংযোগ, রপ্তানি এবং জাতীয় সম্পদ সৃষ্টির একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
২: আন্তর্জাতিক শিক্ষণীয় উদাহরণ অনুসরণ করা যায়
আন্তর্জাতিক শিক্ষণীয় বিষয়াদি বিবেচনায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি রূপান্তরের একটি বৈশ্বিক মডেল তুলে ধরা হল ।
বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়নের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে, যাদের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, পানিসংকট, জলবায়ুগত প্রতিকূলতা এবং সীমিত আবাদযোগ্য জমি থাকা সত্ত্বেও তারা কৃষিকে উচ্চ উৎপাদনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বৈশ্বিক বাজারমুখী শিল্পখাতে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ইজরাইল। যদিউ জায়নবাদী ইজরাইলের সাথে বাংলাদেশের কুটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং কোন দিন ছিলো ওনা তথাপী ইজরাইলের কৃষি বিপ্লব থেকেও বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে ।
বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও কৃষি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাদের সাফল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় আন্তর্জাতিক কেস স্টাডি হিসেবে বিবেচ্য। কারণ আধুনিক প্রযুক্তির জগতে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কোনো একক ভূ-রাজনৈতিক সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ নয়; বরং বৈশ্বিক গবেষণা, প্রযুক্তি লাইসেন্সিং, তৃতীয়-পক্ষীয় অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক জ্ঞান-বিনিময়ের মাধ্যমে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তার লাভ করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইজরাইলের কৃষি বিপ্লব বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষণীয় মডেল।
ইজরাইলের মোট ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ শুষ্ক ও আধা-মরুভূমি অঞ্চল। দেশটি তীব্র পানিসংকট, সীমিত আবাদযোগ্য জমি, উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে কৃষিকে গড়ে তুলেছে। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতাগুলোকে তারা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবনের প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছে। কম জমি, সীমিত পানি, কঠিন আবহাওয়া এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এই চারটি বাস্তবতার সমন্বয়ে তারা কৃষিকে উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক খাতে রূপ দিয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, মাটি, মৌসুমি বৈচিত্র্য এবং পানির প্রাপ্যতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি অনুকূল। ফলে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় সঠিক পরিবর্তন আনতে পারলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত কৃষি রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হতে পারে।
২.১ সবজি উৎপাদনে প্রযুক্তিগত বিপ্লব: উচ্চ ফলন ও গুণগত মানের সমন্বয়
টমেটো উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য
সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইজরাইলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য টমেটো চাষে। বিশেষ করে গ্রিনহাউস টমেটো ও চেরি টমেটোর বাণিজ্যিক উৎপাদনে দেশটি বৈশ্বিক কৃষি প্রযুক্তিতে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় Cherry Tomato–এর আধুনিক বাণিজ্যিক জাত উন্নয়নে দেশটির গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদন, সুনির্দিষ্ট সেচ ব্যবস্থাপনা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধী উন্নত জাতের ব্যবহার।
ফলাফল হিসেবে দেখা যায় খোলা মাঠের তুলনায় গ্রিনহাউস প্রযুক্তিতে ফলন দুই থেকে চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
উন্নত ব্যবস্থাপনায় প্রতি হেক্টরে ২০০–৩০০ টন পর্যন্ত টমেটো উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
ড্রিপিং ইরিগেশন ও ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করে ইজরায়েল ঈর্শনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে
হেকটর প্রতি ৩০০ টন টমেটু উৎপাদন
যেখানে বাংলাদেশে অনেক অঞ্চলে গড় ফলন এখনো ৩০–৭০ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
ড্রিপিং ইরিগেশন ও ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রতি হেকটরে ৩০০ টন টমেটু উৎপাদন
এই শিরোনামে একটি সচিত্র বিস্তারিত বিবরণ আমি গত ১৬ জুলাই ২০১৬ সনে সামুতে তুলে ধরেছিলাম ।
শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, গুণগত মানেও তাদের সাফল্য বিস্ময়কর। উৎপাদিত টমেটো আকারে সমজাতীয়, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য, উচ্চ ব্রিক্স মানসম্পন্ন (স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘনত্ব বেশি), রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিযোগ্য মান বজায় রাখতে সক্ষম।
এখান থেকে বাংলাদেশের জন্য মূল শিক্ষা হলো একই জমি থেকে বেশি ফলন পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গুণগত কৃষিপণ্য উৎপাদনই আধুনিক কৃষির প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।
২.২ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বহুমুখী সবজি উৎপাদন
ইজরাইল Controlled Environment Agriculture (CEA)–এর মাধ্যমে শসা, ক্যাপসিকাম, বেগুনসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন সবজি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই পদ্ধতিতে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আলো, পানি এবং পুষ্টি সবকিছু বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
ফলে বছরে একাধিক উৎপাদন চক্র সম্ভব হয় , ক্রপিং ইনটেনসিটি বাড়ে , রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ে;
বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আকার, রঙ, মান ও গুণগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়, অপচয় কমে, একই জমি থেকে উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নগর ও শহরতলি অঞ্চলে সীমিত জমিতে উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক উদ্যোক্তা খাতে রূপান্তর করা সম্ভব।
২.৩ ফল উৎপাদনে উচ্চমূল্যের বাজার সৃষ্টির কৌশল
ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইজরাইল বিশ্বের উল্লেখযোগ্য মানসম্পন্ন অ্যাভোকাডো উৎপাদকদের অন্যতম।
অ্যাভোকাডো একটি উচ্চমূল্যের রপ্তানিমুখী কৃষি ফল, কয়েক দশকে দেশটি অ্যাভোকাডোকে একটি উচ্চমূল্যের রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যে পরিণত করেছে। তাদের সাফল্যের কারণ হল উন্নত ফলনশীল জাত, বৈজ্ঞানিক সেচ ব্যবস্থা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, মানভিত্তিক গ্রেডিং, ঠান্ডা শৃঙ্খল (Cold Chain) বজায় রেখে বাজারজাতকরণ। ফলে উৎপাদিত ফল উচ্চ তেলমাত্রাসম্পন্ন, দীর্ঘ shelf-life–যুক্ত, দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহনযোগ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রিযোগ্য।
কমলা লেবু জাতীয় ফলের ব্র্যান্ডভিত্তিক বিপণন
কমলা, মাল্টা ও আঙুরজাতীয় ফল উৎপাদনে তাদের অন্যতম সাফল্য ছিল “Jaffa Orange”–এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড গড়ে তোলা।এই সাফল্যের পেছনে ছিল নির্দিষ্ট মিষ্টতা ও অম্লতার বৈজ্ঞানিক ভারসাম্য, উন্নত প্যাকিং ব্যবস্থা, রোগমুক্ত চারা, মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্র্যান্ডিং ও বৈশ্বিক বাজার কৌশল।
বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, মাল্টা ও আনারসের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ব্র্যান্ডভিত্তিক বাজার কৌশল গ্রহণ করা সম্ভব।
খেজুর: মরুভূমিকে অর্থকরী সম্পদে রূপান্তর
খেজুর উৎপাদনেও দেশটি উচ্চমূল্যের বাজার তৈরি করেছে। বড় আকার, উচ্চ শর্করা, নরম গঠন, উন্নত পুষ্টিমান এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়াজাতকরণ এই সমন্বয়ে তারা বিশ্ববাজারে premium segment–এ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
এখান থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা কেবল উৎপাদন নয়; গুণগত মান, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজার অবস্থান নির্ধারণ—এই চারটির সমন্বয়ই কৃষিপণ্যের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করে।
২.৪ খাদ্যশস্যে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা
ইজরাইল গম বা ভুট্টার মতো বৃহৎ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর। কারণ দেশটির জমি সীমিত এবং পানি অপ্রতুল। তারা কমমূল্যের বৃহৎ খাদ্যশস্যের বদলে উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে যেখানে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়, সেখানে তারা Precision Farming , Soil Sensor Technology , Satellite Monitoring
AI-based Irrigation Scheduling এবং Crop Data Analytics করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে ।
উল্লেখ্য Precision Farming (নির্ভুল কৃষি) হলো প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, যেখানে জমির অবস্থা বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে ও সঠিক পরিমাণে পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এতে GPS, GIS, সেন্সর, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ কমে, অপচয় হ্রাস পায়, পরিবেশ রক্ষা হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।
Soil Sensor Technology (মাটি সেন্সর প্রযুক্তি) প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, pH ও পুষ্টি উপাদান পরিমাপ করা যায়। ফলে সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা আরও নির্ভুল হয়, অপচয় কমে এবং উৎপাদন বাড়ে।
Satellite Monitoring (স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ), স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বৃহৎ কৃষিজমি, ফসলের স্বাস্থ্য, আবহাওয়া, রোগ-পোকা ও মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করা যায়। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় এবং সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়।
AI-based Irrigation Scheduling তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মাটি, আবহাওয়া ও ফসলের চাহিদা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচের সময় ও পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এতে পানির সাশ্রয় হয়, খরচ কমে এবং ফলন বাড়ে।
Crop Data Analytics (ফসল তথ্য বিশ্লেষণ) প্রয়োগ করে ফসল, মাটি, আবহাওয়া ও রোগবালাই সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক কৃষি সিদ্ধান্ত, ঝুঁকি পূর্বাভাস ও ফলনের অনুমান করা যায়। এতে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও কৃষকের লাভ বৃদ্ধি পায়।
মোট কথা আধুনিক কৃষিতে Precision Farming, Sensor Technology, Satellite Monitoring, AI, Data Analytics একসাথে ব্যবহার করলে কৃষি আরও স্মার্ট, লাভজনক ও টেকসই হয়। ইজরাইল এই গুলি ব্যবহার করে প্রতি ইউনিট জমি, পানি এবং শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশের জন্য এখান থেকে শিক্ষা হলো ধান বা গমের উৎপাদন বাড়ানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়; প্রতি ইউনিট জমি, পানি ও বিনিয়োগ থেকে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য আহরণ করাই হওয়া উচিত কৃষি নীতির কেন্দ্রীয় লক্ষ্য।
২.৫ ইজরাইল অন্যতম একটি প্রকৃত বিপ্লব ঘটিয়েছে পানির দক্ষ ব্যবহার এর মাধ্যমে
ইজরাইলের সবচেয়ে বড় কৃষি সাফল্য শুধু ফলন নয়; বরং Water Productivity অর্থাৎ প্রতি ইউনিট পানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা।
তারাFreshwater–এর ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে,Treated Wastewater পুনর্ব্যবহার করছে, Desalination Water কৃষিতে যুক্ত করেছে, ড্রিপ ইরিগেশনকে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করেছে, পানি ব্যবহারের তথ্য-নির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু করেছে।
ফলে এমন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে যেখানে যে পরিমাণ পানি ব্যবহার করে অন্য দেশ এক কেজি ফসল উৎপাদন করে, একই পানি ব্যবহার করে তারা আরও বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তি চাপের প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২.৬ বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় সারকথা
বাংলাদেশের মাটি, মৌসুমি বৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি অনুকূল। তবুও আমরা পিছিয়ে আছি, কারণ
প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে দেরি হয়,বাজার এখনো কৃষকবান্ধব নয়, ফসল-পরবর্তী অপচয় বেশি, Cold Chain দুর্বল (Cold Chain হলো নিয়ন্ত্রিত নিম্ন তাপমাত্রায় পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা, যা ফল, সবজি, মাছ, মাংস, দুধ ও ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখে। এতে পচন ও অপচয় কমে, সংরক্ষণকাল বাড়ে এবং বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি সহজ হয়), গবেষণা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সংযোগ কম,
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আমাদের একটি স্পষ্ট শিক্ষা দেয়;জমি নয়, প্রযুক্তি; পানি নয়, ব্যবস্থাপনা; উৎপাদন নয়, Value Chain এটাই কৃষি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বাংলাদেশ যদি এই শিক্ষা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রীয় নীতির কেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি রূপান্তরকে স্থাপন করতে পারে, তবে কৃষি শুধু খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি নয় বহুগুণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী, উচ্চমূল্যের, আধুনিক শিল্পখাতে পরিণত হতে পারে।
এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ
পরবর্তী পর্ব ৩ দেখার জন্য আমন্ত্রন রইল । সেখানে থাকবে জায়নবাদী রাস্ট্র ইজরাইলের সাথে বাংলাদেশের কুটনৈতিক সম্পর্ক না থাকার কারণে তাদের উদ্ভাবিত উন্নত কৃষি প্রযুক্তি তৃতীয় কোন দেশের মাধ্যমে আহরণের কৌশলগত পথ এবং বাংলাদেশ কৃষি আধুনিকায়ন ভিশন কাঠামোর বিস্তারিত বিবরণ ।
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
ঠিকই বলেছেন বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে জাপান-এর উন্নত কৃষি ব্যবস্থা থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করা যেতে পারে।
দুই দেশের জমির আকার, জনঘনত্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এসব ক্ষেত্রে কিছু মিলও আছে। তাই জাপান -এর
কিছু সফল পদ্ধতি বাংলাদেশের বাস্তবতায় খুব কার্যকর হতে পারে।
আমার ধারনা নিন্মোক্ত ক্ষেত্রে জাপনী উদাহরণ বাংলাদেশে ব্যবহার করা যেতে পারে । আমার কোন ভুল হলে জানালে
বাধিত হবো ।
১) জাপানে জমি কম, কিন্তু উৎপাদন বেশি। তারা ছোট জমিকে বৈজ্ঞানিকভাবে ভাগ করে চাষ করে ,উচ্চ ফলনশীল
ও মানসম্পন্ন জাত ব্যবহার করে , প্রতি ইঞ্চি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে । বিষয়টি বাংলাদেশে প্রয়োগ করা
যেতে পারে খণ্ড খণ্ড জমি সমবায় ভিত্তিক চাষে আনতে পারে , একই জমিতে বছরে ৩/৪ ফসল উৎপাদনের
পরিকল্পনা করতে পারে , জমির ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করে উপযোগী ফসল নির্ধারণ করে চাষাবাদ করতে পারে । 
২) জাপান কৃষিতে ব্যাপকভাবে স্মার্ট কৃষি ও প্রযুক্তির ব্যবহার ব করে, সেন্সর দ্বারা মাটির আর্দ্রতা পরিমাপ করে ,
ড্রোন দিয়ে সার ও কীটনাশক ছিটানোর কাজ করে ,AI দিয়ে রোগ শনাক্তকরণ ও স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা পরিচালনা
করে । বাংলাদেশে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা যেতে পারে । এ লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে ড্রোন সার্ভিস সেন্টার
স্থাপনকরতে পারে , কৃষকের মোবাইলে রোগ শনাক্তকরণ অ্যাপ যুক্ত করে স্মার্ট সেচ ( সোলার ইরগেশন
সাথে সেন্সর দ্বারা মাটির আর্দ্রতা পরিমাপ করতে পারে ।
৩)জাপানে শুধু উৎপাদন নয়, গুণগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।তারা কৃষিপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করে গ্রেডিং করে ,
সুন্দর প্যাকেজিং করে,নিরাপদ খাদ্যের সার্টিফিকেশন দেয় , কৃষিপণ্যকে ব্র্যান্ডে পরিণত করে ।
বাংলাদেশে প্রয়োগ এই পদ্ধতির ব্যবহার করতে পারে যেমন রাজশাহীর আম, বগুড়ার দই, দিনাজপুরের
কাটারী ভোগ চাল এসবকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলতে পারে ।
৪) জাপানে এ কৃষক মানে শুধু শ্রমিক নয়, প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তা।সেখানে কৃষককে প্রশিক্ষণ ও কৃষি শিক্ষার মাধ্যমে
শেখানো হয় কিভাবে বাজার বিশ্লেষণ করতে হয় , প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয় , কীভাবে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ
করতে হয় এবং কীভাবে কৃষি ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় ।
বাংলাদেশে তাদের প্রশিক্ষন ব্যবস্থাটিকে প্রয়োগ করা যায় , ইউনিয়ন পর্যায়ে Farmer Field School বৃদ্ধি করা
যায় , যুবকদের কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ দেয়া যায় , কৃষি কলেজ–গবেষণা–কৃষকের সংযোগ বাড়ানো যায় ।
৫) জাপান -এর Japan Agricultural Cooperatives (JA Group) কৃষকদের শক্তিশালী করেছে।তারা
কৃষকদের ঋণ দেয় , বাজার তৈরি করে দেয় , বীজ/সার সরবরাহ করে ও পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করে ।
বাংলাদেশে এই উদাহরণ প্রয়োগ করে আধুনিক কৃষি সমবায় গঠন , সরাসরি কৃষক–বাজার সংযোগ করে
মধ্যস্বত্বভোগী কমানো যায়।
৬) জাপান খুব পরিকল্পিতভাবে পানি ব্যবস্থাপনা করে ,খাল, জলাধার, ক্ষুদ্র বাঁধ দিয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ
করে দক্ষ সেচব্যবস্থা পরিচালনা করে ।
বাংলাদেশে একে প্রয়োগ হতে পারে , বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে উত্তরাঞ্চলে drip irrigation করতে পারে
সাথে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা র বিকাশ ঘটাতে পারে ।
৭) জাপান কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেয় । জাপান নিয়মিত নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে।
বাংলাদেশ আবশ্য গবেষনায় পিছিয়ে নেই।তার পরেও Bangladesh Rice Research Institute, Bangladesh Agricultural Research Institute, Bangladesh Agricultural University এসব প্রতিষ্ঠানের গবেষণা দ্রুত মাঠে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারে ।
জাপানী উন্নত কৃষির উদাহরণ হতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ৫টি অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারে ।
আমার মতে শুরুতে এই পাঁচটি সবচেয়ে কার্যকর অগ্রাইকার হবে ১) কৃষি সমবায়, ২) স্মার্ট সেচ, ৩)
ড্রোন প্রযুক্তি, ৪) কৃষিপণ্যের ব্র্যান্ডিং এবং ৫) কৃষক প্রশিক্ষণ।
এগুলো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই হবে বলে মনে করি ।
শুভেচ্ছা রইল
২|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি একটা article পড়েছি যেখানে বাংলাদেশের কৃষি জমিতে ভূমির অবক্ষয় বা ল্যান্ড ডিগ্রেডেশন বেড়ে চলেছে। তাহলে কিভাবে আমাদের ফসল উৎপাদন বাড়ানো যায় ? মাটিতে অনুজীবের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারনে নাকি এমনটা হচছে । অনুজীবের ভুমিকা কি ? কিভাবে বাড়ানো যায় ?
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
আপনার পাঠকৃত মুল্যবান আর্টিক্যালটি পাঠ করতে পারলে আমার খুব উপকার হত ।
আপনার মুল্যবান মন্তব্যটি মাটির প্রাণ ফিরিয়ে এনে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা জাগাতে খুবই সহায়ক হবে বলে মনে করি ।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। আমাদের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ জীবনের বড় অংশই কৃষির সঙ্গে
গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কৃষি জমিতে ভূমির অবক্ষয় (Land Degradation) উদ্বেগজনক
ভাবে বেড়ে চলেছে।একই জমিতে বছরের পর বছর একই ধরনের ফসল চাষ, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের
ব্যবহার, জমিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি, খড় পোড়ানো, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে মাটির
স্বাভাবিক উর্বরতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জমির দীর্ঘমেয়াদি
উৎপাদনক্ষমতা হুমকির মুখে পড়ছে।
এই সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মাটিতে উপকারী অনুজীবের পরিমাণ কমে যাওয়া। মাটির
অনুজীব হচ্ছে কৃষির নীরব কর্মী। ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, কেঁচো ও অন্যান্য অণুজীব মাটির ভেতরে এমনসব কাজ
করে যা গাছের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তারা জৈব পদার্থ পচিয়ে উদ্ভিদের উপযোগী পুষ্টি তৈরি
করে, বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে মিশিয়ে দেয়, শিকড়ের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে, মাটির গঠন
উন্নত করে এবং ক্ষতিকর রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সহজ ভাষায় বলা যায়
মাটির অনুজীব যত সক্রিয় থাকবে, জমি তত বেশি জীবন্ত ও উর্বর হবে।
তাই বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে হলে শুধু রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভর না করে মাটির জীববৈচিত্র্য
ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য প্রথমেই জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। গোবর, কম্পোস্ট,
ভার্মি কম্পোস্ট, সবুজ সার এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে ফিরিয়ে দিলে অনুজীবের খাদ্য সরবরাহ বাড়বে,
ফলে তাদের সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে খড় পোড়ানোর ক্ষতিকর অভ্যাস বন্ধ করতে হবে,
কারণ এতে মাটির কোটি কোটি উপকারী অনুজীব ধ্বংস হয়ে যায়।
এছাড়া ফসল পর্যায়ক্রমিক চাষ (Crop Rotation) চালু করা অত্যন্ত জরুরি। ধানের পর ডাল, ডালের পর সবজি
বা তেলবীজ চাষ করলে মাটির পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের অনুজীব সক্রিয় হয়। ডাল জাতীয়
ফসল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এদের শিকড়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে স্থির করতে
সাহায্য করে। পাশাপাশি জৈব সার, রাসায়নিক সার ও বায়োফার্টিলাইজারের সমন্বিত ব্যবহার কৃষিতে একটি
নতুন ভারসাম্য আনতে পারে।
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের জন্য এখন সময় এসেছে মাটি বাঁচাও ফসল বাড়াও নীতিকে সামনে আনার।
ইউনিয়ন পর্যায়ে মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কৃষকদের জৈবসার তৈরির প্রশিক্ষণ, বায়োফার্টিলাইজারের সহজলভ্যতা
নিশ্চিত করা, এবং কৃষিতে পুনর্জীবনশীল (Regenerative) পদ্ধতি চালু করা হলে কৃষি আবার নতুন প্রাণ ফিরে
পাবে।
মনে রাখতে হবে ফসলের প্রকৃত শক্তি শুধু সারে নয়, জীবন্ত মাটিতে। মাটির প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারলেই
বাংলাদেশের কৃষি হবে আরও উৎপাদনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই।কারণ, মাটিকে সুস্থ রাখলে মাটি
আমাদের ভবিষ্যৎকে সুস্থ রাখবে।
একটি কথা আমাদের সকলের মনে রাখা যায়:-
মাটিকে খাওয়ান, মাটি গাছকে খাওয়াবে; গাছ মানুষকে বাঁচাবে।
শুভেচ্ছা রইল
৩|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১১
খায়রুল আহসান বলেছেন: সুদীর্ঘ পোস্ট। এ গবেষণামূলক পোস্টটিতে হয়তো মাত্র একটি মন্তব্যে সব কথা বলা শেষ হবে না। তাই আমার মন্তব্যগুলোকেও আমি পর্ব আকারে বিভক্ত করে সময়ে সময়ে এখানে প্রকাশ করার আশা রাখছি।
মন্তব্য-১
সিরিয়াস পাঠকদেরকে পোস্টের শিরোনামটাই এ পোস্টে টেনে আনবে। পোস্টটি বাংলার কিষাণ-কিষাণীদের প্রতি নিবেদিত হওয়ায় প্রীত বোধ করছি।
ভূমি চাষ করা থেকে বীজ বপন, বীজতলা থেকে প্রস্তুতকৃত ক্ষেতে ধানের চারা রোয়া, সেচের মাধ্যমে ক্ষেতে পানি দেয়া, ধান পাকলে ধান কেটে আঁটি বেঁধে মাথায় কিংবা গরুর গাড়িতে করে (এখন ট্রাক্টরে) নিজের কিংবা বর্গা মালিকের বাড়ির প্রাঙ্গণ পর্যন্ত নিয়ে আসার কাজগুলো এখনও পর্যন্ত মূলতঃ পুরুষ নির্ভর। তার পর থেকে, ধান আঁটি থেকে ছাড়ানো, ধান মাড়ানো, রোদে শুকানো, উষানো (সিদ্ধ করার কাজ), বাওয়ানোর (শিরোনামের ছবিটাতে যা করা হচ্ছে) পর তা চালে পরিণত করে, রেঁধে বেড়ে মানব জাতির মুখে অন্ন তুলে দেয়ার কাজগুলো সম্পন্ন হয় মমতাময়ী নারীদের হাতে। রোদে পোড়া সেই নারীদের কাজের সাক্ষ্য হিসেবে আপনি একটি গ্রুপ ছবি শিরোনামে দিয়ে পোস্ট শুরু করেছেন, এজন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার গভীর মনোযোগী পাঠ এবং হৃদয়ছোঁয়া মুল্যবান মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। গবেষণামূলক লেখার
প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন কোনো মননশীল পাঠক লেখার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে শুধু অনুধাবনই করেন না,
বরং তার সঙ্গে নিজের জীবনবোধ, অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সংযোগ ঘটিয়ে আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করেন।
আপনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আমাদের কৃষিজীবনের এক অবিস্মরণীয় সত্যকে সামনে এনেছেন।বাংলার কৃষি কেবল
জমিতে ফসল ফলানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি দীর্ঘ, শ্রমঘন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনচক্র, যেখানে
নারী ও পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত শ্রমে অন্নের প্রতিটি দানা আমাদের ঘরে পৌঁছায়। মাঠে লাঙল ধরা, জমি প্রস্তুত করা,
বীজ বপন, চারা রোপণ, সেচ প্রদান, ধান কাটা এবং ঘরে তোলা এসব কাজে পুরুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ যেমন
দৃশ্যমান, তেমনি ধান মাড়াই, সিদ্ধ করা, শুকানো, বাওয়ানো, সংরক্ষণ, চাল প্রস্তুত এবং পরিশেষে সেই অন্ন রেঁধে
পরিবারের মুখে তুলে দেওয়ার নেপথ্যে নারীর নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম, ধৈর্য ও মমতার যে প্রবাহ বহমান তা আমাদের
কৃষি-সভ্যতার এক অনন্য ভিত্তি।
প্রকৃতপক্ষে, বাংলার কৃষি শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, পরিবার ও মানবিক বন্ধনেরও এক
জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। রোদে পোড়া কৃষকের কপালের ঘাম যেমন এ দেশের শস্যের উর্বরতার প্রতীক, তেমনি গ্রামীণ
নারীর নীরব ত্যাগ, যত্ন ও অক্লান্ত শ্রম আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার অদৃশ্য শক্তি। অথচ ইতিহাসের পাতায় এবং কৃষি
আলোচনার মূলধারায় তাঁদের এই অবদান অনেক সময় প্রাপ্য স্বীকৃতি পায় না। আপনার মন্তব্য সেই অবহেলিত
সত্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে আলোকিত করেছে।
শিরোনামে ব্যবহৃত ছবিটি নিয়ে আপনার অনুভূতির প্রকাশ আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে। কারণ আমারও
বিশ্বাস বাংলার কৃষির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আঁকতে হলে কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণীর মুখচ্ছবিকেও সমান মর্যাদায় সামনে
আনতে হবে। আমাদের খাদ্যশস্যের প্রতিটি দানায় যেমন কৃষকের ঘাম মিশে আছে, তেমনি কৃষাণীর স্নেহমাখা
শ্রমও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
আপনি আপনার মন্তব্যকে পর্বে পর্বে প্রকাশ করার যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, সেটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আপনার
অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ নিঃসন্দেহে এই আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আমি আগ্রহভরে আপনার
পরবর্তী মন্তব্য পর্বগুলোর অপেক্ষায় রইলাম।
শুভেচ্ছা রইল
৪|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০
ঢাকার লোক বলেছেন: তথ্য সমবৃদ্ধ গবেষণামূলক প্রস্তাবনা নিঃসন্দেহে। ইজরাইলের কৃষিতে উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহারে বিভিন্ন ফসলের মানবৃদ্ধি এবং একর প্রতি উৎপাদনে অকল্পনীয় সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরে খুব ভালো করেছেন। অল্প জমিতেও যে আরো বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব সে বিশ্বাস আমাদের আশার আলো দেখাবে। জাপান, কোরিয়া, ইত্যাদি দেশে থাকা আমাদের অনেক প্রবাসী ভাই বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিওতে এ ধরণের চাষাবাদের ভিডিও শেয়ার করেন, প্রায়ই দেখতে পাই। আমাদের দেশে দরিদ্র কৃষকের ছোট ছোট বিভক্ত জমিতে এ ধরণের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার চালু করতে সরকারি উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক সহায়তা দরকার হবে বলে মনে হলো। সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিলে যে কোনো দেশ থেকে এই প্রযুক্তি সম্বন্ধে জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় আনুষাঙ্গিক আমদানি অসম্ভব হবে না।
আপনার এ লেখা নীতি নির্ধারকদের গোচরে আনতে পারলে তাদের এ বিষয়ে কিছু একটা করায় অনুপ্রাণিত করবে আমার বিশ্বাস।
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার চিন্তাশীল, বাস্তবমুখী এবং সুদূরপ্রসারী মুল্যবান মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে
আলোচনার মূল বিষয়টিকে ধরতে পেরেছেন।স্বল্প জমিতে অধিক উৎপাদন এখন কেবল একটি কৃষি-স্বপ্ন নয়; এটি
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য এক সুস্পষ্ট সম্ভাবনা। ইজরাইল , জাপান এবং
দক্ষিন কোরিয়া-এর কৃষি অভিজ্ঞতা আজ বিশ্বকে এ কথাই শিখিয়েছে যে, কৃষির সাফল্য শুধু জমির পরিমাণের ওপর
নির্ভর করে না, বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার সমন্বিত প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে।
আপনি যথার্থই উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক; তাঁদের জমি ছোট ছোট
খণ্ডে বিভক্ত, আর্থিক সক্ষমতা সীমিত এবং উন্নত কৃষিযন্ত্র বা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগও তুলনামূলকভাবে কম।
এই বাস্তবতায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার কিছুটা কঠিন হলেও সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ,
সহজ ঋণ সুবিধা, কৃষি ভর্তুকি, প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ এই পাঁচটি পদক্ষেপ
একসঙ্গে কার্যকর করা গেলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের এর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও স্থানীয় অভিযোজন। অর্থাৎ উন্নত
দেশ থেকে প্রযুক্তি ও জ্ঞান আহরণ করে তা আমাদের জলবায়ু, মাটি, কৃষকের সামর্থ্য ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ করে প্রয়োগ করা। যেমন ড্রিপ ইরিগেশন, সেন্সরভিত্তিক সেচ, উন্নত বীজ, গ্রিনহাউস চাষ, ড্রোন
পর্যবেক্ষণ, এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য শেয়ারিং-ভিত্তিক কৃষিযন্ত্র সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে ছোট
জমিও হয়ে উঠতে পারে উচ্চ উৎপাদনের ক্ষেত্র।
আপনার আরেকটি বক্তব্য বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য, এই ধরনের চিন্তা ও প্রস্তাব নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টিগোচরে আনা
প্রয়োজন। বাস্তবিকই, কৃষিকে যদি শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত
হিসেবে দেখা হয়, তাহলে গবেষণালব্ধ ধারণাগুলোকে মাঠপর্যায়ে বাস্তব রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। নীতি
নির্ধারক, গবেষক, কৃষিবিদ, প্রবাসী প্রযুক্তিবিদ এবং কৃষক এই পাঁচ শক্তির সম্মিলিত অংশগ্রহণেই কৃষিতে নতুন
বিপ্লবের পথ তৈরি হতে পারে।
আপনার মন্তব্যে যে আশাবাদ, বাস্তববোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনার পরিচয় ফুটে উঠেছে, তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। এমন গঠনমূলক মতামতই চিন্তার পরিধিকে প্রসারিত করে এবং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের
দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। আমার বিশ্বাস, সচেতন ব্লগারদের এই ধরনের আলোচনাই একসময়
নীতিনির্ধারণের টেবিলে পৌঁছে বাস্তব পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।
শুভেচ্ছা রইল
৫|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:০৮
আলামিন১০৪ বলেছেন: ভাই আপনার পিএইচডি সন্দর্ভ কি কৃষির উপর?
আপনার লিখা পড়লাম
সবই পুরনো কথা
উন্নত রাষ্ট্রের অধিক উৎপাদনের যে উদাহরণ দিয়েছেন সে পদ্ধতিগুলো সহজলভ্য নয কিংবা কৃষকের সাধ্যের বাইরে। যাদের সাধ্য আছে, তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে, অতিরিক্ত ব্যয় বিবেচনায় নিলে তা লাভজনক হবে কিনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন
বর্তমানে বেশিরভাগ জমি ট্রা্ক্টর ভাড়া করে আবাদ হয়- অদূর ভবিষ্যতে আর গরু কিংবাি মহিষ দিয়ে হাল-চাষ হয়তো দেখা যাবে না, আমি গ্রামে গেলে গরু আর লাঙ্গল খুঁজে ফিরি। যদি কোথাও দেখা পাই- সেখানে দাঁড়িয়ে দেখি এক অন্য রকম সৌন্দর্য
। আমার মনে হয়, কিছু দিন পর মানুষ রিসোর্টের মতো করে ফার্ম হাউজে টাকা খরচ করে গরুর হাল দেখতে যাবে।
সেচ ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি কথা না বললেই নয়। ইদানিং পলিসি মেকাররা ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারের বিপক্ষে বলছেন-
অথচ আমরা যারা মাটির নীচের পানি নিয়ে কাজ করি তারা জানি, বাংলাদেশের ঢাকা, বরেন্দ্র সহ কয়েকটি জায়গা ব্যতীত সকল স্খানেই ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ঘটে
বিশ্বখ্যাত সাইন্স জার্নালের “ দ্যা বেঙ্গল ওয়াটার মেশিন” প্রবন্ধটি পড়ে দেখার অনুরোধ রইল
বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে নদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি থাকে না। ৮০% ক্যাচমেন্ট দেশের বাইরে- কন্ট্রোল ওপারে। খাল খনন করে সর্বত্র পানি দিবেন কিভাবে?
বৃহৎ প্রকল্প নেয়ার আগে ক্ষুদ্র পরিসরে গবেষণা প্রকল্প নিয়ে আপনার দেয়া উদাহরণগুলো কিংবা নতুন টেকনোলজির উপযোগিতা দেখা যেতে পারে
০১ লা মে, ২০২৬ ভোর ৬:৫২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আমার কর্মকান্যের সাথে জড়িত সংগঠনটির বাৎসরিক জেরারেল মিটিং এর বিষয়ে অতিব্যস্ততার দরুন উত্তর দানে
বিলম্বের জন্য দু:খিত ।
আপনার সদয় আবগতির জানাচ্ছি পিএইচডি সন্দর্ভ কৃষির উপর নয় বরং মুল গবেষনা ছিল উন্নয়নকামী দেশগুলির
প্রজেক্ট প্রানিং ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এর উপরে ।
এ পোস্টে আমার উত্থাপিত বিষয়গুলি অব্যশ্যই পুরাতন । তবে সেগুলির মধ্য বর্তমানসহ ভবিষ্যত বাস্তবায়নযোগ্য
বিষয়গুলিই আমার কাছে গুরুত্বের বিষয় । পরবর্তী পর্বে সে বিষয়গুলিই তুলে ধরা হবে ।
উন্নত রাষ্ট্রের অধিক উৎপাদনের যে উদাহরণ দিয়েছেন সে পদ্ধতিগুলো সহজলভ্য নয কিংবা কৃষকের সাধ্যের বাইরে।
যাদের সাধ্য আছে, তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে, অতিরিক্ত ব্যয় বিবেচনায় নিলে তা লাভজনক হবে কিনা
বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
আপনার মন্তব্যটির এ জায়গায় অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। কৃষি আধুনি
কায়নের রোডম্যাপ প্রণয়নের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের অধিক উৎপাদনের উদাহরণ অবশ্যই অনুপ্রেরণাদায়ক; তবে
সেই প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো বাংলাদেশের প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকের আর্থসামাজিক বাস্তবতার
সঙ্গে কতখানি সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। এ কথা সত্য কেবল প্রযুক্তির নাম উল্লেখ করলেই
আধুনিকায়ন হয় না; প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, ব্যবহারিক দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ এবং বাজারে
উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার সক্ষমতা এই সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয়।
লাভজনকতার প্রশ্নটিও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদন বাড়তে পারে, শ্রম ব্যয় কমতে
পারে, পানির ব্যবহার ও সার প্রয়োগে দক্ষতা আসতে পারে যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষককে লাভের মুখ দেখাতে পারে।
কিন্তু একই সঙ্গে প্রযুক্তি ক্রয়, স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।
যদি উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বাজারমূল্য অনিশ্চিত থাকে, কিংবা কৃষক ন্যায্য দাম না পান, তাহলে অধিক
উৎপাদনও কাঙ্ক্ষিত মুনাফায় রূপ নাও নিতে পারে। অর্থাৎ উৎপাদন বৃদ্ধি মানেই লাভ বৃদ্ধি নয়; প্রকৃত লাভ
নির্ভর করে ব্যয়-সাশ্রয়, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং পণ্যের মূল্য সংযোজনের উপর।
তাই বাংলাদেশে কৃষি আধুনিকায়নের কার্যকর পথ হতে পারে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তির সরাসরি অনুকরণ নয়, বরং
স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই স্বল্প ব্যয়, সহজে ব্যবহারযোগ্য, ধাপে ধাপে সম্প্রসারণযোগ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন
ও প্রসার। একই সঙ্গে সরকারিভাবে ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সমবায়ভিত্তিক যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ এবং
উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চয়তা তৈরি করা গেলে আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকের জন্য কেবল আকর্ষণীয় নয়,
বাস্তব অর্থেই লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। কৃষির আধুনিকায়নের সাফল্য প্রযুক্তি আমদানিতে নয় বরং সেই
প্রযুক্তিকে কৃষকের নাগালের মধ্যে এনে লাভজনক ও টেকসই কৃষি অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে পারার
মধ্যেই নিহিত।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি লাভ ক্ষতি বিশ্লেষন সংক্রানত বিষয়গুলি আমার পরবর্তী পর্বে তুলে ধরা হয়েছে ,
যা অচীরেই প্রকাশ পাবে ।
বর্তমানে বেশিরভাগ জমি ট্রা্ক্টর ভাড়া করে আবাদ হয়- অদূর ভবিষ্যতে আর গরু কিংবাি মহিষ দিয়ে হাল-চাষ হয়তো
দেখা যাবে না, আমি গ্রামে গেলে গরু আর লাঙ্গল খুঁজে ফিরি। যদি কোথাও দেখা পাই- সেখানে দাঁড়িয়ে দেখি এক
অন্য রকম সৌন্দর্য।
আমার মনে হয়, কিছু দিন পর মানুষ রিসোর্টের মতো করে ফার্ম হাউজে টাকা খরচ করে গরুর হাল দেখতে যাবে।
ঠিক কথাই বলেছেন । লাঙ্গল ও ট্রাকটর নিয়ে নীচে ৬ নং মন্তব্যের ঘরে আমি কিছু কথা বলেছি ।
সেচ ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি কথা না বললেই নয়। ইদানিং পলিসি মেকাররা ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারের বিপক্ষে বলছেন-
অথচ আমরা যারা মাটির নীচের পানি নিয়ে কাজ করি তারা জানি, বাংলাদেশের ঢাকা, বরেন্দ্র সহ কয়েকটি জায়গা
ব্যতীত সকল স্খানেই ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ঘটে।
বিশ্বখ্যাত সাইন্স জার্নালের “ দ্যা বেঙ্গল ওয়াটার মেশিন” প্রবন্ধটি পড়ে দেখার অনুরোধ রইল
আপনার মন্তবব্যের এই কথাগুলি বাংলাদেশের সেচনীতি ও পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক
দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় প্রায়শই একটি সাধারণী
কৃত ধারণা তুলে ধরা হয়, যেন ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার মানেই তা দ্রুত নিঃশেষ হওয়ার ঝুঁকি। কিন্তু বাস্তবতা আরও
সূক্ষ্ম ও অঞ্চলভেদে ভিন্ন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক গঠন, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ এবং প্লাবনভূমির বৈশিষ্ট্যের
কারণে দেশের বহু এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রাকৃতিক পুনর্ভরণ তথা natural recharge নিয়মিত ঘটে, যা
জলস্তর পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এখানে আপনার The Bengal Water Machine ধারণাটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। বিষয়টি আমি দেখে নিয়েছি।
পাঠান্তে বেশ মুল্যবান তথ্য জানা গেছে । বিষয়গুলি আপনার অবশ্যই জানা আছে , তবে পাঠান্তে জানা বিষয়গুলি অন্য
পাঠকদের সাথে শেয়ার করার মানষে এখানে তুলে দেয়া হল ।
Science সাময়িকীতে প্রকিশিত লেখাটিতে বলা হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধগুলোকেও টেক্কা দিচ্ছে বেঙ্গল ওয়াটার
মেশিন । সেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশের লাখো কৃষকের সম্মিলিত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কার্যক্রম মাটির নিচে
বিশাল প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি করেছে, যা ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধগুলোর সঙ্গেও পাল্লা দিতে
পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যবস্থাই সেচব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে এবং একসময় দুর্ভিক্ষপ্রবণ বাংলাদেশকে
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
Science সাময়িকীতে প্রকাশিত University College London (ইউসিএল)-এর এই গবেষণাটি বেশ মুল্যবান
তথ্য দিয়েছে । গবেষণায় ১৯৮৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বঙ্গ অববাহিকায় ১ কোটি ৬০ লাখ ক্ষুদ্র
কৃষকের শুষ্ক মৌসুমে অগভীর ভূগর্ভস্থ পানি তুলে ধানক্ষেতে সেচ দেওয়ার সম্মিলিত প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ছবি সুত্র : গবেষনা সংক্রান্ত সংবাদ ভাষ্য হতে সংগৃহীত ।
গবেষণায় দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে ব্যাপক হারে পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এর
পরবর্তী বর্ষা মৌসুমে নদী, হ্রদ ও পুকুরের পানি আরও বেশি পরিমাণে মাটির নিচে প্রবেশ করে সেই ঘাটতি পূরণ
করে। ফলে শুধু ভূগর্ভস্থ পানির স্তরই পুনরুদ্ধার হয় না, একই সঙ্গে অতিরিক্ত উপরিভাগের পানি শোষিত হওয়ায়
বন্যার ঝুঁকিও কমে আসে।
গবেষকরা তাই এই প্রক্রিয়াকে নাম দিয়েছেন “দ্য বেঙ্গল ওয়াটার মেশিন”। তাদের হিসাবে, গত ৩০ বছরে এ
পদ্ধতিতে ৭৫ ঘনকিলোমিটারেরও বেশি মিঠাপানি ( More than 75 cubic kilometres of freshwater is
equal to 75 billion cubic metres or about 75 trillion litres of water.That is also roughly
60.8 million acre-feet) সংরক্ষিত হয়েছে যার পরিমাণ Three Gorges Dam এবং Hoover Dam এই
দুই বৃহৎ বাঁধের সম্মিলিত জলাধার ধারণক্ষমতার সমান।
গবেষকরা বলছেন, মৌসুমি নদীর পানি সেচের জন্য সংরক্ষণের প্রচলিত পদ্ধতি যেমন বাঁধ বা কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ
এর একটি টেকসই বিকল্প হতে পারে এই উদ্যোগ। বিশেষ করে বঙ্গ অববাহিকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ পললভূমিতে,
যেখানে বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি প্রতি বছরের বন্যায় জমে থাকা বালি, পলি ও কাদামাটি দিয়ে গঠিত, সেখানে বড় বাঁধ
নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন।
গবেষণার সহ-প্রধান লেখক ড. মোহাম্মদ শামসুদ্দুহা (ইউসিএল-এর ঝুঁকি ও দুর্যোগ প্রশমন ইনস্টিটিউট)
বলেছেন;
“এই অভিনব উদ্যোগ মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় সহায়তা করে। এটি বর্ষাকালের অতিরিক্ত
মিঠাপানি অধিক পরিমাণে ধরে রাখতে ও সংরক্ষণ করতে পারে, একই সঙ্গে কোনো বাঁধ নির্মাণ ছাড়াই বর্ষাকালের
বন্যার ঝুঁকিও কমিয়ে আনে।”
গবেষকদের মতে, এই সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি বিশ্বের অন্যান্য পললভূমিতেও প্রয়োগ করা সম্ভব। বিশেষ করে
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এশিয়ার বৃহৎ বদ্বীপ অঞ্চলগুলো যেমন Mekong Delta এবং
Yellow River Delta এ ধরনের উদ্যোগ থেকে উপকৃত হতে পারে।
তাদের বিশ্বাস, বেঙ্গল ওয়াটার মেশিন বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করতে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বাড়তে
থাকা চরম আবহাওয়ার অভিঘাত মোকাবিলায় বিশ্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা, মৌসুমি বন্যার পানি ধারণ, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং
পুনর্ভরণ-বান্ধব কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানিকে কেবল উত্তোলনের উৎস হিসেবে
নয়, বরং একটি গতিশীল জলাধার (dynamic reservoir) হিসেবেও বিবেচনা করা সম্ভব। অর্থাৎ বর্ষাকালে
যে বিপুল পরিমাণ পানি নিষ্কাশিত হয়ে নষ্ট হয়, তার একটি অংশ যদি পরিকল্পিতভাবে মাটির নিচে প্রবেশের
সুযোগ পায়, তবে তা শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠতে পারে।
তবে আমি বলি একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা জরুরি যে পুনর্ভরণ ঘটে বলেই সীমাহীন উত্তোলন নিরাপদ এমন
সিদ্ধান্তও বৈজ্ঞানিক নয়। কারণ পুনর্ভরণের হার, উত্তোলনের মাত্রা, মাটির স্তরবিন্যাস, নগরায়ণ, নদীর প্রবাহ হ্রাস
এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—এসব বিষয় অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকার আশপাশ, বরেন্দ্র অঞ্চল কিংবা অতিরিক্ত
গভীর নলকূপনির্ভর কিছু এলাকায় পানির স্তর নিম্নমুখী হওয়ার প্রবণতা ইতোমধ্যে স্পষ্ট। ফলে জাতীয় পর্যায়ে
একক নীতির পরিবর্তে এলাকাভিত্তিক হাইড্রোজিওলজিক্যাল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভারসাম্যপূর্ণ পানি
ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করাই হবে অধিকতর বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ।
যাহোক ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারকে একপাক্ষিকভাবে নিরুৎসাহিত করা যেমন যুক্তিযুক্ত নয়, তেমনি এর পুনর্ভরণ
ক্ষমতাকে অবারিত সম্পদ ধরে নেওয়াও বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট যেখানে ভূগর্ভস্থ
ও ভূপৃষ্ঠস্থ পানির সমন্বিত ব্যবহার, পুনর্ভরণ বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং অঞ্চলভিত্তিক উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃষি,
পরিবেশ ও পানিসম্পদের মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা যায়।
আপনি ভুর্ভস্ত পানি বিষয়ক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত আছেন জেনে খুশী হলাম ।
বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে নদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি থাকে না। ৮০% ক্যাচমেন্ট দেশের বাইরে- কন্ট্রোল
ওপারে। খাল খনন করে সর্বত্র পানি দিবেন কিভাবে?
আপনার মন্তব্যের উপরুক্ত কথামালায় একটি বাস্তব উদ্বেগ উঠে এসেছে এসেছে ; শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের
নদীতে পানি কমে যায়, আর দেশের প্রায় ৮০% নদী অববাহিকার উৎস দেশের বাইরে; ফলে প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও
আন্তঃসীমান্ত বাস্তবতা আছে। তবে জলবিজ্ঞান গবেষণা একটি সম্ভাবনাময় দিকও দেখাচ্ছে।
বিষয়টি কেবল নদীতে দৃশ্যমান পানির পরিমাণ নয়; বরং বর্ষাকালে যে বিপুল পরিমাণ পানি বন্যা, নদী, বিল, হাওর,
পুকুর ও মাটির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষ পর্যন্ত সাগরে নেমে যায়, তার একটি অংশকে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক
জলাধারে সংরক্ষণ করার সক্ষমতা আমাদের আছে। শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে বর্ষায় নদী
ও জলাশয়ের পানি আরও বেশি পরিমাণে মাটির নিচে অনুপ্রবেশ করতে পারে এতে ভূগর্ভস্থ পানির ভাণ্ডার পুনরায়
পূর্ণ হয়, আবার অতিরিক্ত বন্যার চাপও কিছুটা কমে।
অতএব সমাধান শুধু খাল খনন করে সর্বত্র পানি পৌঁছানো নয়; বরং পুনঃখনিত খাল, প্লাবনভূমি, জলাধার,
পুকুর-দীঘি, বিল-হাওর সংরক্ষণ, জলাভূমি পুনরুদ্ধার, এবং পরিকল্পিত কৃত্রিম রিচার্জের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা হতে
পারে কার্যকর পথ। এতে সীমান্তের ওপারের পানির ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি দূর না হলেও, দেশের ভেতরে
বর্ষার অতিরিক্ত পানিকে ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক বাড়ানো সম্ভব।
মোটকথা পানি কম নয়; সমস্যা হলো পানি ধরে রাখা, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সংরক্ষণ করা, এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
বৃহৎ প্রকল্প নেয়ার আগে ক্ষুদ্র পরিসরে গবেষণা প্রকল্প নিয়ে আপনার দেয়া উদাহরণগুলো কিংবা নতুন
টেকনোলজির উপযোগিতা দেখা যেতে পারে।
মন্তব্যের ঘরে আপনার বলা উপরের কথার সাথে সহমত । আমার প্রস্তাবিত রূপকল্পে প্রথমে পরিক্ষামুলকভাবে
১০টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসাবে বাস্তবায়নের কথা বলা হবে । উল্লেখ্য বড় যে কোন প্রকল্পই প্রথমেই
পাইলট ভিত্তিক বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে ।
আপনার মুল্যবান মন্তব্যটির জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
৬|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৫৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বাংলাদেশে যাদের হালের গরু বা পাওয়ার টিলার ভাড়া করার সামর্থ্য নেই, এমন কিছু হতদরিদ্র কৃষক বাধ্য হয়ে
নিজেরা বা পরিবারের সদস্যদের দিয়ে লাঙল-জোয়াল টেনে জমি চাষ করেন। এটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং বিরল
দৃশ্য হলেও বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটেছে।
এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল হালের বলদ বা ট্রাক্টর ভাড়া করার টাকা না থাকায় এবং জমি অনাবাদি ফেলে
না রাখতে বাধ্য হয়েই তারা এই পথ বেছে নেন।
উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর বা ঝিনাইদহের মতো কিছু এলাকায় এ
ধরনের ঘটনা দেখা গেছে, যেখানে কৃষক নিজের ছেলের বা নিজের কাঁধে জোয়াল নিয়ে লাঙল টানছেন।
আধুনিক সময়ে পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টরের ব্যবহার বাড়ায় গরুর হালের প্রচলন কমে গেছে। কিন্তু যাদের সামর্থ্য
নেই, তারা অন্যের জমি বা নিজেদের সামান্য জমিতে এভাবেই চাষাবাদের চেষ্টা করেন।
এটি কষ্টসাধ্য পদ্ধতি তাতে কোন সন্দেহ নাই । এটি একটি চরম অভাবের প্রতীক, যেখানে মানুষ হালের গরুর
বিকল্প হিসেবে নিজেকে ব্যবহার করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করে।
Daily Gonokant, বর্তমানে যান্ত্রিকীকরণের যুগে গরুর হাল চাষ কমে গেলেও, পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি, তবে নিজেরা লাঙল টেনে চাষ করাটা চরম অভাবের কারণে ঘটা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
বিলুপ্তির পথে লাঙ্গল, জোয়াল ও গরু দিয়ে জমি চাষ
ফলে কৃষি মাঠ থেকে কৃষকের সেই ভাটিয়ালি গান লাঙ্গল ও গরু দিয়ে জমি চাষ করতে দেখা যায়
না কৃষকদের।
Ekushey Sangbad, 25 Nov 2023
হালের গরু নেই, দুই শিক্ষার্থীর কাঁধে জোয়াল
হালের গরু নেই, দুই শিক্ষার্থীর কাঁধে জোয়াল.
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি. প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ২২:৪০
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ২২:৪৬.
৭|
২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৬
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আমাদের IQ নিম্ন মানের। আমাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা না থাকাই স্বাভাবিক।
তাহলে কৃষি ক্ষেত্র শুধু নয়, waste management থেকে বায়োগ্যাস উৎপন্ন করা, সোলার পাওয়ার ব্যবাহার করে পাওয়ার/বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে স্বয়ং সম্পন্ন হওয়া সুদূর পরাহত।
০১ লা মে, ২০২৬ সকাল ৭:০২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
াআপনার মুল্যবান মন্তব্যটিতে যে হতাশার সুর আছে, সেটি বাস্তবতার এক দিককে তুলে ধরে তবে আমার মনে
হয় পুরো ছবিটা সম্ভবত এতটা নিরাশার নয়। কোনো জাতির সক্ষমতা শুধু IQ এর সংখ্যায় নির্ধারিত হয় না; বরং
নির্ধারিত হয় শিক্ষা, পরিকল্পনা, গবেষণায় বিনিয়োগ, নেতৃত্বের দূরদৃষ্টি এবং কাজের প্রতি সম্মিলিত দায়বদ্ধতায়।
আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু সম্ভাবনাও কম নয়। কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন
কিংবা সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ স্বনির্ভর হওয়া এসব কোনো কল্পনা নয়; বিশ্বের বহু দেশ তা বাস্তবে করে
দেখিয়েছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই পথে হাঁটার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি?
নিজেদের সক্ষমতাকে ছোট করে দেখার চেয়ে, উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি করা এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক
উদ্যোগে উৎসাহিত করাই বেশি জরুরি। হতাশা নয়, সচেতন প্রয়াসই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। আসুন সকলে মিলে
সচেতনতা সৃস্টি কর্মে নেমে পড়ি ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল
৮|
২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১
রাজীব নুর বলেছেন: আমাদের দেশে উৎপাদন ভালো হয়।
সমস্যা হলো- সেচ দিতে গিয়ে সমস্যা হয়। বিদ্যুৎ থাকে না। কৃষকরা সরকার থেকে সুবিধা পায় না। এদিকে যাতায়াত ব্যবস্থায় খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়।
০১ লা মে, ২০২৬ সকাল ৭:০৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
একেবারে খাটি কথা বলেছেন । এখন দয়া করে এর হাত হতে
উত্তরনের উপায় নিয়ে কিছু মুল্যবান কথা বলুন ।
শুভেচ্ছা রইল
৯|
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮
শায়মা বলেছেন: বাহ! কিষান কিষানীদের জন্য ছড়াটাও যেমন সুন্দর তেমনই এই গবেষনালদ্ধ পোস্ট!
তবে ড্রোন কোন কোন দেশে কৃষিকাজে ইউজ করা হয়! আমি তো কিছুই জানতামন না।
গরুর পরিবর্তে নিজেরাই কাঁধে জোয়াল নেওয়া বা নিজেরাই চাষ করার চেষ্টা আমি গল্পে পড়েছি কিন্তু যাদের গরু নেই তারা সত্যিই এমনটা করে জানতাম না।
ভাইয়া ডক্টর বলছে টমেটো নাকি না খাওয়া ভালো তাতে অনেক শাররিক সমস্যা আছে।
আমি তো ৫ বেলা বলতে গেলে টমেটো খেতাম! ![]()
০১ লা মে, ২০২৬ সকাল ৭:৫৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপুমনি, তোমার মন্তব্যে কৌতূহল, সহমর্মিতা এবং বাস্তবতা তিনটিই খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। সত্যিই, কৃষির
জগৎ এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশে ড্রোন ব্যবহার করে জমির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, সার ও কীটনাশক
প্রয়োগ, এমনকি ফলনের পূর্বাভাস দেওয়ার কাজও হচ্ছে যা কৃষিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলছে।
অন্যদিকে, গরু বা যান্ত্রিক সহায়তা না থাকায় অনেক কৃষকের নিজের কাঁধে জোয়াল তুলে নেওয়ার বিষয়টি শুধু
গল্পের অংশ নয়, আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।এটি যেমন কষ্টের, তেমনি তাদের সংগ্রাম
ও জীবনীশক্তিরও এক গভীর সাক্ষ্য।
তুমি কি কখনো দেখেছ কলু ও তার স্ত্রি পরিবারের সদস্যগন বলদের অভাবে নীজেরা কঠীন পরিশ্রম করে তেলের
ঘানি টানছে গ্রাম বাংলায় । ঘানিতে ভাঙা সর্ষের তেল খেয়েছো কখনো? আজকালের ছেলেমেয়েরা কলুর বলদ
পড়েছে বড়জোর ব্যাকরণের বাগধারায়৷
একটা সময় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে ছিল তেলের ঘানি। এই তেল যারা উৎপাদন করেন, সেই সম্প্রদায় পরিচিত
'কলু' নামে।তাঁদের বলদ গরুগুলো এভাবে ঘানির চারপাশে ঘুরে ঘুরে মাড়াই করত সরিষা বা তিসির খাঁটি তেল।
অনবরত ঘুরতে গিয়ে যাতে মাথা না ঘোরে, তাই চোখ বেঁধে দেয়া হতো কলুর বলদের৷ এমনি করে পাওয়া যেত
ফোঁটা ফোঁটা তেল। 'কলু' বা 'তেলী'রা সেই তেল ফেরী করে বা হাটে হাটে বিক্রি করতেন মাটির হাঁড়িতে করে।
সে তেলের সাথে যে এখনকার রিফাইনারি বাজারের তেলের কতো তফাৎ, তা কেবল যারা খেয়েছেন তাঁরাই জানেন।
ছোটকালে আমি বাড়ী হতে খালি তেলের বড় বোতল নিয়ে কলু বাড়ীতে গিয়ে খাটি সরিষার তেল আনতে যেতাম,
নিত্যই এমন দৃশ্য দেখতাম যেখানে কলু আর কলুর বউ নীচের মত করে ঘানি টানছে । এখনো নাকি এমন দৃশ্য
দেখা যায় কলু পাড়ায় । 
আর টমেটোর প্রসঙ্গে যে কোনো খাবারের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। টমেটোতে
ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা উপকারী উপাদান রয়েছে; তবে কারও শারীরিক বিশেষ সমস্যা (যেমন এসিডিটি,
অ্যালার্জি বা কিডনির কিছু জটিলতা) থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা ভালো। তাই ভয়
পাওয়ার কিছু নেই, বরং সচেতন হওয়াটাই জরুরি।
আমি প্রতি দিনই নিয়মিত আমার বেকইয়ার্ড গার্ডেনের টাটকা পাকা ভাইন টমেটো দিয়ে সালাদ ও মাঝে মধ্যে
রসুন মাখা ঝাল টমেটু চাটনি খাই । গাছ পাকা Vine tometo স্বাদই আলাদা, চেরী টমেটোর মত মিস্টি কিংবা
দেশি অন্য জাতের টমেটোর মত স্বাদ নয়, বরং টক মিস্টি মিশানো।
যাহোক, তুমি কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ীই টমেটু খাবে ।
শুভেচ্ছা রইল
১০|
০১ লা মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অতিরিক্ত টমেটো খাওয়ার ফলে অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, কিডনিতে পাথর (অক্সালেট ও ক্যালসিয়ামের কারণে),
অ্যালার্জি (চুলকানি, ফুসকুড়ি) এবং বাতের ব্যথা বাড়ার ঝুঁকি থাকে । টমেটোতে থাকা হিস্টামিন অ্যালার্জি তৈরি
করতে পারে এবং এর অম্লীয় উপাদান পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে হজমের সমস্যা বাড়ায় ।
টমেটোর প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
এসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা: টমেটো অম্লীয় (acidic) প্রকৃতির, তাই অতিরিক্ত খেলে পেট ফুলে যাওয়া, বুকজ্বালা বা
এসিডিটি হতে পারে ।কিডনি সমস্যা: টমেটোতে ক্যালসিয়াম ও অক্সালেট থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে ।অ্যালার্জি ও ত্বকের সমস্যা: টমেটোতে থাকা হিস্টামিন শরীরের র্যাশ, ত্বকে চুলকানি,
মুখ বা জিব ফুলে যাওয়ার কারণ হতে পারে ।
জয়েন্ট বা বাতের ব্যথা: অতিরিক্ত টমেটো সেবনে গাঁটে বা জয়েন্টে ব্যথা বাড়তে পারে ।
হজমের সমস্যা: পেটে অতিরিক্ত গ্যাস বা হজমের সমস্যা (Irritable Bowel Syndrome - IBS) থাকতে পারে ।
সতর্কতা: যাদের কিডনিতে পাথর, ক্রনিক গ্যাস্ট্রিক বা টমেটোতে অ্যালার্জি আছে, তাদের এটি কম খাওয়াই ভালো ।
....................................................................................................................................................
টমেটো আমারও পসন্দ, কিন্ত সমস্যার জন্য বেছে বেছে খেতে হয় ।
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
আপনার মন্তব্যে টমেটো খাওয়ার কিছু কিছু সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, বিষয়টি সকলেরই বেশ
গুরুত্বরের সহিত নেয়া প্রয়োজন।যদিউ টমেটো একটি পুষ্টিকর খাবার; যাতে ভিটামিন C, পটাশিয়াম, ফোলেট
এবং Lycopene নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা হৃদ্স্বাস্থ্য ও কোষ সুরক্ষায় সহায়ক হিসেবে বিবেচিত।
সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে টমেটো খাওয়া সাধারণত নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের
অংশ হতে পারে।
তবে আপনি অত্যন্ত সত্য কথা বলেছেন , বিশেষ শারীরিক অবস্থায় টমেটো সমস্যা বাড়াতে পারে। যেমন যাদের
অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রিক আলসার, নির্দিষ্ট খাদ্য-অ্যালার্জি বা কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের
ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টমেটো উপসর্গ বাড়াতে পারে।
সুতরাং, টমেটোকে ক্ষতিকর বা উপকারী কোনোটিই এক কথায় বলা বেশ কঠিন। তবে পরিমিতি, ব্যক্তিগত
শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করলে মনে হয় এর ক্ষতিকর দিক এড়ানো
যেতে পারে । অবশ্য উন্নত দেশের লোকজন বেশ সতর্কতার সাথে চমেটো খায় । উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ;
In Britain people eat around 500,000 tonnes of fresh tomatoes every year. That’s 6oz
or 160g per person per week - the equivalent of two classic British tomatoes per week,
or more than 100 tometoes per year ( সুত্র : British Tometo Association )আর্থাৎ ৩ দিনে
একটি টমেটো খায় ।
টমেটু আমার খু্বই পছন্দের সালাদ আইটেম । ডায়াবেটিক থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ আনুযায়ি সপ্তাহে মাত্র
১০০ গ্রামের মত টমেটু খাই সাথে অন্য সালাত আইটেমো থাকে ।
আপনারও টমেটু পছন্দ জেনে খুশী হলাম , নিশ্চয়ই চিকিৎসজচভ পরামর্শ কৃত মাত্রা অনুযায়ি খাচ্ছেন ।
শুভেচ্ছা রইল ।
১১|
০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৪০
শায়মা বলেছেন: হায় হায় টমেটোর এত কিছু!!! ![]()
জীবনেও আর খাবোই না। অথচ এতগুলো বছর মনে হয় এমন একটা দিন নেই যে টমেটো খাইনি! ![]()
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
হায় হায় করার কারণ নাই । ডাক্তারের পরামর্শ নাও, আশা করি
নির্দিস্ট মাত্রায় নিয়মিত টমেটু খেতে পারবে ।
শুভেচ্ছা রইল
১২|
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৩:১০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জাপান -এর Japan Agricultural Cooperatives (JA Group)
কৃষকদের শক্তিশালী করেছে।
............................................................................................
আমি এদের আমন্ত্রনে এক মাস জাপানে ছিলাম
এবং কৃষিতে তাদের পরিকল্পনা, জমির ব্যবহার, পানির অপ্রতুলতা সহ
আরও অনেক বিষয়ে প্রত্যক্ষ্ জ্ঞান লাভ করি ।
এই বিষয়ের উপর ট্রেনিং নিতে হয়েছে এবং প্রতিবেদন জমা
করতে হয়েছে । উক্ত দিনগুলো ছিলো আমার জন্য স্বর্ণালী দিন ।
০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১২:৩৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
Japan Agricultural Cooperatives (JA Group) আমন্ত্রনে এক মাস জাপানে প্রশিক্ষনে থেকে
কৃষিতে তাদের পরিকল্পনা, জমির ব্যবহার, পানির অপ্রতুলতা সহ আরও অনেক বিষয়ে প্রত্যক্ষ্ জ্ঞান
লাভ করেছেন শুনে খুশী হলাম ।
আশির দশকে কৃষি ও বন মন্ত্রনালয়ে কর্মরতকালে মন্ত্রনালয়ের এগ্রো ইকনমিক রিসার্চ সেলের উদ্যোগে
জাপানের কৃষি সমবায় মডেল ও বাংলাদেশের কৃষি পুনর্গঠনে তার প্রয়োগ নিয়ে একটি গবেষনা প্রবন্ধ লিখে
ছিলাম। এখানে উল্লেখ্য ( অবশ্য আপনি আরো ভাল জানেন ) জাপানের Japan Agricultural
Cooperatives (JA Group) এর আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা মূলত ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হয়।
পরে JA (Japan Agricultural Cooperatives) নামটি ব্র্যান্ড পরিচয় হিসেবে ১৯৯২ সালের এপ্রিল
মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয়।
যাহোক, প্রবন্ধে যুক্তি দিয়ে বলেছিলাম বিশ্বায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং বাজার
ব্যবস্থার অদক্ষতা এই চারটি প্রধান চ্যালেঞ্জ বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
বিশেষত কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীর আধিপত্য, কৃষিঋণের
সীমিত প্রাপ্তি এবং মানসম্পন্ন বীজ ওউপকরণের অভাব কৃষির টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা। এই
প্রেক্ষাপটে জাপানের Japan Agricultural Cooperatives একটি সফল কৃষি-সমবায়ভিত্তিক মডেল
হিসেবে বিশ্বব্যাপী আলোচিত। তাই মডেলটি বাংলাদেশে প্রয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করে দেখার আবকাশ
আছে বলে উল্লেখ করেছিলাম।
প্রবন্ধে Japan Agricultural Cooperatives এর কাঠামো, কার্যপ্রণালী, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
এবং বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় এর অভিযোজিত প্রয়োগের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। গবেষণার মূল
যুক্তি ছিল বাংলাদেশে আধুনিক কৃষি সমবায় গঠন করে কৃষককে সরাসরি বাজারের সাথে সংযুক্ত করা গেলে
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
এই বিষয়গুলি এখন আমার লেখাটির পরবর্তী পর্বে তুলে ধরা হবে।সেখানে আশা করি আপনার গঠনমুলক
মুল্যবান পরামর্শ/মতামত অনেক উপকারে আসবে।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।
................................................................................................................
এই প্রস্তাবনা এখন কেন ,এটার বর্তমান প্রযুক্তির সহিত কতটা আপগ্রেড করা হয়েছে ?
২০১২ সালে আমি জাপান সফর করি, সেখানে কৃষি কাজের উপর বিভিন্ন সমস্যা,
সম্ভাবনা ও উত্তরণে উপায় দেখিয়েছে ।
তখন আমি ব্লগের লেখক ছিলাম না বা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ছিলনা ।
সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনা ।
..................................................................................................................
কৃষির ক্ষেত্রে জাপানের পরার্মশ নেয়া উচিৎ, তারা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী এবং
কৃষিতে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অগ্রগামী দেশ ।
কৃষি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বর্তমানে চীন অনেক এগিয়ে আছে ।বিভিন্ন প্রদেশে তাদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞান
কৃষিতে যে সব সাফল্য এনেছে তা দেখার মতো ।